প্রকাশিত: ১১:২০ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১৫, ২০২৬
স্পোর্টস ডেস্ক : ফুটবল মাঠে জয় আসে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে, কৌশলে ও পরিশ্রমে। কিন্তু আর্জেন্টিনার অনেক সমর্থকের বিশ্বাস, এর সঙ্গে ভাগ্যেরও একটি ভূমিকা আছে। আর সেই ভাগ্যকে নিজেদের পক্ষে টানতে বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে তারা ফিরে যাচ্ছেন পুরোনো সব রীতি ও লোকবিশ্বাসের কাছে।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালের আগে আর্জেন্টাইন সমর্থকদের মধ্যে এখন আলোচনায় ‘কাবালা’। এটি এক ধরনের ব্যক্তিগত বা পারিবারিক বিশ্বাসভিত্তিক আচার, যা তাদের ধারণায় দলের জয়ের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়। কেউ একই জার্সি পরে খেলা দেখছেন, কেউ একই আসনে বসছেন, আবার কেউ আগের ম্যাচের মতো একই খাবার খাওয়ার নিয়মও মেনে চলছেন।
সমর্থকদের অনেকের বিশ্বাস, জয়ের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ছোট ছোট অভ্যাসে পরিবর্তন এলেই নাকি ভাগ্য বদলে যেতে পারে। তাই বছরের পর বছর না ধোয়া জার্সি পরা থেকে শুরু করে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের নাম উচ্চারণ না করার মতো অদ্ভুত নিয়মও অনুসরণ করছেন অনেকে।
১৩ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন সমর্থক ইনেস মুত্রি ও তার বন্ধুরা নিজেদের মতো একটি ‘কাবালা’ তৈরি করেছে। তাদের নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিপক্ষ দলের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় ও গোলরক্ষকের নাম লিখে কাগজ ফ্রিজে রেখে দেওয়া হয়। এবার তাদের লক্ষ্য ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেন।
ইনেসের ভাষ্য, হ্যারি কেন ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় গোল হুমকি হওয়ায় তার নামও এবার তাদের বিশেষ রীতির অংশ হবে।
প্রযুক্তির যুগে এই বিশ্বাসও পেয়েছে নতুন রূপ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি বিভিন্ন ছবি ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়দের বরফের মধ্যে আটকে থাকার মতো দৃশ্য দেখানো হচ্ছে। সমর্থকদের ধারণা, প্রতীকীভাবে হলেও এতে প্রতিপক্ষের সেরা খেলোয়াড়দের ‘প্রভাব’ কমে যাবে।
১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থী হুয়ান পাবলো কালভো এবার ইংল্যান্ডের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় জুড বেলিংহামের নাম ফ্রিজে রাখার পরিকল্পনা করেছেন। তার কাছে এটি শুধুই মজা নয়, বরং দলের প্রতি ভালোবাসার একটি অংশ।
আর্জেন্টিনায় ফুটবল অনেক সময় আবেগের সীমা ছাড়িয়ে যায়। সেখানে দলকে ঘিরে এমন বিশ্বাস নতুন কিছু নয়। ১৯৮৬ বিশ্বকাপজয়ী কোচ কার্লোস বিলার্দোও নানা ধরনের কুসংস্কারের জন্য পরিচিত ছিলেন। মাঠে খেলোয়াড়দের প্রবেশের ক্রম নিয়েও তিনি নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করতেন।
বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনিও নিজের একটি ব্যক্তিগত রীতির কথা জানিয়েছেন। তার মতে, তিনি ডান পা দিয়ে মাঠে প্রবেশ করেন এবং বুকে ক্রুশ চিহ্ন আঁকেন।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনাল হওয়ায় সমর্থকদের আবেগ আরও বেড়েছে। দুই দলের ফুটবল ইতিহাসে রয়েছে ১৯৮৬ সালের সেই বিখ্যাত কোয়ার্টার ফাইনাল, যেখানে দিয়েগো ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল ও ঐতিহাসিক একক প্রচেষ্টার গোল আজও আলোচিত।
কালভো জানিয়েছেন, এই ম্যাচে তিনি ম্যারাডোনার ১৯৮৬ বিশ্বকাপের অনুকরণে তৈরি জার্সি পরে খেলা দেখবেন। তার মতে, মেসি ক্যারিয়ারে প্রায় সব অর্জন পেলেও বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালের মতো মঞ্চে আগে কখনো খেলেননি—এ কারণেই ম্যাচটি বিশেষ।
সমর্থকদের কাছে ‘কাবালা’র মূল বিষয় হলো ধারাবাহিকতা। যে অভ্যাসে একটি ম্যাচে জয় এসেছে, পরের ম্যাচেও সেটিই পুনরায় করতে হবে—একই পোশাক, একই জায়গা, একই সঙ্গী, এমনকি একই খাবারও।
সেমিফাইনালের আগে ইনেস ও তার আট বন্ধু তাই প্রস্তুত। একই টুপি পরে, একই জায়গায় বসে তারা অপেক্ষা করছে ইংল্যান্ড ম্যাচের। তাদের বিশ্বাস, মাঠে লড়াই করবেন মেসিরা, আর ভাগ্যের দিকটা সামলানোর দায়িত্ব থাকবে তাদের ‘কাবালা’র।
তথ্যসূত্র : রয়টার্স




অফিস : ৩৭০/৩,কলেজ রোড,আমতলা, আশকোনা,ঢাকা-১২৩০,
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : গার্ডেন টাওয়ার শপিং কমপ্লেক্স,২য় তালা, উপশহর, সিলেট -৩১০০, বাংলাদেশ।সম্পাদক ও প্রকাশক মো: আবু বক্কর তালুকদার
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : নূরুদ্দীন রাসেল
Call : 01911120520 – 01718061314
Email : info.sylhet24express@gmail.com
প্রধান উপদেষ্টা : আলহাজ্ব মোহাম্মদ কাপ্তান হোসেন
পরিচালক, সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও প্রতিষ্ঠাতা, আলহাজ্ব মোহাম্মদ কাপ্তান হোসেন সমাজ কল্যাণ ট্রাস্ট।
উপদেষ্টা সম্পাদক : মো. রেজাউল ওয়াদুদ চেয়ারম্যান বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন পরিষদ (বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস এনফোর্সমেন্ট কাউন্সিল)
Design and developed by Web Nest