প্রকাশিত: ২:২৩ অপরাহ্ণ, জুন ২৯, ২০২৬
স্পোর্টস ডেস্ক : ইনজুরি টাইমেরও শেষ মুহূর্ত। ম্যাচ শেষ হতে তখন আর এক মিনিটও বাকি নেই। ঠিক সেই সময়, ৯৬তম মিনিটে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির দুর্দান্ত গোলে ২-১ ব্যবধানে ম্যাচ জিতল ব্রাজিল, পেল শেষ ষোলোর টিকিট।
প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়ার পর সমতায় ফেরার লক্ষ্য নিয়ে দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নামে ব্রাজিল। বিরতির সময় দলেও পরিবর্তন আনা হয়। লুকাস পাকেতার জায়গায় নামানো হয় এন্দ্রিককে। বদল আনার পর খেলায় গতি ফিরে পায় ব্রাজিল। কয়েকটি নিশ্চিত সুযোগ নষ্ট করলেও শেষ পর্যন্ত ৫৬তম মিনিটে কাসেমিরোর গোলে সমতায় ফেরে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
এর আগে হাইড্রেশন ব্রেকের পরপরই ম্যাচে এগিয়ে যায় জাপান। মাঝমাঠে দানিলোর কাছ থেকে আলগা বল পেয়ে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যান সানো। কাসেমিরোকে পেছনে ফেলে বক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ের নিখুঁত শটে বল জড়িয়ে দেন জালে। পোস্টের নিচের বাম কোণ ঘেঁষে ঢুকে যাওয়া সেই গোলে ২৯তম মিনিটে ১-০ ব্যবধানে লিড নেয় জাপান।
যদিও বিরতির আগে পর্যন্ত ম্যাচে স্পষ্ট আধিপত্য ছিল ব্রাজিলের। পানি পানের বিরতির আগ পর্যন্ত প্রায় ৭৫ শতাংশ সময় বল নিজেদের দখলে রেখে চারটি শট নিলেও গোলের দেখা পায়নি তারা। দখল ও আক্রমণে এগিয়ে থেকেও স্কোরলাইন বদলাতে পারেনি ব্রাজিল।
ম্যাচের তৃতীয় মিনিটেই প্রথম আক্রমণের সুযোগ তৈরি করে ব্রাজিল। বক্সের বাইরে থেকে গিমারায়েসের নেওয়া শট প্রতিপক্ষের গায়ে লেগে অল্পের জন্য গোলবারের পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। পাঁচ মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের উদ্দেশে বাড়ানো বল জাপানি গোলরক্ষক সুজুকি এগিয়ে এসে দুই হাতে পাঞ্চ করে বিপদমুক্ত করেন। বলটি সহজেই ধরতে পারলেও তিনি ক্লিয়ার করায় শুরুতেই কিছুটা স্নায়ুচাপের ইঙ্গিত মিলেছিল।
ম্যাচের শুরুতে জাপান নিজেদের অর্ধ থেকেই বের হতে হিমশিম খাচ্ছিল। অন্যদিকে ব্রাজিল ধৈর্য ধরে পাসের পর পাস খেললেও জাপানের সুসংগঠিত রক্ষণভাগ সহজে কোনো ফাঁক তৈরি হতে দেয়নি।
১০ মিনিটে দানিলো বাইলাইন থেকে বক্সে বল বাড়ালে এক ব্রাজিলিয়ান খেলোয়াড়ের জোরালো শট গিয়ে লাগে তারই সতীর্থের মুখে। চার মিনিট পর বক্সের বাইরে থেকে কুনহার নেওয়া শট দারুণভাবে ঠেকিয়ে কর্নারে পাঠান সুজুকি। দ্রুত নেওয়া সেই কর্নার থেকে পাকেতার শট ডান দিকের পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়।
১৬তম মিনিটে বিপজ্জনক জায়গা থেকে ফ্রি-কিক পায় জাপান। জুনিয়াকে ফাউল করায় কাসেমিরোর বিরুদ্ধে বাঁশি বাজান রেফারি। ডি-বক্সের বাঁ দিক থেকে কামাদার নেওয়া শট রক্ষণভাগে লেগে বাইরে চলে গেলে পাওয়া কর্নার সহজেই প্রতিহত করে ব্রাজিল।
গোল হজমের পর সমতায় ফেরার চেষ্টা আরও জোরদার করে ব্রাজিল। কিছুক্ষণ পর পাকেতার ফ্রি-কিক থেকে মারকুইনহোসের হেড অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে যায়। এরপর ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দূরপাল্লার শট সহজেই তালুবন্দি করেন সুজুকি। ৩৯তম মিনিটে কুনহার দূর থেকে নেওয়া আরেকটি শটও নিরাপদে ধরে ফেলেন জাপানের গোলরক্ষক।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে আক্রমণে কিছুটা চাপ সৃষ্টি করে জাপান। বিশেষ করে ডান প্রান্তে রিতসু দোয়ানের দৌড়ঝাঁপ ব্রাজিলের রক্ষণকে ব্যস্ত রাখে। ৪৪তম মিনিটে তিনি জুনিয়া ইতোকে বল বাড়ান। ইতো বক্সে বিপজ্জনক একটি পাস দিলে সেটি ক্লিয়ার করতে বেশ বেগ পেতে হয় ব্রাজিলকে।
এরপর বাম দিক থেকে হিরোকি ইতোর ভেতরের দিকে বাঁকানো ক্রসও কোনো রকমে সামাল দেয় ব্রাজিল। এই সময়টায় বলের দখল ধরে রেখে আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলছিল জাপান।
দ্বিতীয়ার্ধ শুরু থেকেই গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে ব্রাজিল। ৫০তম মিনিটে দূর থেকে আসা বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এন্দ্রিক রিয়াল মাদ্রিদ সতীর্থ ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের উদ্দেশে পাস বাড়াতে চাইলেও সেটি ঠিক জায়গায় পৌঁছায়নি। এগিয়ে এসে বলটি সহজেই ধরে ফেলেন সুজুকি।
৫২তম মিনিটে দানিলোর ক্রস থেকে গিমারায়েসের শক্তিশালী হেড দুর্দান্ত ডাইভ দিয়ে ফিরিয়ে দেন জাপানের গোলরক্ষক। তিন মিনিট পর কাসেমিরোর কাছ থেকে আসা হেড গোললাইন থেকে ক্লিয়ার করেন তোমিয়াসু। এরপর গোলমুখে তৈরি হওয়া জটলার মধ্যেও দ্বিতীয়বার বল ব্লক করে দলকে রক্ষা করেন তিনি। পাল্টা আক্রমণে উঠলেও জাপানের ক্রসটি বেশি জোরে হওয়ায় বড় কোনো সুযোগ তৈরি হয়নি।
এর কিছুক্ষণ পরই আগের সুযোগ নষ্টের আক্ষেপ ঘুচিয়ে ব্রাজিলকে সমতায় ফেরান কাসেমিরো। গোলের তিন মিনিট পর বাম প্রান্তে বল পেয়ে দুর্দান্ত গতিতে তোমিয়াসুকে নাটমেগ করেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। এরপর বক্সে ঢুকে আরেক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে গোলরক্ষক সুজুকিকেও পরাস্ত করেন তিনি। কিন্তু তার শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। পরে জাপানের রক্ষণভাগ বল ক্লিয়ার করে বিপদমুক্ত হয়।
৭৫তম মিনিটে কয়েকজন জাপানি ফুটবলারকে ড্রিবলিংয়ে কাটিয়ে বাম প্রান্তে থাকা ভিনিসিয়ুসের কাছে বল বাড়ান এন্দ্রিক। দ্রুতগতিতে বক্সে ঢুকে ডান পায়ে নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর ভিনিসিয়ুসের বাড়ানো পাসটি ঠিকানা খুঁজে না পাওয়ায় জাপানের ডিফেন্ডাররা সহজেই বিপদ সামাল দেন।
এর কিছুক্ষণ পর গ্যাব্রিয়েলের ভাসানো আরেকটি ক্রস ব্যাক পোস্টে পৌঁছায়। সেখানে রায়ান হেড করলেও বল সুজুকির গায়ে লেগে পোস্টের বাইরে চলে যায়। ফলে আরেকটি কর্নার পায় ব্রাজিল।
তবে জাপানের শক্ত রক্ষণভাগ সেই কর্নার থেকেও ব্রাজিলকে কোনো সুযোগ তৈরি করতে দেয়নি। উল্টো প্রতিপক্ষকে আবারও পেছনে ঠেলে দেয় তারা।
৮৯তম মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের একটি শট প্রতিপক্ষের গায়ে লেগে কর্নারে পরিণত হয়। ম্যাচের শেষ দিকে চাপ অব্যাহত রাখার ফলই আসে ইনজুরি টাইমে। ৯৬তম মিনিটে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির গোলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ব্রাজিল।




অফিস : ৩৭০/৩,কলেজ রোড,আমতলা, আশকোনা,ঢাকা-১২৩০,
Call : 01911120520
Email : info.sylhet24express@gmail.com
প্রধান উপদেষ্টা : আলহাজ্ব মোহাম্মদ কাপ্তান হোসেন
পরিচালক, সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও প্রতিষ্ঠাতা, আলহাজ্ব মোহাম্মদ কাপ্তান হোসেন সমাজ কল্যাণ ট্রাস্ট।
উপদেষ্টা সম্পাদক : মো. রেজাউল ওয়াদুদ চেয়ারম্যান বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন পরিষদ (বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস এনফোর্সমেন্ট কাউন্সিল)
সম্পাদক ও প্রকাশক মো: আবু বক্কর তালুকদার
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : নূরুদ্দীন রাসেল
Design and developed by Web Nest