মোগলাবাজার থানায় নির্যাতিত নারীর অভিযোগ ফাইলচাপা: কমিশনারকে জানাতেই আইও বদল

প্রকাশিত: ১০:৫৩ পূর্বাহ্ণ, জুন ১৬, ২০২৬

মোগলাবাজার থানায় নির্যাতিত নারীর অভিযোগ ফাইলচাপা: কমিশনারকে জানাতেই আইও বদল

4

 

7

 নিউজ ডেস্ক : সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) কমিশনার বরাবরে অভিযোগ পেশ করার খবর পেয়ে সাথে সাথেই মোগলাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তদন্তকারী কর্মকর্তাকে (আইও) বদলি করে দিয়েছেন। একই সাথে তিনি এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। অথচ বিগত ১ মাসেরও বেশি সময় ধরে অভিযোগটি অবহেলার শিকার হয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তার ফাইলের নিচে চাপা পড়ে ছিল।

 

ভুক্তভোগী বিলকিছ বেগমের এসএমপি কমিশনার বরাবরে দেওয়া অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সিলেটের দক্ষিণ সুরমার মোগলাবাজার থানার সিলাম ইউনিয়নের নিজ সিলাম গ্রামের মৃত তজব আলীর বড় মেয়ে বিলকিছ বেগম স্বামী ও ৩ সন্তান নিয়ে পিত্রালয়ের পাশে একটি ভাড়া বাসায় থাকেন। তাঁর স্বামী একজন চলৎশক্তিহীন প্রতিবন্ধী হওয়া সত্ত্বেও একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ছোটখাটো চাকরি করে সংসার চালান। এই কষ্টের মধ্যেও অর্থ জমিয়ে বিলকিছ পৈতৃক বাড়ির পাশে নিকটাত্মীয়ের কাছ থেকে অল্প কিছু ভিটা ভূমি ক্রয় করেন।

 

যথারীতি নিয়ম অনুযায়ী দলিল সম্পাদন ও নামজারি শেষে গত ১৩ মে ওই জমিতে ঘর নির্মাণ ও সীমানা প্রাচীর স্থাপন করতে যান বিলকিছ। এ সময় প্রতিবেশী সুবেদর আলীর ছেলে ইছবর আলী ও আকবর আলীসহ তাদের সহযোগীরা কাজে বাধা দেয়। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে বিলকিছ বেগম তাদের হাতে নির্যাতনের শিকার হন। একই ঘটনায় বিলকিছের চাচা রজব আলী, ছোট ভাই মিম্বর আলী ও চাচাতো বোন সুমাইয়াসহ আরও কয়েকজন আহত হন।

4

 

ঘটনার পর দক্ষিণ সুরমা উপজেলা হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে বিলকিছ বেগম নিজে বাদী হয়ে মোগলাবাজার থানায় একটি অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগের তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় থানার এসআই জিতেন বাবুকে। ঘটনার ৩ দিন পর এসআই জিতেন ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেলে পুলিশ দেখেই অভিযুক্তরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। তারা পুলিশের সামনেই বিলকিছ ও তাঁর পরিবারকে মারতে আসে। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, পুলিশ তখন কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো বাদীপক্ষকে ঘরের ভেতরে অবস্থান করতে বলে থানায় ফিরে যায়।

 

5

ভীতি ও পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা: এরপর দীর্ঘ সময় পার হলেও পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এদিকে অভিযুক্তরা ক্রমাগত বিলকিছ বেগমকে হুমকি-ধমকি দিতে থাকে, এমনকি তাঁর হাইস্কুল পড়ুয়া নাবালিকা মেয়েকে অপহরণের ভয়ও দেখানো হয়। আতঙ্কিত বিলকিছ ভয় পেয়ে এসআই জিতেনকে ফোন দিলে তিনি কল রিসিভ করেননি। নিরুপায় হয়ে বিলকিছ থানায় গেলে ওসির অসুস্থতার কারণে তাঁর দেখা পাননি। তখন থানার ‘সেকেন্ড অফিসার’ এসআই মোশাররফ হোসেন তাঁকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেন, এসআই জিতেন ফিরলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু বাস্তবে কোনো গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।

2

 

পরবর্তীতে বারবার যোগাযোগ করেও কোনো সুফল না পেয়ে গত ১৫ জুন বিকেলে বিলকিছ বেগম এসএমপি কমিশনার বরাবরে একটি লিখিত আবেদন জমা দেন। আবেদনের অনুলিপি এসএমপি উপ-কমিশনার এবং মোগলাবাজার থানার ওসিকেও হস্তান্তর করা হয়।

 

অনুলিপি হস্তান্তরকালে মোগলাবাজার থানার ওসি থানা কম্পাউন্ডেই অবস্থান করছিলেন। কমিশনার বরাবরে আবেদনের খবর পেয়ে তিনি সাথে সাথে বাদীকে ডেকে ওনার সামনেই এসআই জিতেনের কাছে তদন্তের অগ্রগতি জানতে চান। কোনো সদুত্তর না পেয়ে ওসি তাৎক্ষণিকভাবে মামলা তদন্তের দায়িত্ব এসআই দিপংকর তালুকদারকে হস্তান্তর করেন এবং দ্রুততার সাথে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। ওসির এই তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে দরখাস্তকারী বিলকিছ বেগম সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

 

এলাকাবাসীর অভিযোগ: স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ইছবর আলী এলাকায় একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবী। তার ছোট ভাই আকবর আলীও সকল অপকর্মের সহযোগী। এই চক্রের অত্যাচারে এলাকার সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ। এই চক্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় বিলকিছের ছোট ভাই মিম্বর আলী গত ২৭ এপ্রিল মোগলাবাজার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-১৩৩৮) করেছিলেন, যা এখনো তদন্তাধীন রয়েছে। এলাকার সচেতন মহল এ ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

২০২৫ সালের ক্যালেন্ডার বাংলা ইংরেজি আরবি

২০২৫ সালের ক্যালেন্ডার বাংলা ইংরেজি আরবি

গুণ গত মান যার ভাল তার দাম একটু বেশি সিলেটের সেরা বাগানের উন্নত চা প্রতি কেজি চা দাম ৪৫০ টাকা হোম ডেলি বারি দেয়া হয়

tree

কম খরচে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিন

sylhet24

Follow for More!

1
6