গরিব রোগীদের চিকিৎসায় আত্মনিয়োগ করুন, গ্রামে যান : চিকিৎসকদের প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: ১০:২৫ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২২

গরিব রোগীদের চিকিৎসায় আত্মনিয়োগ করুন, গ্রামে যান : চিকিৎসকদের প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক : সেবার ব্রত নিয়ে চিকিৎসকদের সাধারণ ও গরিব রোগীদের চিকিৎসায় আত্মনিয়োগের অনুরোধ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যোগাযোগ ব্যবস্থা আগের চেয়ে ভালো হওয়ায় তিনি চিকিৎসকদের গ্রামে যাওয়ারও আহ্বান জানান। পাশাপাশি রোগীদের সঙ্গে সুন্দর ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন। বলেছেন, অনেক সময় সুন্দর ব্যবহারে রোগী অনেকটা সুস্থ হয়ে যায়।

 

বুধবার সকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) নবনির্মিত ‘সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল’ ভবনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

 

গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিএসএমএমইউর সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল ভবনে আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন তিনি।

 

শেখ হাসিনা বলেন, জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে বিভিন্ন ধরনের ইকুইপমেন্ট দিয়েছি, সুযোগ-সুবিধা দিয়েছি, কিন্তু তারপরও চিকিৎসক ও নার্সের অভাব দেখা যায়। অনেক ডাক্তার ও নার্স জেলা, উপজেলা পর্যায়ে যেতে চান না। তাদের রাজধানীতেই থাকতে হবে, এমন নয়। যোগাযোগ ব্যবস্থার যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে।

 

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদ্ধৃতি তুলে ধরে তিনি বলেন, জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘আপনারা ডাক্তার, আপনাদের মন হতে হবে অনেক উদার, আপনাদের মন হতে হবে সেবার। আপনাদের কাছে কোনো বড় ছোট থাকবে না, আপনাদের কাছে থাকবে রোগ, কারো রোগ বেশি কারো কম। তাহলেই সমাজ ব্যবস্থার পরিবর্তন হবে। আপনারা মানুষের সহযোগিতা পাবেন।’

 

প্রধানমন্ত্রী এ সময় ডাক্তারদের শহরকেন্দ্রিক না থেকে উপজেলা পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়ে স্বাস্থ্য সেবাকে তৃণমূল মানুষের দোরগোড়ায় নিয়ে যাওযারও আহবান জানান। পাশাপাশি অনলাইনে চিকিৎসা সেবাও জোরদার করার পরামর্শ দেন। বলেন, গ্রামে যেতে হবে, গ্রামের মানুষকে দেখতে হবে। রোগীদের সঙ্গে সুন্দর ব্যবহার করতে হবে। সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করলে সাধারণ মানুষ আপনাদের ওপর আস্থা রাখবে। গরিব রোগীদের চিকিৎসা দিতে হবে। সবাইকে রাজধানীতে থাকলে চলবে না।

 

বক্তব্যে স্বাস্থ্য খাতে গবেষণা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, স্বাস্থ্য ক্ষেত্রের গবেষণা এখনো আমাদের অপ্রতুল। গবেষণা ছাড়া কখনো উৎকর্ষ সাধন করা যায় না।

 

‘আমাদের যারা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রয়েছেন তাদের শুধুমাত্র চিকিৎসা দিলেই চলবে না। সাথে সাথে তাদের কিন্তু গবেষণা করাও জরুরি। কাজেই এই বিষয়ে আমি আপনাদের অনুরোধ করব যাতে আপনারা বিষয়টির প্রতি বিশেষভাবে নজর দেন।’

 

বিএসএমএমইউ চিকিৎসকদের উদ্দেশে বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা, চিকিৎসা সেবা, গবেষণা কার্যক্রমের গুণগত মানোন্নয়নের নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। আপনারা এখন যেটুকু করছেন সে জন্য ধন্যবাদ জানাই, তবে গবেষণার ওপর আরো গুরুত্ব দিতে হবে। স্বাস্থ্য ক্ষেত্রের গবেষণা এখনো আমাদের অপ্রতুল।

 

সরকার প্রধান এ সময় স্বাস্থ্য শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়নে প্রফেসর এমিরেটাস নিয়োগ দেওয়ায় বিএসএমএমইউ’র কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করে বলেন, ‘আপনাদের প্রজ্ঞা ও মেধা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রমকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করবেন আপনাদের কাছে সেই আহবানই জানাই।’

 

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব সাইফুল হাসান বাদল এবং বাংলাদেশে দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত লি জেং কিউন। বিএসএমএমইইউ’র ভিসি অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ স্বাগত বক্তৃতা করেন।

প্রায় ৪ একর জমির ওপর মোট ১ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল। এর মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সহযোগিতা তহবিল এক হাজার কোটি টাকা প্রদান করেছে। সরকার বরাদ্দ করেছে ৩৩০ কোটি টাকা এবং বিএসএমএমইউ ১৭০ কোটি টাকা দিয়েছে।

 

অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি এবং আধুনিক অপারেশন থিয়েটারসহ হাসপাতালটি যে কোনো সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতাল বা চিকিৎসক দ্বারা রেফার করা সমস্ত গুরুতর রোগীদের চিকিৎসা প্রদান করবে। প্রায় ৫ থেকে ৮ হাজার রোগী হাসপাতালের আউটডোর পরিষেবা পাবেন।

 

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হাসপাতালে ৭৫০ শয্যা থাকবে। এছাড়াও ১৪টি অত্যাধুনিক অপারেশন থিয়েটার, একটি ১শ’ শয্যার ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট, একটি ১শ’ শয্যার জরুরি ইউনিট, ছয়টি ভিভিআইপি এবং ২২টি ভিআইপি কেবিন এবং ২৫টি ডিলাক্স কেবিন থাকবে।