প্রকাশিত: ১০:৪০ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ৬, ২০২৬
বুধবার ভোরে আর্জেন্টিনার হয়ে শেষ ম্যাচ খেলতে নামবেন লিওনেল মেসি
স্পোর্টস ডেস্ক : আমার ছেলেবেলা কেটেছে পেলের নাম আর তার গল্প শুনে। স্কুলের নিচের দিকের ক্লাসে পড়ার সময় থেকেই ‘পেলে’ নামটি মনে গেঁথে আছে। না গেঁথে উপায়ও ছিল না। কারণ আমাদের সময়, মানে ৭০ দশকের শুরু থেকে মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত স্কুলে নিচের দিককার ক্লাসে (সম্ভবত ক্লাস টু’তে) বোর্ডের পাঠ্য বইয়ে পেলের ছেলেবেলা ও সাফল্যের গল্প পড়ানো হতো। সেই থেকে অ্যাডসন আরান্তেস দো নসিমন্তো পেলের নাম মুখস্থ হয়ে আছে।
তবে আমি কখনো পেলের খেলা সরাসরি দেখিনি। দেখার সুযোগও ছিল না। পেলে সর্বশেষ বিশ্বকাপ খেলেছেন ১৯৭০ সালে। মেক্সিকোয় হওয়া ওই আসরেও নিজ দল ব্রাজিলকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন করে রাজার মতো বিদায় নিয়েছেন পেলে। ৭০-এরপর আর বিশ্বকাপ খেলেননি পেলে।
সবচেয়ে বড় কথা হলো বাংলাদেশ ও তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের দর্শকরা ১৯৭০ ও ১৯৭৪ সালের বিশ্বকাপ ফুটবল সরাসরি দেখাতেও পাননি। বাংলাদেশে সরাসরি বিশ্বকাপ দেখানো শুরু হয় আরও দেরিতে। যা হোক, একটু বড় হয়ে আমি যখন নিজ বিদ্যাপীঠ সেন্ট গ্রেগরি স্কুলের মাঠ ও পাড়ার মুক্তি খেলাঘর আসর মাঠে ফুটবল খেলতে শুরু করি, তখন থেকেই বড়দের মুখে পেলের গুণকীর্তন শুনি।

এরপর ৭০ দশকের শেষ ভাগে এসে পত্রিকা পড়ে জানলাম পেলে অনেক বড়। তার কত নাম। নানা বিশেষণ। কারও ভাষায় পেলে ফুটবলের কালো মানিক। কেউবা তাকে ফুটবলের রাজা পেলে বলেও ডাকতেন। তখনই জানা হলো ১৯৫৮ থেকে শুরু তারপর ১৯৬২ এবং ১৯৭০- এ তিন তিনবার ব্রাজিলকে বিশ্বকাপ জেতানো পেলে সর্বকালের সেরা।
ফুটবলে পেলে উপাখ্যান শেষ হতেই চলে আসলো ৭৪ সালের বিশ্বকাপ। ফুটবল অনুরাগীরা জানলেন, হল্যান্ডের ইয়োহান ক্রুইফ আর জার্মানির ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার ও গার্ড মুলারের নাম।
ক্রুইফের চোখ ধাঁধানো ওয়ান টাচ ফুটবল দর্শক হৃদয় জয় করলেও মাঠের ফুটবলে জিতলো পশ্চিম জার্মানি। বেকেনবাওয়ার ও গার্ড মুলারের জার্মানির গতি ও শক্তিনির্ভর ফুটবলের সাথে পেরে ওঠেনি ক্রুইফের সফল ফুটবলশৈলী। নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জিতলো পাওয়ার ফুটবলের জনক জার্মানি।
তবে বলে রাখা ভালো স্বাধীন বাংলাদেশের মানুষ সেই বিশ্বকাপ দেখতে পারেননি। ক্রুইফের নেদারল্যান্ডসের ‘ওয়ান টাচ’ আর জার্মানির গতি ও শক্তিনির্ভর ফুটবলের অনুপম প্রদর্শনী আমরা সরাসরি টিভিতেও দেখতে পাইনি। ৭৪ সালের ওয়ার্ল্ডকাপ ফুটবল সরাসরি টিভিতে সম্প্রচারিত হয়নি বাংলাদেশে। প্রায় একই অবস্থা ১৯৭৮ সালেও। সেবার বিশ্বকাপের নায়ক হলেন আর্জেন্টিনার মারিও কেম্পেস। ড্যানিয়েল প্যাসারেলার নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা ৭৮’র ওয়ার্ল্ডকাপ চ্যাম্পিয়ন হলেও মারিও কেম্পেস আর প্যাসারেলার কেউ রাজা হতে পারেননি। কয়েক বছরের মধ্যেই তাদের নাম ডাক কমে যায়।

৭৮-এর বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর ৮০’র দশক শুরু হতেই ফুটবলে শুরু হলো ব্রাজিলিয়ানদের জয়জয়কার। জিকো, সক্রেটিস, ফ্যালকাও, এডারদের নাম ছড়িয়ে পড়লো চারদিকে। কিন্তু ৮০’র দশকের প্রথম বিশ্বকাপে (১৯৮২) ব্রাজিল তারপরও কাঙ্ক্ষিত সাফল্যের দেখা পায়নি। ইতালির মাটিতে বিয়োগান্তক পরিণতি ঘটলো ব্রাজিলের। তাদের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার করা ইতালিই সেবার বিশ্বকাপ জিতলো, সোনার ছেলে পাওলো রসির হাত ধরে।
৮২’র বিশ্বকাপ থেকে খালি হাতে ফিরলেও জিকো আর সক্রেটিসের নাম ঢাকা পড়েনি। বরং তারাই সুনামের সাথে বিচরণ করেছেন ফুটবল বিশ্বে। এরই মাঝে আরও একটি নাম, আরও এক অসামান্য প্রতিভাবান ফুটবলারের নাম জেনে গেল বিশ্ব; দিয়েগো ম্যারাডোনা। ৮৬’র বাছাইপর্ব শুরুর আগে থেকেই ম্যারাডোনার নাম ছড়িয়ে পড়ে ফুটবল বিশ্বে।
যদিও ৮২’র ফুটবল বিশ্বকাপেও ছিলেন ম্যারাডোনা। কিন্তু সুবিধা করতে পারেননি। উল্টো ব্রাজিলের সাথে লাল কার্ড পেয়ে বহিষ্কৃত হয়ে নিন্দিতই হন বেশি।
কিন্তু ৮০’র দশকের মাঝামাঝি সময় ম্যারাডোনা স্টার হয়ে যান। তারকা খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। সবাই জেনে যান আর্জেন্টিনার ছোটখাটো গড়নের সুঠামদেহী ঝাঁকড়া চুলের ম্যারাডোনা একজন পরিপূর্ণ ও মেধাবী ফুটবলার। বলের ওপর তার নিয়ন্ত্রণ প্রচুর। ৮৬’র বিশ্বকাপে ম্যারাডোনার জাদুকরি নৈপুণ্যে বিমোহিত হয় ফুটবল বিশ্ব।
ব্রাজিল, ইতালি, জার্মানি আর ফ্রান্সের মতো সুপার পাওয়ারদের টপকে ফুটবলের নতুন ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়ন হয় আর্জেন্টিনা। দিয়েগো ম্যারাডোনার জাদুকরি নৈপুণ্যেই আর্জেন্টিনা হাসে শেষ হাসি। সেই ৮৬’র বিশ্বকাপে পূর্ণতা পেলেন ম্যারাডোনা। শুরু হলো ফুটবল বিশ্বে নতুন রাজা ম্যারাডোনার রাজত্ব।
নিজের পায়ের জাদু, অসামান্য ড্রিবল করার ক্ষমতা, শরীরের ঝাঁকুনিতে প্রতিপক্ষ মিডফিল্ডার, ডিফেন্ডারদের ফাঁকি দেয়া, নিখুঁত ডিফেন্সচেরা থ্রু, মাপা সেন্টার আর লক্ষ্যভেদী শটের নৈপুণ্যে ম্যারাডোনা হয়ে উঠলেন সর্বাধিক জনপ্রিয় ফুটবলার। নিজের ফুটবল মেধায় মাঠ মাতানোর পাশাপাশি নিজ দেশ আর্জেন্টিনাকে বিশ্বসেরার খেতাবে ভূষিত করে ম্যারাডোনা হলেন ফুটবলের নতুন রাজা।

পেলের পর মাঠ মাতিয়ে দর্শকনন্দিত হলেও বিশ্বকাপ জেতাতে না পেরে নায়ক, মহানায়ক বনা হয়নি জিকো, সক্রেটিসদের। মারিও কেম্পেস, গার্ড মুলার, বেকেনবাওয়াররা বিশ্বকাপ বিজয়ী হয়েও পেলের পাশে নিজের নামকে পাকাপোক্ত করতে পারেননি। একইভাবে পাওলো রসি ইতালির বিশ্বকাপ বিজয়ের রূপকার হলেও ম্যারাডোনার খ্যাতিটা পাননি। এক কথায় ম্যারাডোনা হতে পারেননি।
এরপর ফ্রান্সের জিনেদিন জিদান, ইতালির রবার্তো ব্যাজিও অনেক সাড়া জাগানো সাফল্যের অধিকারী হলেও পেলে ও ম্যারাডোনার ‘অমরত্ব’ লাভ করেননি। আসলে ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলে খুব ভালো খেলে, ব্যালন ডি’অর, ফিফার বর্ষসেরা ফুটবলার হওয়াই অমরত্বের আসল ক্ষেত্র না।

ম্যারাডোনার পর ব্রাজিলের রোমারিও, রোনালদো, রিভালদো আর রোনালদিনহোরাও ফুটবলের বড় তারকা বনে যান। বিশ্বনন্দিত ফুটবলার হিসেবেই পরিগণিত হতে থাকেন। কিন্তু তারপরও তারা কেউই ম্যারাডোনা কিংবা পেলে হতে পারেননি।
জিনেদিন জিদান, রবার্তো ব্যাজিওরা কিছুদিনের জন্য অনেক সাড়া জাগালেও ‘ফুটবলের রাজা’ হতে পারেননি। তবে এই প্রজন্মের পর ধীরে ধীরে ফুটবলে অমরত্ব লাভের এক অসামান্য প্রতিভা উঠে আসতে থাকেন। নাম লিওনেল মেসি।
তারও আছে এক ভিন্ন ইতিহাস। মেসির ছেলেবেলার গল্পটা মোটেই সুখকর নয়। সমবয়সীদের তুলনায় তার শরীরের ‘গ্রোথ’ ছেলেবেলা থেকেই ছিল কম। তার বয়সী প্রায় সব বাচ্চাই উচ্চতায় যখন মেসিকে ছাড়িয়ে যান, তখন তার পিতা ও মাতা চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে চিকিৎসকরা তাদের জানান, আপনার সন্তান মানে মেসির হরমোনজনিত সমস্যা আছে। তাই তার উচ্চতা কম। ‘গ্রোথ’ বাড়াতে চিকিৎসকরা মেসিকে ‘হরমোন’ ইনজেকশন নিতে বলেন। কিন্তু তার পিতা-মাতা তেমন স্বচ্ছল না থাকায় শত শত ডলার ব্যয়ের সে হরমোন ইনজেকশন দেয়া কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে।

এমনই এক সময়ে মেসি চোখে পড়ে বার্সেলোনা স্কাউটের। মেসির প্রতিভা দেখে বার্সা স্কাউট কার্লেস রেক্সাস ন্যাপকিন পেপারে চুক্তি করেন। তার চিকিৎসা খরচ দেয়াই নয় শুধু উন্নত প্রশিক্ষণের জন্য বার্সার ফুটবল একাডেমি লা মাসিয়ায় নেয়ার ব্যবস্থা করেন।
এই চুক্তির কারণেই এক পর্যায়ে মেসির পিতা হোর্হে ও মাতা সিসিলা মেসিকে নিয়ে স্পেনে পাড়ি জমান। বার্সেলোনা ক্লাবের বয়সভিত্তিক দলেই অনূর্ধ্ব-১৩ দলে জায়গা করে নেন মেসি। ধীরে ধীরে প্রতি মাসে তার চিকিৎসার খরচের জোগানও চলে আসতে শুরু করে। সেখান থেকেই জন্ম নেয় ফুটবলের নতুন রাজা। বার্সেলোনা থেকেই মেসির চোখ ধাঁধানো ফুটবল নৈপুণ্যের কথা জানাজানি হয়। ফুটবল বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে ফুটবলে এক নতুন প্রতিভা এসেছেন। নাম লিওনেল মেসি।
কিন্তু আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে মেসির সেরা রূপ দেখতে দর্শকদের অপেক্ষায় থাকতে হয়। ২০০৬ সালে প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে নেমে সেভাবে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি মেসি। এক কথায় বিশ্বকাপ অভিষেকে মেসি সেভাবে আলো ছড়াতে পারেননি। সেবার কোয়ার্টার ফাইনালে জার্মানির কাছে হেরে বিদায় নেয় মেসির দল।
৪ বছর পর ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে গুরু ম্যারাডোনার শিষ্য হিসেবে বিশ্বকাপে মাঠে নামেন মেসি। ম্যারাডোনা সে আসরে আর্জেন্টিনার কোচের দায়িত্বে ছিলেন। কিন্তু সফল হননি। জার্মানির কাছে ৪-০ গোলে হেরে শেষ ষোল থেকে বিদায় নেয় আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপেও মেসি নিজের সেরাটা উপহার দিতে পারেননি।
২০১৪ সালে মেসি জ্বলে ওঠেন। পরপর দুই বিশ্বকাপে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য না পাওয়ায় সমালোচকরা নড়েচড়ে বসেন। অনেকেই তীর্যক মন্তব্য করতে শুরু করেন, মেসি ক্লাব ফুটবলে বার্সেলোনার হয়ে যত ভালো খেলেন, আর্জেন্টিনার হয়ে তা পারেন না। হয় আর্জেন্টিনায় তার যোগ্য ও দক্ষ সঙ্গী কম, না হয় সহযোগীদের সাথে মেসির বনিবনা হয় কম।

কারণ যাই হোক, বিভিন্ন ক্লাব ফুটবলে মেসির জাদুকরি নৈপুণ্যে যারা মুগ্ধ ও রোমাঞ্চিত, তারা প্রথম দুই বিশ্বকাপে দর্শক ও ভক্তরা সেই মেসিকে খুঁজে পাননি। অবশেষে ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ ও ২০২৬-এর বিশ্বকাপে আসল মেসির দেখা মেলে। ২০২২ সালে কাতারের মাটিতে শক্তি ও সামর্থ্যে বহুদূর পিছিয়ে থাকা সৌদি আরবের কাছে হার দিয়ে শুরুর পরও আর্জেন্টিনা বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়। যার রূপকার ও স্থপতি মেসি। এবারও (২০২৬) একা দলকে টেনে গিয়ে ফাইনাল পর্যন্ত নিয়ে গেছেন। স্পেনের সাথে শেষ রক্ষা না হলেও আর্জেন্টিনার ফাইনাল খেলা সম্ভব হয়েছে মেসি ম্যাজিকেই।
পেলে, ম্যারাডোনার পর মেসি দলকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন করানোর পাশাপাশি ফুটবলে অমরত্ব লাভের গৌরব অর্জন করেছেন। বেকেনবাওয়ার, মারিও কেম্পেস, জিকো, সক্রেটিস, পাওলো রসি, প্লাতিনি, রোমারিও, রোনালদো, ব্যাজিও আর জিনেদিন জিদান ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো যার নামই বলা হোক না কেন, কেউ মেসির উচ্চতায় পৌঁছাতে পারেননি। মেসি পেয়েছেন অমরত্ব।
তার অমরত্ব লাভের কারণ জানতে হলে মেসির কৃতিত্ব, সাফল্য, অর্জন ও প্রাপ্তি সম্পর্কে জানতে হবে। এত সাফল্য, অর্জন ও প্রাপ্তি নেই কোনো ফুটবলারের।
আসুন এক নজরে দেখি, জানি মেসির সাফল্যের পরিসংখ্যান
ব্যালন ডি’অর: সর্বাধিক ৮ বার (২০০৯, ২০১০, ২০১১, ২০১২, ২০১৫, ২০১৯, ২০২১ ও ২০২৩)
ফিফা বর্ষসেরা ফুটবলার: ৩ বার (২০১৯, ২০২২, ২০২৩।
ক্যারিয়ারে মোট গোল: ৯৩১টি
স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনার হয়ে ৭৭৯ ম্যাচে ৬৭২ গোল, যা ইতিহাসের সর্বোচ্চ।
আর্জেন্টিনার পক্ষে ২০৭ ম্যাচে ১২৫ গোল। যা আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের আর কারো নেই।
৬ বিশ্বকাপে ৩৪ ম্যাচে ২১ গোল, বিশ্বকাপে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা।
বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন: ১ বার (২০২২)।
রানার্সআপ ২ বার (২০১৪ ও ২০২৬)।
জীবনের শেষ বিশ্বকাপে (২০২৬ সালে) ৮ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট।
একমাত্র ফুটবলার হিসেবে ২ বার বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট পাওয়া ফুটবলার (২০১৪ ও ২০২২)।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বার্সেলোনার হয়ে ৪ বার শিরোপা জয় (২০০৬, ২০০৯, ২০১১ ও ২০১৫)।
লা লিগা শিরোপা বিজয় ১০ বার।
কোপা আমেরিকা চ্যাম্পিয়ন: ২ বার (২০২১ ও ২০২৪)।
অলিম্পিকে স্বর্ণ বিজয়: ১ বার (২০১৮ সালে)
অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ ফুটবল চ্যাম্পিয়ন: ২০০৫ সালে
ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলে সর্বাধিক ৬ বার রেকর্ড সর্বোচ্চ গোলদাতা।
লা লিগায় ৪৭৪ গোল করে বার্সিলোনার ইতিহাসে সর্বাধিক গোল করার কৃতিত্ব।
বার্সিলোনার পক্ষে ৩৫টি ট্রফি (লা লিগা ১০ বার ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ৪ বার সহ)।
ওপরের পরিসংখ্যান পরিষ্কার বলে দিচ্ছে মেসিই ফুটবলের ‘রাজা’। একজন ফুটবলারের পক্ষে যত ব্যক্তিগত সাফল্য ও কৃতিত্ব অর্জন সম্ভব; মেসি তাই করে দেখিয়েছেন। ফুটবলে তার কৃতিত্ব এত বিশাল, যা অর্জন যে কারো পক্ষেই প্রায় অসম্ভব। সাফল্য, প্রাপ্তি, কৃতিত্ব ও অর্জনে মেসিকে ছাড়িয়ে যাওয়া যে কারো পক্ষেই দুঃসাধ্য।

এমন আকাশছোঁয়া সাফল্যও তার মধ্যে দম্ভের জন্ম দেয়নি। খেলার মাঠে ও বাইরে কোনো ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের ঘটনা নেই। একটা ভাবলেশহীন অভিব্যক্তিতে কেটেছে প্রায় পুরো ক্যারিয়ার। মাঠে রেগে-মেগে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটাননি। নীরবে-নিভৃতে নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। এমন আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা আর মিডিয়ার সর্বোচ্চ ফোকাস থেকে কতজনই কতকিছু করে বসেন। এটা-ওটা বলে নিন্দিতও হন। কিন্তু মেসি কখনোই তা করেননি।
তাই তার সে অর্থে স্ক্যান্ডাল, বদনাম, অপবাদ নেই। এর বাইরে মেসির আচরণটাও তাকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করে রেখেছে। হয়ত রাখবেও। ব্যক্তিজীবনে বিনয়ী মেসি শেষক্ষণ পর্যন্ত নমনীয় আচরণ করেছেন। তাকে ক্ষ্যাপাটে আচরণ করতে দেখেননি কেউ। এর বাইরে সহজ-সরল ও সাদাসিধে জীবনযাপন মেসিকে নিয়ে গেছে অন্য উচ্চতায়। সেখানে আদৌ কেউ কখনো যেতে পারবেন কিনা সন্দেহ।
বাংলাদেশের ফুটবল ভক্তদের কেউ কেউ মেসিকে নিজ চোখে দেখার সুযোগ পেয়েছেন। ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে (৬ সেপ্টেম্বর) নাইজেরিয়ার সাথে প্রীতি ম্যাচ খেলতে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় এসেছিলেন ফুটবলের রাজা।
সেই সময়ের একটি ঘটনা আমার মনে দাগ কেটে আছে। মেসি যে শুধু ফুটবলের রাজা নন, তার সাম্রাজ্য যে শুধু ফুটবল মাঠেই সীমাবদ্ধ নয়; তিনি যে মনের দিক থেকেও অনেক বড়, অনেক উদার; সহজ-সরল আর সাদাসিধে। তার জ্বলন্ত উদাহরণ দিচ্ছি।

প্রথমটি ছিল বিমানে। যে কোনো কারণেই হোক না কেন, সেবার আর্জেন্টিনার পুরো দলকে ‘বিজনেস ক্লাসে’ টিকিট করে রাখা সম্ভব হয়নি। মেসির জন্য ‘বিজনেস ক্লাসের’ টিকিট বরাদ্দ ছিল। কিন্তু মেসি যখন সেটা জানতে পারলেন যে, পুরো দল ইকোনমি ক্লাসে ট্রাভেল করবে, আর তিনি একা ‘বিজনেস ক্লাসে’ ট্রাভেল করবেন। তখন মেসি বলে দিলেন, আমার একার জন্য আর বিজনেস ক্লাসের ব্যবস্থা করা দরকার নেই। আমি আমার সতীর্থদের সাথে ইকোনমি ক্লাসেই ভ্রমণ করবো এবং শেষ পর্যন্ত করেওছেনও তাই।
যার নিজেরই বিমান কেনার মতো সামর্থ্য আছে। সেই তিনি দলের অন্য সব প্লেয়ারের সাথে ইকোনমি ক্লাসে ট্রাভেল করেছেন। সেটা মেসির পক্ষেই সম্ভব। তাই তো মেসি সবার থেকে ভিন্ন।
রাজা আসে। রাজা যায়। পেলে, ম্যারাডোনার রাজত্বও অবসান ঘটেছে। রাজা বনেছেন মেসি।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে যে সূর্য উঠবে, সেটাই হবে ফুটবলের মাঠের রাজা লিওনেল মেসির ক্যারিয়ারের এক অন্যরকম সকাল বলে পরিগণিত হবে। তারপর মেসি আর কখনো আর্জেন্টিনার হয়ে (যদি আবার সিদ্ধান্ত পাল্টে মাঠে ফিরে আসেন, তাহলে ভিন্ন কথা) মাঠে নামবেন না। ফুটবলের শীর্ষ পর্যায়েও হয়ত আর মেসির দেখা মিলবে না। কিন্তু মেসি থাকবেন ফুটবলের রাজা হয়ে। ভক্ত, সমর্থকদের মনে। হৃদয়ে।




অফিস : ৩৭০/৩,কলেজ রোড,আমতলা, আশকোনা,ঢাকা-১২৩০,
Call : 01911120520
Email : info.sylhet24express@gmail.com
প্রধান উপদেষ্টা : আলহাজ্ব মোহাম্মদ কাপ্তান হোসেন
পরিচালক, সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও প্রতিষ্ঠাতা, আলহাজ্ব মোহাম্মদ কাপ্তান হোসেন সমাজ কল্যাণ ট্রাস্ট।
উপদেষ্টা সম্পাদক : মো. রেজাউল ওয়াদুদ চেয়ারম্যান বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন পরিষদ (বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস এনফোর্সমেন্ট কাউন্সিল)
সম্পাদক ও প্রকাশক মো: আবু বক্কর তালুকদার
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : নূরুদ্দীন রাসেল
Design and developed by Web Nest