সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার-২ নিয়ে ‘ভুয়া’ অভিযোগের ঝড়, প্রমাণ ছাড়াই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার

প্রকাশিত: ১০:০৭ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ৩, ২০২৬

সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার-২ নিয়ে ‘ভুয়া’ অভিযোগের ঝড়, প্রমাণ ছাড়াই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার

2

স্টাফ রিপোর্টার:

সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার-২ নিয়ে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে কারাগারের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ঘুষ বাণিজ্য, নির্যাতন ও অনিয়মের একাধিক গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কারা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে প্রকাশিত প্রতিবাদে প্রতিবেদনটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, ভিত্তিহীন ও অসত্য বলে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগের ধরন ও যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে কারা কর্তৃপক্ষ।

 

1

কারা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রকাশিত প্রতিবেদনে কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যেন তারা একটি সংঘবদ্ধ অনিয়মের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। অথচ সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের পক্ষে সুনির্দিষ্ট তদন্ত প্রতিবেদন, লিখিত অভিযোগ কিংবা প্রমাণ হাজির করা হয়নি। বরং কারাগারের দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নাম ব্যবহার করে একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে।

 

সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে বর্তমান জেলার সৈয়দ মো. জাবেদ হোসেনকে ঘিরে। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, তিনি সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এর জেলার হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন মাত্র প্রায় দুই মাস। এত অল্প সময়ে কারাগারের দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক কাঠামো, জনবল ব্যবস্থাপনা কিংবা অতীতের কোনো অনিয়মের দায় তার ওপর চাপিয়ে দেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

 

7

আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—কারাগারের কোনো জেলার নিজের ইচ্ছায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি বা পদায়ন করার একক ক্ষমতা রাখেন—এমন বক্তব্যও প্রশ্নবিদ্ধ বলে দাবি করেছে সংশ্লিষ্টরা। কারা অধিদপ্তরের বিভিন্ন সরকারি আদেশে বদলি ও পদায়নের আদেশ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে জারি হওয়ার নজির রয়েছে। যেমন, কারা অধিদপ্তরের প্রকাশিত নথিতে বিভিন্ন কারাগারের জেল সুপার ও জেলারদের বদলি/পদায়নের আদেশ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে জারির প্রমাণ পাওয়া যায়।

 

কারা কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, ফলে কারাগারের ভেতরের যেকোনো প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে ব্যক্তিগতভাবে জেলার সৈয়দ জাবেদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কারাগার একটি বিধিবদ্ধ প্রশাসনিক কাঠামোর অধীনে পরিচালিত হয় এবং বন্দিদের সেবা, নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম প্রচলিত আইন, বিধি-বিধান ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালিত হওয়ার কথা রয়েছে। কারা অধিদপ্তরের সরকারি সেবাতথ্যেও কারা প্রশাসনের বিভিন্ন কার্যক্রম নির্ধারিত প্রক্রিয়া ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে ‘ওকালতনামা’, ‘পিসি’, ওয়ার্ড পরিবর্তন, সাক্ষাৎ, হাসপাতালের সিট, মাদক ও মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন বিষয়ে অর্থ লেনদেনের যে অভিযোগ করা হয়েছে, সেগুলোরও সুনির্দিষ্ট প্রমাণ জনসমক্ষে উপস্থাপন করা হয়নি বলে দাবি কারা কর্তৃপক্ষের। শুধু অভিযোগ না হওয়ার ভিত্তিতে নির্দিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীকে দুর্নীতিবাজ বা একটি চক্রের সদস্য হিসেবে উপস্থাপন করা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

 

এদিকে একই ধরনের অভিযোগ নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রতিবাদে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এর সিনিয়র জেল সুপার প্রশান্ত কুমার বনিক ও জেলার সৈয়দ মো. জাবেদ হোসেন স্বাক্ষরিত প্রতিবাদপত্রের তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে কারাগারে ঘুষ লেনদেন, বন্দিদের কাছ থেকে অর্থ আদায় এবং নির্ধারিত অর্থের অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগকে সার্বিকভাবে সত্য নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

5

 

5

কারা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার-২ নিয়ে যে চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, তার বড় একটি অংশই ভিত্তিহীন, মনগড়া ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাদের দাবি, কিছু ব্যক্তির নাম জড়িয়ে একটি সংঘবদ্ধ অনিয়মের চিত্র তৈরি করা হলেও বাস্তবতার সঙ্গে তার মিল নেই। ফলে কারাগারের মতো স্পর্শকাতর একটি প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে অভিযোগের পাশাপাশি নথি, প্রত্যক্ষ প্রমাণ, সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ও প্রশাসনিক রেকর্ড যাচাই করা জরুরি।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

২০২৫ সালের ক্যালেন্ডার বাংলা ইংরেজি আরবি

২০২৫ সালের ক্যালেন্ডার বাংলা ইংরেজি আরবি

গুণ গত মান যার ভাল তার দাম একটু বেশি সিলেটের সেরা বাগানের উন্নত চা প্রতি কেজি চা দাম ৪৫০ টাকা হোম ডেলি বারি দেয়া হয়

tree

কম খরচে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিন

sylhet24

Follow for More!

1
5