প্রকাশিত: ৭:২৬ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ৮, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক : সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার মোগলাবাজার থানাধীন সিলাম ইউনিয়নে দীর্ঘদিনের রাস্তা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ওয়াতির আলী (৩০) নামের এক যুবককে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। নিহত ওয়াতির আলী মুক্তারপুর গ্রামের মৃত সৈয়দ আলী মিয়ার ছেলে এবং পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য ছিলেন। ঘটনার একাধিক দিন পার হলেও প্রধান অভিযুক্তরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষে ফুঁসে উঠেছে স্থানীয় এলাকাবাসী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সিলাম ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মুক্তারপুর গ্রামের বাসিন্দা ওয়াতির আলীর পরিবারের সঙ্গে প্রতিবেশী মো. আব্দুল মানিক মিয়ার পরিবারের চলাচলের রাস্তা নিয়ে বিরোধ চলছিল। এরই জের ধরে গত ২৮ জুলাই (মঙ্গলবার) সকালে ওয়াতির আলীর মা গেদনী বেগম ও প্রতিবেশীদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়।
অভিযোগ উঠেছে, সকালে তর্কাতর্কির ধারাবাহিকতায় ওই দিন রাত আনুমানিক ১০টা ৩০ মিনিটে প্রতিবেশী মো: মানিক মিয়া ও তার তিন ছেলে—আবুল আহমদ (২৯), আব্দুল রহিম লিটন (২৭) ও সাহাব উদ্দিন ওরফে সাবুল (৫৪) পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওয়াতির আলীকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। বসতবাড়ির পাশের একটি নির্জন ও খালি জায়গায় নিয়ে দেশীয় মারাত্মক অস্ত্র, লোহার রড ও কাঠের লাঠি দিয়ে তার ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়। হামলাকারীদের প্রচণ্ড আঘাতে মাথায়, বুকে ও পিঠে গুরুতর জখম পেয়ে ওয়াতির আলী রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তার নড়াচড়া বন্ধ হয়ে গেলে মৃত ভেবে ঘাতকরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
ঘটনার সময় স্থানীয় এক নারীর আত্মচিৎকারে স্বজন ও আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। পরে সিলাম ইউনিয়নের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য (১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ড) সাবিনা আক্তার আসমাসহ স্থানীয়রা মুমূর্ষু অবস্থায় ওয়াতির আলীকে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত ১২টা ৪৫ মিনিটের দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে মোগলাবাজার থানা পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতের পর ময়নাতদন্ত শেষে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করলে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী দাফন সম্পন্ন হয়।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, হত্যাকাণ্ডের শিকার ওয়াতির আলীর পরিবারটি অত্যন্ত অসহায়। পরিবারের চার ভাই ও এক বোন বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। একমাত্র উপার্জনক্ষম অবলম্বনকে হারিয়ে বৃদ্ধা মা ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ভাই-বোনেরা এখন চরম অনিশ্চয়তা ও মানবেতর জীবনযাপন করছেন। নিহতের মা মোদেবা বেগম বিলাপ করতে করতে বলেন, “আমার উপার্জন করার মতো আর কেউ রইল না। পুরো পরিবারটাকে ঘাতকরা নিঃস্ব করে দিল। আমি আমার ছেলের হত্যকারীদের ফাঁসি চাই।”
এ ঘটনায় নিহতের চাচা মো. আব্দুল কালাম ফকির আলী বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ করে মোগলাবাজার থানায় একটি নিয়মিত হত্যা মামলা দায়ের করেছেন (মামলা নং-১৩/৭০, তারিখ: ৩০/০৭/২০২৬, ধারা: ৩০২/৩৪ পেনাল কোড)।
হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে নিহতের ফুফু ও সিলাম ইউপির সংরক্ষিত মহিলা সদস্য সাবিনা আক্তার আসমা বলেন, “আমার অসহায় ও নিরীহ ভাতিজাকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। একমাত্র চালিকাশক্তিকে হারিয়ে পুরো পরিবার আজ চরম সংকটে। আমরা জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তির জোর দাবি জানাচ্ছি।”
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাব-ইন্সপেক্টর মো. শিহাব মাহমুদ জানান, ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মোগলাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযুক্ত মানিক মিয়া ও তার ছেলেরা বর্তমানে পলাতক থাকলেও তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম জোর অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।” খুব শীঘ্রই আসামি গ্রেফতার করা হবে।




অফিস : ৩৭০/৩,কলেজ রোড,আমতলা, আশকোনা,ঢাকা-১২৩০,
Call : 01911120520
Email : info.sylhet24express@gmail.com
প্রধান উপদেষ্টা : আলহাজ্ব মোহাম্মদ কাপ্তান হোসেন
পরিচালক, সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও প্রতিষ্ঠাতা, আলহাজ্ব মোহাম্মদ কাপ্তান হোসেন সমাজ কল্যাণ ট্রাস্ট।
উপদেষ্টা সম্পাদক : মো. রেজাউল ওয়াদুদ চেয়ারম্যান বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন পরিষদ (বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস এনফোর্সমেন্ট কাউন্সিল)
সম্পাদক ও প্রকাশক মো: আবু বক্কর তালুকদার
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : নূরুদ্দীন রাসেল
Design and developed by Web Nest