প্রকাশিত: ৫:৩৪ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৭, ২০২৪
নিউজ ডেস্ক : সিলেট মহানগর যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং চালিবন্দর এলাকার শ্রী শ্রী ভৈরব মন্দিরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজীৎ দেবনাথকে একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে তার পরিবার ও ঘনিষ্ঠজনদের অভিযোগ, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করার কারণে তাকে সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মহলের বিরাগভাজন থাকায় সাম্প্রতিক সময়ে তিনি চাঁদা দাবি, হয়রানি ও প্রাণনাশের হুমকির মুখে পড়েছিলেন বলেও দাবি করেছে পরিবার।
বিশ্বজীৎ দেবনাথ সিলেট নগরীর চালিবন্দর এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা। ছাত্রজীবনে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের রাজনীতির মাধ্যমে তার রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়। দীর্ঘ সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তিনি ২০২৩ সালে সিলেট মহানগর যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব লাভ করেন।
রাজনীতির পাশাপাশি তিনি দীর্ঘদিন শ্রী শ্রী ভৈরব মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ জানান, দায়িত্ব পালনকালীন মন্দিরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজন, বেদখল হওয়া সম্পত্তি পুনরুদ্ধার এবং ধর্মীয় সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন ও যুদ্ধোত্তর সময়ে এবং পরবর্তীকালে বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী মন্দিরের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমি অবৈধভাবে দখল করে। এ কারণে মন্দির কমিটি ও স্থানীয় হিন্দু জনগণের সঙ্গে দখলদারদের বিরোধ দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৬ সালে খলিল মিয়ার নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি মন্দিরে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ ওঠে, যা স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগের জন্ম দেয়।
পরবর্তীতে এ ঘটনায় কোতোয়ালী থানায় মামলা দায়ের করা হলে খলিল মিয়া গ্রেপ্তার হন। বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করে ০৫ বৎসরের কারাদণ্ড প্রদান করেন। বিশ্বজীৎ দেবনাথের ঘনিষ্ঠদের দাবি, আওয়ামী লীগের রাজনীতি করা, মন্দির রক্ষা এবং মামলার কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা রাখার কারণেই তিনি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এবং উগ্র ও সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীগুলোর লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হন।
জানা গেছে, মূর্তি ভাঙচুর ঘটনারও কয়েক বছর আগে থেকেই বিশ্বজীৎ দেবনাথ মন্দিরে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করতেন। তার নিষ্ঠা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায় তাকে মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক মনোনীত করে। দায়িত্ব পালনকালে তিনি ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখা, মন্দির পরিচালনা এবং প্রশাসনের সহযোগিতায় দখলকৃত জমি উদ্ধারে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তবে এসব কর্মকাণ্ডের কারণে একপর্যায়ে তার বিরুদ্ধে একটি মহলে বিরূপ মনোভাব সৃষ্টি হয়।
বিশ্বজীৎ দেবনাথের পরিবারের অভিযোগ, দণ্ডপ্রাপ্ত খলিল মিয়া জামিনে মুক্তির পর প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ওঠেন। ৫ আগস্ট ২০২৪ রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির সুযোগ নিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের পৃষ্ঠপোষকতায় একদল সন্ত্রাসী জনাব দেবনাথের কাছে ১০ লাখ টাকা ‘জিজিয়া কর’ দাবি করে এবং টাকা না দিলে তাকে সপরিবারে হত্যার হুমকি দেয়। চাঁদা প্রদানের আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় তিনি সপরিবারে আত্মগোপনে চলে যান।
পরিবারের দাবি, পলাতক অবস্থায় রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত হয়ে দক্ষিণ সুরমা থানার পুলিশ বিশ্বজীৎ দেবনাথকে ২৫ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার করে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে বিশ্বজীৎ দেবনাথের পরিবারের পক্ষ থেকে এই অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।




অফিস : ৩৭০/৩,কলেজ রোড,আমতলা, আশকোনা,ঢাকা-১২৩০,
Call : 01911120520
Email : info.sylhet24express@gmail.com
প্রধান উপদেষ্টা : আলহাজ্ব মোহাম্মদ কাপ্তান হোসেন
পরিচালক, সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও প্রতিষ্ঠাতা, আলহাজ্ব মোহাম্মদ কাপ্তান হোসেন সমাজ কল্যাণ ট্রাস্ট।
উপদেষ্টা সম্পাদক : মো. রেজাউল ওয়াদুদ চেয়ারম্যান বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন পরিষদ (বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস এনফোর্সমেন্ট কাউন্সিল)
সম্পাদক ও প্রকাশক মো: আবু বক্কর তালুকদার
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : নূরুদ্দীন রাসেল
Design and developed by Web Nest