প্রকাশিত: ১২:৫৭ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬
নিউজ ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করে একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও কল্যাণমুখী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায় বাংলাদেশ। দল-মত, ধর্ম ও বর্ণনির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান অধিকার, সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করাই রাষ্ট্রের লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন তিনি।
নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় অনুসারে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেমর) জাতিসংঘ সদর দপ্তরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষে বাংলায় দেওয়া প্রথম ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি দীর্ঘদিনের শাসন-শোষণে ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশকে পুনর্গঠনে সরকারের ‘থ্রি-আর’ কৌশল— রিকভারি, রেস্টোরেশন ও রিকনস্ট্রাকশন অনুসরণের কথা জানান।
এর মধ্য দিয়ে বাবা শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা খালেদা জিয়ার পর জাতিসংঘে একই পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে ভাষণ দেওয়ার অনন্য রেকর্ড গড়লেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
ভাষণে তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের শাসন-শোষণের অবসানের পর বাংলাদেশ আবার গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে। তার ভাষায়, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে একটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত হয়েছে। জনগণকে ক্ষমতাহীন রেখে কোনো রাষ্ট্র শক্তিশালী হতে পারে না। গণতন্ত্র, মানবাধিকার, সুশাসন, জবাবদিহি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার মধ্য দিয়েই উন্নয়নের ধারাকে এগিয়ে নিতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের সুযোগ কাজে লাগিয়ে দেশের কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে সরকার ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বাংলাদেশকে ‘ম্যানুফ্যাকচারিং হাব’ হিসেবে গড়ে তুলতে বিস্তারিত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এ কাজে উন্নয়ন সহযোগীদের পাশে থাকার আহ্বান জানান তিনি। তরুণ উদ্যোক্তা, গবেষক ও উদ্ভাবকদের জন্য স্টার্টআপ উদ্যোগে সহায়তা দিতে চলতি অর্থবছরে ৫০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ রাখার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।
অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ণে জোর : প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার শুধু ভোটের গণতন্ত্র নয়, অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ণও নিশ্চিত করতে চায়। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সমৃদ্ধির সুফল যাতে প্রতিটি পরিবার ও নাগরিকের কাছে পৌঁছায়, সে লক্ষ্যেই কাজ চলছে। দেশের অর্ধেকের বেশি মানুষ নারী উল্লেখ করে তিনি নারী শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা তৈরিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানান। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতে নারী উদ্যোক্তা তৈরিতে নগদ অর্থায়নের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং স্নাতক পর্যন্ত নারীদের বিনা বেতনে শিক্ষার সুযোগের কথাও তুলে ধরেন।
অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, ফারমার্স কার্ড, স্পোর্টস কার্ড ও ই-হেলথ কার্ডের মতো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিবারের নারী প্রধানের নামে দেওয়া ‘ফ্যামিলি কার্ড’ নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের প্রতীক। বিভিন্ন খাতের এসব কার্ডকে সমন্বিত করে ভবিষ্যতে একটি ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।
শিক্ষা, দক্ষতা ও তরুণদের গুরুত্ব : শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও খেলাধুলাকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের ইতিহাসে এবারই শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে পর্যায়ক্রমে শিক্ষা খাতে জিডিপির বরাদ্দ ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। কর্মমুখী শিক্ষা নিশ্চিত করতে কারিগরি ও ব্যাবহারিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ব্যাগ ও স্কুল ইউনিফর্ম এবং বিনা মূল্যে দুপুরের খাবার দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে শিক্ষা সিলেবাসে ‘স্পোর্টস’ বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। গত জুনে সারা দেশে আয়োজিত মাসব্যাপী ফুটবল টুর্নামেন্টে ২০ লাখের বেশি শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রযুক্তির বৈষম্য কমানোর আহ্বান : বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), বায়োটেকনোলজি ও বিজ্ঞানের নতুন যুগে প্রবেশ করলেও প্রযুক্তির সুযোগ এখনো সবার জন্য সমান নয় বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই না, আজকের ডিজিটাল বিভাজন আগামী দিনের আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের বিভাজনে পরিণত হোক।’
উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তিতে সাশ্রয়ী প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। এআই ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সুফল কাজে লাগাতে জাতিসংঘের কার্যকর নীতিমালা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন বাংলাদেশের সরকারপ্রধান।
এলডিসি উত্তরণে সহায়তা চাইলেন : বাংলাদেশ এলডিসি উত্তরণের অপেক্ষায় রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই উত্তরণ টেকসই করতে সুনিশ্চিত অর্থায়ন, বাজারে অধিকতর প্রবেশাধিকার, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ধারাবাহিক আন্তর্জাতিক সহায়তা প্রয়োজন। আঞ্চলিক বাণিজ্য, যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
শান্তি ও ফিলিস্তিনের পক্ষে বাংলাদেশ : বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাতের কারণে বাস্তুচ্যুতি, মানবিক সংকট, জ্বালানি নিরাপত্তাহীনতা ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়ছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, সংঘাতের সমাধান হতে হবে আলোচনা, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে। রাষ্ট্রগুলোর দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সম্পর্কের ভিত্তি হওয়া উচিত সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থ এবং সম্মান ও মর্যাদা।
পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাসহ ফিলিস্তিনি জনগণের ন্যায্য অধিকারের প্রতি সমর্থন জানান।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জোর : রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর ভূমিকা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশ নয় বছরের বেশি সময় ধরে মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। এতে দেশের সম্পদ, পরিবেশ, নিরাপত্তা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
রোহিঙ্গা সংকটের উৎস ও উৎপত্তি মিয়ানমারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর সমাধানও সেখানেই নিহিত। বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদে মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেওয়াই এই সংকটের একমাত্র সমাধান। প্রত্যাবাসন না হওয়া পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের জীবন রক্ষাকারী সহায়তা অব্যাহত রাখতেও জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
জলবায়ু ন্যায়বিচার ও নিরাপদ অভিবাসন : জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশ সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী কপ-৩১-এ জলবায়ু ন্যায়বিচার, জলবায়ু অর্থায়ন ও অভিযোজন সহায়তায় আরও জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান জানান।
আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানো, পরিচ্ছন্ন ও সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং বন্যা ও খরা মোকাবিলায় সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের কর্মসূচির কথা জানান তিনি। তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের মাধ্যমে পানি সংরক্ষণ এবং আন্তঃসীমান্ত পানি ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতার কথাও তুলে ধরেন।
নিরাপদ, নিয়মিত ও সুশৃঙ্খল অভিবাসনের প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে অভিবাসীদের অধিকার, মর্যাদা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান তারেক রহমান। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা মানবতার সেবায় কাজ করছেন। শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশি নারীদের অংশগ্রহণ ‘নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা’ কর্মসূচির প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকারের প্রতিফলন।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের এবারের প্রতিপাদ্য ‘রিস্টোরিং ট্রাস্ট, ম্যানেজিং ট্রান্সফরমেশন : অ্যা ইউনাইটেড নেশনস দ্যাট ডেলিভারস ফর অল’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বহুপক্ষীয়তার প্রতি বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, তরুণেরা যাতে নিজেদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের সুযোগ পায়, নারীরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জীবন পরিচালনা করতে পারেন এবং প্রতিটি শিশু তার সম্ভাবনা বিকাশের সুযোগ পায়— এমন একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য। এ প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ : সবার জন্য বাংলাদেশ।’
জাতিসংঘে শেষ দিনেও কর্মব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী : জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্ক সফরের শেষ দিনেও ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সদর দপ্তরে তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে বৈঠক করেন। পাশাপাশি বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের সাইডলাইন বৈঠকেও অংশ নেন।
দিনের শুরুতেই জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়াতে সৃষ্ট অস্তিত্বগত হুমকি মোকাবিলায় আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এ বৈঠক হয়।
বদলে যাওয়া জলবায়ুর বাস্তবতায় উপকূলীয় অঞ্চল ও মানুষের জীবন রক্ষায় বৈঠকে চার দফা প্রস্তাব তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর মধ্যে কার্বন নিঃসরণ যৌক্তিক পর্যায়ে কমানোর বিষয়টিও রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় তার প্রস্তাবগুলোতে উপকূলীয় মানুষের সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
এরপর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসেন তারেক রহমান। বৈঠকে দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। দুই নেতা দুই দেশের সম্পর্কের ইতিবাচক অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ায় তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান শাহবাজ শরিফ। একই সঙ্গে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্ব গ্রহণ করায় বাংলাদেশকেও অভিনন্দন জানান তিনি। জাতিসংঘের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এগিয়ে নিতে বাংলাদেশের উদ্যোগে পাকিস্তানের সমর্থনের কথাও জানান শাহবাজ শরিফ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও দুই দেশের সম্পর্কের ইতিবাচক গতিপথে সন্তোষ প্রকাশ করেন। বাংলাদেশ সরকার দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদারে আগ্রহী বলেও জানান তিনি। দুই প্রধানমন্ত্রী পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং দুই দেশের জনগণের কল্যাণে সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্র নিয়েও আলোচনা করেন। পারস্পরিক সম্মান, বোঝাপড়া ও সহযোগিতার ভিত্তিতে বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন দুই নেতা।
পরে দুপুরে প্রতিরোধযোগ্য মা ও নবজাতকের মৃত্যু কমানোর বিষয়েও একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। মিডওয়াইফারি বিষয়ক এই বৈঠকে তার সহধর্মিণী জুবাইদা রহমানও অংশ নেন।
দিনের আরেক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে বাংলাদেশের পথচলা, উন্নয়ন ও বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশের অগ্রাধিকার ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে জাতিসংঘের সহযোগিতা জোরদার এবং অভিন্ন বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী ও জাতিসংঘ মহাসচিব।
ত্রিনিদাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা সই : নিয়মিত দ্বিপাক্ষিক আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগোর মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এতে প্রাথমিক পর্যায়ে জ্বালানি সহযোগিতাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর এবং ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগোর পররাষ্ট্র ও ক্যারিকমবিষয়ক মন্ত্রী এস এম সোবার্স নিজ নিজ দেশের পক্ষে এই সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।
সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষরের পর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর বলেন, নতুন এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দুই দেশ নিয়মিতভাবে তাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পর্যালোচনার সুযোগ পাবে। একই সঙ্গে বাণিজ্যিক, অর্থনৈতিক, বৈজ্ঞানিক, কারিগরি ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা আরও এগিয়ে নেওয়া এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময়ের পথ সুগম হবে। এসময় জ্বালানি খাতকে স্বল্পমেয়াদি সহযোগিতার অন্যতম সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হিসেবে উল্লেখ করেন হুমায়ুন কবীর।
নিউইয়র্কে বিএনপির আনন্দ ও স্বাগত মিছিল : জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভাষণ দেওয়াকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ব্যাপক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে অবস্থিত জাতিসংঘ ভবনের বিপরীতে এক বিশাল স্বাগত ও আনন্দ মিছিল করেন স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বিকেল থেকেই নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা নেতাকর্মীরা জাতিসংঘ ভবনের সামনে জড়ো হতে থাকেন। ব্যানার, ফেস্টুন ও রং-বেরঙের পোস্টার হাতে নিয়ে তারা নানা স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত করে তোলেন। এ আনন্দ মিছিলে নিউইয়র্ক মহানগর দক্ষিণ বিএনপির নেতাকর্মীদের পাশাপাশি ফ্লোরিডা, বোস্টন, ক্যালিফোর্নিয়া, ওয়াশিংটন ডিসি, নিউজার্সি, শিকাগো, কানেকটিকাট, পেনসিলভানিয়া, জর্জিয়া, টেনেসি ও কানাডা বিএনপির বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক অংশ নেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, পুরো কর্মসূচির সমন্বয় করেন বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খোকন। তাকে সর্বাত্মকভাবে সহযোগিতা করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবদুল লতিফ সম্রাট, গিয়াস আহমেদ, মিজানুর রহমান ভূঁইয়া মিল্টন ও জিল্লুর রহমান জিল্লু এবং নিউইয়র্ক মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাবিবুর রহমান সেলিম রেজা। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা শরাফত হোসেন বাবু, মোস্তফা কামাল পাশা বাবুল, দক্ষিণের সম্পাদক মোহাম্মদ বদিউল আলম প্রমুখ।




অফিস : ৩৭০/৩,কলেজ রোড,আমতলা, আশকোনা,ঢাকা-১২৩০,
Call : 01911120520
Email : info.sylhet24express@gmail.com
প্রধান উপদেষ্টা : আলহাজ্ব মোহাম্মদ কাপ্তান হোসেন
পরিচালক, সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও প্রতিষ্ঠাতা, আলহাজ্ব মোহাম্মদ কাপ্তান হোসেন সমাজ কল্যাণ ট্রাস্ট।
উপদেষ্টা সম্পাদক : মো. রেজাউল ওয়াদুদ চেয়ারম্যান বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন পরিষদ (বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস এনফোর্সমেন্ট কাউন্সিল)
সম্পাদক ও প্রকাশক মো: আবু বক্কর তালুকদার
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : নূরুদ্দীন রাসেল
Design and developed by Web Nest