দেড় দশকের সৃষ্ট ভঙ্গুরতা কাটিয়ে এখন রাষ্ট্র পুনর্গঠনের পালা : প্রধানমন্ত্রী
প্রকাশিত: ১০:৪৯ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১০, ২০২৬
8
নিউজ ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দীর্ঘ দেড় দশকের শাসনে বাংলাদেশ ঋণনির্ভর ও আমদানিনির্ভর ভঙ্গুর রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছিল। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবেশসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তৈরি হওয়া এই ভঙ্গুরতা কাটিয়ে এখন রাষ্ট্র পুনর্গঠনের পালা। দেশ পুনর্গঠনের এই যাত্রা পথে এসডিজি’র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা অনস্বীকার্য।
সোমবার (১০ আগস্ট) বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘এসডিজি অর্জনে পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামো: নীতি, অংশীদারত্ব ও অগ্রাধিকার’ শীর্ষক জাতীয় সম্মেলন-২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত অর্থনৈতিক কাঠামো বাস্তবায়নের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এই অবকাঠামো দেশের জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনাকে জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজি’র সঙ্গে সমন্বিত করেছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) বাস্তবায়নে সাফল্য দেখিয়েছে। একইভাবে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নেও সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।
তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ‘ভিশন ২০৩০’ এবং রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফার রূপকল্প ও লক্ষ্যগুলোর সঙ্গে এমডিজি ও এসডিজির বড় কোনো অমিল নেই। এসডিজির মূলনীতি ‘কাউকে পেছনে ফেলে নয়’ এর সঙ্গে সরকারের জননীতিরও মিল রয়েছে। সরকারের নীতি হচ্ছে ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’।
তিনি বলেন, সরকারের ‘সংস্কার ও উন্নয়নের পাঁচ স্তম্ভে’ দারিদ্র্য বিমোচন, সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা, মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা, জেন্ডার সমতা, জলবায়ু সহনশীলতা এবং সুশাসনের বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
এলডিসি থেকে উত্তরণ ও এসডিজি বাস্তবায়নের অগ্রগতি ধরে রাখতে সরকার ‘পুনরুদ্ধার-পুনর্বাসন-পুনর্গঠন’ এই তিন স্তরের কৌশল নিয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির বিষয়ে তিনি বলেন, সরকার ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও ই-হেলথ কার্ডের মতো কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এর মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষক, স্বল্প আয়ের পরিবার ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কাছে ভর্তুকি, কৃষি উপকরণ, আর্থিক সহায়তা ও স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
এর পাশাপাশি ক্রীড়া কার্ড এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের সম্মানি ভাতার আওতায় আনার কথাও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসডিজি স্থানীয়করণের পরীক্ষামূলক মডেল হিসেবে রাঙামাটির কাপ্তাইয়ের মিতিঙ্গাছড়ি, খুলনার দাকোপের পানখালী এবং দিনাজপুরের বোচাগঞ্জের নাফানগর গ্রামকে বেছে নেওয়া হয়েছে। এসব গ্রামে সামাজিক সুরক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পর্যটন, বৃক্ষরোপণ ও খাল খননসহ বিভিন্ন কর্মসূচি একযোগে বাস্তবায়ন করা হবে।
সফল হলে পরবর্তী সময়ে দেশের অন্যান্য গ্রামেও ‘এসডিজি ভিলেজ’ মডেল সম্প্রসারণ করা হবে বলে জানান তারেক রহমান।