কামালবাজারের চাঞ্চল্যকর মারুফ হত্যার পলাতক আসামী রাজু ও ফয়জুলের জামিন না মনজুর

প্রকাশিত: ১১:০৬ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২৮, ২০২৫

কামালবাজারের চাঞ্চল্যকর মারুফ হত্যার পলাতক আসামী রাজু ও ফয়জুলের জামিন না মনজুর

3

বিশেষ প্রতিনিধিঃ সিলেটের দক্ষিন সুরমার কামাল বাজারের চাঞ্চল্যকর ও বর্বরোচিত কলেজ ছাত্র মারুফ হত্যার পলাতক আসামী রাজু ও ফয়জুলের জামিন নাকচ করে কারাগারে পাঠিয়েন বিজ্ঞ আদালত। ঘটনার বিবরনে প্রকাশ,সিলেটের দক্ষিণ সুরমার কামালবাজার ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০২২ সালের ৩১ জানুয়ারী। এই নির্বাচনে কামালবাজার ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডে মেম্বার পদপ্রার্থী হন ব্যবসায়ী ছোয়াব আলী ও তাঁর প্রতিবেশি স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা মাহমুদুল হাসান রাজু। নির্বাচনে মাহমুদুল হাসান রাজু পরাজিত হয়। পরাজয় মানতে না পেরে তাঁর ভাই সুফি আহমদ, জহুর আলী, ফয়জুল, সুফিয়ান, টাইগার সালেহ ও তাদের লাঠিয়াল বাহিনী বিজয়ী প্রার্থী ছোয়াব আলীর বাড়িতে মধ্যযোগীয় কায়দায় হামলা চালায়। নির্মম নিষ্টুর ও বর্বরোচিত মধ্যযোগীয় হামলার শিকার হন ছোয়ার আলীর কলেজ পড়ুয়া কনিষ্ট পুত্র মারুফ আহমদ (২৫)।

 

3

সন্ত্রাসী হামলায় মারুফের মাথার শিরা উপশিরাগুলো ছিন্ন বিছিন্ন হয়ে যায় ঘাতকদের আঘাতে। হামলার ৫দিন পর মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে ২০২২ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি মারুফ ঢাকার একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরন করেন। হামলার দিন মধ্যরাতে প্রধান আসামী স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতা সুফি আহমদ (২৬), হামলাকারী ২নং আসামী ফয়জুল ইসলাম (২৮) ও ৩ নং আসামী মাহমুদুল হাসান রাজুকে (৩০) পুলিশ গ্রেফতার করে। এদিকে ১ফেব্রুয়ারি ২০২২ সালে মারুফের পিতা ছোয়াব আলী বাদী হয়ে দক্ষিণ সুরমা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ২ ফেব্রুয়ারি ২০২২ তারিখে আদালত থেকে ফয়জুল ইসলাম ও মাহমুদুল হাসান ও রাজু দলীয় প্রভাব খাটিয়ে জামিনে বেরিয়ে যায়। মারুফ ৫ ফেব্রুয়ারি মৃত্যুবরণ করলে এই দুই আসামী আদালতে হাজির না হয়ে পালিয়ে যায়। দীর্ঘ ৩ বছর ৮ মাস পর গত ১৫ অক্টোবর ফয়জুল ইসলাম ও মাহমুদুল হাসান রাজু আদালতে আত্মসমর্পন করে আবারও জামিন প্রার্থনা করে।
বিজ্ঞ আদালত খুনিদের জামিন না মন্জুর করে কারাগারে পাঠিয়ে দেয়। ২৭ অক্টোবর ২০২৫ (সোমবার) সিলেট মহানগর আদালতে শুনানি শেষে বিজ্ঞ আদালত জামিন না মন্জুর করেন।এলাকাবাসী জানান,মামলার প্রধান আসামী সুফি আহমদের মামা সিলেট-৩ আসনের এমপি হাবিবুর রহমান হাবিবের বাড়ী কামালবাজার ইউনিয়নের ধরগাঁও গ্রামে এবং এমপির আত্মীয়,ছাত্রলীগ ও আওয়ামীলীগের দাপট দেখিয়ে প্রকাশ্যে ঘুরে বেরিয়েছে খুনিরা।শুধু তাই নয় নিরীহ পরিবারকে মামলা প্রত্যাহার করে নিতে বার বার হুমকী প্রদান করে।শুধু এই হত্যাই নয় এলাকায় এমপির প্রভাব খাটিয়ে আধিপত্য বিস্তার করে চাঁদাবাজী, টেন্ডারবাজি, নিরিহ মানুষকে হয়রানী সহ সকল ধরনের অপকর্মের সাথে জড়িয়ে পড়ে হত্যাকারী সুফি ও তার পরিবার। এমন কোন অপকর্ম নেই যে,এই খুনিরা করেনি। খুনির মামা আওয়ামীলীগ দলীয় এমপি বিধায় বিগত সরকারের প্রভাব খাটিয়ে তারা এলাকায় এক ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে।

7

 

বিগত সরকারের আমলে সুফির ছোট ভাই সুফিয়ান আহমদ সে মহানগর ছাত্রলীগের সদস্য মারুফ হত্যা মামলার অন্যতম আসামী। তার অন্য ভাই রায়হান আহমদ ইতালীর পায়েল শাখা আওয়ামীলীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক, বড় ভাই সেলিম আহমদ যুবলীগ নেতা এভাবে সকল ভাই ও আত্মীয় স্বজন আওয়ামী রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে এবং দলীয় প্রভাবশালী নেতা ও প্রশাসনের উচ্চপদস্থদের সাথে ফটোসেশন করে। এসব ফটো এবং এমপির প্রভাব দেখিয়ে বিভিন্ন ভাবে এলাকাবাসীকে হয়রানি করে আসছিল। প্রধান আসামী সুফি আহমদ, এমপি মামার নাম ও দলীয় পরিচয়ে বিগত সরকারের এটর্ণী জেনারেল এ. এম. আমিন উদ্দিন ও অতিরিক্ত এটর্ণী জেনারেল অসিম তালুকদারের সাথে তোলা ফটো সেসনের ছবি ব্যবহার করে বিচার বিভাগে প্রভাব খাটিয়ে হাইকোর্ট থেকে ২১ এপ্রিল ২০২৪ সালে জামিন নিয়ে ২৮ এপ্রিল সিলেট কারাগারের সম্মুখ থেকে বিশাল শোটাউন করে। দলীয় স্লোগান ও এমপি মামার নামে স্লোগান দিয়ে মারুফের কবরস্থানের পাশ দিয়ে বাধ্যযন্ত্র বাজিয়ে বীরদর্পে বাড়িতে ফিরে আসে।

 

3

পরবর্তীতে দক্ষিণ সুরমা উপজেলার চেয়ারম্যান বদরুলের সাথে তার ফুফাত ভাই ২৬ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম শিরুলকে সাথে নিয়ে ফুলেল ফটোসেশন করে। ধারাবাহিকভাবে তার মামা স্থানীয় এমপি হাবিবুর রহমান হাবিবের সাথে সাক্ষাত করে তার চাচাত ভাই দক্ষিন সুরমা উপজেলা আওয়ামীলীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ফারুক আহমদকে সঙ্গে নিয়ে ফটোসেশন করে। জামিনের কয়েকদিন পরেই দলীয় নেতা কর্মীদেরকে নিয়ে গরু জবাই করে বাড়িতে একটি পার্টির আয়োজন করে হৈ হুল্লোড়ে মেতে উঠে আসামীগণ।

 

বিভিন্ন সময় ঈদের নামাজ ও জুম্মার নামাজ শেষে সুফি তার বাহিনী ও অন্যান্য আসামীদেরকে নিয়ে মসজিদের ভিতরে ফটো সেশন করে এলাকায় এখনও প্রভাব বিস্তার করছে।তারা আজও দলীয় পরিচয় দিয়ে নিজেদের বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্টান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দখল করার চেষ্টা করছে। এলাকার বিবেকবান মানুষ অন্তরে এদের ঘৃণা করলেও প্রকাশ্যে খুনীদের ব্যাপারে আজও কেউ মুখ খুলার সাহস পাচ্ছে না। এমন কি মামলার বাদীও নিরাপত্তার অভাবে গ্রাম ছেড়ে পরিবার নিয়ে শহরে বসবাস করছেন। মামলার অপর আসামী জহুর আলী হত্যা মামলা তুলে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছে এবং মামলা তুলে না নিলে বাদীর পরিবারের সদস্যদের হাত পা ভেঙে ফেলার হুমকি দিচ্ছে প্রকাশ্যে।হাইকোর্টের জামিন নিয়ে এই মামলার অন্যান্য আসামী কাইয়ুম আহমদ (২৮), তানভীর আহমদ শামীম (১৮), জায়েদ আহমদ (২৩) এখন দেশের বাহিরে অবস্থান করছে বলে জানা গেছে । এরা দীর্ঘ দিন ধরে মামলায় হাজিরাও দিচ্ছে না।

 

এদিকে মারুফ হত্যা মামলার অন্যতম আসামী টাইগার সালেহকে গত ১ মার্চ ২০২২ তারিখে গুপ্তর গাঁও হাফিজিয়া মাদ্রাসার ওয়াজ মাহফিলের দিনে এলাকাবাসী আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। কিন্তু বিষয়টিকে বিবাদীরা অন্যভাবে সাজিয়ে টাইগার সালেহ মাকে দিয়ে ডাকাতি মামলা দায়ের করে। অথচ এই রাতে গুপ্তর গাঁও হাফিজিয়া মাদ্রাসার ওয়াজ মাহফিল চলছিল,সালেহদের বাড়ি মাদ্রাসার দুইশত গজের মধ্যে ও মূল রাস্তার পাশে। ওয়াজ মাহফিলকে কেন্দ্র করে রাতভর শত শত মুসল্লিদের আনাগোনা ছিল এলাকায়। এর ভেতর কি করে ডাকাতি হয়?তাহা সচেতন মহলের প্রশ্ন!এই সাজানো ডাকাতি মামলায় হত্যা মামলার প্রত্যক্ষ সাক্ষি ও বাদির পরিবারের লোকজনকে আসামী করা হয়।

4

 

শুধু দলীয় প্রভাব খাটিয়ে বারবার তদন্ত ও পুলিশি হয়রানি করা হচ্ছে।এলাকাবাসীর দাবী মারুফ হত্যার ঘাতক খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি হোক। তাহলে এই এলাকায় অপরাধ প্রবনতা কমবে। নতুন অপরাধীর জন্ম হবে না।আর কোন মায়ের কোলও খালি হবে না মর্মে এলাকার জনসাধারণ তাদের মন্তব্য প্রকাশ করেছেন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

২০২৫ সালের ক্যালেন্ডার বাংলা ইংরেজি আরবি

২০২৫ সালের ক্যালেন্ডার বাংলা ইংরেজি আরবি

গুণ গত মান যার ভাল তার দাম একটু বেশি সিলেটের সেরা বাগানের উন্নত চা প্রতি কেজি চা দাম ৪৫০ টাকা হোম ডেলি বারি দেয়া হয়

tree

কম খরচে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিন

sylhet24

Follow for More!

1
4