প্রকাশিত: ৪:৩২ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৪, ২০২৫
নিউজ ডেস্ক : সিলেটে প্রতিনিয়ত ঘটছে চুরি-ছিনতাইসহ প্রকাশ্যে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা। ক্রমেই ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে সিলেটের অপরাধ চিত্র। সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে চুরি-ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পুরোপুরি সক্রিয় হলেও আতঙ্ক কাটছেনা জনমনে। ভয়ে জবুথবু সাধারণ মানুষ।
সচেতন মহল বলছে, সরকার পরিবর্তনের পর থেকে মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় আইানশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল কমে আসায় আগের তুলনায় অপরাধীরা বেশি সক্রিয় হয়েছে। তবে মহানগর পুলিশের দাবি, অপরাধ দমনে তারা সক্রিয় হয়ে কাজ করছেন। পুরো শহরেই নিয়মিত টহল অব্যাহত রয়েছে। আর সিলেট রেঞ্জ ডিআইজি’র কার্যালয় জানিয়েছে, বিভাগের সকল এসপি অফিসে বাড়তি নিরাপত্তা ও পুলিশী কার্যক্রম আরও জোড়দার করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদগুলো বিশ্লেষণ করে জানা যায়- চলতি জানুয়ারি মাসের ২৩ জানুয়ারি পর্যন্ত সিলেট বিভাগে খুন, ধর্ষণ, হত্যা, মারামারি, চুরি, ছিনতাই, আত্মহত্যা ও রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে প্রায় ২০টিরও বেশী। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সংবাদমাধ্যমে অপ্রকাশিত ঘটনাগুলো গণনায় নিয়ে আসলে এই সংখ্যা আরো বেশী হবে।
সর্বশেষ বুধবার (২২ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে সুনামগঞ্জ-জগন্নাথপুর-ঢাকা আঞ্চলিক মহাসড়কের দাড়াখাই নামক স্থানে গাছ ফেলে যানবাহন আটকে লুটপাট করেছে একদল ডাকাত। এ সময় ডাকাতের হামলায় বেশ কয়েকজন যাত্রী আহত হন। এ ব্যাপারে ছাতক উপজেলার জাউয়া বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ কবির আহমদ বলেন, আমরা ঘটনাস্থল পরির্দশন করেছি। ডাকাতরা যাত্রীদের বেশকিছু মালামাল নিয়ে গেছে।
বুধবার (২২ জানুয়ারি) হবিগঞ্জের মাধবপুরে ঘনশ্যামপুর গ্রামে মোবাইলে কথা বলায় নিজের মেয়েকে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন এক বাবা। মাধবপুরের কাসিমনগর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুর মোহাম্মদ জানান, মঈন উদ্দিনের মেয়ে রানু মোবাইলে অতিরিক্ত কথা বলতো। ফোনে কথা বলতে নিষেধ করে আসছিলেন মঈন উদ্দিন। বুধবার দুপুরে মেয়েকে ফোনে কথা বলতে দেখে শাসন করেন। এক পর্যায়ে রানু রেগে গিয়ে বাবার সঙ্গে তর্কে লিপ্ত হয়। এসময় রাগান্বিত হয়ে ধারালো দা দিয়ে রানুর ঘাড়ে কোপ দেন মঈন উদ্দিন। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যায় রানু।
একইদিন হবিগঞ্জের সদর উপজেলার কালনী গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গোষ্ঠীর লোকজনের সংঘর্ষে একজন নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১৫ জন। নিহত কাজী দিপু (৪০) ওই গ্রামের আব্দুল মতিনের ছেলে।
১৯ জানুয়ারি মৌলভীবাজারের বড়লেখার বাড্ডা বাজারে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে নোমান আহমদ (৩৫) নামে এক যুবদল নেতাকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। নিহত নোমান উপজেলার সুজানগর ইউনিয়নের রাঙ্গিনগর গ্রামের লেচু মিয়ার ছেলে। তিনি সুজানগর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক।
১২ জানুয়ারি সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে শিমুলবাঁক ইউনিয়নের উকারগাঁও গ্রামের বোরো জমি থেকে মনির হোসেন (৩০) নামে এক যুবকের নাক-কান কাটা রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্ত্রীসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আকরাম আলী বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। হত্যার রহস্য উদঘাটনে কাজ চলছে।
২১ জানুয়ারি দুপুরে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের বউ বাজারে টুকেরগাও ও নয়াগাঙের পাড় গ্রামের মানুষের মধ্যে মাছ বিক্রিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ হয়। এতে আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন।
এদিকে সিলেট মহানগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করেছে সিলেট মহানগর পুলিশ (এসএমপি)। চুরি, ছিনতাই, চোরাচালান, আবাসিক হোটেল রেইড, মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেফতার হয়েছেন অন্তত ৩০ জন।
সিলেট মহানগর পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) মহানগরীর মিরাবাজার ও পাঠানটুলা এলাকায় পৃথক অভিযানে যাত্রীবেশে সিএনজি অটোরিকশায় ছিনতাই চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করে কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ। এসময় আটক করা হয় দুটি সিএনজি অটোরিকশা। একইদিন সোবহানীঘাট ও শাহজালার উপশহরে পৃথক অভিযানে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চোর চক্রের ৩ জনকে গ্রেফতার করে দক্ষিণ সুরমা থানাপুলিশ। উদ্ধার করা হয়েছে অটোরিকশাও।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, সারাদেশের মতো সিলেটেও অপরাধকাণ্ড কিছুটা বেড়েছে। তবে পুলিশ সক্রিয় থেকে কাজ করছে। চুরি, ছিনতাই, চোরাচালানসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিতভাবে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। পুরো শহরে পুলিশি টহল জোড়দার করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে সিলেট রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের পুলিশ সুপার (অপারেশন্স অ্যান্ড ট্রাফিক) মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সিলেট বিভাগের সব জেলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল ও চেকপোস্ট বাড়ানো হয়েছে। প্রতিটি ইউনিটকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও মানুষের মান-মালের নিরাপত্তায় পুলিশী টহল বৃদ্ধি করতে। মোটরসাইকেলের মাধ্যমে মোবাইল টিমও কাজ করছে। সড়ক, মহাসড়কে চেকপোস্টে সর্তকর্তা নিয়ে পুলিশ কাজ করছে। এছাড়া অপরাধ-প্রবণ এলাকায় এবং অপরাধীদের চিহ্নিত করে অভিযান চালানো হচ্ছে।’




অফিস : ৩৭০/৩,কলেজ রোড,আমতলা, আশকোনা,ঢাকা-১২৩০,
Call : 01911120520
Email : info.sylhet24express@gmail.com
প্রধান উপদেষ্টা : আলহাজ্ব মোহাম্মদ কাপ্তান হোসেন
পরিচালক, সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও প্রতিষ্ঠাতা, আলহাজ্ব মোহাম্মদ কাপ্তান হোসেন সমাজ কল্যাণ ট্রাস্ট।
উপদেষ্টা সম্পাদক : মো. রেজাউল ওয়াদুদ চেয়ারম্যান বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন পরিষদ (বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস এনফোর্সমেন্ট কাউন্সিল)
সম্পাদক ও প্রকাশক মো: আবু বক্কর তালুকদার
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : নূরুদ্দীন রাসেল
Design and developed by Web Nest