সিলেটে ওসমানী মেডিকেলের সব ক্লাস ও পরীক্ষা বাতিল

প্রকাশিত: ১০:১৩ পূর্বাহ্ণ, জুন ৪, ২০২৪

সিলেটে ওসমানী মেডিকেলের সব ক্লাস ও পরীক্ষা বাতিল

নিউজ ডেস্ক : সিলেটে গতকাল সোমবারের ভারি বৃষ্টিতে প্লাবিত হয়েছে নগরীর বেশিরভাগ এলাকা। নগরীর শতাধিক এলাকার বাসাবাড়ি ও ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় পানি ঢুকে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে সোমবারের সব ক্লাস ও পরীক্ষা বাতিল করা হয়।

 

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ শিশির রঞ্জন চক্রবর্তী। তিনি জানান, প্রবেশ ফটক থেকে শুরু করে প্রশাসনিক ভবন, কলেজ ফটক, ছাত্রীনিবাস ও ছাত্রাবাসেও পানি উঠেছে। বন্যার কারণে ক্লাস ও পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। অবস্থা অনুযায়ী পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

 সিলেটে ওসমানী মেডিকেলে বন্যা

সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক সৌমিত্র চক্রবর্তী জানান, হাসপাতালের তিনটি ওয়ার্ডে পানি ঢুকেছে। এতে চিকিৎসাসেবায় ব্যাঘাত ঘটছে প্রশাসনিক কক্ষ এবং বারান্দাতেও পানি আছে।

 

এদিকে জেলা প্রশাসনের দেওয়া তথ্যে সিলেট সিটি করপোরেশনসহ ১৪ উপজেলায় বন্যাকবলিত মানুষের সংখ্যা ৬ লাখেরও বেশি। এসব উপজেলার ৫৫৪ টি আশ্রয় কেন্দ্রে ঠাই হয়েছে ১ হাজার ৪শ মানুষের।

 

সিলেট সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ শাখা জানায়, নতুন করে আরও ৪টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। স্থানীয় কাউন্সিলররা খাবার পানি, স্যালাইন বিতরণ করছেন।

 

সিলেট আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মোহাম্মদ সজীব হোসাইন জানান, সিলেটে ভারি বৃষ্টিপাত আগামী কয়েক দিন থাকতে পারে। এছাড়া মৌসুমি বায়ুর প্রভাব সিলেটের দিকে চলে এসেছে, যার ফলে সামনের দিনগুলোতে বৃষ্টিপাত আরও বাড়তে পারে।

 

মৎস্য অফিস জানায়, বন্যার পানিতে ৭ হাজার ৩৮২ জন মৎস্য চাষি ও খামারির ৮ হাজার ২৫৮টি পুকুর, দিঘি ও মৎস্য খামারের মাছের পোনা ও মাছ ভেসে গেছে। এতে ক্ষতি হয়েছে প্রায় ১৯ কোটি ৭৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা। ক্ষতি হওয়া মাছের মূল্য ১৬ কোটি ২৫ লাখ ৬০ হাজার, পোনার মূল্য ২ কোটি ৬৩ লাখ ৩০ হাজার।

 

এছাড়াও অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে ৮৪ লাখ ৫০ হাজার টাকার। ক্ষতিগ্রস্ত পুকুর, দীঘি ও খামারের আয়তন ১ হাজার ৫৮৩ দশমিক ৪৮ হেক্টর।

 

অপরদিকে বন্যা পরিস্থিতি অনেকটা উন্নতি হলেও বন্যাদুর্গত এলাকায় রোগবালাইয়ের আশঙ্কা রয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে সিলেটের কানাইঘাটে ১২টি মেডিকেল টিম মাঠে নামানো হয়েছে।

 

উপজেলা আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, আশ্রয়কেন্দ্রের পাশাপাশি দুর্গত এলাকায় মেডিকেল টিমগুলো কাজ করছে।

 

স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুবল চন্দ্র বর্মণ জানান, বন্যার্ত মানুষের আমাশয়, ডায়রিয়া বিশেষ করে পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই মাঠে টিম রাখা রয়েছে।

কম খরচে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিন

কম খরচে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিন