গুলশানের যে ফ্ল্যাটে বসে হত্যা মিশন তদারকি করেন শাহীন

প্রকাশিত: ১০:২৬ অপরাহ্ণ, মে ২৪, ২০২৪

গুলশানের যে ফ্ল্যাটে বসে হত্যা মিশন তদারকি করেন শাহীন

অনলাইন ডেস্ক : ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আনোয়ারুল আজিম আনারকে নৃশংসভাবে হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড আক্তারুজ্জামান শাহীন ৩০ এপ্রিল একটি ফ্লাইটে কলকাতা যান। সেখানে নিউটাউনের একটি ফ্ল্যাটে এমপি আনার হত্যার ছক এঁকে ১০ এপ্রিল বাংলাদেশে ফেরেন। দেশে ফিরেই ওঠেন রাজধানীর গুলশান দুই নম্বরের ৬৫ নম্বর রোডের ১৭ নম্বর হাউসের দ্বিতীয় তলার বি-১ ফ্ল্যাটে। ফ্ল্যাটটি বেশ কয়েক বছর আগে ভাড়া নেন শাহীন। তবে খুব একটা থাকেন না সেখানে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এ ফ্ল্যাটে বসেই শাহীন হত্যার সার্বিক দিক নির্দেশনা দেন। শাহীনের নির্দেশে চরমপন্থি নেতা আমানুল্লাহ ওরফে শিমুল ভুঁইয়া হত্যা মিশন সফলভাবে সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে হত্যাকারীরা যখন একে একে বাংলাদেশে চলে আসেন তখন শাহীন এ ফ্ল্যাট থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হন।

শুক্রবার বিকালে গুলশানের ওই বাসায় গিয়ে জানা যায়, ছয়তলা ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকেন শাহীন। ফ্ল্যাটটিতে যেতে চাইলে বাধা দেন নিরাপত্তা প্রহরীরা। বাইরের লোক প্রবেশ নিষেধ বলে তারা জানান। ভবনের অন্যান্য ফ্ল্যাটে বিদেশি নাগরিকসহ ভিআইপিরা থাকেন। এজন্য কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

ভবনের নিরাপত্তা প্রহরী মো. আজাদ  জানান, গত ছয় মাস ধরে বিভিন্ন শিফটে এ ভবনের দায়িত্বে আছেন তিনি। এ সময়ের মধ্যে কয়েকবার শাহীনকে ফ্ল্যাটে আসতে দেখেছেন। বেশিরভাগ সময় ফ্ল্যাটে থাকতেন না শাহীন। মাঝে মধ্যে ফ্ল্যাটে আসতেন। তার সঙ্গে অনেকেই আসতেন। তবে স্ত্রীকে নিয়ে খুব একটা আসতেন না বাসাটিতে।

তিনি আরও জানান, গত ২১ মে দুপুরে ডিবি পুলিশের একটি টিম ওই ফ্ল্যাটে অভিযান চালান। এর একদিন আগেও ফ্ল্যাটে ছিলেন শাহীন। ডিবির অভিযানের সময় শাহীনের ম্যানেজার সঙ্গে ছিলেন। অভিযান শেষে ফ্ল্যাটটি সিলগালা করা হয়। ফ্ল্যাটের দরজায় টানিয়ে দেওয়া হয়েছে নোটিশ।

শাহীনের বিষয়ে আজাদ বলেন, কারো সঙ্গে তেমন কথা বলতেন না। যখন বাসায় থাকতেন সারাদিন পার্সেলের মাধ্যমে খাবারসহ বিভিন্ন জিনিস কিনতেন।

প্রসঙ্গত ভারতে চিকিৎসা নিতে গিয়ে কলকাতার দমদম বিমানবন্দর লাগোয়া নিউটাউনে রহস্যজনকভাবে খুন হন আনোয়ারুল আজিম আনার। স্নায়ুরোগের চিকিৎসা নিতে তিনি ১২ মে দর্শনা-গেদে সীমান্ত দিয়ে কলকাতা যান। কিন্তু পরদিন থেকেই রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন। মূলত সেদিনই (১৩ মে) তাকে হত্যা করা হয়।

এ ঘটনা প্রকাশ্যে আসে বুধবার। ওইদিনই রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় আনারের মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন (২৪) বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

এদিকে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় তিন আসামির আট দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। শুক্রবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিলরুবা আফরোজ তিথির আদালত এ আদেশ দেন।

রিমান্ডপ্রাপ্ত তিনজন হলেন, তানভীর, শিমুল ভূঁইয়া ও সেলেস্তি রহমান। এর আগে বৃহস্পতিবার তাদেরকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।