বিক্ষোভ দমনে ধর্ষণের হুমকি

প্রকাশিত: ২:৪০ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২২

বিক্ষোভ দমনে ধর্ষণের হুমকি

অনলাইন ডেস্ক : ইরানের হিজাববিরোধী বিক্ষোভের আজ ১৩ দিন। তবু থামার লক্ষণ নেই তরুণ ইরানিদের। উলটো আরও বাড়ছে। হার মানছে না সরকারও। আন্দোলন যত তীব্র হচ্ছে দমনপীড়নও তত বাড়চ্ছে। পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলো বলছে, ভয়াবহ হিংস্র হয়ে উঠছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। নির্যাতন, গুলি, আটকের পর এবার ধর্ষণেরও হুমকি দিচ্ছে পুলিশ। বিবিসি, এএফপি।

 

বিক্ষোভ দমনে কাঁদানে গ্যাস, বেয়নেট, জলকামান ও গুলির মতো প্রচলিত অস্ত্রের পাশাপাশি ব্যবহার করা হচ্ছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। একই সঙ্গে চলছে গণগ্রেফতার। বুধবার পুলিশের নতুন এক হুঁশিয়ারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে-নারী-নেতৃত্বাধীন এ বিক্ষোভ দমনে ‘সর্বশক্তি’ প্রয়োগ করা হবে।

 

হিউম্যান রাইটসের মতে, ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভে এ পর্যন্ত ৭৬ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। আটক আছেন ১২০০ জনেরও বেশি। আটকের পর মারধরসহ অকথ্য গালাগালি করছে পুলিশ। তাদের চোখে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া সব নারীই ‘পতিতা’। পশ্চিমা মদদপুষ্ট দেশদ্রোহী অথবা ইসরাইলের গোয়েন্দা। ধরপাকড়ে আটক হাজারও মানুষেরই একজন ৫১ বছর বয়সি নারী মরিয়ম (ছদ্মনাম)। মুক্তির পর বিবিসিকে বলেন, ‘মাটিতে ফেলে একজন অফিসার বুট দিয়ে আমার পিঠে আঘাত করে। পেটে লাথি মারে। আমার হাত বেঁধে একটি ভ্যানে ওঠায়।’ তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে যা দেখছেন পরিস্থিতি তার চেয়েও খারাপ। একজন কমান্ডারকে সেনাদের নির্দয় হওয়ার নির্দেশ দিতে শুনেছি। নারী অফিসাররাও ভয়ংকর। তাদের একজন আমাকে চড় মেরেছে। ইসরাইলি গুপ্তচর ও যৌনকর্মী বলে গালি দিয়েছে।

 

মরিয়ম বলেন, ‘ভ্যানে আমার সঙ্গে অন্য মেয়েরাও ছিল। কিন্তু তাদের বয়স অনেক কম। তাদের সাহসিকতা আমাকে মুগ্ধ করে। তারা চিৎকার করছিল এবং অফিসারদের নিয়ে মজা করছিল। এই প্রজন্ম আমাদের প্রজন্ম থেকে আলাদা। তারা অকুতোভয়।’

 

আমাকেসহ অন্তত ৬০ জন নারীকে একটি ছোট ঘরে রাখে। আমরা একে অপরের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলাম এবং বসতে বা নড়াচড়া করতে পারিনি। টয়লেট ব্যবহারের সুযোগ ছিল না। যখন আমরা ঘরের ভেতরে চিৎকার করে প্রতিবাদ করি, তখন তারা হুমকি দিতে থাকে- চুপ না থাকলে আমাদের ধর্ষণ করা হবে।

 

স্যাম নামের একজন বিক্ষোভকারী বলেন, আমি একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে ঠেলে দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু দ্রুত সেখানে কয়েকজন এসে পৌঁছায়। আমাকে নির্মমভাবে মারধর করে তারা। মঙ্গলবার দাঙ্গায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় সাবেক প্রেসিডেন্ট আকবর হাশেমি রাফসানজানির মেয়েকে। আধা-সরকারি তাসনিম বার্তা সংস্থার একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, ফাজেহ হাশেমিকে পূর্ব তেহরানে দাঙ্গা উসকে দেওয়ার জন্য আটক করা হয়েছে।

 

নরওয়ে ভিত্তিক ইরান হিউম্যান রাইটস বলেছে, দেশটির অন্তত ৮০টি শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে-রাজধানী তেহরানের আশপাশের শহরগুলোতে বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করছেন। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, দেশটিতে হাজার হাজার বিক্ষোভকারীকে আটক করা হচ্ছে। আর নিহত হয়েছেন প্রায় ১০০ বিক্ষোভকারী।

 

ইরানের চলমান বিক্ষোভে আরও চাঙা হয়ে উঠছে ২০ বছরের তরুণী হাদিস নাজাফির মৃত্যুতে। দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর আজারবাইজানের হিজাববিরোধী বিক্ষোভে মাথার খোলা চুল বাঁধার ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল নাজাফির। ২৪ সেপ্টেম্বর মেয়েটিকে নৃশংসভাবে গুলি করে হত্যা করে পুলিশ। তলপেট, গলা, বুক এবং হাতে পরপর ছয়টি গুলি চালায় পুলিশ। নাজাফির জানাজার (২৬ সেপ্টেম্বর) একটি ভিডিও অনলাইনে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। যেখানে ভিড় ঠেলে নাজাফির কবরের সামনে ছবি রেখে বিলাপ করতে দেখা যায় বিক্ষোভকারীদের।