প্রকাশিত: ৭:১৯ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ৩০, ২০২৫
নিউজ ডেস্ক : খালেদা জিয়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক বিশিষ্ট চরিত্র। তিনি ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট ভারতের জলপাইগুড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা ছিলেন ব্যবসায়ী ইস্কান্দার মজুমদার এবং মা তৈয়বা মজুমদার। তিনি তিন বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে তৃতীয়। শৈশব ও কৈশোর কাটে দিনাজপুরের মুদিপাড়া গ্রামে। ১৯৬০ সালে দিনাজপুর সরকারি স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন সম্পন্ন করার পর তিনি সুরেন্দ্রনাথ কলেজে ভর্তি হন। কলেজ জীবনে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন জিয়াউর রহমানের সঙ্গে তার বিবাহ হয়। ১৯৬৫ সালে পশ্চিম পাকিস্তানে স্বামীর সঙ্গে বসবাস শুরু করেন এবং ১৯৬৯ সালের মার্চ পর্যন্ত করাচিতে থাকেন। পরে ঢাকায় আসেন এবং জয়দেবপুরে কিছু সময় থাকার পর চট্টগ্রামের ষোলশহরে স্থায়ী হন।
পরিবার ও ব্যক্তিগত জীবন
খালেদা জিয়া এবং জিয়াউর রহমানের দুই সন্তান ছিলেন- তারেক রহমান (পিনু) এবং প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকো। ১৯৭১ সালের ২ জুলাই সিদ্ধেশ্বরীতে পাক সেনারা তাকে এবং তার দুই সন্তানকে বন্দি করে। তিনি ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে বন্দি ছিলেন। স্বামী রাষ্ট্রপতি থাকলেও খালেদা জিয়া তখন গৃহবধূ ছিলেন এবং দুই সন্তানকে লালন-পালন ও পরিবারের দায়িত্বে ব্যস্ত ছিলেন। ছোট ছেলে কোকো ২০১৫ সালে মালয়েশিয়ায় মৃত্যুবরণ করেন। স্বামী জিয়াউর রহমান ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে নিহত হন। স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি রাজনীতির দিকে অগ্রসর হন।
রাজনৈতিক জীবন শুরু
স্বামী নিহত হওয়ার পর খালেদা জিয়া নেতাকর্মীদের আহ্বানে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। ১৯৮২ সালের ২ জানুয়ারি বিএনপিতে প্রাথমিক সদস্য হিসেবে যোগদান করেন। মাত্র এক বছরের মধ্যে তিনি সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান পদ লাভ করেন। ১৯৮৪ সালের ১২ জানুয়ারি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং ১০ মে চেয়ারপারসন পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। এরপর তিনি দীর্ঘ সময় ধরে দলের চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং দলকে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও ঐক্যবদ্ধ রাখেন।
নেতৃত্ব ও আন্দোলন
খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি বিভিন্ন আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছে। ১৯৮৩ সালে তিনি সাত-দলীয় জোট গঠন করেন এবং সামরিক শাসকের বিরুদ্ধে আপসহীন আন্দোলন চালান। এরশাদের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে তিনি কোনো সমঝোতা না করেই নিরলস আন্দোলন চালিয়ে যান। ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নিলেও খালেদা জিয়া আন্দোলন চালিয়ে যান এবং ১৯৮৭ সালে ‘এরশাদ হটাও’ আন্দোলন শুরু করেন। এ ধারাবাহিক আন্দোলনের পর ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব
খালেদা জিয়া প্রথমবার ১৯৯১ সালে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। দ্বিতীয়বার ১৯৯৬ সালে এবং তৃতীয়বার ২০০১ সালে নির্বাচিত হয়ে দেশের নেতৃত্ব দেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি দেশের গুরুত্বপূর্ণ নীতি ও পরিকল্পনায় অংশ নেন এবং দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক)-এর চেয়ারপারসনের দায়িত্বও দু’বার পালন করেন। নির্বাচনের ইতিহাসে তার একটি অনন্য রেকর্ড হলো- তিনি পাঁচটি সংসদ নির্বাচনে ২৩ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সব কটিতেই জয়ী হয়েছেন।
গ্রেপ্তার ও কারাবাস
খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন সবসময়ই প্রতিকূলতায় ঘেরা। ১৯৮৩, ১৯৮৪ ও ১৯৮৭ সালে আন্দোলনের কারণে তিনি গ্রেপ্তার হন। সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর তিনি গ্রেফতার হন। দীর্ঘদিন কারাবাসের পর আইনি লড়াই করে সব মামলায় জামিন পান। বিদেশে নির্বাসনে পাঠানোর প্রস্তাব অস্বীকার করেন। ২০১৮ সালে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় পাঁচ বছরের সাজা পান এবং পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি হন।
রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্য
খালেদা জিয়া রাজনৈতিক নীতি ও আদর্শে অটুট। আপসহীন নেতৃত্ব, দৃঢ়তা, এবং দলের প্রতি দায়বদ্ধতার কারণে তিনি দীর্ঘকাল ধরে বিএনপির চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ব্যক্তিগত জীবনের শোক ও সংগ্রামের মধ্যেও তিনি রাজনীতির পথ থেকে সরে আসেননি, যা তাকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক অগ্রজ নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।




অফিস : ৩৭০/৩,কলেজ রোড,আমতলা, আশকোনা,ঢাকা-১২৩০,
Call : 01911120520
Email : info.sylhet24express@gmail.com
প্রধান উপদেষ্টা : আলহাজ্ব মোহাম্মদ কাপ্তান হোসেন
পরিচালক, সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও প্রতিষ্ঠাতা, আলহাজ্ব মোহাম্মদ কাপ্তান হোসেন সমাজ কল্যাণ ট্রাস্ট।
উপদেষ্টা সম্পাদক : মো. রেজাউল ওয়াদুদ চেয়ারম্যান বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন পরিষদ (বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস এনফোর্সমেন্ট কাউন্সিল)
সম্পাদক ও প্রকাশক মো: আবু বক্কর তালুকদার
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : নূরুদ্দীন রাসেল
Design and developed by Web Nest