প্রকাশিত: ১০:৫৮ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১৯, ২০২৬
সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি : লিবিয়া থেকে নৌপথে গ্রিস যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে নিখোঁজ হওয়া সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার সাত যুবকের পরিচয় মিলেছে। গত ৩ আগস্টের পর থেকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাদের আর কোনো যোগাযোগ নেই। এতে নিখোঁজদের পরিবারে গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
তবে নিখোঁজ সাত যুবকের একজন হৃদয় পালকে মিশরের মাতরুহ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকতে পারেন বলে ধারণা করছেন তার চাচা কানন পাল। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাংলাদেশিদের মধ্যে হৃদয়ের মতো দেখতে একজনের ছবি দেখে তিনি এ ধারণা করছেন।
জানা গেছে, ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টায় সম্প্রতি বাংলাদেশিদের মৃত্যু ও নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটছে। গত ৩ আগস্ট লিবিয়া থেকে গ্রিসের উদ্দেশে যাত্রা করা একটি নৌযানের ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়লে এতে থাকা বাংলাদেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীরা বিপাকে পড়েন।
মিশরের মাতরুহ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাথারিয়া গ্রামের আব্দুল হেকিমের ছেলে আব্দুল করিম তার মামা সাংবাদিক মান্নার মিয়াকে জানান, তারা ৪২ জন গ্রিসের উদ্দেশে ওই নৌযানে যাত্রা করেছিলেন। উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর নৌযানের ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। ফলে তারা আর সামনে এগোতে পারেননি।
আব্দুল করিম জানান, একই নৌযানে শান্তিগঞ্জ উপজেলার আরও তিনজন ছিলেন। তারা হলেন—ডুংরিয়া গ্রামের ইছন আলীর ছেলে সুহেল মিয়া, হরিপুর গ্রামের হোসাইন এবং পাগলা গ্রামের রন্টু চন্দ্র পালের ছেলে হৃদয় পাল।
মাতরুহ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আব্দুল করিম বলেন, “আমি মাতরুহ হাসপাতালে ভর্তি আছি। এখানকার চিকিৎসকরা আমাদের চিকিৎসা দিচ্ছেন। তারা আমাদের ওষুধ ও ভালো খাবারেরও ব্যবস্থা করছেন। আমাদের বাঁচান। আমরা দেশে ফিরে যেতে চাই।”
পাগলা গ্রামের রন্টু পাল জানান, তার ছেলে হৃদয় পাল দালালের মাধ্যমে গত ৯ জুন লিবিয়ায় যায়। গত ৩১ জুলাই ছেলের সঙ্গে সর্বশেষ ফোনে কথা হয়। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
রন্টু পালের ভাই কানন পাল বলেন, “সম্প্রতি মিশরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাংলাদেশিদের মধ্যে এমন একজনকে দেখেছি, যাকে আমার ভাতিজা হৃদয়ের মতো মনে হয়েছে। আমি আশাবাদী, সে বেঁচে আছে।”
তিনি আরও জানান, দোয়ারাবাজারের জসিম নামে এক দালালের মাধ্যমে তার ভাতিজা লিবিয়ায় গিয়েছিল।
এদিকে শান্তিগঞ্জ উপজেলার রনসী গ্রামের বাসিন্দা এবং চিকারকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোরশেদ আলম জানান, তার চাচাতো ভাই মো. একলাছ উদ্দিনের ছেলে মো. তালহা আলমের সঙ্গেও গত ৩ আগস্টের পর থেকে পরিবারের কোনো যোগাযোগ নেই।
চিকারকান্দি গ্রামের বাসিন্দা ও শান্তিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাশেম নাঈম জানান, একই গ্রামের এনামুল খান, মামুন খান ও রিপন মিয়া নামে আরও তিন যুবক লিবিয়া থেকে গ্রিস যাওয়ার পথে গত ৩ আগস্টের পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন বলে তিনি সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোর কাছ থেকে জানতে পেরেছেন।
এ ঘটনায় নিখোঁজ সাত যুবকের পরিবারে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। নিখোঁজদের প্রকৃত অবস্থান ও তাদের সঙ্গে কী ঘটেছে, তা জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে পরিবারগুলো।
নিখোঁজ সাত যুবক: আব্দুল করিম, সুহেল মিয়া, হোসাইন, হৃদয় পাল, তালহা আলম, এনামুল খান, মামুন খান ও রিপন মিয়া।




অফিস : ৩৭০/৩,কলেজ রোড,আমতলা, আশকোনা,ঢাকা-১২৩০,
Call : 01911120520
Email : info.sylhet24express@gmail.com
প্রধান উপদেষ্টা : আলহাজ্ব মোহাম্মদ কাপ্তান হোসেন
পরিচালক, সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও প্রতিষ্ঠাতা, আলহাজ্ব মোহাম্মদ কাপ্তান হোসেন সমাজ কল্যাণ ট্রাস্ট।
উপদেষ্টা সম্পাদক : মো. রেজাউল ওয়াদুদ চেয়ারম্যান বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন পরিষদ (বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস এনফোর্সমেন্ট কাউন্সিল)
সম্পাদক ও প্রকাশক মো: আবু বক্কর তালুকদার
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : নূরুদ্দীন রাসেল
Design and developed by Web Nest