সিলেটে যত্রতত্র পরিবহন স্ট্যান্ড, নগরজুড়ে ভোগান্তি

প্রকাশিত: ১১:৩১ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ১২, ২০২৪

সিলেটে যত্রতত্র পরিবহন স্ট্যান্ড, নগরজুড়ে ভোগান্তি

6

নিজস্ব প্রতিবেদক : সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) ও মহানগর ট্রাফিক বিভাগের তথ্যে, সিলেট নগরে সিএনজিচালিত অটোরিকশার বৈধ কোনো স্ট্যান্ড নেই; কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে ব্যস্ততম সড়ক দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে মাইক্রোবাস, প্রাইভেট কার, অটোরিকশা ও লেগুনার অনেক অবৈধ স্ট্যান্ড। যত্রতত্র এসব পরিবহনের স্ট্যান্ড গড়ে ওঠায় নগরবাসীকে পড়তে হচ্ছে ভোগান্তিতে। আলাদা সমিতির নামে এসব স্ট্যান্ড নিয়ন্ত্রণ করা হয় বলে জানা গেছে।

 

সিলেট নগরীর আম্বরখানা পয়েন্ট। চার রাস্তার সংযোগস্থল এই সড়কটি। আম্বরখানা মোড় থেকে উত্তরে সিলেটের বিমানবন্দর ভিআইপি সড়ক। দুই লেনের সড়কের দুই পাশেই গড়ে ওঠেছে সিএনজিচালিত অটোরিকশার অবৈধ স্ট্যান্ড। এতে রাস্তাগুলো সরু হয়ে গেছে। ফলে ব্যস্ততম এ সড়কে প্রতিনিয়িত যানজট ও বিশৃঙ্খলা লেগেই থাকছে। এসব স্ট্যান্ডে গাড়ির দীর্ঘ সারি ও যাত্রী ওঠানামার কারণে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। অনেক এলাকায় আবার হেঁটে চলাও দুষ্কর হয়ে পড়েছে।

 

8

চালকরা বলেছেন, প্রশাসনকে ম্যানেজ করে এই স্ট্যান্ড বসানো হয়েছে। ভুক্তভোগীরা বলছেন, স্ট্যান্ডটির কারণে দিনভর এখানে যানজট লেগে থাকে। এভাবেই নগরীতে যত্রতত্র গড়ে উঠেছে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মাইক্রোবাস, প্রাইভেট কার ও লেগুনার অবৈধ স্ট্যান্ড। কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে নয়; পুলিশ প্রশাসনকে ম্যানেজ করে প্রভাবশালী শ্রমিকনেতারা এসব স্ট্যান্ড নিয়ন্ত্রণ করছেন। আগে শ্রমিকলীগের নেতারা এই স্ট্যান্ড নিয়ন্ত্রণ করতেন। তবে ৫ আগস্ট ক্ষমতার পালাবদলের পর এর নিয়ন্ত্রণ এখন ওই এলাকার শ্রমিকদলের নেতাদের হাতে। বিনিময়ে লাখ লাখ টাকা উপার্জন হচ্ছে তাঁদের।

 

3

সরেজমিন দেখা গেছে, আম্বরখানা চার রাস্তার সংযোগস্থলের চারটি মোড়েই গড়ে উঠেছে চারটি অটোরিকশার স্ট্যান্ড। এর মধ্যে আম্বরখানা পয়েন্টের পূর্ব দিকে টিলাগড়-আম্বরখানা সড়কে অটোরিকশার স্ট্যান্ড গড়ে উঠেছে। পাশেই পশ্চিম দিকে টুকেরবাজার-আম্বরখানা-বাদাঘাট রোডের অটোরিকশা স্ট্যান্ড। পয়েন্টের দক্ষিণ দিকে বন্দরবাজার-আম্বরখানা রোডের অটোরিকশা স্ট্যান্ড এবং উত্তর দিকে আম্বরখানা-বিমানবন্দর সড়কে আম্বরখানা মসজিদের সামনেও স্ট্যান্ড গড়ে উঠেছে। এসব স্ট্যান্ডের চালকরা কোনো নিয়মের তোয়াক্কা না করে যত্রতত্র দাঁড় করিয়ে রাখছে অটোরিকশা। যত্রতত্র স্ট্যান্ডের পাশাপাশি অটোরিকশাচালকদের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ এসব এলাকার ব্যবসায়ীরা।

 

সড়ক দখল করে অবৈধ স্ট্যান্ড: পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের তথ্য বলছে নগরে গাড়ির ‘অবৈধ স্ট্যান্ড’ নেই। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে সড়ক দখল করে মোড়ে মোড়ে গড়ে তোলা হয়েছে গাড়ির ‘অবৈধ স্ট্যান্ড’। ব্যস্ততম সড়কের কোথাও কোথাও রাস্তার দুই পাশ দখলে করে মাইক্রোবাস, প্রাইভেট কার, অটোরিকশা ও লেগুনার অবৈধ স্ট্যান্ড গড়ে তোলা হয়েছে। ফলে নগরবাসীকে পড়তে হচ্ছে চরম ভোগান্তিতে। নগরের ব্যস্ততম এলাকা কোর্ট পয়েন্ট। সেখানেও রয়েছে চারটি অবৈধ স্ট্যান্ড। নগরের কালীঘাট, মহাজনপট্টি, লালদীঘিরপাড় ও হকার মার্কেটে সড়কের দুই পাশ দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে ট্রাকের অবৈধ স্ট্যান্ড। চৌহাট্টা এলাকায় রাস্তার দুই পাশ দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে মাইক্রোবাসের স্ট্যান্ড। এ ছাড়া নগরের তেমুখী, মদিনা মার্কেট, পাঠানটুলা, রিকাবীবাজার, শাহি ঈদগাহ, ওসমানী মেডিকেল, লাক্কাতুরা ক্রিকেট স্টেডিয়াম, জিতুমিয়ার পয়েন্ট, পুরানপুল এলাকা, উপশহর, শিবগঞ্জ, টিলাগড়, মেজরটিলা, শাহপরান, চন্ডীপুল, হুমায়ুন রশিদ চত্বর, মুক্তিযোদ্ধা চত্বরসহ নগরের বিভিন্ন এলাকায় গাড়ির অবৈধ স্ট্যান্ড রয়েছে।

 

আম্বরখানা সিএনজি স্ট্যান্ডের একাধিক চালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তাকে মাসোহারা দিয়েই আমরা এখানে আছি। তিনি বলেন, আম্বরখানা মোড়ের স্ট্যান্ডগুলো পুলিশের অবৈধ আয়ের বড় একটি ক্ষেত্র। এখান থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা ঢোকে তাদের পকেটে। তবে তাদেরকে কোনো উন্মুক্ত স্থানে পৃথক জায়গা বরাদ্দ দিলে তারা এসব স্ট্যান্ড ছেড়ে দেবেন বলেও জানান এই অটোচালক।

 

বন্দরবাজারে এলাকার এক পরিবহনশ্রমিক নেতার অভিযোগ, বন্দরবাজার ফাঁড়ির পুলিশ প্রতিদিন সন্ধ্যার পর স্ট্যান্ড থেকে টাকা নিয়ে যায়। টাকার ভাগ সিটি করপোরেশনেও যায় বলে তিনি অভিযোগ করেন।

 

পাঁচ কারণে যানজট বেড়েছে: সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক বিভাগের তথ্যমতে, নগরে পাঁচ কারণে যানজট বেড়েছে। সেগুলো হলো অবৈধ যানবাহন, অপ্রশস্ত রাস্তাঘাট, সড়কে খোঁড়াখুঁড়ি, ফুটপাত বেদখল ও যত্রতত্র পার্কিং। শহরের বেশিরভাগ স্কুলে নিজস্ব পার্কিং ব্যবস্থা নেই। ফলে যত্রতত্র রাস্তার পাশে গাড়ি দাঁড় করিয়ে শিক্ষার্থী ও তাদের স্বজনদের আসা-যাওয়া করতে হয়। এ ছাড়া নগরে রিকশাসহ অন্তত ৪০ থেকে ৪৫ হাজার অবৈধ যানবাহন চলাচল করছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) তথ্য বলেছে, সিলেটে রেজিস্ট্রেশনকৃত যানবাহন এক লাখ ৯৪ হাজারের বেশি। তবে নগরজুড়ে এর চেয়ে দ্বিগুণ যানবাহন চলাচল করছে। সড়কে যানবাহনের সংখ্যা বাড়লেও সে তুলনায় সড়কগুলো প্রশস্ত হয়নি।

 

তথ্যমতে, সিটি করপোরেশনের অধীনে থাকা নগরীর ৯৬৮ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে গত ১৪ বছরে প্রশস্ত হয়েছে ৩৭৫ কিলোমিটার। এর মধ্যে নগরের মূল সড়কগুলোর দুই পাশ এক দশমিক ২২ ফুট থেকে সর্বোচ্চ চার ফুট পর্যন্ত প্রশস্ত করা হয়েছে। বাকি সড়কগুলো ২০ থেকে ৩৫ ফুটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ আছে। নগরবাসী বলছেন, শহরের রাস্তাগুলো বড় করার পাশাপাশি অবৈধ স্ট্যান্ড ও যত্রতত্র পার্কিং নিয়ন্ত্রণ করা গেলে যানজট কমে আসবে।

 

8

সড়ক প্রশস্ত প্রসঙ্গে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান বলেন, ‘নগরীর প্রধান সড়কগুলো দুই থেকে আট ফুট পর্যন্ত প্রশস্ত করা হয়েছে। এছাড়া অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে আরও প্রায় এক কিলোমিটার জায়গা মূল সড়কের সঙ্গে যোগ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে গত ১৪ বছরে প্রায় ২২ দশমিক ৬০ একর জায়গা সড়কে যোগ হয়েছে।’

 

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সিলেটের সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন, ‘হাজার হাজার অটোরিকশা রাস্তায় চলছে। কোনো পরিকল্পনা না থাকায় ভবিষ্যৎ চিন্তা না করেই এসব অটোরিকশার অনুমোদন দিয়েছে বিআরটিএ। অনুমোদন নেই এমন অটোরিকশাও কয়েক হাজার সড়ক দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। তিনি বলেন, সড়ক স¤প্রসারণ হলে তা তো যানবাহন স্ট্যান্ডের দখলে চলে যাচ্ছে। জনগণের কোনো কাজে আসছে না। যানজট তো থেকেই যাচ্ছে।’

 

6

এ বিষয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (ট্রাফিক) বিএম আশরাফ উল্ল্যাহ তাহের স্ট্যান্ড থেকে পুলিশের চাঁদা আদায়ের কথা অস্বীকার করে বলেন, ‘নগরীতে কিছু নির্ধারিত স্থান আছে গাড়িতে যাত্রী ওঠানামা করানোর জন্য। এটা যাত্রীদের সুবিধার জন্যই করা হয়েছে। এর বাইরে যে অবৈধ স্ট্যান্ডগুলো আছে তা উচ্ছেদে সিটি করপোরেশন উদ্যোগী হলে পুলিশ সহায়তা করবে।’

 

সিটি করপোরেশনের কর্তাব্যক্তিরা বলছেন ‘অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। নগরীতে অবৈধ কোনো স্ট্যান্ডই থাকতে পারবে না।’

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

২০২৫ সালের ক্যালেন্ডার বাংলা ইংরেজি আরবি

২০২৫ সালের ক্যালেন্ডার বাংলা ইংরেজি আরবি

গুণ গত মান যার ভাল তার দাম একটু বেশি সিলেটের সেরা বাগানের উন্নত চা প্রতি কেজি চা দাম ৪৫০ টাকা হোম ডেলি বারি দেয়া হয়

tree

কম খরচে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিন

sylhet24

Follow for More!

1
2