ওসমানীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স অনুমোদন না পাওয়ায় বন্ধ স্বাস্থ্যসেবা

প্রকাশিত: ৬:৩৭ অপরাহ্ণ, মে ২৩, ২০২৪

ওসমানীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স অনুমোদন না পাওয়ায় বন্ধ স্বাস্থ্যসেবা

অনলাইন ডেস্ক : সিলেটের ওসমানীনগরের গোয়ালাবাজারে পাঁচ একর জায়গাজুড়ে গড়ে তোলা হয়েছে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দৃষ্টিনন্দন প্রাতিষ্ঠানিক ভবনগুলো। ২০২৩ সালের শেষদিকে ভবনগুলো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বুঝিয়ে দিলেও অনুমোদন না মেলায় চালু করা যায়নি স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম।

 

জানা গেছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নবনির্মিত ভবনগুলো বুঝে নিলেও প্রশাসনিক অনুমোদন ও জনবলের অভাবে হাসপাতালের পূর্ণাঙ্গ সেবা কার্যক্রম চালু করা যাচ্ছে না। ফলে প্রকৃত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন উপজেলার প্রায় দুই লাখ মানুষ। অনুমোদনসহ প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের মাধ্যম জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালের পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম চালুর দাবি জানিয়েছেন উপজেলাবাসী।

 

২০১৪ সালে ওসমানীনগর থানাকে উপজেলা হিসেবে ঘোষণার পর উপজেলা কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন দপ্তরের প্রশাসনিক ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় উপজেলার গোয়ালাবাজার এলাকায় জায়গা অধিগ্রহণ করে ২০২০ সালের শেষদিকে প্রায় ২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ভবন নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রায় দুই বছরে ৫০ শয্যার হাসপাতাল ভবন, ডাক্তার ও নার্সদের ডরমিটরিসহ ১০টি বহুতল ভবন নির্মাণকাজ শেষে গত বছরের শেষদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সেগুলো হস্তান্তর করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তবে ভবনগুলো গ্রহণের ছয় মাসের বেশি পেরিয়ে গেলেও প্রশাসনিক অনুমোদন না পাওয়ায় পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা চালু হয়নি। নিজ উপজেলায় দৃষ্টিনন্দন হাসপাতাল থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসাসেবা পাওয়ার জন্য স্থানীয়দের এখনও ছুটতে হচ্ছে পার্শ্ববর্তী বালাগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালসহ জেলা শহরের সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে।

 

উপজেলা কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হাসপাতালে ইনডোর চিকিৎসাসেবা চালু করতে হলে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন এবং জনবল নিয়োগ প্রয়োজন। তবে এখন পর্যন্ত অনুমোদন ও জনবল নিয়োগ না পাওয়ায় ইনডোর চিকিৎসাসেবা চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে আউটডোর চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রয়েছে। সেই সেবাও শুধু ব্যবস্থাপত্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। কারণ হাসপাতালে কোনো ওষুধ এখনও আসেনি। এনডিসি সেন্টার থেকে প্রতিদিন উচ্চ রক্তচাপ পরিমাপ এবং এর ওষুধ ও ডায়াবেটিস রোগীদের সেবা নিয়মিত দেওয়া হচ্ছে।

 

ওসমানীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মাইনুল আহসান বলেন, প্রশাসনিক অনুমোদন ও জনবল না পাওয়ায় আমরা পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা দিতে পারছি না। অনুমোদনের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। এ জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে আসা রোগীদের বহির্বিভাগে শুধু ব্যবস্থাপত্র দিচ্ছি। কোনো ওষুধ দেওয়া যাচ্ছে না।

 

এ ব্যাপারে স্থানীয় সংসদ সদস্য, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শফিকুর রহমান চৌধুরী জানান, ওসমানীনগর উপজেলাবাসীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতালটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। হাসপাতালের প্রশাসনিক অনুমোদনের বিষয়টি নিয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলেছেন। আশা করা যাচ্ছে, দ্রুতই পূর্ণ সেবা দেওয়া শুরু হবে।

কম খরচে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিন

কম খরচে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিন