September 25, 2020 1:04 am
Breaking News
Home / Uncategorized / কবি মাহবুবা করিম এর কবিতা…..

কবি মাহবুবা করিম এর কবিতা…..

হেম উপাখ্যান(কথপোকথন)

—রাগলে মাথায় আগুন ধরে যায়। সেবার তোকে ছেড়ে ছুড়ে আপনমনে পালিয়ে চলে যেতে চেয়েছিলাম হিমালয় পাহাড়ে;

—মুখটিপে হাসিখানা লুকিয়ে বললি, যেতে;

—তোর মায়ার আঙুললতা পা আড়ষ্ট করে দিলো, ভেজা ভেজা কালো দু’টো চোখ আমার সরুমতন খালবিল রক্তনালীতে রক্তপ্রবাহে শীতল বরফের সমুদ্র ঢেলে দিলো ওরা অবাধ্য প্রলয়ের মতো মায়ার বিস্তার ঘটাতে লাগলো। আর অদৃশ্য একটা মানব আমার ভেতর থেকে ফিসফিসিয়ে বলছিলো যাসনে!
সেইদিন বুঝলাম—
তোর তুমুল সূত্রপাত আমার বক্ষবন্দরে। তুই কোন নারী নস প্রতীমা, তুই মানসী, অপরূপা জাদুময়ী। কাছে কোথাও বৃষ্টি বইলে যেমন শীতল হয় অন্তর। সেই সবটুকু শীতল হিম ছোঁয়া তুই, তুই জননীর আরেক রূপ, হেম…।
আমাদের গাঁয়ের শতবছরের বুড়ো বট গাছের মতো তোর কাছে এলেই আমার মন বড় শান্ত হয়ে যায়।

—তুই হেসে বললি,আমি বুঝি বুড়ি হয়ে গেছি?

—না না হতেই পারিস না। তুই জানিস তুই কত সুন্দর লাবন্যময় চাঁদের প্রচ্ছায়া?
দ্যাখ পাগলী, আমার মতো করে দ্যাখ।
তোর গা থেকে উষ্ণতার রাধাচূড়া উড়ে যাচ্ছে,
তোর হাসি থেকে খলখলিয়ে নদী বয়ে যাচ্ছে,
তোর পায়ের নখ থেকে কুসুমি রোদ গিয়ে পড়ছে ঘাসে আর ঘাসগুলো চকচক করছে যেন সোনা ফলেছে।তোর পা ঘাসের শিশির ছুঁলে ভীষণ লজ্জায় ওরা নত হয়ে আসে;
তুই খেয়াল করলেই দেখতে পাবি।তুই— তুই নস তুই দেবলীনা তুই মোনালিসার গোপন রহস্য, হেম।

—ধুর তাই কী হয় নাকি?তোমার সব আদিখ্যেতা, ন্যাকামী। বয়সের ভীমরতি আর কী,

—ন্যকামি নয়, বয়সের ভীমরতিও নয় । হয় ওরম , তুই জানিস না কিছু। তোর চুল বেয়ে নেমে পড়ে বান্দরবানের সেই গোপন ঝর্ণা যার খবর এখনো কেউ পায়নি। সেই ঝর্ণার নাম আমি তোর নাম করে দিলাম।আজ থেকে সেই ঝর্ণার সবটুকু জল তোর, সেই ঝর্ণা একেবেকে যে গ্রাম ছু্ঁয়ে যায় প্রতিদন —সে গ্রাম তোর, যে নদীকে স্পর্শ করে সে নদী তোর, সেই বৃক্ষ মন্দির মসজিদ সব তোর। তোর তোর তোর।
তোর নামে গোটা বাংলাদেশ লিখে দিতে পারি, হেম

—ওসব,আমি বুঝি না বাপু, আমি বুঝি কূয়ো থেকে জল এনে তোমার পায়ে ঢেলে দিলে, তুমি গা ধুয়ে নেয়ে দু’টো ভাত খেয়ে শীতল পাটিতে শরীর এলিয়ে দাও, তাই আমার ধর্ম-কর্ম।
তোমার পায়ে নিজেকে উৎসর্গ করেই তুষ্টি লাভ করতে চাই…তুমি যে দেবতা,
তোমার পুজোআচ্ছাই আমার ধ্যান-জ্ঞান।

—দ্যাখ তুই কী বোকা মেয়ে মানুষ। তুই জানিসই না ঐ কূয়োর জলে তোর ছায়া জোছনার মত ঝলমল করে..চেয়ে দেখেছিস কখনো? আমি দেখছি দুড়মাড় একাকার করে তুই ঠোঁটে করে একরত্তি সুখ আনলি আমার সংসারে।
সেই গোয়ালঘর, যার ছিল তেত্রিশ ইঁদুরে খাওয়া ছিঁদ্র তাই জুড়ে জুড়ে কোনমতে ঘর বানিয়ে ছেড়েছিস…সংসার পেতেছিস খোঁয়াড়ে।
তুই ঈশ্বরী নয়তো কী?
তোকে আজীবন বুকের মাঝে বইবো না, কাকে বইবো হেম? আমি যে আমৃত্যু মাটিতে শুষে খাওয়া অব্দি তোকেই বইতে চাই…

এই কথা শুনে আচমকা তুই থমকে গেলি,
আকস্মিক বজ্রপাতের  মতো বৈদ্যুতিক জলকের মতো মৃদঙ্গ বাজতে বাজতে তা থৈ থৈ করে চিরবৃষ্টি নামতে আরম্ভ করলো আমার উঠোনে। তুই জানিস না তোর চোখ দরিয়ার মত টলমল টলমল করে উঠলো কেমন। পোড়ামুখী তুই জানিস না তোর সেই জল এই জড় শরীরে কেমন সঞ্জীবনী এনে দিলো। স্পর্শে স্পর্শে আমার সেই আজন্ম নিরবতা ভেঙে দিলো। আমার কণ্ঠে বাঁশেবাগানের কচি পাতার মতো ঝিরিঝিরি কেঁপে উচ্চারিত হলো ভালোবাসি….

তুই এমনি পেঁজা মেঘের ন্যায় সুন্দর,হেম।

এই সূর্যমূখী এইবার এইবার তুই সূর্যে মুখ রেখে দেখ তারচেয়ে প্রজ্জলিত কম নস বরং তারও বেশী জ্যোতিময় রূপ আছে তোর। ইচ্ছে করে তোর ভঙ্গুর চাঁদের ঝলক লেগে পুড়ি,পুড়ে পুড়ে ছারখার হতে হতে ভালবাসি তোকে।

About sylhet24express

Check Also

“সম্মুখ যোদ্ধা”

সুরাইয়া পারভীন লিলি ২৪/০৯/২০২০ইং সম্মুখ সারির যোদ্ধা নার্সরা সাদায় মুড়িয়া দেহ, করোনার সাথে করছে যুদ্ধ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *