October 1, 2020 6:39 am
Home / Home / ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার আলোচিত আসামিরা কে কোথায়

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার আলোচিত আসামিরা কে কোথায়

অনলাইন ডেস্ক :: ২০০৪ সালের সারাদেশে জঙ্গিদের বোমা হামলা এবং গোপালগঞ্জে পুলিশি নির্যাতনের প্রতিবাদে ২১ আগস্ট বিকেলে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ ঢাকার বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের আওয়ামী লীগ দলীয় কার্যালয়ের সামনে এক সমাবেশের আয়োজন করে। সমাবেশের প্রধান অতিথি শেখ হাসিনা অনুষ্ঠানস্থলে বিকেল পাঁচটায় পৌঁছালে, একটি ট্রাকের ওপর তৈরি মঞ্চে তিনি কুড়ি মিনিটের বক্তৃতা শেষে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করার ঘোষণা দেন। বঙ্গবন্ধু কন্যা মঞ্চ থেকে নিচে নেমে আসতে থাকেন। ঠিক এমন সময় শুরু হয় মঞ্চ লক্ষ্য করে গ্রেনেড হামলা। মাত্র দেড় মিনিটের মধ্যে বিস্ফোরিত হয় ১১টি শক্তিশালী গ্রেনেড। এতে ঘটনাস্থলেই ১২ জন এবং পরে হাসপাতালে আরও ১২ জন নিহত হন।

ভয়াবহ সেই হামলায় আওয়ামী লীগ প্রধান, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনাসহ প্রায় তিন শতাধিক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ উচ্চমাত্রার বিস্ফোরণ শব্দের প্রবাহে এবং নিক্ষিপ্ত গ্রেনেডের স্প্লিন্টারের আঘাতে আহত হন। আর এই হামলায় আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নারী নেত্রী, বাংলাদেশের ১৯তম রাষ্ট্রপতি প্রয়াত আআওয়ামী লীগ নেতা জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ ২৪জন নিহত হন।

বর্বরোচিত এ ঘটনার মূলহোতা, সম্প্রতি পাকিস্তানে সেনা গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর শীর্ষ এজেন্ট তালিকায় থাকা তৎকালীন বিএনপি-জামাত জোট সরকারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পুত্র লন্ডনে পলাতক তারেক জিয়া, চারদলীয় জোট সরকারের সাবেক উপমন্ত্রী ও বিএনপি নেতা আব্দুস সালাম পিন্টু, হরকাতুল জিহাদ প্রধান মুফতি হান্নান ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ৫২ জনকে আসামি করে পরবর্তীত মামলা দায়ের করা হয়। এদের মধ্যে অন্য মামলায় মুফতি হান্নানসহ তিনজনের মৃত্যুদণ্ড হওয়ায়, তিনজন ছাড়াই বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

জানা যায়, সেই হামলায় ব্যবহৃত অত্যাধুনিক হ্যান্ড গ্রেনেডগুলো পাকিস্তান থেকে সংগৃহিত ছিল যা কিনা যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার উপযোগী উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন আর্চেজ গ্রেনেড। শুধু তাই নয়, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার লক্ষ্যে করা হাওয়া ভবনের এই সুপরিকল্পিত হামলার নীলনকশা বাস্তবায়নে যে সকল জঙ্গিরা মাঠ পর্যায়ে অংশগ্রহণ ক্রএ তাদের প্রশিক্ষনও করিয়ে আনা হয় পাকিস্তান থেকে। বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থার তদন্তে এ সংক্রান্ত সুস্পষ্ট তথ্য প্রমাণও পাওয়া গেছে।

ওই ঘটনায় হত্যা, হত্যা চেষ্টা, ষড়যন্ত্র, ঘটনায় সহায়তাসহ বিভিন্ন অভিযোগে একটি মামলা যাতে আসামি সংখ্যা মোট ৫২ জন (ইতোমধ্যে অন্য মামলায় তিন আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ায় এখন আসামি ৪৯ জন)। একই ঘটনায় ১৯০৮ সালের বিস্ফোরক দ্রব্যাদি আইনে (সংশোধনী-২০০২) অপর একটি মামলায় আসামি সংখ্যা ৩৮জন।

সংশ্লিষ্ট ঘটনায় হত্যা, হত্যা চেষ্টা, ষড়যন্ত্র, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সহায়তাসহ বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে দায়েরকৃত মামলায় খালেদা পুত্র তারেক জিয়াসহ ৫২জন আসামিরা হচ্ছেন- তারেক রহমান ওরফে তারেক জিয়া, মুফতি আবদুল হান্নান ওরফে আবুল কালাম ওরফে আব্দুল মান্নান (অন্য মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর), মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান ওরফে অভি, শরিফ শাহেদুল আলম বিপুল (অন্য মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর), মাওলানা আবু সাঈদ ওরফে ডা. জাফর, আবুল কালাম আজাদ ওরফে বুলবুল, মো. জাহাঙ্গীর আলম, হাফেজ মাওলানা আবু তাহের, শাহাদাত উল্লাহ ওরফে জুয়েল, হোসাইন আহম্মেদ তামিম, আব্দুস সালাম পিন্টু, মঈন উদ্দিন শেখ ওরফে মুফতি মঈন ওরফে খাজা ওরফে আবু জান্দাল ওরফে মাসুম বিল্লাহ, আরিফ হাসান ওরফে সুমন ওরফে আবদুর রাজ্জাক, রফিকুল ইসলাম ওরফে সবুজ, মো. উজ্জল ওরফে রতন, হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া, মো. লুৎফুজ্জামান বাবর, মেজর জেনারেল (অব:) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) আব্দুর রহিম, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ (অন্য মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর), মাওলানা শেখ আব্দুস সালাম, মো. আব্দুল মাজেদ ভাট, আব্দুল মালেক ওরফে গোলাম মোহাম্মদ, মাওলানা আব্দুর রউফ ওরফে পীর সাহেব, মাওলানা সাব্বির আহমেদ ওরফে আব্দুল হান্নান সাব্বির, মাওলানা শওকত ওসমান ওরফে শেখ ফরিদ, অবসরপ্রাপ্ত আইজিপি মো: আশরাফুল হুদা, অবসরপ্রাপ্ত আইজিপি শহুদুল হক, অবসরপ্রাপ্ত আইজিপি খোদা বক্স চৌধুরী, রুহুল আমীন, বিশেষ পুলিশ সুপার (অব:), আব্দুর রশিদ অবসরপ্রাপ্ত এএসপি, মুন্সী আতিকুর রহমান অবসরপ্রাপ্ত এএসপি, লে.কমান্ডার সাইফুল ইসলাম ডিউক, মাওলানা মো.তাজউদ্দিন, মহিবুল মুত্তাকিন ওরফে মুত্তাকিন, আনিসুল মুরছালিন ওরফে মুরছালিন, মো. খলিল, জাহাঙ্গীর আলম বদর, মো.ইকবাল, আবু বক্কর ওরফে হাফেজ সেলিম হাওলাদার, লিটন ওরফে মাওলানা লিটন, হারিছ চৌধুরী, কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, হানিফ পরিবহনের মালিক হানিফ, লে.কর্নেল (অব: ) সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার, মেজর জেনারেল এ,টি,এম, আমিন (এলপি আর), মুফতি শফিকুর রহমান, মুফতি আব্দুল হাই, রাতুল আহাম্মদ বাবু ওরফে রাতুল বাবু, ডিআইজি খান সাঈদ হাসান, পুলিশ সুপার ওবায়দুর রহমান খান, আরিফুল ইসলাম ওরফে আরিফ কমিশনার।

(সিলেট২৪এক্সপ্রেস/২১আগস্ট’২০/এনআর)

About sylhet24express

Check Also

উচ্চ আদালতে যাবেন মিন্নির বাবা

নিউজ ডেস্ক ::বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির মৃত্যুদণ্ডের রায়ের প্রতিক্রিয়ায় তার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *