September 30, 2020 5:03 am
Breaking News
Home / Home / ৩ নেত্রীর লায়ে মাথায় ওঠেন পাপিয়া

৩ নেত্রীর লায়ে মাথায় ওঠেন পাপিয়া

অনলাইন ডেস্ক : ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতারা কেন্দ্রীয় অনেক নেতার ফোন না ধরলেও বহিষ্কৃত যুব মহিলা লীগ নেত্রী শামীমা নূর পাপিয়ার ফোন সবসময় ধরতেন। এমনকি আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের তারকা নেতারা পাপিয়াকে নিয়মিত ফোনও করতেন। এ নিয়ে আওয়ামী লীগের বহু নেতা ভেতরে ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ পুষে রেখে আসছিলেন।

হেভিওয়েট নেতাদের ছত্রছায়ায় ক্ষমতার সিঁড়ি বেয়ে স্বল্প সময়ে পাপিয়া হয়ে ওঠেন বিত্তবৈভবের মালিক। নানা কৌশলে বড় বড় কাজ বাগিয়ে নিতেন। অন্দরমহল ও অভিজাত হোটেলগুলোতে প্রভাবশালীদের মনোরঞ্জনে সুন্দরী তরুণী সরবরাহ করতের পাপিয়া। বড় নেতাদের খুশি করতে পাপিয়ার কাছ থেকে সুন্দরী তরুণী সংগ্রহ করতেন মধ্যসারির নেতারাও।

গ্রেফতার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পাপিয়ার নানা অপকীর্তি প্রকাশ হওয়ার পর এখন আওয়ামী লীগ থেকে শুরু করে যুব মহিলা লীগের নেতা-নেত্রীরা একে অন্যকে দোষারোপ করছেন।

তবে কারা তাকে প্রশ্রয় দিয়েছেন, বিভিন্ন কমিটিতে বড় পদ পাইয়ে দিতে ভূমিকা রেখেছেন এবং কারাই বা তার কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়েছেন– সব তথ্যই এখন তদন্ত কর্মকর্তাদের হাতে।

যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির শীর্ষস্থানীয় দুই নেত্রী এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক একজন সংসদ সদস্যের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে বেপরোয়া হয়ে ওঠেন শামীমা নূর ওরফে পাপিয়া। ওই তিনজনের মাধ্যমেই আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ হয় তার। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে পাপিয়া এসব তথ্য দিয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পাপিয়া নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদে থাকাবস্থায় বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার সময় ২২ ফেব্রুয়ারি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আটক হন। ধরা পড়ার পর তাকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। গ্রেফতার হওয়ার পর পাপিয়ার দায় নিতে নারাজ যুব মহিলা লীগ।

বিমানবন্দর থানার পরিদর্শক ও পাপিয়ার বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. কায়কোবাদ কাজী গণমাধ্যমকে বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে পাপিয়ার অপরাধজগৎ সম্পর্কে চমকপ্রদ তথ্য বেরিয়ে আসছে। মূলত যুব মহিলা লীগের শীর্ষস্থানীয় দুই নেত্রী ও ঢাকার একজন সাবেক সংরক্ষিত নারী আসনের এমপির আশ্রয়-প্রশ্রয়ে মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, তদবির বাণিজ্য, চাকরি দেয়ার নাম করে টাকা আত্মসাৎ, বিদেশে অবৈধভাবে লোক পাঠানো এসব অপরাধ করতেন পাপিয়া।

এই তদন্ত কর্মকর্তা আরও বলেন, নরসিংদীর এক ব্যক্তিকে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে পাপিয়া তার কাছ থেকে আড়াই লাখ টাকা নেন। শেষ পর্যন্ত বিদেশে পাঠাতে না পারায় ওই ব্যক্তি টাকা ফেরত চাইলে তাকে মারধর করে তাড়িয়ে দেয়া হয়। এতদিন ভয়ে ওই ব্যক্তি মুখ খোলেননি। পাপিয়া গ্রেফতার হওয়ার পর ওই ব্যক্তি থানায় মামলা করতে এসেছিলেন। তাকে নরসিংদীতে মামলা করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

পাপিয়া গ্রেফতার হওয়ার সময়ও ক্ষমতার দাপট দেখায়। বিষয়টি নিশ্চিত করে র্যা ব জানায়, ২২ ফেব্রুয়ারি আটক করার সময় পাপিয়া বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে বলে ক্ষমতার দাপট দেখানোর চেষ্টা করেন।

২০১২ সালের অক্টোবরে নরসিংদী শহরের বাসাইল এলাকায় নিজ বাসার সামনে তার স্বামী সুমনের ওপর হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। এ সময় সন্ত্রাসীদের ছোড়া গুলি পাপিয়ার পেটে বিদ্ধ হয়। এরপর তারা নরসিংদী ছেড়ে ঢাকায় পাড়ি জমান।

ঢাকায় যুব মহিলা লীগের নেত্রী ও সংরক্ষিত আসনের এক নারী এমপির সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠতা হয়। একপর্যায়ে ওই তিন নারী নেত্রীর প্রশ্রয়ে এই দম্পতি অপরাধ চক্র গড়ে তোলেন।

নরসিংদীর নেতাদের অভিযোগ, যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের আশকারায় বেড়ে উঠেন পাপিয়া। ২০১৪ সালে যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি নাজমা আকতার ও সাধারণ সম্পাদক অপু উকিল সম্মেলন করলেও নরসিংদীতে কমিটি দিতে পারেননি। পরে ঢাকায় ফিরে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নরসিংদী জেলা কমিটি ঘোষণা করেন, তাতে পাপিয়াকে দেয়া হয় সাধারণ সম্পাদকের পদ।

নরসিংদীর নেতাদের অনেকের দাবি, তাদের বিরোধিতার মুখে ঢাকায় গিয়ে পাপিয়াকে পদ দিয়ে কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল।

নরসিংদী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাবেক প্রতিমন্ত্রী নজরুল ইসলাম হীরু গণমাধ্যমকে বলেন, ২০১৪ সালে সম্মেলনের মাঠে পাপিয়ার নাম প্রস্তাব করলে আমি বিরোধিতা করি। আমার সঙ্গে আরও কয়েকজন বিরোধিতা করেন।

তিনি বলেন, পরে সম্মেলনকেন্দ্রে নাম ঘোষণা করতে গেলে আমি বলি– এখানে পাপিয়ার নাম কোনোভাবেই কমিটিতে রাখা যাবে না। পরে নাজমা ও অপু নরসিংদীতে কমিটি দিতে না পেরে ঢাকায় গিয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কমিটি দেয়।

যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি নাজমা আকতার বলেন, জেলা কমিটিতে পাপিয়া আগে কোনো পদে না থাকলেও তাকে পদ দিতে অনেকটা বাধ্য হয়েছিলেন তিনি।

নাজমা বলেন, নরসিংদীর একটি পক্ষ এই মেয়েকে পদ না দেয়ার জন্য আমাদের বলেছিল। আমি পাপিয়াকে পদ দেয়ার পক্ষে ছিলাম না। তার পরও শেষ পর্যন্ত দিতে হয়েছে।

পাপিয়াকে অর্থের বিনিময়ে পদ দেয়া হয়েছিল বলে অভিযোগের বিষয়ে নাজমা বলেন, পদবাণিজ্য করে যারা পাপিয়াকে পদ দিয়েছে, তাদের বিচারের আওতায় আনা হোক, এমন মেয়েদের জন্য যুব মহিলা লীগের সম্মান যায়।

কাদের আশ্রয়ে পাপিয়া এতদূর এগিয়েছে, জানতে চাইলে যুব মহিলা লীগের সভাপতি বলেন, সে কাদের সঙ্গে ওঠবস করে, তাদের খুঁজে বের করলেই সব পেয়ে যাবেন। আমাদের অনেকের সঙ্গে পাপিয়ার ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিল, তাদের বের করুন।

তাকে পদ দেয়ার ক্ষেত্রে যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অপু উকিলের সমর্থন ছিল বলে সংগঠনটির বিভিন্ন নেতা জানিয়েছেন।

অপু উকিল তা অস্বীকার করে বলেন, নরসিংদী আওয়ামী লীগ নেতাদের সুপারিশে পাপিয়াকে পদ দেয়া হয়েছিল।

তিনি জানান, জেলার নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেই আমরা কমিটি দিই। তখন স্থানীয় আওয়ামী লীগের (তৎকালীন) সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় এমপি-মন্ত্রীদের অনেক তদবির ছিল, অনেকেই এই মেয়েকে পদ দেয়ার জন্য সুপারিশ করে।

নরসিংদী আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি হীরু বলেন, কমিটি দেয়ার পর আমি অপুকে জিজ্ঞাসা করলে সে আমাকে বলেছিল– ওপর থেকে চাপ ছিল, তাই পাপিয়াকে নেত্রী বানিয়েছি। আমি বলব, এখন প্রকাশ করুক কোন ওপরের চাপে তাকে সাধারণ সম্পাদক বানানো হয়েছে।

পাপিয়ার অপকীর্তির বিষয়ে কিছুই জানতেন না বলে দাবি করেন অপু উকিল।

তিনি বলেন, আমি ২০১৪ সালে যখন কমিটি দিয়েছি, তখন সে নরসিংদীতে ছিল। কবে ঢাকায় এসেছে, কবে ব্যবসা শুরু করেছে, এগুলো আমি কিছুই জানি না। আমি তো মনে করেছি, সে নরসিংদীতেই আছে।

অপু উকিল যে পদধারীদের কথা বলেছেন, তাদের মধ্যে জেলা সভাপতি আসাদুজ্জামান মারা গেছেন, সাবেক মন্ত্রী রাজু অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী।

যুব মহিলা লীগের ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য সাবিনা আক্তার তুহিনের সঙ্গে পাপিয়ার সখ্যের বিষয়টি বেশ আলোচিত সংগঠনের মধ্যে। পাপিয়ার নানা কাজে তুহিনের পৃষ্ঠপোষকতা রয়েছে, এমন অভিযোগও এসেছে।

তবে তুহিন এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, পাপিয়ার সঙ্গে তার সাংগঠনিক সম্পর্কের বাইরে কিছু ছিল না। আমি মহানগর উত্তরের নেত্রী, রাজনীতির কারণে আমার অনেকের সঙ্গে মিশতে হয়েছে। আমাদের কেন্দ্রীয় সম্মেলন আছে, সে কারণে দেশের সব জেলার নেত্রীদের সঙ্গেই আমার মিশতে হয়।

তুহিন দাবি করেন, ২০১৪ সালে পাপিয়া যখন নরসিংদী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হন, তখনও তাকে চিনতেন না তিনি। পাপিয়া ২০১৪ সালে নেতা হয়েছে, আর আমার সঙ্গে পরিচয় হয়েছে ২০১৭ সালে। তা হলে কমিটিতে আসার ব্যাপারে আমার কোনো ভূমিকা থাকতে পারে না। আর জেলা কমিটি গঠনে মহানগরের কোনো হাত থাকে না।

তবে ২০১৭ সালে পরিচয়ের পর পাপিয়ার সঙ্গে সখ্য গড়ে ওঠার স্বীকারোক্তি আসে তুহিনের কথায়। তিনি বলেন, তার পর থেকে নিয়মিত আসত। আমি এমপি ছিলাম, তার বাসা আমার বাসা থেকে কাছে, নিয়মিতই আসত।

তখন সখ্য থাকলেও এক বছর ধরে পাপিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ ছিল না বলে দাবি করেছেন তুহিন। তিনি বলেন, হঠাৎ গত বছরের শুরুর দিক থেকে আসা বন্ধ হয়ে গেছে। এমনকি আমি নরসিংদীতে গিয়ে ফোন করেও দেখা পাইনি। বছর দেড়েক আগে আমার কাছে টাকা ধার চেয়েছিল, আমি দিইনি। এর পর থেকে আমার এখানে আসে না।

এত সখ্য থাকার পরও কেন ফোন ধরত না- প্রশ্ন করলে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়ানোর কারণেই হয়তোবা আমার কাছ থেকে দূরে সরে গেছে।

তুহিন দাবি করেন, তাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করতে পাপিয়ার সঙ্গে তাকে জড়ানো হচ্ছে।

পাপিয়ার অগাধ সম্পদ

এদিকে গ্রেফতারের পর পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয় বাইজি সর্দারনী বেশে পাপিয়ার ভিডিও। ইতিমধ্যে তার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কথা বের হতে শুরু করেছে। মুখ খুলতে শুরু করেছেন সাধারণ মানুষ।

সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও পতিতা ব্যবসার পাশাপাশি ব্ল্যাকমেইল করে পাপিয়া এবং তার স্বামী গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড়। অনৈতিক কার্যকলাপের ভিডিও ধারণ করে ধনাঢ্য ব্যক্তিদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিতেন তারা। অপরাধে জড়িয়ে পড়া যুব মহিলা লীগ নেত্রী শামীমা নূর পাপিয়াকে ইতিমধ্যে সংগঠন থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।

র্যা ব জানান, অনৈতিক কর্মের ভিডিও ধারণ করে ব্যবসায়ীদের ব্ল্যাকমেইল করতেন। এ দুই উপায়ে তিনি শত শত কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। অস্ত্র ও মাদক মজুদের পাশাপাশি কিউঅ্যান্ডসি নামে ক্যাডার বাহিনীও গঠন করেছেন।

তিনি জানান, পুলিশের এসআই ও বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভিন্ন পদে মানুষকে চাকরি দেয়ার কথা বলে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন র্যা বের হাতে গ্রেফতার হওয়া পাপিয়া ও তার স্বামী সুমন।

শুধু তাই নয়, জমির দালালি, সিএনজি পাম্পের লাইসেন্স দেয়া, গ্যাসলাইন সংযোগের নামেও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন তারা। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন ব্যাংকে নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ অর্থ রেখেছেন এই দম্পতি।

এ ছাড়া বিভিন্ন দেশের ব্যাংকে নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ অর্থ গচ্ছিত থাকার কথা জানা গেছে। র্যা বের দাবি, পাপিয়া ও তার স্বামী সুমন চৌধুরী রেলওয়ে ও পুলিশে চাকরির প্রলোভনে ১১ লাখ টাকা, একটি কারখানায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ দেয়ার কথা বলে ৩৫ লাখ টাকা, একটি সিএনজি পাম্পের লাইসেন্স করে দেয়ার কথা বলে ২৯ লাখ টাকা নিয়েছেন বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।

এর বাইরে নরসিংদী এলাকায় চাঁদাবাজি, মাদক ও অস্ত্র ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা উপার্জন করেছেন তারা।

র্যা ব-১ এর অধিনায়ক বলেন, পাপিয়ার আয়ের অন্যতম উৎস নারীদের দিয়ে জোরপূর্বক অনৈতিক কাজ করানো। ঢাকার বিভিন্ন বিলাসবহুল হোটেলে কম বয়সী মেয়েদের অনৈতিক কাজে বাধ্য করতেন তিনি।

যাদের অধিকাংশকে নরসিংদী এলাকা থেকে চাকরির প্রলোভনে ঢাকায় আনা হয়েছিল। অনৈতিক কাজে বাধ্য না হলে তাদের নানাভাবে নির্যাতন করা হতো। পাপিয়ার সঙ্গে বিশিষ্টজনদের ছবির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বর্তমানে যদি কেউ কারও সঙ্গে ছবি তুলতে চায় তা হলে বিষয়টি সাধারণত এড়ানো যায় না। তাই কারও সঙ্গে ছবি থাকা মানেই সখ্য নয়।

এদিকে পাপিয়া ও তার স্বামীসহ গ্রেফতারকৃতদের বিমানবন্দর থানায় হস্তান্তর করেছে র্যা ব। তাদের আজ আদালতে তোলা হবে। তাদের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা হবে। এর মধ্যে বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা হয়েছে। বাকি দুটি মামলা অন্যান্য থানায় হবে।

পাপিয়ার যত অনৈতিক কর্মকাণ্ড

র্যা ব জানায়, যুবলীগ নেত্রী পাপিয়া পিউ নামেই বেশি পরিচিত। এই নেত্রীর প্রকাশ্য আয়ের উৎস গাড়ি বিক্রি ও সার্ভিসিংয়ের ব্যবসা। এর আড়ালে জাল মুদ্রা সরবরাহ, বিদেশে অর্থপাচার এবং অবৈধ অস্ত্র রাখাসহ নানা অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এসব অভিযোগের অনুসন্ধান করছিল র্যা বের একটি দল। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে শনিবার সকালে তড়িঘড়ি করে দেশত্যাগের চেষ্টা করেন পাপিয়া। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। সহযোগীসহ গ্রেফতার হন তিনি।

র্যা ব কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল শাফীউল্লাহ বুলবুল বলেন, গাড়ির ব্যবসার আড়ালে তিনি অবৈধ অস্ত্র, মাদক ব্যবসা ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। সমাজসেবার নামে তিনি নরসিংদীর অসহায় নারীদের অনৈতিক কাজে লিপ্ত করে আসছিলেন। তিনি গুলশানের একটি অভিজাত হোটেলের প্রেসিডেন্ট স্যুট নিজের নামে বুক করে নানা ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপ চালিয়ে আসছিলেন।

র্যা ব জানায়, পাপিয়ার স্বামীর থাইল্যান্ডে বারের ব্যবসা রয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ অস্ত্র-মাদক ব্যবসা ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা বিচারাধীন। তিনি স্ত্রীর মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের অসহায় নারীদের অনৈতিক কাজে ব্যবহার করেন।

সূত্র: যুগান্তর

About sylhet24express

Check Also

এম‌সির ছাত্রাবাসে গণধর্ষ‌ণ, আসামী তারেক সুনামগঞ্জে গ্রেপ্তার

নিউজ ডেস্ক ::সি‌লে‌টের এম‌সি ক‌লে‌জ ছাত্রাবাসে গৃহবধূ ধর্ষ‌ণের ঘটনায় এজাহারভুক্ত আসামী তারেককে সুনামগঞ্জের দিরাই থেকে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *