September 29, 2020 3:23 pm
Breaking News
Home / Home / সিলেট মা ও শিশু হাসপাতালে ভূল চিকিৎসায় সাংবাদিক পুত্রের মৃত্যু
সিলেট মা ও শিশু হাসপাতালের ভূল চিকিৎসায় সাংবাদিক পুত্রের মৃত্যু
সিলেট মা ও শিশু হাসপাতালের ভূল চিকিৎসায় সাংবাদিক পুত্রের মৃত্যু

সিলেট মা ও শিশু হাসপাতালে ভূল চিকিৎসায় সাংবাদিক পুত্রের মৃত্যু

সিলেট টুয়েন্টিফোর এক্সপ্রেস ডেস্ক : সিলেট নগরীর সোবহানীঘাট এলাকাস্থ মা ও শিশু হাসপাতালের অপচিকিৎসা, নানা অনিয়ম ও অভিযোগের শেষ নেই। গত ৬জুন চিকিৎসা সেবা না পেয়ে এক বৃদ্ধার মৃত্যুর ঘটনায় আলোচনায় আসে এই হাসপাতালের নাম। এবার ভূল চিকিৎসায় এক সাংবাদিক শিশু পুত্রের মৃত্যুতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় বইছে। হাসপাতালের সকল অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।

জানা গেছে, রোববার রাত ১০টায় সিলেট নগরীর মা ও শিশু হাসপাতালে বিশ্বনাথের সাংবাদিক নূর উদ্দিনের শিশু পুত্র রিফাতের পায়ুপথে অস্ত্রোপচার করা হয়। এরপর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রাত ১টায় তাকে লাইফ সাপোর্টে (আইসিইউ) নেয়া হয়। সোমবার (৬জুলাই) সকালে মৃত্যু হয় শিশুটির। তবে, শিশুর পিতা সাংবাদিক নুর উদ্দিনের দাবি, কর্মরত ডাক্তারদের অবহেলা আর ভূল চিকিৎসায় তার ছেলের মৃত্যু হয়েছে।

সাংবাদিক নুর উদ্দিন বলেন, রোববার রাতে অপারেশনের পর ডাক্তার শামসুল ইসলামকে ছেলের পরিস্থিতি জানতে চাইলে তিনি কোন উত্তর না দিয়ে তড়িঘড়ি করে চলে যান। আমি ওয়ার্ডে গিয়ে ছেলেকে দেখতে না পেয়ে তাদেরকে বললে, তারা বলেন আপনার ছেলের অবস্থা ভাল না। তাকে আইসিউতে স্থানান্তর করা হয়েছে। সকালে ছেলে মারা গেছে বলে জানান তারা। সাংবাদিক নুর উদ্দিন তার শিশুপুত্রকে ডাক্তারের অবহেলা আর ভূল চিকিৎসায় মৃত্যু হয়েছে দাবি করে তিনি ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানান।

এবিষয়ে মা ও শিশু হাসাপাতালের অ্যাডমিন ম্যানেজার মোরশেদুর রহমান শিশুটির ভূল চিকিৎসায় বা হাসপাতালের গাফলতির কারণে মৃত্যু হয়নি দাবি করে বলেন, ওই শিশুর অপারেশন আমাদের ওখানে হয়েছে এবং শিশুটি মারা গেছে ঠিকই। তবে শিশুর পিতা আবেগাপ্লুত হয়ে আমাদের প্রতি ভুল চিকিৎসার অভিযোগ এনেছেন। তার ছেলের খাদ্যনালী ও পায়খানার রাস্তায় সমস্যা ছিলো। অপারেশন শেষে শিশুর নিউমোনিয়া বেড়ে যায়, যে সমস্যা ওই শিশুর আগে থেকেই ছিলো। এমতাবস্থায় আমরা শিশুকে আইসিইউতে নেই এবং তার চাচার সঙ্গে কথা বলেই নিয়েছি। ওই সময় শিশুর পিতা ওখানে উপস্থিত ছিলেন না তাই তাকে জানানো যায়নি। কিন্তু শিশুর অবস্থার উন্নতি হয়নি তাই সে মারা যায়।

শিশুর পিতা আবেগপ্রবন হয়ে হাসপাতালের উপর মিথ্যা অভিযোগ তুলেছেন মোরশেদুর রহমান আরও বলেন, প্রয়োজনে যে কোনো মেডিকেল বোর্ড বসিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখা যেতে পারে। তবে, এ বিষয়ে জানতে অপারেশনের দায়িত্ভে থাকা ডা. শামসুর রহমানের সাথে কোন মাধ্যমে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে, গত ৬ জুন সিলেটে প্রাইভেট হাসপাতাল ঘুরে ঘুরে চিকিৎসা না পেয়ে মৃত্যু হয় ৩রোগীর। এরমধ্যে ৬৩ বছরের এক বৃদ্ধা নগরীর ৬টি হাসপাতাল ঘুরেও চিকিৎসাসেবা না পেয়ে মারা যান। তার পরিবারের সদস্যরা জানান, সুবহানীঘাটস্থ মা ও শিশু হাসপাতালসহ নগরীর আরও ৫টি হাসপাতাল ঘুরেও চিকিৎসাসেবা পাননি। এভাবে চিকিৎসাসেবা না পেয়ে মৃত্যুর ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফুসে উঠে সিলেটের সচেতন মহল। নানা প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা। এসময় হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলেরও দাবি উঠে।

অপরদিকে, ২০১৯ সালের এপ্রিল মাসে সিলেট মা ও শিশু হাসপাতালের ভয়াবহ অনিয়মের চিত্র বেরিয়ে আসে ভোক্তা অধিকার ও সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে। ওষুধের যে নির্ধারিত মূল্য রয়েছে, তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি দামে ওষুধ বিক্রি করছিল সিলেট মা ও শিশু হাসপাতাল। শুধু তাই নয়, এই হাসপাতালটি মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধও বিক্রি করছিল। অভিযানকালে অনিয়মের চিত্র দেখে চমকে উঠে ভ্রাম্যমাণ আদালতও। ওইসময় অতিরিক্ত মূল্যে ওষুধ বিক্রি করায় হাসপাতালকে ৫০ হাজার টাকা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি করায় ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় বলে ওইসময় সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছিলেন র‌্যাব-৯ এর কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মনিরুজ্জামান।

এখবর সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ হলে ‘ডাকাতের দল’ আখ্যায়িত করে অনেকে মন্তব্য করেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

এছাড়া, ২০১৭ সালের ৬ অক্টোবর হাসপাতালের বিল আদায়ের জন্য প্রসূতি মা ও ভূমিষ্ট শিশুকে একটি কক্ষে বন্দি করার অভিযোগ এনে মৌলভীবাজার জেলা কুলাউড়া থানার মোহনলাল গ্রামের মৃত আবদুল আজিজের ছেলে চুনু মিয়া বাদি হয়ে সিলেটের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৭জন ডাক্তারসহ ১০জনকে আসামি করে মামলা (নম্বর ১৩৫৫) দায়ের করেছেন। আদালত এক আদেশে মামলাটি আমলে নিয়ে প্রসূতি ও নবজাতককে উদ্ধারের জন্য কোতোয়ালি থানার ওসিকে নির্দেশ দিলে তাদেরকে উদ্ধার করা হয়।

একই বছরের ১৫ আগস্ট মেন্দিবাগের কয়েছ আহমদ তার স্ত্রীকে ভর্তি করিয়েছিলেন ওই হাসপাতালে। কিন্তু ডাক্তারদের অবহেলার কারণে তার শিশু মারা যায়। ওই দিন সন্ধ্যায় রোগীর স্বজনরা হাসপাতাল ভাঙচুর করেছিলেন। গত কয়েক বছরে মা ও শিশু হাসপাতালে ডাক্তারদের দায়িত্বে অবহেলার অনেক ঘটনা ঘটেছে।

About admin

Check Also

ছাতকে প্রবাসী স্ত্রীকে ভিডিও কলে রেখে স্বামীর আত্মহত্যা

ছাতক প্রতিনিধি : ছাতকে প্রবাসী স্ত্রীকে ভিডিও কলে রেখে সেলিম মিয়া (৪০) নামের এক যুবক …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *