September 22, 2020 4:58 pm
Breaking News
Home / Home / ব্যক্তি নামের আগে ও পরে পেশা বা পদবী যুক্ত করা কতটা যুক্তি সংগত ?
তামান্না আফরিন

ব্যক্তি নামের আগে ও পরে পেশা বা পদবী যুক্ত করা কতটা যুক্তি সংগত ?

তামান্না আফরিন : ইদানীংকালে দেখা যাচ্ছে অনেকে না বুঝেই বা ইচ্ছাকৃতভাবে নামের আগে পদবি লাগিয়ে দিচ্ছে যেটা খুবই দুঃখজনক। আইনের ছাত্রী হওয়ার কারণে আমি এই বিষয়ে কিছু লেখার চেষ্টা করেছি।

ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, অ্যাডভোকেট, প্রফেসর ইত্যাদি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সম্মানজনক পদবী । যেকেউ যেকোন পর্যায়ের ডিগ্রী নিয়ে নামের আগে এই শব্দগুলি বসাতে পারে না কিংবা নিজেকে পরিচয় দিতে পারে না। প্রতিটি পেশাতেই সুনিদিষ্ট কর্তৃপক্ষ আছে যারা নিয়ম অনুযায়ী পেশাগত পদবী নামের আগে ও পরে ব্যবহার করার অনুমতি দিয়ে থাকেন ।

ডাক্তারদের ক্ষেত্রে :

বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল অ্যাক্ট ২০১০(২০, ডিসেম্বর ২০১০-এ প্রকাশিত গেজেট) এর ধারা ২২(১) ও ২৯(১) এর আওতায় MBBS/BDS বাদে অন্য চিকিৎসকদের নামের আগে ডাঃ(ডাক্তার) পদবী ও নামের পরে ডিগ্রী ব্যবহার অপরাধ ।
ন্যূনতম এমবিবিএস অথবা বিডিএস ডিগ্রিধারী ব্যতীত অন্য কেউ তাদের নামের পূর্বে ডাক্তার পদবী লিখতে পারবেন না। তাও আবার তাকে বিএমডিসি’র রেজিস্ট্রেশনভুক্ত হতে হবে। এর ব্যত্যয় ঘটানো শাস্তি যোগ্য অপরাধ।

বিএমডিসির সংশোধিত আইন অনুযায়ী পল্লী চিকিৎসক ও মেডিকেল অ্যাসিস্টেন্টরা তাদের নামের আগে ডাক্তার শব্দটি ব্যবহার করতে পারবেন না। ন্যূনতম এমবিবিএস বা বিডিএস ডিগ্রিধারী না হলে কেউ নিজেকে ডাক্তার হিসেবে পরিচয় দিতে পারবেন না। এই বিধান অমান্য করে কেউ নিজের নামের আগে ডাক্তার শব্দ ব্যবহার করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে বিএমডিসি।

বিএমডিসির আইনের ২২ (১) ধারায় বলা হয়েছে, নিবন্ধন ব্যতীত অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসা নিষিদ্ধ। অন্য কোনো আইনে যা কিছু থাকুক না কেনো এ আইনের অধীনে নিবন্ধন ব্যতীত কেউ নিজেকে মেডিকেল চিকিৎসক বা ডেন্টাল চিকিৎসক বলে পরিচয় প্রদান করতে পারবে না। কোনো ব্যক্তি এ ধারা লংঘন করলে ৩ বছরের কারাদণ্ড অথবা ১ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে।

২৯ (১) ধারা অনুযায়ী ভুয়া পদবী ব্যবহার নিষিদ্ধ। এ আইনের অধীনে নিবন্ধনকৃত কোনো মেডিকেল চিকিৎসক বা ডেন্টাল চিকিৎসক এমন কোনো নাম, পদবী, বিবরণ ও প্রতীক এমনভাবে ব্যবহার বা প্রকাশ করবেন না যার ফলে তার কোনো অতিরিক্ত পেশাগত যোগ্যতা আছে মর্মে কেউ মনে করতে পারে। এমবিবিএস অথবা বিডিএস ডিগ্রিধারী ব্যক্তিরা ব্যতিত অন্য কেউ তাদের নামের পূর্বে ডাক্তার পদবী ব্যবহার করতে পারবেন না। কোনো ব্যক্তি এ উপধারা লংঘন করলে তাকে ওই একই দণ্ড পেতে হবে এবং অপরাধ অব্যাহত থাকলে প্রত্যেকবার তার পুনরাবৃত্তির জন্য ৫০ হাজার টাকা অর্থ দণ্ডে দণ্ডিত হবেন ।

ইঞ্জিনিয়ারদের ক্ষেত্রে :

কারা কারা নিজের নামের আগে ইঞ্জিনিয়ার পদবী ব্যবহার করতে পারেনঃ

আইইবি স্বীকৃত সরকারী বা বেসরকারি বাংলাদেশি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রী থাকে এবং ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ, (আইইবি)-র এসোসিয়েট মেম্বার হিসেবে নিবন্ধিত হন । অথবা

স্বীকৃত বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং এর সমমানের ডিগ্রী থাকে এবং ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি)-র এসোসিয়েট মেম্বার হিসেবে নিবন্ধিত হন। অথবা এএমআইই (সেকশন এ এবং বি) পাশ থাকে এবং ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি)-র এসোসিয়েট মেম্বার হিসেবে নিবন্ধিত হন ।এর বাইরে কোনও ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার ডিগ্রীধারী কেউ নামের আগে কিংবা নিজেকে ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে পরিচয় দিতে পারবেন না । তবে কিছু ডিপ্লোমাধারী নিজেকে “ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার” হিসেবে পরিচয় দিতে পারবেন ।

আসুন দেখে নিই তারা কারা: ১/ স্বীকৃত কোন পলিটেকনিক বা কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে প্রকৌশল বিষয়ে ডিপ্লোমা থাকে এবং ২/ ইনস্টিটিউশন অফ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ-থেকে নিবন্ধিত হন । এর বাইরে দুই মাস/ ছয় মাস/ ২ বছরের কোর্সকরে কেউ নিজেকে ইঞ্জিনিয়ার পরিচয় দিতে পারে না । এটা অন্যায় এবং দন্ডনীয় অপরাধ ও সাথে সাথে এটা ইঞ্জিনিয়ার পদবী’র অপমান এবং মানুষকে ধোকা দেয়া ।

আইনজীবীর ক্ষেত্রে:
The Bangladesh Legal Practitioner’s and Bar Council Order, 1972 (President’s Order) অধীনে তালিকাভুক্ত হতে হবে । অন্যথায় কেউ আইনজীবী কথাটি নামের আগে ও পরে লিখতে পারবে না ।

ভোটার তালিকা (সংশোধন) আইন ২০১২’- আইনে ভোটারের ‘নাম’-এর সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, ‘জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন, ২০০৪-এর অধীন নিবন্ধিত অথবা প্রদত্ত সনদে উল্লিখিত নাম অথবা প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী বা জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট বা মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট বা সমমানের কোন পরীক্ষায় প্রদত্ত সনদে উল্লিখিত নাম।‘অফিসিয়াল’ কাগজপত্রে কোন নাগরিক নামের আগে-পরে বিচারপতি, ব্যারিস্টার, এডভোকেট, প্রকৌশলী, ডক্টর, এ ধরনের পদবি-পরিচয় ব্যবহার করতে পারবেন না।

প্রফেসরদের ক্ষেত্রে : 

@ কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের পদ মর্যাদা শুরু হয় প্রথমে প্রভাষক হিসাবে, তারপর সহকারী প্রফেসর, সহযোগী প্রফেসর এবং সবশেষে প্রফেসর। প্রফেসর হওয়ার জন্য একজন শিক্ষককে ক্লাস ও পরীক্ষা নেওয়ার পাশাপাশি উৎকৃষ্ট মানের জার্নালে তাঁর নিজস্ব গবেষণালব্ধ বহুসংখ্যক প্রকাশনা থাকতে হয়।

@ সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় ও বিবিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে শিক্ষকরা শুধু প্রফেসর পদে পদোন্নতি পান। এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক সর্বোচ্চ সহযোগী অধ্যাপক/ প্রফেসর পদে পদোন্নতি পেয়ে থাকেন।

@ শিক্ষক হলেই সবাই প্রফেসরের মতো মর্যাদা পূর্ণ পদবী ব্যবহার করতে পারেন না। বর্তমানে দেশজুড়ে দেখা যায় স্কুল -কলেজ থেকে শুরু করে দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষকরাও নিজেদের প্রফেসর/ অধ্যাপক বলে পরিচয় দিচ্ছে। অন্যায় সুবিধা নেওয়ার জন্য কোচিং সেন্টারের পোস্টারে দেখা যায় অধ্যাপকের ছড়াছড়ি। এটা অপরাধ।

তামান্না আফরিন
অ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।

About sylhet24express

Check Also

নতুন আতঙ্ক সুতা বাহিনী, টার্গেট বাইকাররা

নিউজ ডেস্ক:: রাজধানীর ফ্লাইওভারগুলোর নতুন আতঙ্ক সুতা বাহিনী। পিস্তল, চাকু, কিংবা চেতনানাশক ওষুধ নয়, এই …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *