September 27, 2020 1:19 pm
Breaking News
Home / Home / ত্যাগীরাই আসছেন জেলা ও মহানগর আ.লীগে কমিটিতে

ত্যাগীরাই আসছেন জেলা ও মহানগর আ.লীগে কমিটিতে

নিজস্ব প্রতিবেদক :: কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদকের নির্দেশনার পর ব্যস্থ সময় কাটছে সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের। নির্দেশনার সময় শেষ হচ্ছে ১৫ সেপ্টেম্বর। হাতে সময় রয়েছে আর মাত্র এক সপ্তাহ। বিষয়টিকে মাথায় রেখে কমিটির খসড়া তালিকা প্রস্তুতির কাজ চলছে দ্রুতগতিতে। খসড়া তালিকা চূড়ান্ত হলেই অনুমোদনের জন্য তালিকা পাঠানো হবে দলীয় প্রধানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে।

চলছে কমিটিতে অন্তর্ভুক্তি নিয়ে চুল চেড়া বিশ্লেষণ। মোট কথা, তৃণমূল থেকে শুরু করে সিলেটের আওয়ামী পরিবারের দৃষ্টি এখন পূর্ণাঙ্গ কমিটির দিকে। এই পূর্ণাঙ্গ কমিটি শুধু জেলা ও মহানগরই নয়, পুরো কমিটির তালিকা হচ্ছে দলের সহযোগী সংগঠনগুলোর। জেলা ও মহানগর যুবলীগেও একই অবস্থা।

এদিকে, সাংগঠনিক নির্দেশনা হাতে না পেলেও কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদকের ঘোষণার পর উচ্ছাস ও উদ্বেগ বিরাজ করছে সিলেট আওয়ামী পরিবারে। সাংগঠনিক কার্যক্রমে গতিশীলতার পাশাপাশি এর মাধ্যমে নতুনের অন্তর্ভুক্তি ঘটবে বলে একদিকে যেমন উচ্ছ্বাস অপরদিকে পদে হারাবার আতঙ্কও রয়েছে। ইতোমধ্যে দলীয় পদে অন্তর্ভুক্তি নিয়ে যোগাযোগও বৃদ্ধি পেয়েছে দলীয় পদ-প্রত্যাশীদের।

অবশ্য, দলের জেলা ও মহানগরের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক জানিয়েছেন-ত্যাগী এবং পরিচ্ছন্নরাই স্থান পাচ্ছেন পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে। তাছাড়া, নবীন এবং প্রবীণের সমন্বয়ে দেশ এবং দল বান্ধব কমিটি উপহার দিতে প্রস্তুত থাকার বিষয়টিও জানিয়েছেন জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

দলের একটি সুত্র জানিয়েছে, বিগত কমিটিতে থাকা সদস্যদের মধ্যে যারা বর্তমানে জীবিত নেই তাদের স্থলে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তি এবং বর্তমানে যারা স্থায়ীভাবে প্রবাসে অবস্থান করছেন তাদেরকে স্থায়ীভাবে দল থেকে বাদ দেওয়া হতে পারে। তবে, সুখবর হচ্ছে, পুরনোদের কেউই বাদ যাচ্ছেননা কার্যকরী পদ থেকে। বিষয়টি নিয়ে জেলা এবং মহানগর একমত থাকতে পারে-এমন আভাস দিয়ে মহানগরের সাবেক প্রভাবশালী এক নেতা বলেন, এখনও কিছু বলা যাচ্ছেনা । তবে সিদ্বান্তটি এমন হলে দলের জন্য ইতিবাচক বলেও তিনি ইঙ্গিত করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মহানগর শাখার সাবেক এক কার্যকরি সদস্য বলেন, এবার সিসিকের নির্বাচিত কাউন্সিলরদের মধ্যে যারা দলীয় পদে নেই, তাদেরকে সংগঠনে অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি রয়েছে আলোচনায়। তবে, নবাগত কেউ সদস্য পদ পেলেও তাদেরকে কার্যকরী পদে না রাখার সম্ভাবনা বেশি বলে আই নিউজকে জানান তিনি। তাছাড়া, বিগত দিনের অধিকাংশই সাবেক পদে বহাল না থাকলেও পদ রদ-বদলের সম্ভাবনাও থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জানাগেছে, দলের সাধারন সম্পাদক, সড়ক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সারাদেশের অসম্পূর্ণ কমিটিগুলো পূরণ করে ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কেন্দ্রে জমা দিতে নির্দেশ প্রদান করেন। কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদকের এই নির্দেশনার পর তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ উদ্দীপনা বিরাজ করছে।

গেলো বছরের ৫ ডিসেম্বর সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট লুৎফুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন খান এবং মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মাশুক উদ্দিন আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন নির্বাচিত হন।

এদিকে, কমিটি গঠনের পর ৯ মাস অতিবাহিত হলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা পাঠাতে পারেনি জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ। দলের উভয় শাখার সাধারণ সম্পাদকের দাবি-সম্মেলনের পর থেকে নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে সেতুঁ বন্ধন আরো সুদৃঢ় হয়। এরই মধ্যেই মার্চ মাসের শুরু থেকেই চলে আসে করোনা ভাইরাস। এই ভাইরাসের কারণে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের গৃহিত মুজিববর্ষের কর্মসূচীর পরিধিও সংক্ষিপ্ত করা হয়। সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধের ঘোষণা আসে। এরই মধ্যে গেলো আগষ্ট মাস জোড়ে ছিল শোক দিবসের কর্মসূচী। সব কিছুর পরও থেমে থাকেনি আওয়ামী লীগ।

কমিটির খসড়া তালিকা প্রস্তুতির বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নাসির উদ্দিন খান বলেন, প্রস্তুতির কাছ চূড়ান্তের পথে। তবে, এ ব্যাপারে দলীয় কোনো সার্কুলার এখনও হাতে আসেনি। তিনি বলেন, ‘আমরা ১৫ সেপ্টেম্বরকে মাথায় রেখে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। নতুন এবং পুরনোর সমন্বয়ে একটি পরিচ্ছন্ন, ত্যাগী, পরিক্ষিত এবং দলবান্ধব কমিটি উপহার দিতে জেলা কমিটি বদ্ধ পরিকর।’

মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন বলেন, পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের লিখিত কোনো নির্দেশনা এখন হাতে পৌছেনি। তবে, কমিটি গঠনের কাজ চলছে অনেকদিন থেকেই। পর্যবেক্ষণ শেষে খসড়া তালিকা প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। তিনি বলেন, দলকে বেকায়দায় ফেলতে পারে-এমন কাউকে মহানগরের পদে যুক্ত করা হবেনা। বিতর্কিতদের ব্যাপারে দলীয় সভানেত্রীর কড়া হুশিয়ারী রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ক্লিন ইমেজ এবং পরিচ্ছন্ন ত্যাগী নেতাকর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল বলেন, দলীয় সাধারণ সম্পাদকের ঘোষণার পর লিখিত নির্দেশনার আর কোনো প্রয়োজন পড়েনা। তিনি নিজে ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন জানিয়ে আই নিউজকে বলেন, অপূর্ণাঙ্গ কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার এই নির্দেশনা শুধু সিলেটের জন্য নয়, সারাদেশের জন্য। সেই লক্ষ্যেই স্ব স্ব জেলা পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা প্রস্তুতির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

About sylhet24express

Check Also

নারী সংগঠক শারমিন কবীর কে অনলাইন জার্নালিস্ট সোসাইটির সংবর্ধনা স্বারক প্রদান

নিজস্ব প্রতিবেদক:: বিশ্বে যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর, অর্ধেক তার করিয়াছে নারী অর্ধেক তার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *