September 30, 2020 9:17 am
Breaking News
Home / ফিচার / জার্নির সময় বমি এবং সমাধানে করণীয়

জার্নির সময় বমি এবং সমাধানে করণীয়

অনেকেই আছেন গাড়িতে উঠলেই জার্নির সময় বমি করেন বা বমি বমি ভাবের জন্য অস্বস্তিকর অবস্থায় থাকেন। মোশন সিকনেস সাধারণত বাস/কার/ট্রেন/উড়োজাহাজে যাত্রাকালীন অসুস্থতাকে বোঝায়। একারণে যারা এই সমস্যায় ভোগেন তারা আতংকে লম্বা জার্নি করতে চান না বা পরিবারের অন্যান্যদের কাছে বিব্রত বোধ করেন। যদিও বাচ্চাদের মাঝে এই সমস্যা তুলনামূলক বেশী দেখা যায়, তবে বড়দের ক্ষেত্রেও এই সমস্যা কমবেশি সব পরিবারেই দেখা যায়।

আসুন সহজে জেনে নেই এই সমস্যার কারণ এবং কিভাবে প্রতিরোধ করা যায়।

ভ্রমণে বমি কেন হয়?

বমির জন্য দায়ী আমাদের অন্তঃকর্ণের সমন্বয়হীনতা। চলন্ত বাসের ঝাঁকুনিতে আমাদের কানের ভেতরের ফ্লুইড নড়াচড়া করে। যার কারণে অন্তঃকর্ণ ব্রেইনকে ইনফরমেশন দেয়, বডি মুভ করে, কিন্তু এদিকে আমাদের চোখ আবার ব্রেইনকে ইনফরমেশন দেয় যে বডি স্থির আছে। শরীর নড়াচড়া করছে না। দুই রকম ইনফরমেশনের জন্য মস্তিষ্কের সমন্বয়হীনতার সৃষ্টি হয়! আর এ ধরনের অবস্থাকে ব্রেইন বিষ হিসেবে শনাক্ত করে! তাই বিষ কে বডি থেকে বের করে দেয়ার জন্য যাত্রাকালে বমি হয় বা বমি বমি ভাব হয়। ভ্রমণকালীন অসুস্থতার উপসর্গগুলি পরিলক্ষিত হয় যখন কান, চোখ এবং জয়েন্টগুলির মতো সংবেদনশীল অঙ্গ থেকে মস্তিষ্ক অসংলগ্ন বার্তা পায়।

মোশন সিকনেস/জার্নিতে বমির সমস্যা প্রতিরোধে করণীয় :

১. বাসে বসে ঘুমিয়ে গেলে আর বমি আসে না কারণ চোখ তখন ইনফরমেশন দেয় না ফলে ব্রেইনে কোনো কনফিউশন তৈরি হয় না! ঘুম না আসলেও হালকাভাবে দুচোখ বন্ধ করে রাখুন। অথবা একটু তন্দ্রাচ্ছন্ন ভাব নিয়ে আসুন। উপকারে আসবে।

২. চলন্ত অবস্থায় যানবাহনের ভেতরে দৃষ্টি নিবদ্ধ না রেখে জানালা দিয়ে বাইরে তাকান! এই সমস্যা থেকে রেহাই পেতে সামনের দিকে বা জানালার কাছে আসন নিন। জানালাটা খুলে দিন, ঠান্ডা বাতাস লাগবে শরীরে। ভালো লাগবে।

৩. যাদের জার্নির সময় বমির সমস্যা আছে তারা চলন্ত গাড়িতে বই, পত্রিকা ইত্যাদি পড়তে থাকলে বমি বমি ভাব বা বমি হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে।

৪. গাড়িতে আড়াআড়িভাবে বা যেদিকে গাড়ি চলছে, সেদিকে পেছন দিয়ে বসবেন না। সিটে উল্টো হয়ে বসবেন না কখনও। এতে বমি বা বমি বমি ভাবের আশংকা থাকে। অনেকে বন্ধু বান্ধব বা পরিবারের সাথে জার্নিতে আড্ডা দেয়ার জন্য ঘুরে বসেন সিটে। কিন্তু গাড়ি যেদিকে মুখ করে আগাচ্ছে তার বিপরীত দিকে মুখ করে থাকা শুধু মোশন সিকনেসই দিবে না, তা বিপজ্জনকও অনেক। এছাড়া অনেক গাড়িতে বিপরীতমুখী সিট থাকে, আপনার যদি ঘন ঘন মোশন সিকনেস হয় তাহলে সেসব সিটে বসবেন না। এছাড়া পিছনের সিটে বসা থেকেও বিরত থাকতে হবে। যানবাহনের পিছনের অংশই বেশি ঝাঁকি খায়, তা থেকে মোশন সিকনেস হতে পারে, এছাড়া পিছনের দিকে ময়লা

৫. যাদের এই সমস্যা আছে তারা যাত্রা শুরুর আগে ভরপেট খাবেন না।

৬. কিছু ওষুধ আছে, যেগুলো বমি বা বমি বমিভাব বন্ধ করতে পারে, চিকিৎসকের পরামর্শমতো বমিভাব দূর করার জন্য বাহনে উঠার আগেই এই জাতীয় ঔষধ খেয়ে নিতে পারেন। যদি আপনার যাত্রাকালে ঘন ঘন এই সমস্যা হতে থাকে তাহলে সরাসরি ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ঔষধ খাবেন।

৭. গাড়িতে বসে আদা কিংবা চুইংগাম চিবালেও উপকার পাওয়া যায়।

৮. গাড়িতে উঠলেই আমার বমি হবে—এমন চিন্তা জার্নির সময় কখনই মনে আনা যাবে না।

ডা. মো. আব্দুল হাফিজ শাফী। বি.সি.এস (স্বাস্থ্য), নাক-কান-গলা বিভাগ, বি.এস.এম.এম.ইউ (প্রেষণে), ঢাকা।

About sylhet24express

Check Also

“নার্স মাতা”

২৮/০৯/২০২০ (দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনার ৭৪ তম জন্মদিনে তাঁকে উৎস্বর্গে লেখা কবিতা) সুরাইয়া পারভীন লিলি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *