September 26, 2020 9:35 pm
Breaking News
Home / Home / করোনা দুর্গতদের পাশে মানবতার ফেরিওয়ালা এসএমপির নায়েক সফি
নায়েক সফি
করোনা দুর্গতদের পাশে মানবতার ফেরিওয়ালা এসএমপির নায়েক সফি

করোনা দুর্গতদের পাশে মানবতার ফেরিওয়ালা এসএমপির নায়েক সফি

মো: আবু বকর : করোনার প্রাদুর্ভাব শুরুর পর সারা দেশের মতো সিলেট নগরেও কর্মহীন হয়ে পড়েছে দিনমজুর খেটে খাওয়া মানুষ। নিম্ন আয়ের পাশাপাশি মধ্যবিত্তরাও চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। তখনই তাদের পাশে ত্রাতা হয়ে দাঁড়িয়েছেন পুলিশের নায়েক সফি আহমদ। তিনি পেশাগত দায়িত্ব পালনের পর বাড়ি না গিয়ে খাবার নিয়ে ছুটছেন অসহায় মানুষদের দুয়ারে দুয়ারে। পৌঁছে দিচ্ছেন খাদ্য সামগ্রী, নগদ অর্থ কিংবা রান্না করা খাবার। এমন মানবিক কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি ‘মানবতার ফেরিওয়ালা’ আবার কেউ কেউ বলে থাকেন মানবতার প্রতীক’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।

পেশায় পুলিশের নায়েক। তবে মহামারী করোনাকালে অসহায় মানুষের নির্ভরতার প্রতীক হয়ে উঠেছেন তিনি। তার মানবিক উদ্যোগের সুবাদে এখন অনেকেই ভালোবেসে তাকে মানবতার ফেরিওয়ালা আবার কেউ কেউ মানবতার প্রতীক’ হিসেবে চিহ্নিত করছেন। তিনি আর কেউ নয় নায়েক সফি আহমেদ।

করোনাভাইরাসের এই সময়ে চরম অসহায়ত্বের মধ্যে দিন কাটছে সাধারণ মানুষের। বিশেষ করে নিম্ন মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র মানুষের ঘরে এক বেলা খাবার জুটে কিনা তাও সন্দিহান। সরকারি, বেসরকারি, ব্যক্তি উদ্যোগে ধনাঢ্যরা তাদের নানাভাবে সহায়তা করছেন।

এ ছাড়া ইতিমধ্যে দেশে করোনা আক্রান্তদের দাফনসহ বিভিন্নভাবে সহায়তা করে পুলিশ অনেকটা সুনাম অর্জন করেছে। তবে অনেকটা প্রকৃত ‘মানবতার ফেরিওয়ালা’ হয়ে কাজ করছেন সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) এক সদস্য। যিনি এ পর্যন্ত প্রায় তিন হাজার পরিবারকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে খাদ্য ও নগদ অর্থ দিয়ে সহায়তা দিয়েছেন। অথচ তিনি কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও নন; পুলিশের একজন নায়েক!

তিনি প্রমাণ করেছেন, ইচ্ছে থাকলে কাজের মধ্যে থেকেও মানুষের কল্যাণে এগিয়ে আসা যায়। প্রয়োজন শুধু মানসিকতা। মো. সফি আহমেদ নামের এই নায়েক সিলেট মহানগর পুলিশের মিডিয়া ও কমিউনিটি সার্ভিস বিভাগে কর্মরত আছেন। তার গ্রামের বাড়ি মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার চাতলগাঁও গ্রামে। বাবা মরহুম মুক্তিযোদ্ধা মো. ইদ্রিছ আলীও ছিলেন একজন পুলিশ সদস্য। পাঁচ ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সবার ছোট সফি ২০১৪ সালে পুলিশের কনস্টেবল পদে নিয়োগ পান। পরবর্তীকালে নায়েক পদে পদোন্নতি লাভ করেন।

পুলিশের একেবারেই মাঠপর্যায়ে কাজ করার পরও কিভাবে মানুষের সেবা করা হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই বাবার দেশপ্রেম দেখতাম। এই সংকটময় সময়ে প্রথমে নিজের দরিদ্র আত্মীয়-স্বজনদের সহযোগিতা করার চেষ্টা করি। পরে অন্য মানুষেরও দুঃখ সহ্য করতে পারিনি। ফলে বাবার পেনশনের টাকা ও মুক্তিযোদ্ধার ভাতা, আত্মীয়, বন্ধু ও সিনিয়রদের সহায়তায় দরিদ্র মানুষের মধ্যে সাধ্যমতো সেবা দেয়ার চেষ্টা করি’।

তিনি জানান, গত ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসে এসবিসি নামের একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে ৫০টা পরিবারের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী ও মাস্ক, জীবাণুনাশক স্প্রে বিতরণ করেন। এরপর থেকে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ও এসএমপি কমিশনারের অনুপ্রেরণায় প্রতিদিন সিলেটের বিভিন্ন পরিবারে খাদ্যসামগ্রী তুলে দিচ্ছেন। নিজের অফিসের দায়িত্ব পালন শেষ করে মোটরসাইকেলে খাদ্যসামগ্রী নিয়ে ছুটে চলেন গরিব অসহায়দের ঘরে। তবে তার এ উদ্যোগে শুধু গরিব অসহায়রা সাহায্য পাচ্ছেন তা নয়। অনেক মধ্যবিত্ত পরিবার তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে সাহায্য নিচ্ছেন।

মো. সফি আহমেদ বলেন, তিন হাজারের অধিক  পরিবারের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিকাশের মাধ্যমে আরও অন্তত ৫০০ পরিবারকে দেয়া হয়েছে সাধ্যমতো নগদ অর্থ। দিনে ১৫ থেকে সর্বোচ্চ ৩৫টি পরিবারের মধ্যে দেয়া হয়েছে খাদ্য সহায়তা। খাদ্যসামগ্রীর মধ্যে আছে চাল, ডাল, তেল, সেমাই, নারিকেল, লবণ, ময়দা, খেজুর, আলু, পিঁয়াজ, ছোলা, সাবান ও বাচ্চাদের জন্য চিপস। এ ছাড়া কারও চাহিদা অনুযায়ী কোনো কোনো প্যাকেটে বাচ্চাদের দুধ ও মসলাও দেয়া হয়।

এ ব্যাপারে এসএমপি কমিশনার গোলাম কিবরিয়া বলেন, পুলিশ সব সময়ই মানুষের কল্যাণে কাজ করে। সফি এর উদাহরণ। নিয়মিত ডিউটি করার পরও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়টি আমরা অত্যন্ত পজিটিভভাবে দেখছি।

About sylhet24express

Check Also

এমসি কলেজের ঘটনায় দোষীদের শাস্তি দাবি করেছে সিলেট জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড

নিউজ ডেস্ক: এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে বেঁধে স্ত্রীকে গণধর্ষণের তীব্র নিন্দা, ক্ষোভ ও ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *