September 30, 2020 3:35 pm
Home / Home / এবারের মার্কিন নির্বাচন সারা বিশ্বেই গুরুত্বপূর্ণ

এবারের মার্কিন নির্বাচন সারা বিশ্বেই গুরুত্বপূর্ণ

সিলেট টুয়েন্টিফোর এক্সপ্রেস ডেস্ক : মাত্র দুই মাস পরেই হোয়াইট হাউসে নতুন প্রেসিডেন্ট আসবেন। নভেম্বরের ৩ তারিখে আমেরিকায় যে নির্বাচন হতে যাচ্ছে তা কেবল আমেরিকা কেন, দুনিয়ার অনেকের কাছেই খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একরকম একটা যুগসন্ধির মতো। সামনের দুই মাস আশা-আশঙ্কায় শ্বাসরুদ্ধ থাকবেন আমেরিকানদের মতো বিশ্বের অনেক দেশের মানুষ, আমেরিকায় কী হতে যাচ্ছে তা দেখতে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জিতবেন? নাকি বাইডেন প্রেসিডেন্ট হবেন? চার বছরে ট্রাম্প গণতন্ত্রের গোড়া ধরে টেনে উপড়েই ফেলেছেন প্রায়। শেষটুকু কোনক্রমে মাটিতে লেগে আছে। সেটা কি শিকড় ছিঁড়ে উঠিয়ে আনার পক্ষেই মত দেবেন প্রাচীনতম গণতন্ত্রের নাগরিকরা? না কি, ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট প্রার্থী বাইডেন ও ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী কমলা হ্যারিসকে পছন্দ হোক না হোক, অন্তত ট্রাম্পকে সরানোর জন্য তাদের ভোট দেবেন বেশির ভাগ মানুষ?

আমেরিকা জুড়ে এখন জল্পনা এই নির্বাচনের প্রচার ঘিরে। পরিবারের মধ্যে ভাঙন ধরে যাচ্ছে, বন্ধুবিচ্ছেদ হয়ে যাচ্ছে। পরিচিতদের মধ্যে মুখ দেখাদেখি বন্ধ রাখতে হচ্ছে। নেতারাও কথায় উত্তেজিত করছেন, যাকে বলে ‘হাইপার’। ক্ষমতাসীন ট্রাম্প বলছেন, কেবল দ্বিতীয় বার কেন, আরও বারো বছর, অর্থাৎ চার টার্ম, তিনি প্রেসিডেন্ট থেকে যেতে পারেন। যদিও মার্কিন সংবিধান দুই টার্মের বেশি প্রেসিডেন্ট থাকতে দেয় না। নিজের বিরুদ্ধে ভোট যেতে পারে বলে নির্বাচনের আগে পোস্টাল ব্যালট বা ডাকযোগে ভোট দেওয়াই বন্ধ করার পক্ষে তিনি।

গত চার বছর নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করতে করতে, সাংবিধানিক ক্ষমতার বাইরে যেতে যেতে এতই আত্মবিশ্বাসী তিনি যে বলেই দিচ্ছেন সোজা— গণতন্ত্র? সংবিধান? নৈতিকতা? একের পর এক শহরে বর্ণবিদ্বেষী সংঘর্ষ, রাজনৈতিক সংঘাত, হতাহতের সংখ্যা যত বাড়ছে, ট্রাম্প ততই উৎফুল্ল। হিসেব পরিষ্কার। যত অশান্তি, আইনশৃঙ্খলার অবনতি, তাঁর ভোট-পাল্লা ততই ভারী!

অর্থাৎ তিনি দেখাতে চান আমেরিকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তলানিতে ঠেকেছে, সারা দেশ ‘সমাজবিরোধী’তে ভরে গিয়েছে। কালোরা, হিসপ্যানিকরা, অভিবাসীরা, এবং তাদের মাথায় তোলা লিবারালরা আমেরিকাকে এই পাতালেই টেনে নামাতে চায়। এদের হাত থেকে নিষ্কৃতির এক ও একমাত্র পথ— ট্রাম্পকেই আবার বিজয়ী করা। তাই অশান্তি বাধানোয় তার আপত্তি নেই।

প্রশ্ন হল, তিনি তো কেবল তিনিই নন, তার পিছনে দেশের এক বিরাট জনতা। তাঁরা কী ভাবছেন? তারাও কিন্তু ট্রাম্পের মতোই ভাবছেন, গণতন্ত্র, নৈতিকতা, ও সব আর না ভাবলেও চলবে। দেশের সাংবিধানিক কাঠামোর প্রতি, প্রতিনিধিত্বমূলক সরকারের ধারণাটার প্রতি একটা তীব্র বিদ্বেষ তৈরি হয়েছে তাঁদের। এখানেই আসল ভয়ের কথা। এটাই আমেরিকার এ বারকার ভোটের মূল থিম। গণতন্ত্রের পক্ষে? না বিপক্ষে? মানবসভ্যতার একবিংশ শতকীয় গন্তব্য কি তৈরি করে দিতে চলেছে নভেম্বরের ভোট?

প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের পথ ছেড়ে অন্যরকম গণতন্ত্রের দিকে যাত্রা, যেমন করছে রাশিয়া কিংবা চীন— নিউ লিবারাল রাজনীতির অভিলাষ এটাই। তাই, বুঝতে অসুবিধে নেই কেন ২০১৬-র প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের হয়ে মাঠে নেমে পড়েছিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ২০২০ সালেও তিনি তৎপর, শোনা যাচ্ছে। অবশ্য ট্রাম্প নিজের প্রেসিডেনশিয়াল ক্ষমতা দিয়ে নিজেই অনেকটা করে নিতে পারছেন এ বার— ‘ইলেকশন ইন্টারফিয়ারেন্স ২.০’ যার নাম হয়েছে আপাতত।

এই জন্যই মনে হচ্ছে, এ বারের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন যেন যুগসন্ধির মতো গুরুতর। যারা অধিকার আন্দোলনের লড়াকু মুখ, তাঁদের প্রতি মধ্যবাদী লিবারালদের তাই এ বার বিশেষ অনুরোধ— আগে গণতন্ত্রকে রক্ষা করা হোক, ‘সিস্টেম’-কে বাঁচানো হোক, শুভবোধের সলতেটাকে আগে ঝড়ের ঝাপ্টা থেকে আড়াল করা হোক, বাকি কাজ পরে। সূত্র: আনন্দবাজার

About sylhet24express

Check Also

দক্ষিণ সুরমায় জুয়া সম্রাট ভাঙ্গারী কাসেম গ্রেপ্তার

হেলাল মুর্শেদ :: নগরীর দক্ষিণ সুরমা থানাধীন টেকনিক্যাল রোডে সাধুরবাজার (বাঁশতলা) থেকে জুয়া সম্রাটখ্যাত কাসেম …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *