September 28, 2020 4:39 am
Breaking News
Home / ফিচার / একাত্তরের স্মৃতি…. জগন্নাথপুরের শ্রীরামসিতে পাকসেনাদের নারকীয় হত্যাযজ্ঞ

একাত্তরের স্মৃতি…. জগন্নাথপুরের শ্রীরামসিতে পাকসেনাদের নারকীয় হত্যাযজ্ঞ

মোঃ আমিরুল ইসলাম চৌধুরী এহিয়া::

সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার শ্রীরামসি গ্রামে ১৯৭১ সালের ৩১ আগস্ট দেশীয় রাজাকার ও পাকসেনাদের নারকীয় হত্যাযজ্ঞের কথা দেশবাসী আজও ভুলেনি। ১৯৮৬ সালে ৩১ আগস্ট সর্বপ্রথম শ্রীরামসিতে আঞ্চলিক শহীদ দিবস পালন করা হয়। আমি পাকসেনাদের হাতে নিহত প্রধান শিক্ষক শ্রীরামসি উচ্চ বিদ্যালয় সাদ উদ্দিন মাস্টার সাহেবের পুত্র এমসি কলেজে অধ্যয়নরত মিসবাহ উদ্দিন ও শওকত আলী, সৈয়দ ছইদ আলী, আকছার আহমদ দিবসটি পালন উপলক্ষে শ্রীরামসিতে পৌছি।

এ ব্যাপারে গ্রামের বিভিন্ন জনকে অনুষ্ঠানে আসার জন্য বললে অনেকেই বলেন, তালিব হোসেন পাকিস্তানি পতাকা পুড়িয়ে বাংলাদেশের পতাকা শ্রীরামসি উচ্চ বিদ্যালয়ে উড়ানোর কারণেই পাকসেনা ও দেশীয় দোসররা নারকীয় হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে। আমাকে উদ্দেশ্য করে অনেকেই বলেন, স্বাধীনতার ১৫ বছর পরে অযথা ঘাটাঘাটি করছো কেন? এমন কি স্মরণ সভার সভাপতির জন্যও একজন লোকও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। ঐ সময় আলাপচারিতায় গ্রামের আব্দাল মিয়ার সঙ্গে আমার পরিচয় হয়। তখন তিনি বলেন, জগন্নাথপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার শহীদ শফিকুল হক চৌধুরী বাচ্চু ভাইর (চার নম্বর সেক্টরের সুইসাইড স্কয়াড সদস্য দাস পার্টির সেকেন্ড-ইন-কমান্ড) চাচাতো ভাই হিসাবে আপনাকে বলতে পারি অবশ্যই আপনি স্মরণ সভা করবেন। আমি এতে সভাপতিত্ব করবো। আমার (লেখক) নেতৃত্বে ১৯৮৬ সালে সর্বপ্রথম মশাজান কাদিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহীদের স্মরণে সর্বপ্রথম অনুষ্ঠান করা হয়। পরবর্তীতে শহীদ স্মৃতি সংসদের মাধ্যমে প্রতি বছর বিভিন্ন কর্মসূচীর মাধ্যমে দিবসটি পালন করা হয়। স্বাধীনতার ৪৯ বছর পরেও শ্রীরামসি গণহত্যার স্মৃতি স্মারক সরকারিভাবে এখনো সংরক্ষণ করা হয়নি। বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য উত্তরসুরী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের শাসনামলে মুক্তিযুদ্ধের সময় গণহত্যার স্থানগুলো সংরক্ষণের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে সে প্রকল্পে শ্রীরামসি গণহত্যা ও রাণীগঞ্জ বাজারে গণহত্যার বিষয়টি স্থান পাবে। এবার ৪৯তম শ্রীরামসি গণহত্যা দিবসে যারা ঐ হত্যাকান্ডে জড়িত ছিল সেইসব দোসরদের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা হোক।

বাঙালির জীবনে ভয়াল একাত্তর। ভোরের আঁধার উষার আকাশে আলো ফুটে ওঠার আগেই বাঙালির রাজনৈতিক আকাঙ্খাকে উপড়ে ফেলার নিরস মানসে ঝাঁপিয়ে পড়ে পাক বাহিনী নিরীহ মানুষের উপর। আলোর উদ্ভাসনে আড়মোড়া ভেঙে জেগে ওঠে রাতের পৃথিবী, জেগে ওঠে মানুষও মুক্তির অগ্নিমন্ত্রে বলীয়ান হয়ে। কৃষকের কাঁধে লাঙ্গলের বদলে ওঠে আসে বল্লম, শ্রমিকের হাতে শাবল, ছাত্ররা হয় মিছিল মুখরিত। দালালরা আসে পাকিস্তানের পক্ষে মিছিল মিটিং আর শান্তি কমিটি করতে। খাদিমপুরের রাজাকার জনু এ দলটির নেতৃত্ব দেয়। মানুষের রুদ্র রোষে তীব্র প্রতিরোধের মুখে রাজাকাররা প্রাণ নিয়ে পালিয়ে রক্ষা পায়।

১৪ আগস্ট ১৯৭১ মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক মোঃ তালিব হোসেন, এখলাছুর রহমান প্রমুখ ব্যক্তিদের নেতৃত্বে পাকিস্তানের চাঁদ তারা মার্কা পতাকা নামিয়ে, কাদায় পায়ে দলিত করে, গগণ বিদারী জয় বাংলা ধ্বনি উচ্চারণের মধ্য দিয়ে স্কুল আঙ্গিনায় বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত পতাকা উত্তোলন করা হয়।

শ্রীরামসির তরুণ যুবকরা সীমান্তের অপারে গিয়ে ট্রেনিং নিয়ে এসে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেয়। মুক্তিযোদ্ধা মরহুম এডভোকেট আবুল বাশার, জমির উদ্দিন, ইলিয়াছ আলী ছিলেন সম্মুখ সমরের সক্রিয় যোদ্ধা। আহবাবুর রহমান চন্দনসহ আরো অনেকে ট্রেনিংয়ের জন্য সীমান্তের অপারে যান। আবার কেউ কেউ ছিলেন সীমান্তে ডিঙাবার মোক্ষম সময়ের অধীর অপেক্ষায়। সমস্ত বাংলাদেশ জুড়ে গেরিলা যুদ্ধ চলছে। বাংলার দামাল ছেলেরা বীর বিক্রমে এগিয়ে আসছে। এইসব তৃপ্ত সংবাদ শ্রীরামসিবাসী উদ্দীপ্ত। ত্রিশ আগস্টের মধ্যরাত পেরিয়ে যায়। শ্রীরামসির গণমানুষের জন্য অপেক্ষায় রয় এক ভয়াল বিভীষিকাময় ভোর। রাজাকার আর পাকিস্তানি পতাকা অবমাননার প্রতিশোধ স্পৃহায় ফুঁসছে পাক আর্মী আর এদেশীয় দালালরা।

ভাসান বর্ষার থৈ থৈ জল মাড়িয়ে ৩১ আগস্ট সকাল ১০টায় কাপ্টেন বাশারাতের নেতৃত্বে শ্রীরামসিতে আসে পাক আর্মী। তারা প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে পাড়ায় পাড়ায় ঘোষণা প্রচার করে, যুদ্ধকালীন সময়ে শান্তির জন্য তারা শান্তি কমিটি করতে চায়। সুতরাং সকলকে নির্দিষ্ট সময়ের ভেতরে শ্রীরামসি উচ্চ বিদ্যালয়ে উপস্থিত হতে হবে। অন্যথায় মেশিনগানের গুলিতে শ্রীরামসির মানুষের বুক ঝাঁঝরা করে দেয়া হবে।

শ্রীরামসি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাদ উদ্দিন আহমদকে স্কুলে আনার জন্য দপ্তরী ইরফান আলীকে পাক আর্মীরা তার বাড়িতে পাঠায়। তিনি গোসল করে আসবেন বলে তাকে বিদায় করেন। পরবর্তীতে দু’জন অস্ত্রধারী রাজাকারকে পাঠিয়ে তাকে আনা হয়। পায়জামা-পাঞ্জাবী পড়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় তার স্ত্রী তাকে নাস্তা করে যাওয়ার জন্য বললে তিনি বলেন, এসে নাস্তা করবো। তিনি পাক আর্মীদের হাতে নির্মমভাবে নিহত হন। তার আর বাড়ি ফেরা হয়নি। দ্রোহের আগুনে পোড় খাওয়া মানুষ স্ট্যাটেজিক পশ্চাদপদসরণের সিদ্ধান্ত নেয়, শান্তি কমিটি গঠনের জন্য। সাধারণ মানুষকে গণহত্যার হাত থেকে রক্ষার জন্য। তারা শ্রীরামসি বাজারে গিয়ে হাজির হন। নেতৃস্থানীয়দের সাথে বেশির ভাগই ছিলেন সাধারণ শান্তিপ্রিয় মানুষ। কিন্তু সহসাই সকলকে অবাক করে দিয়ে অস্ত্রের মুখে একে একে সবাইকে পিছমোড়া করে বাঁধতে শুরু করে। পিনপতন নিরবতার মধ্যে মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত হবার নির্দেশ দিয়ে সকলকে কলিমা পাঠ করানো হয়। হত বিহবল অসহায় মানুষের মধ্য থেকে মৌলভী জিল্লুল হক মসজিদের বাতি জ্বালাবার দোহাই দিয়ে মুরব্বীদের ছেড়ে দেবার জন্য করজোড়ে মিনতি জানান।

ধর্মের প্রজ্ঞাধারী হন্তারকরা এ বাণীর গুরুত্ব অনুধাবন করে সত্যিই ২০/২৫ জনকে ছেড়ে দিয়ে পাঁচ মিনিটের মধ্যে গ্রাম ত্যাগের নির্দেশ জারি করে। কিন্তু হবিবপুরের রাজাকার সদ্য প্রয়াত আহমদ আলী (পরবর্তীতে নাম পরিবর্তন করে এ কে এম ওমর নাম ধারণ করেন) ১৯৭১ এ মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে শ্রীরামসি এবং সৈয়দপুর গ্রামের সিরাজ খার সাথে আরও বেশ কয়েকজন রাজাকার পাকিস্তানি বাহিনীর সাথে মিলে প্রায় শতাধিক গ্রামবাসীকে হাত বেধে ফায়ার করে হত্যা করে।

দেশীয় রাজাকাররা সকলকে হত্যা করার জোর দাবি জানাতে থাকে। অতঃপর হত্যার জন্য তৈরি প্রথম দলটিকে নৌকায় করে রসুলপুরের দিকে রওয়ানা দেয়। নিশ্চিত মৃত্যুপথযাত্রী মুক্তি পাগল বাঙালির ক্ষুদ্র এ প্রতিনিধি দলটি বিদ্রোহী হয়ে ওঠে। তারা নৌকা ডুবিয়ে দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা চালায়। কিন্তু তাদের জীবন যে বাঁধা পড়ে গেছে মৃত্যু পাষাণ দুয়ারে। ক্ষীণ-কন্ঠে বাংলার জয় কামনার আর্তধ্বনি প্রতিধ্বনি হয়ে লোকালয় কাঁপিয়ে তুলে মধ্য আকাশের সূর্য থমকে দাঁড়ায়, উত্তাপ ছড়ায় অবাক বিস্ময়ে এ জনপদে। হয়ত বিধাতাও তাঁর সৃষ্টির নির্মমতায় বিষন্ন দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলেন। শ্রীরামসির বক্ষ বিদীর্ণ হলো প্রচন্ড শব্দের তান্ডবে। অতঃপর খানিক নিস্তব্ধতা। এবার দ্বিতীয় দলটিকে সতর্ক প্রহরার মধ্য দিয়ে নিয়ে যাওয়া হলো কয়েকটি নৌকা যোগে একই পাড়ার ভিন্ন এক স্থানে। রহিম উল্লা সাহেবের খোলা পুকুরের পাড়ে এ-এর কিছু কম মানুষকে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করানো হয়। একের সাথে অন্য কঠিন বাঁধনে আবদ্ধ। তারপর নিঃস্তব্ধ নিরবতাকে খান খান করে দীর্ঘক্ষণ যাবত চলতে থাকে মেশিনগানের আতংকিত উচ্চারণ। সারির সর্বপ্রথম ব্যক্তি শ্রীরামসি উচ্চ বিদ্যালয়ের মৌলানা শিক্ষক আব্দুল হাইয়ের সুতীব্র ‘ আল্লাহু আকবর’ ধ্বনি যেন সকল অসহায় আত্মার করুণ বিদায়ের বারতা ঘোষণা করে।

পানি আর বাঁচার আর্তচিৎকারে বিশাল জনবসতির প্রতিটি পরতে পরতে হাহাকার ধ্বনি ওঠে। রক্তের লাল রং সূর্যের রক্তিম আভাকে ম্লান করে দেয় মূমুর্ষু মানুষের স্বকাতর গোঙানি উপেক্ষা করে আরো কঠোর নির্মমতায় বুকের পাজরে বিদ্ধ করে পিশাচর, বিষাক্ত বেয়নেট। তিন দিনের জন্য কারফিউ জারি করে ফিরে আসার প্রত্যুষে রাজাকার আর পাকহানাদার শ্রীরামসি ত্যাগ করে। যাবার আগে পেট্রোল ঢেলে শ্রীরামসি বাজার জ্বালিয়ে দিয়ে যায়। পরের দিন ১ সেপ্টেম্বর রাজাকাররা শ্রীরামসি গ্রামে তালেব হোসেন, গবীর হোসেন ও সাদ উদ্দিনের বাড়িসহ শ্রীরামসি গ্রামের প্রায় ৪৫-৫০টি বাড়িঘর জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছারখার করে দেয়। মৌন নিথর নিস্তব্ধতার অন্ধকার মায়াপুরিতে পরিণত হয় শ্রীরামসি। ঘন তিমির রাতের ভয়ার্ত গোঙানি আর অসহায় মুমূর্ষু মানুষের আর্ত গোঙানিতে বিশ্ব প্রকৃতি নিবিড় নিরবতায় দ্রুত ভোরের প্রতীক্ষায় অধীর হয়। ভয় মানুষকে প্রিয়জনের বিদায় সন্ধ্যায় সামিল হতে দেয়নি।

পরদিন আবার পাক আর্মী আসে এবং জনমানবহীন গ্রামের অনেক বাড়িতে আগুন জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দেয়। অনেক জবানিতে, দ্বিতীয় ইন্ডিয়ান পতন ঘটেছে ভেবে তারা চলে যায়। গ্রামবাসীর নাগালের ভেতরে তাদের প্রিয় মুখখানী পচে গলে কুকুর শিয়ালের খাবারে পরিণত হয়। তাই সকল শহীদের নাম স্মৃতি মূর্ত মিনারে লিপিবদ্ধ করে রাখা হয়ে উঠেনি। শুধুই শ্রীরামসির মানুষ ছিল না। বাজারের নিকটবর্তী গ্রাম সমূহের অনেক মানুষজন এবং আত্মীয় স্বজনও ছিলেন। মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় ঐক্যবদ্ধ আক্রমণে পাকিস্তান বাহিনী কুকুরের লেজ গুটিয়ে পলায়ন করে। বাঙালির বিজয় পতাকা বিশ্বের দরবারে স্বকীয় মহিমায় ভাস্বর হয়। তখনো শ্রীরামসির বাতাসে লাশের উৎকট গন্ধ। ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা নরকঙ্কাল সমূহ কুড়িয়ে দিঘীর পাড় পাড়ার কবরস্থানে গণকবর দেয়া হয়। মুক্তিযুদ্ধের পরে শ্রীরামসির মানুষেরা শুধু কয়েকটি আবেগ আশ্রয়ী সিদ্ধান্ত নেয় মাত্র। তারা শহীদের স্মৃতিকে গণমানুষের হৃদয়ে চির অনিবার্য রাখার দৃপ্ত শপথে শ্রীরামসির নামকরণ করেন ‘শহীদ নগর’। তারাও দীর্ঘপরের কালের পাহারারূপে শ্রীরামসিতে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘শহীদ মিনার’, ‘স্মৃতিসৌধ’। যার বুক চিরে উৎকীর্ণ আছে পরিচয় জানা শহীদদের কয়েকটি নামঃ-

(১) শ্রীরামসি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ ছাদ উদ্দিন (মাষ্টার), (২) শিক্ষক মোঃ আব্দুল হাই, (৩) নজির মিয়া, (৪) আব্দুল মজিদ, (৫) আলা মিয়া, (৬) সুসুন মিয়া, (৭) সমছু মিয়া (গেদু), (৮) ওয়ারিছ আলী, (৯) ছোয়াব উল্লা, (১০) আব্দুল লতিফ, (১১) রইছ উল্লা, (১২) আব্দুল জলিল, (১৩) মানিক মিয়া, (১৪) তবির মিয়া, (১৫) মরম আলী, (১৬) মন্তাজ আলী, (১৭) এখলাছুর রহমান, (১৮) রফু মিয়া, (১৯) ছামির আলী, (২০) রুছমত আলী, (২১) আছাবক মিয়া, (২২) তৈয়ব আলী, (২৩) রোয়াব আলী, (২৪) তফজ্জল আলী, (২৫) মছদ্দর আলী, (২৬) মুক্তার মিয়া, (২৭) ফিরোজ মিয়া, (২৮) আব্দুল হান্নান, (২৯) জহুর আলী, (৩০) শুধাংশু (টেইলার), (৩১) শিক্ষক মডেল প্রাইমারী স্কুল, (৩২) দোকান সহকারী, (৩৩) সৈয়দ জহির উদ্দিন শ্রীরামসি পোস্ট অফিস, (৩৪) সত্যেন্দ্র চক্রবর্তী, (৩৫) মোঃ ইয়াহিয়া (সহঃ তহশীলদার)। আর সব নাম আর নামের মানুষগুলোর চিরবাসনার সমাধি রচিত হয়ে গেছে সেই কবে মহাকালের গর্ভে। এই ক্ষমাহীন ব্যর্থতা শ্রীরামসি মানুষকে আজও তাড়া করে। বুলেটের নির্মমতার স্বাক্ষী হয়ে আজো যারা আমাদের মাঝে বেঁচে আছেন তারা হচ্ছেন- হাজী আলকাছ মিয়া, জোয়াহীর চৌধুরী, আমজাদ আলী, হুসিয়ার আলী, দবির মিয়া ও ছফিল উদ্দিন। বাংলার স্বাধীনতার যুদ্ধে যারা শহীদ হয়েছেন সেইসব শহীদের সঙ্গে শ্রীরামসি শহীদদের রক্ত বাংলার লাল সূর্যে পতাকায় মিশে আছে।

বর্তমান মহাজোট সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশে একে একে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকার্য সম্পন্ন হচ্ছে। ১৫ আগস্টের ঘাতকদের বিচার হওয়ায় জাতি আজ বিশ্বের দরবারে কলঙ্ক মুক্ত হয়েছে। আমার প্রস্তাবনা দেশের উপজেলা পর্যায়েও যারা স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে পাকসেনাদের দালালী করেছিল তাদেরও যেন বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়। ফলে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে জাতি আরো এক ধাপ এগিয়ে যাবে। শ্রীরামসী ও রাণীগঞ্জ বাজার গণহত্যায় যারা শহীদ হয়েছেন তাদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদান ও গণহত্যার স্থানকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সংরক্ষণের দাবী বিজ্ঞমহলের।

লেখক : সভাপতি, আমরা শিক্ষকের সন্তান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিলেট জেলা ছাত্রলীগ, সাংবাদিক ও কলামিস্ট।

About sylhet24express

Check Also

“আগস্টের কালরাত্রি “

সুরাইয়া পারভীন লিলি    ২৬/০৯/২০২০ বাংলার আকাশে উঠেছে সূর্য জয় ধ্বনি দাও সবে, বঙ্গবন্ধু ছাড়া …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *