September 30, 2020 4:12 pm
Home / বিনোদন / একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশেহারা সাদেক বাচ্চুর পরিবার
বাচ্চুর পরিবার

একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশেহারা সাদেক বাচ্চুর পরিবার

বিনোদন প্রতিবেদক : ঢাকাই সিনেমার অন্যতম শক্তিমান অভিনেতা সাদেক বাচ্চু সোমবার সকালে মারা যান। অভিনয়ের পাশাপাশি ডাক বিভাগে চাকরি করতেন জনপ্রিয় এ অভিনেতা। কিন্তু অবসরের পর ব্রেন স্ট্রোকের চিকিৎসা করতে গিয়ে পেনশনের সব টাকা খুইয়ে ফেলেন তিনি। এরপর সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমেই চলছিল তার পরিবার। কিন্তু পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হঠাৎ চলে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন গুণী এ অভিনেতার পরিবার। আর সেই কষ্টের কথা জানালেন সদ্য প্রয়াত অভিনেতার স্ত্রী শাহনাজ।

সাদেক বাচ্চুর সংসারে স্ত্রী ছাড়াও দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। বড় মেয়ের নাম মেহজাবীন। তিনি এইচএসসি প্রথম বর্ষে পড়ছেন। ছোট মেয়ে নওশিন দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সবচেয়ে ছোট ছেলে সোয়ালেহিন। সে সবে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ছে।

অভিনেতার তিন সন্তানের কেউই উপার্জনক্ষম নয়। কাজেই তাদের নিয়ে স্ত্রী শাহনাজ পড়েছেন মাঝদরিয়ায়। সাদেক বাচ্চুর স্ত্রী শাহনাজ বলেন, ‘আমার ছোট ছোট বাচ্চাদের উনি সামলে রেখেছিলেন। তার হুট করে চলে যাওয়ায় আমরা দিশেহারা। এখন কি করব কিছুই ভাবতে পারছি না। অন্য কোনো আয়ের তো উপায় নেই।’

কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন শাহনাজ। তিনি জানান, ‘ডাক বিভাগের চাকরি থেকে অবসর নেয়ার পর কিছু টাকা সঞ্চিত ছিল। ২০১৩ সালে সাদেক বাচ্চুর ব্রেনস্ট্রোক হয়। তাকে ৯ দিন লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। ওই সময় ৩০ লাখ টাকা খরচ হয়। ফলে পেনশনের সব টাকাই শেষ হয়ে যায়। এরপর থেকে ওনার অভিনয়ের টাকায় আমাদের সংসার চলছিল।’

স্বামী সাদেক বাচ্চু খুবই আত্মসম্মানবোধ সম্পন্ন মানুষ ছিলেন জানিয়ে শাহনাজ বলেন, তিনি পারলে কাউকে সহযোগিতা করতেন। কখনো অর্থনৈতিক সহায়তা আমাদের প্রয়োজন হয়নি। সর্বশেষ ওনার চিকিৎসা করাতে গিয়ে ঋণ করেছি। সে সময় আমার ভাই পাশে দাঁড়িয়েছে। সহযোগিতাও করেছে।’

তিনি বলেন, ‘শ্বশুর-শাশুড়ি বেঁচে নেই। আমার বাবাও মারা গেছেন। আমার মায়েরও বয়স হয়েছে। একমাত্র থাকার জায়গা ছাড়া আমাদের কোনো জায়গা নেই। চলচ্চিত্র পরিবারের কাছে সহায়তার আশা করব সেই উপায় নেই। এখন তো বাংলাদেশের চলচ্চিত্র কমে গেছে। তাই সংগঠনগুলোর কাছ থেকে এই সময়ে সহায়তা আশা করতে পারি না।’

অভিনেতা ও শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খানের প্রশংসা করে শাহনাজ বলেন, ‘দুঃসময়ে জায়েদ ছেলেটি আমাদের পাশে থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছে। করোনার সময় কাউকে পাশে পাইনি। কিন্তু সে পাশে থেকে সাদেক বাচ্চুর জানাজা, দাফনসহ সব কাজে সহায়তা করেছে।’

গত ৬ সেপ্টেম্বর জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন সাদেক বাচ্চু। সেখানে তার করোনা টেস্ট করানো হলে ফলাফল পজিটিভ আসে। এরপর ১১ সেপ্টেম্বর তাকে মহাখালীর ইউনিভার্সাল হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানে কোভিড বিভাগের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সকালে তিনি মারা যান।

About sylhet24express

Check Also

দক্ষিণ সুরমায় জুয়া সম্রাট ভাঙ্গারী কাসেম গ্রেপ্তার

হেলাল মুর্শেদ :: নগরীর দক্ষিণ সুরমা থানাধীন টেকনিক্যাল রোডে সাধুরবাজার (বাঁশতলা) থেকে জুয়া সম্রাটখ্যাত কাসেম …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *