July 12, 2020 5:11 am
Breaking News
Home / Home / উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে বন্যার চিত্র ভয়াবহ রূপ ধারণ
বন্যা

উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে বন্যার চিত্র ভয়াবহ রূপ ধারণ

সিলেট টুয়েন্টিফোর এক্সপ্রেস ডেস্ক : বন্যায় দেশের ১০টি জেলা এ পর্যন্ত প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ভারতের পূর্বাঞ্চল থেকে নেমে আসা বানের পানি, অতি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে এ বন্যা দেখা দিয়েছে।

কুড়িগ্রামে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনিত হয়েছে। ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলমারী পয়েন্টে বিপদসীমার ৭২ সেন্টিমিটার, নুনখাওয়া পয়েন্টে ৬০ সেন্টিমিটার ও ধরলার পানি সেতু পয়েন্টে বিপদসীমার ৭১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে

বন্যা
এ বন্যা ৭ জুলাই পর্যন্ত চলতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি)।

এর মধ্যে উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে বন্যার চিত্র ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড দেশের ১০১ স্থানে পানি সমতল পর্যবেক্ষণ করে থাকে। এরমধ্যে ১৪ স্থানে পানি বইছে বিপৎসীমার উপরে। ৮৬ স্থানেই বেড়েছে পানির সমতল।

 

রোববার পর্যন্ত নতুন করে আরও দু’টি নদীতে বন্যা বিস্তৃত হয়েছে। ফলে মোট নয়টি নদী বিপৎসীমার উপরে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে এখন পর্যন্ত ১০ জেলা আক্রান্ত হয়েছে বন্যায়। এসব জেলার শুধু নিম্নাঞ্চলই নয় অনেক উঁচু স্থানও চলে গেছে পানির নিচে।

কোথাও বানের পানি ঢুকে গেছে শহরে। সেখানে রাস্তায় নৌকা চলছে।

বন্যায় আক্রান্ত জেলাগুলো হচ্ছে, নীলফামারি, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, টাঙ্গাইল, নেত্রকোনা, সিলেট ও সুনামগঞ্জ। আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে রাজবাড়ির গোয়ালন্দে পদ্মা বিপৎসীমা পার হতে পারে। মুন্সিগঞ্জের ভাগ্যকুলেও পদ্মা বিপদৎসীমা পার করতে পারে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে। এতে রাজবাড়ি মুন্সিগঞ্জও যুক্ত হবে বন্যাকবলিত জেলার তালিকায়। অপরদিকে বিপৎসীমার উপরে নতুন করে প্রবাহিত নদী দু’টি হচ্ছে, গাইবান্ধায় ঘাগট এবং নেত্রকোনার কলমাকান্দায় সোমেশ্বরী।

বন্যা

এছাড়া ব্রহ্মপূত্র, যমুনা, তিস্তা, ধরলা, সুরমা, কুশিয়ারা, যদুকাটাও বইয়ে বিপৎসীমার উপরে। ভূগাই ও কংস ২৪ থেকে ৪৮ ঘন্টায় বিপৎসীমা পার করতে পারে। ঢাকার আশপাশের নদ-নদীর পানি সমতল বাড়তে পারে। তবে বিপদসীমা পার করার আশঙ্কা নাই। সবমিলে বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতি ঘটবে।

বুয়েটের পানি ও বন্যাব্যবস্থাপনা ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক ড. একেএম সাইফুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, ভারতের মেঘালয়, আসাম, দার্জিলিংসহ পূর্বাঞ্চলের রাজ্য এবং বাংলাদেশে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হচ্ছে। বৃষ্টির পানি প্রবাহিত হয় বাংলাদেশের বিভিন্ন নদ-নদীতে। বৃষ্টির পানিই স্বল্প থেকে মধ্যমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। সরকারি সংস্থা ৭ জুলাই পর্যন্ত বন্যা চলতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে। তবে বৃষ্টিপাতের যে প্রবণতা তাতে এটা আরও কয়েকদিন স্থায়ী হতে পারে। এতে মানুষের ফসল ও জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। বন্যা মধ্যাঞ্চলের ঢাকা, নরসিংদী, ফরিদপুর, মুন্সিগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুরের নিম্নাঞ্চল বন্যাকবলিত হতে পারে। সবমিলে এবারের বন্যায় আক্রান্ত হতে পারে ২০ জেলা।

বন্যা

এফএফডব্লিউসির বুলেটিনে বলা হয়, ব্রহ্মপূত্র-যমুনা ও মেঘনা অববাহিকায় অবস্থিত উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোতে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। বর্তমানে বিপৎসীমার সবচেয়ে উপরে বইছে যদুকাটা লাউরেরগড় পয়েন্টে। অপরদিকে গত ২৪ ঘন্টায় দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে লাউরের গড়ে ৩৬০ মিলিমিটার। এছাড়া মহেশখোলা, সুনামগঞ্জ, লালাখাল, ছাতক ও জারিয়াজঞ্জাইলেও ব্যাপক বৃষ্টি হয়েছে।

About sylhet24express

Check Also

তথ্যমন্ত্রী

সমালোচনার বাক্সবাহী বিএনপিসহ অনেকেই জনগণের পাশে নেই : তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, করোনা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *