Home / স্বাস্থ্য

স্বাস্থ্য

ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভধারণ প্রতিরোধের উপায় কী?

ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভধারণ প্রতিরোধের উপায় কী?

সিলেট টুয়েন্টিফোর এক্সপ্রেস ডেস্ক : গর্ভাবস্থা মানেই একটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা। তবে আরো কিছু বিষয় রয়েছে যেগুলো গর্ভাবস্থাকে অনেক ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে। গর্ভাবস্থার ঝুঁকিগুলো কী এবং এগুলো কীভাবে প্রতিরোধ করা যায়, এ বিষয়ে কথা বলেছেন ডা. সংযুক্তা সাহা। বর্তমানে তিনি উত্তরা মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অবস ও গাইনি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে কর্মরত। এনটিভির নিয়মিত আয়োজন স্বাস্থ্য প্রতিদিন অনুষ্ঠানের ৩৪৯১তম পর্বে সাক্ষাৎকারটি প্রচারিত হয়।

প্রশ্ন : গর্ভাবস্থা কোন অবস্থায় গেলে একে ঝুঁকিপূর্ণ বলে?

উত্তর : গর্ভাবস্থায় বিভিন্ন জটিলতার কারণে মা ও শিশু মৃত্যু হওয়ার আশঙ্কা থাকলে, সেটি হলো ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভধারণ।

প্রশ্ন : সেগুলো কী?

উত্তর : যেগুলো হলো, প্রি একলামসিয়া, জমজ সন্তান থাকা, রক্তক্ষরণ হওয়া, গর্ভাবস্থায় শিশুর পজিশন ভিন্ন থাকার ক্ষেত্রে গর্ভধারণ কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায়।

ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভধারণ মানে এ নয় যে সবসময় মা ও শিশুর জটিলতা হবে। এ বিষয়টি নিয়ে জানলে আমরা সমস্যাগুলো প্রতিরোধ করতে পারি।

প্রশ্ন : মা গর্ভধারণ করলে সেটি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, এমন কিছু আগে থেকে বোঝার কোনো উপায় রয়েছে কি?

উত্তর : হ্যাঁ, অবশ্যই। আমরা জানি, প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম। প্রতিরোধটাই কিন্তু সবচেয়ে বড় হাতিয়ার আমার জন্য। আমরা সবসময় বলি যে যেকোনো গর্ভবতী নারীকে গর্ভকালীন চেকআপে যাওয়া উচিত। ডাক্তারি চেকআপের মাধ্যমেই কিন্তু বলা সম্ভব এটি ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থা কি না।

প্রশ্ন : কোন কোন রোগ গর্ভধারণকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলতে পারে?

উত্তর : আমরা বলি, কো-মরবিডিটি। মায়ের হয়তো আগে থেকে ডায়াবেটিস রয়েছে বা কিডনির সমস্যা রয়েছে- এগুলো থাকলে অবশ্যই উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভধারণ হবে। এ জন্য আগে থেকেই জানা দরকার, এসএলই , উচ্চ রক্তচাপ ইত্যাদি রয়েছে কি না।

গর্ভকালে খুব কম মায়েরা অ্যান্টিনেটাল চেকআপে থাকে। অনেক মুরুব্বিরা হয়তো বলে, আমাদের বাচ্চা হয়েছে আমরা তো ডাক্তারের কাছে যাইনি। চেকআপের মাধ্যমে নবজাতক ও গর্ভবতীর স্বাস্থ্য যে নিশ্চিত করা যায় এটা অনেকে বোঝেন না।

প্রশ্ন : চেকআপে গেলে সাধারণভাবে আপনারা কী কী দেখে থাকেন?

উত্তর : এর আগে আরেকটি কথা বলতে চাই। যারা ভাবেন গর্ভকালটা একদমই ফিজিওলজিক্যাল, তাদের জানা দরকার বাংলাদেশে মায়ের মৃত্যুর হার এখনো বেশি। এর মধ্যে ২০ ভাগ কিন্তু প্রি-একলামসিয়ায়। এটি প্রতিরোধ করা যায়। এরপর ৩১ শতাংশ কিন্তু গর্ভকালীন রক্তক্ষরণ। সাত ভাগ ক্ষেত্রে হলো সংক্রমণ, ৪০ ভাগ ক্ষেত্রে অন্যান্য। এগুলো তো সবই প্রতিরোধযোগ্য। তাহলে আপনাকে জানতে হবে গর্ভকালীন অবস্থায় আপনাকে চেকআপে যেতে হবে। বের করতে হবে, আপনার গর্ভকালীন অবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ কি না।

প্রশ্ন : চেকআপে কতদিন পর পর যেতে হবে?

উত্তর : আমরা বলি, ২৮ সপ্তাহ পর্যন্ত আপনি প্রতি মাসে মাসে যাবেন। এতবার চেকআপ না করাতে পারলে, ডাব্লিউ এইচও কিন্তু একটি আদর্শ সেট তৈরি করেছে। এই নয় মাসে আপনি চার বার যান অন্তত। তাহলেও জানা যাবে, তারটা ঝুঁকিপূর্ণ বা ঝুঁকিহীন কি না।

এরপর দ্বিতীয় কথা হলো, কোনো পরিকল্পনা নেই যে কোথায় ডেলিভারি করবে। হাসপাতালে না কি বাড়িতে। বাড়িতে যদি করতে চায়, তাহলে দেখতে হবে কোনো প্রশিক্ষিত দাই রয়েছে কি না। প্রশিক্ষিত দাই পেয়ে থাকলে, দেখতে হবে, দাই জানেন কি না যেকোনো সময়টা রোগীকে রেফার করতে হবে। রেফার করতে হলে তার যাতায়াত ব্যবস্থা কী এবং কাছকাছি স্বাস্থ্যকেন্দ্র কোথায় জানতে হবে। অনেকে জানেন না তার ব্লাড গ্রুপ কী, প্রয়োজনে কোথা থেকে তাকে রক্ত নিতে হবে এবং কে কে দিতে পারবে। প্রসব পূর্ববর্তী পরিকল্পনা তো সে অ্যান্টিনেটাল চেকআপের মাধ্যমেই জানতে পারবে। অ্যান্টিনেটাল চেকআপ ছাড়া তো সে জানতে পারবে না। পানি ভাঙ্গা, জ্বর আসা, খিচুনি হওয়া, মাথা ঘুরানো, চোখে ঝাপসা দেখা যে বিপজ্জনক লক্ষণ, সেটাও সে জানতে পারবে, যদি চেকআপের ভেতর থাকে।

অনেক উন্নত দেশে দেখবেন গর্ভাবস্থার আগেই তারা চিকিৎসকের কাছে যাচ্ছেন। এটি কেন প্রয়োজন আমি বলি, ফলিক এসিড নামে ভিটামিনটি আমাদের দেহে বেশি থাকলে, দেহে নিউরালটিভ ডিফেক্টটা হয় না। নিউরাল টিউব কিন্তু তৈরি হয়ে যায় ২৪ থেকে ২৮ সপ্তাহের মাধ্যমে। এর অর্থ কী? প্রথম যখন মা জানতে পারে সে গর্ভধারণ করেছে, দেড় মাস পরে তার আগেই কিন্তু শিশুর নিউরাল টিউব তৈরি হয়ে যাচ্ছে। তার শরীরে যদি ফলিক এসিডের ঘাটতি থাকে, তাহলে অবশ্যই শিশুর নিউরাল টিউবের ঘাটতি হবে। কিন্তু সে যদি গর্ভধারণের আগে চিকিৎসকের চেকআপে যায়, তাহলে সে জানতে পারে, ফলিক এসিড নামের ভিটামিনটা তাকে খেতে হবে। এরপর রয়েছে রুবেলা ভাইরাস। রুবেলা ভাইরাস দিয়ে গর্ভকালে সংক্রমিত হলে, তাহলে আমরা জানি যে বাচ্চা জন্মগতভাবে বধির হয়। তাহলে তার গর্ভ পূববর্তী অবস্থায় ব্লাড টেস্টের মাধ্যমে সব জানতে হবে রুবেলা পজিটিভ বা নেগেটিভ কি না। যদি নেগেটিভ হয়ে থাকে, তাহলে তাকে ভ্যাকসিন দিতে হবে। হেপাটাইটিস ভাইরাসের অনেক জটিলতা রয়েছে আমরা জানি। এ জন্য হেপাটাইটিস প্রতিরোধী ভ্যাকসিনেশন করা রয়েছে কি না দেখতে হবে। এসব বিষয় সে গর্ভ পূর্ববর্তী চেকআপে জানতে হবে। কেবল তাই নয়, সে গর্ভ ধারণের জন্য ফিট কি না সেটিও জানতে পারবে।

এরপর থেলাসেমিয়ার কথা বলি। হঠাৎ করে স্বামী-স্ত্রী দুজনেই জানতে পারল যে সে থেলাসেমিয়া মাইনর। এগুলো সে আগে জানতে পারত, যদি সে গর্ভ পূববর্তী স্ক্রিনিংয়ে যেত।

আরেকটি বিষয়। বাচ্চা হয়তো মায়ের বুকের দুধ খাচ্ছে, তবু সে সুস্থ নয়। তাহলে ওই মা জানলই না পুষ্টি একটি বিরাট বিষয় এ ক্ষেত্রে। বাচ্চা যদি আড়াই কেজির নিচে হয়, সেই বাচ্চার মৃত্যুর হার স্বাভাবিক ওজনের বাচ্চার তুলনায় ৪০ শতাংশ বেশি। তাহলে মা-কে পুষ্টিযুক্ত খাবার খেতে হবে। তাকে ফিট থাকতে হবে। দুই বছরের একটি বিরতি দিতে হবে, দুইটি বাচ্চার মাঝখানে। কারণ, একজন সুস্থ মা-ই তো সুস্থ সন্তান জন্ম দিতে পারে।

এখানে আরো কিছু বিষয় রয়েছে, আমরা যদি দেখি যে সে আগে থেকে ডায়াবেটিসে ভুগছে, তার উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে, তাকে কিন্তু জানতে হবে, ডায়াবেটিস অনেক কমিয়ে নিয়ে তাকে গর্ভবতী হতে হবে। তার এসব বিষয় সেট করে নিয়েই কিন্তু গর্ভবতী হওয়া উচিত। তখনই সম্ভব একজন সুস্থ মা ও সুস্থ নবজাতক পাওয়া।

শারীরিক সম্পর্কের পর যে চারটি কাজ করা খুব জরুরী

ফাইল ছবি

অনলাইন ডেস্ক : প্রেম বলুন কিংবা শারীরিক সম্পর্ক, সব ক্ষেত্রে সুস্থতাই হলো জীবনের শেষ কথা।
আপনার ভালোবাসা মূল্যহীন হয়ে পড়বে যদি আপনি বা আপনার সঙ্গী শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। কোনো সংক্রামক ব্যাধি দেখা দিলে তো কথাই নেই। তখন ভালোবাসা, রোমান্স সব জানালা দিয়ে পালাবে।

তাই সুস্থ যৌন জীবন উপভোগ করতে কিছু কাজ জরুরি। সেক্ষেত্রে শারীরিক মিলনের পরেও কিছু করণীয় থেকে যায়।

সুস্থ যৌন জীবনের জন্য কিছু নিয়ম মেনে চলা সবসময় দরকার। বিশেষজ্ঞরা বলেন,শারীরিক সম্পর্কের পর কিছু সাধারণ নিয়ম মানলেই আপনাদের যৌন জীবন নিরাপদ তো থাকবেই, আরও বেশি আকর্ষণীয়ও হয়ে উঠবে।

জেনে নিন-

পরিচ্ছন্ন থাকুন:

সুস্থতার জন্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা ভীষণ জরুরি। জীবনযাপনের প্রতিটি ক্ষেত্রের মতো শারীরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও এই কথাটি কার্যকরী। তাই ইন্টারকোর্সের পরে দুজনেরই যৌনাঙ্গ ভালো করে ধুয়ে ফেলা উচিত।

এক্ষেত্রে খেয়াল রাখবেন, কোনোভাবেই সেখানে সাবান বা সাবানজাতীয় কিছু ব্যবহার করা যাবে না।

অভ্যাস পরিবর্তন করুন:

অনেকের অভ্যাস থাকে হ্যান্ড শাওয়ার দিয়ে ভ্যাজাইনা ধোয়ার। এটিও করা উচিৎ নয়। তাতে পিএইচ ব্যালান্স নষ্ট হয়ে গিয়ে সংক্রমণ হতে পারে।

আজকাল বাজারে মেয়েদের ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার জন্য নানা ব্র্যান্ডের সামগ্রী পাওয়া যায়, যা সাবানের তুলনায় অনেক কোমল আর নিরাপদ। চিকিৎসকেরা ল্যাকটিক অ্যাসিডযুক্ত ভ্যাজাইনাল ওয়াশ ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

যৌন মিলনের পর বাথরুমে যাওয়া:

শারীরিক সম্পর্কের পরে অলসতা করে বিছানায় গড়াগড়ি করার অভ্যাস থাকলে আজই তা ত্যাগ করুন। বরং যত দ্রুত সম্ভব বাথরুমে গিয়ে পরিষ্কার হয়ে আসুন। নয়তো ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশনের মতো সমস্যায় পড়তে পারেন।

মেয়েদের মূত্রনালী পুরুষদের চেয়ে অনেক ছোট। তাই মিলনের সময় ইউরিনারি ইনফেকশনের আশঙ্কা থেকেই যায়। তাই ইন্টারকোর্সের পর ইউরিনেট করলে সংক্রমণের আশঙ্কা অনেকটাই কমে যাবে।

পর্যাপ্ত পানি পান করুন:

গা ঘেমে গেলে পানি পান করে সেই শূন্যতা দূর করা হয়। ঠিক সেভাবেই শারীরিক সম্পর্কের পরেও পানি পান করাটা জরুরি।

সেক্সের পর পানি পান করলে শরীর তরতাজা থাকবে, অন্যদিকে প্রস্রাবের মধ্যে দিয়ে সমস্ত ব্যাকটেরিয়া আর টক্সিনও বেরিয়ে যাবে। যার ফলে আপনার সুস্থতা নিশ্চিত হবে অনেকটাই।

ফের বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা

অনলাইন ডেস্ক : ঈদুল আজহার ছুটিতে সারা দেশের হাসপাতালগুলোতে নতুন ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা কিছুটা কমে এলেও তা আবার বাড়তে শুরু করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মশাবাহিত এ রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৯২৯ জন। বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমারজেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে এ তথ্য জানানো হয়।
গতকাল বুধবার (১৪ আগস্ট) সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার (১৫ আগস্ট) সকাল ৮টা পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৯২৯ জন দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

এর মধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৮১১ জন নতুন রোগী, ঢাকার বাইরে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ১১৮ জন।

এর আগে, গত মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) সকাল ৮টা থেকে বুধবার (১৪ আগস্ট) সকাল ৮টা পর্যন্ত ঢাকায় নতুন রোগী ভর্তির সংখ্যা ছিল ৭৫৫ জন, আর ঢাকার বাইরে ভর্তি হয়েছিলেন ১ হাজার ১২৫ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্তারা বলছেন, ঈদের দ্বিতীয় দিনের তুলনায় তৃতীয় দিনে নতুন রোগী ৪৯ জন বেড়েছে। তবে ঢাকার বাইরে নতুন রোগী কিছুটা কমেছে।

এর আগে, অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিলো আগস্ট- সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়বে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে ১৫ অগাস্ট পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪৮ হাজার ২৮০ জন।

তাদের মধ্যে ৪০ হাজার ৬৭০ জন চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি চলে গেছেন। এখনও হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৭ হাজার ৫৭০ জন।

এর মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে আছেন ৩ হাজার ৯১০ জন, অন্যান্য বিভাগের হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ৩ হাজার ৬৬০ জন।

সরকারি হিসেবে চলতি বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৪০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হলেও, বেসরকারি হিসেবে এই সংখ্যা শতাধিক।

ডায়াবেটিস বেড়েছে বুঝবেন যেভাবে

ডায়াবেটিস

অনলাইন ডেস্ক : ডায়াবেটিসের মাত্রা বেড়ে গেলে শরীরে কী ধরনের সমস্যা হয়, সে সম্পর্কে আমরা কম-বেশি সকলেই জানি। ডায়াবেটিস এমন একটি রোগ, যা ধীরে ধীরে মানুষের অসুস্থতা বাড়িয়ে তোলে। ডায়াবেটিসের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে শরীরে সুগার বেড়ে যাওয়ার প্রধান লক্ষণগুলো আগে চেনা প্রয়োজন। এই লক্ষণগুলো চিনতে পারলেই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন।

খুব অল্পতেই হাঁপিয়ে ওঠা ডায়াবেটিসের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার একটি অন্যতম লক্ষণ। এতে শরীরে পর্যাপ্ত পানির অভাব হয়। আর ডিহাইড্রেশনের ফলে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে।

চিকিত্সকদের মতে, রক্তে শরীরে সুগারের মাত্রা বেড়ে গেলে তা কিডনির উপর চাপ সৃষ্টি করতে থাকে শরীর থেকে সুগার বের করে দেয়ার জন্য। সে জন্যই ঘন ঘন প্রস্রাব পায়।

ডায়েট বা ব্যায়াম না করেই অনেক বেশি ওজন কমতে থাকা শরীরে ডায়াবেটিসের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ।

হাত ও পায়ের আঙুল বা পুরো হাত অবশ বোধ করা ডায়াবেটিস বেড়ে যাওয়ার অন্যতম একটি লক্ষণ।

যখন শরীর থেকে অতিরিক্ত সুগার বাইরে বের করে দেয়ার জন্য কিডনিতে চাপ পড়ে, তখনই ঘন ঘন প্রস্রাব পায়। এই সময় কিডনি শরীরের কোষ থেকে ফ্লুইড নিতে থাকে। এর ফলে শরীরে পানির ঘাটতি হতে থাকে, তাই ঘন ঘন পানি পিপাসা পায়। শরীরে ডায়াবেটিস বেড়ে গেলে তার প্রভাব পড়ে আমাদের দৃষ্টিশক্তির উপরেও। এর ফলে দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা তৈরি হয়।

শরীরের কোনো অংশে কেটে গেলে তা না শুকানো এবং শুকাতে অনেক বেশি সময় লাগার বিষয়টিও শরীরে ডায়াবেটিস বেড়ে যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ।

স্বাস্থ্য বিভাগের ছুটি বাতিল, কর্মস্থলে ফেরার নির্দেশ

অনলাইন ডেস্ক : ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করেছে সরকার। এছাড়া ট্রেনিংয়ে থাকা সব চিকিৎসকদের কর্মস্থলে ফেরারও নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) শেখ মুজিবুর রহমান।

এর আগে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে ডেঙ্গু ও বন্যা পরিস্থিতি এবং ফেসবুকে গুজব বিষয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

সচিব বলেন, আজ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে ডেঙ্গু ও বন্যা পরিস্থিতি এবং ছেলে ধরার গুজবের বিষয় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে সরকারের পক্ষ থেকে ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবেলায় স্বাস্থ্য বিভাগের সবার ছুটি বাতিল করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত চিকিৎসকদের ছুটি বাতিল থাকবে। আর যেসব চিকিৎসক প্রশিক্ষণে আছেন তাদের কর্মস্থলে ফেরার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

শেখ মুজিবুর রহমান জানান, বৈঠকে প্রশাসনের অন্য কর্মকর্তা- কর্মচারীদের ঈদের ছুটি নেয়ার বিষয়ে নিরুৎসাহিত করা হবে। তাদের ঢাকায় থাকতে বলা হবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সারা দেশে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৩ হাজার ৮৪৭ জন। এ পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১৩ হাজার ৬৩৭। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ৩ হাজার ৮৪৭ জন। ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৯ হাজার ৭৪০ জন।

‘মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পেলে ফার্মেসি সিলগালা করা হবে’

অনলাইন ডেস্ক : ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাহবুবুর রহমান বলেছেন, কোনো ফার্মেসিতে যদি মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পাওয়া যায় তবে সেই ফার্মেসি সিলগালা করা হবে। মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। এক্ষেত্রে হেলাফেলার সুযোগ নেই।

সোমবার পুরান ঢাকার বংশালের ফজলুল করিম কমিউনিটি সেন্টারে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সঙ্গে বাংলাদেশ কেমিস্টস অ্যান্ড ড্রাগিস্টস সমিতির মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

ওষুধ ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে মেজর জেনারেল মাহবুবুর রহমান বলেন, আপনার সন্তানকে কি আপনি মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ খাওয়াবেন? আপনার সন্তানকে যদি মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ না খাওয়ান তবে দোকানে মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ রাখেন কেন? ফার্মেসিতে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে দুই বছরের বেশি সময় আগে মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়া ওষুধ আছে। এরপর থেকে ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রাখলে সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। নকল, ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সম্পর্কে প্রতিটি বিভাগে সচেতনামূলক প্রোগ্রাম করা হবে। আগামী ২৬ জুন রাজশাহীতে ফার্মেসি কর্মীদের নিয়ে সচেতনামূলক প্রোগ্রাম করা হবে। তাদের ট্রেনিং করানো হবে। ফার্মেসি সার্টেফিকেট প্রশিক্ষণ কোর্স করানো হবে। সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, হাইকোর্ট এক মাসের মধ্যে সব ফার্মেসি থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সরাতে বলছে। বাংলাদেশ কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ২ জুলাইয়ের মধ্যে সব ওষুধ কোম্পানিকে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ফেরত দিতে হবে।

মাহবুবুর রহমান বলেন, ফার্মেসিতে আনরেজিস্ট্রার্ড ও নকল ওষুধ রাখা যাবে না। ৩৯টি ওষুধের লিস্ট আছে। এসব ওষুধ বাদ দিতে হবে। ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ছাড়া কোনো ওষুধ ও অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি করা যাবে না। অনেক জায়গায় দেখা যায়, ওষুধের মূল্য পরিবর্তন করা হয়, এটা করা যাবে না। দেশের বাইরে থেকেও নকল ওষুধ সরবরাহ করা হয়। তাই নিজস্ব অথোরাইজড সোর্স থেকে ওষুধ সংগ্রহ করতে হবে। অনেক সময় চোরাপথে আসা সরকারি কেনা হয়। এগুলো ফার্মেসিতে রাখা যাবে না।

তিনি আারও বলেন, ওষুধ জিনিসটা অনেক সেনসিটিভ। বেশি তাপমাত্রায় রাখা যায় না। তাই প্রতিটি ফার্মেসিতে এসি ও রেফ্রিরেজটর রাখতে হবে। বিশ্বের অনেক দেশের ওষুধের মান নিয়েও প্রশ্ন আছে। কিন্তু বাংলাদেশের ওষুধের মান নিয়ে কোনো কথা নেই। তাই আমাদের ফার্মেসিগুলোতে নকল, ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পরিহার করে দেশের সুনাম অক্ষুন্ন রাখতে হবে।

বাংলাদেশ কেমিস্টস অ্যান্ড ড্রাগিস্টস সমিতির সভাপতি সাদেকুর রহমান বলেন, আমরা কোনো ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি করব না। কিন্তু অনেক ওষুধ কোম্পানি মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ফেরত নেয় না। তাই আগামী ২ জুলাইয়ের মধ্যে যে সব ওষুধ কোম্পানি মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ফেরত নিবে না তাদের সব ওষুধ আমরা বর্জন করব।

অভিযোগ করে তিনি বলেন, অনেক কোম্পানি মোড়ক পরিবর্তন না করেই স্টিকার লাগিয়ে দাম পরিবর্তন করে। আর এ কারণে ওষুধ বিক্রেতাদের জরিমানা দিতে হয়। তাই ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের প্রতি অনুরোধ, কোনো কোম্পানি যেন মোড়ক পরিবর্তন না করে দাম না বাড়ায়।

মতবিনিময় সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির মহাসচিব এসএস শফিউজ্জামান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৩২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর লায়ন মোহাম্মদ বিল্লাহ, বাংলাদেশ ফার্মেসি কাউন্সিলের সহ-সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন প্রমুখ।