Home / শিক্ষা

শিক্ষা

প্রাথমিক-ইবতেদায়ী সমাপনী পরীক্ষার সূচি প্রকাশ

প্রাথমিক

নিজস্ব প্রতিবেদক : পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী ও ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা-২০১৯ এর সময়সূচি প্রকাশ করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।এবারের সমাপনী ও ইবতেদায়ী শুরু হবে পরীক্ষা ১৭ নভেম্বর এবং শেষ হবে ২৪ নভেম্বর। নির্ধারিত তারিখের সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী ও ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা-২০১৯ এর সময়সূচি প্রকাশ করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) মন্ত্রণালয় পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ করে। যা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে (https://mopme.gov.bd) পাওয়া যাবে।
বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য ৩০ মিনিট অতিরিক্ত সময় দেওয়া হবে।

পরীক্ষার সূচি:
প্রাথমিক সমাপনীতে ১৭ নভেম্বর ইংরেজি, ১৮ নভেম্বর বাংলা, ১৯ নভেম্বর বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, ২০ নভেম্বর প্রাথমিক বিজ্ঞান, ২১ নভেম্বর ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা এবং ২৬ নভেম্বর গণিত বিষয়ের পরীক্ষা হবে।

ইবতেদায়ী সমাপনীতে ১৭ নভেম্বর ইংরেজি, ১৮ নভেম্বর বাংলা, ১৯ নভেম্বর বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় এবং বিজ্ঞান, ২০ নভেম্বর আরবি, ২১ নভেম্বর কোরআন মাজিদ ও তাজবীদ এবং আকাঈদ ও ফিকহ্ এবং ২৪ নভেম্বর গণিত বিষয়ের পরীক্ষা নেওয়া হবে।

প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নের লক্ষ্যে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ২০০৯ সাল এবং ইবতেদায়ীতে এই পরীক্ষা শুরু হয় ২০১০ সালে। প্রথম দুই বছর বিভাগভিত্তিক ফল দেওয়া হলেও ২০১১ সাল থেকে গ্রেডিং পদ্ধতিতে ফল দেওয়া হচ্ছে। ২০১৩ সাল থেকে এই পরীক্ষার সময় আধা ঘণ্টা বাড়িয়ে আড়াই ঘণ্টা করা হয়। সমাপনী পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দিয়ে থাকে সরকার।

সরকারি প্রাইমারি স্কুলের পাশে নতুন প্রতিষ্ঠান নয়

অনলাইন ডেস্ক : দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর পাশে নতুন করে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যেন গড়ে না ওঠে, সে জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর।

সোমবার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের পরিচালক (পলিসি ও অপারেশন) খান মো. নুরুল আমিন স্বাক্ষরিত আদেশে সোমবার এ আদেশ দেয়া হয়। সংশ্লিষ্ট থানা/উপজেলা এবং জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারদের এ বিষয়ে নজরদারি বৃদ্ধির নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

একাদশ জাতীয় সংসদের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির ২৪ জুলাই বৈঠকে এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত হয়। সিদ্ধান্তে বলা হয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর পাশে যাতে নতুন কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠতে না পারে সেজন্য থানা বা উপজেলা এবং জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারদের নজরদারি বৃদ্ধির নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত বর্তমানে সারাদেশে ৬৬ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক কোটি ৪০ লাখ শিক্ষার্থী পড়ালেখা করছে।

২০২৩ সালের মধ্যে দেশের সব প্রাইমারি স্কুলে দুপুরের খাবার

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা

অনলাইন ডেস্ক : ২০২৩ সালের মধ্যে দেশের সব প্রাইমারি স্কুলে শিশুদের দুপুরের খাবার দেয়া হবে। বর্তমানে দেশের ১০৪টি উপজেলায় শুকনো ও রান্না করা খাবার দেয়া হচ্ছে। এর বদলে শুধু শুকনো খাবার দেয়ার প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে সরকার।

প্রতিটি শিশুর জন্য দুপুরের খাবার বাবদ বরাদ্দ ধরা হয়েছে ২০ থেকে ২২ টাকা। এ সংক্রান্ত ‘জাতীয় স্কুল মিল নীতি-২০১৯’ অনুমোদনের জন্য আজ মন্ত্রিসভার বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠেয় মন্ত্রিসভার বৈঠকের আলোচ্য সূচিতে আরও রয়েছে চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ আইন, বাংলাদেশ প্রকৌশল গবেষণা কাউন্সিল আইনসহ বেশকিছু অবহিতকরণ প্রস্তাব। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

‘জাতীয় স্কুল মিল নীতি-২০১৯’ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব আকরাম-আল-হোসেন রোববার নিজ দফতরে যুগান্তরকে বলেন, বর্তমানে দেশের ১০৪টি উপজেলার কিছু স্কুলে পরীক্ষামূলকভাবে রান্না ও শুকনো খাবার দেয়া হচ্ছে। এসব স্কুলে শিক্ষার্থীর ভর্তি শতভাগ নিশ্চিত হয়েছে। উপস্থিতির হার আগের তুলনায় ৫-১৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। যেসব স্কুলে রান্না করা খাবার দেয়া হচ্ছে সেখানে উপস্থিতির হার বেড়েছে ১১ শতাংশ আর শুকনো খাবার (বিস্কুট) দেয়া স্কুলগুলোতে বেড়েছে ৬ শতাংশ। শিক্ষার্থীদের রক্তস্বল্পতার হার কমেছে যথাক্রমে ১৬ দশমিক ৭ ও ৪ দশমিক ৭ শতাংশ। এসব স্কুলের শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হারও কমেছে ৬ দশমিক ৬ শতাংশ। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সরকারের চলতি মেয়াদেই দেশের সব প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষার্থীদের দুপুরের খাবার দেয়া হবে।

নানা জটিলতায় সেখানে শুকনো খাবার (ডিম, কলা ও উন্নতমানের বিস্কুট) দেয়ার চিন্তা করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে সরকারের নীতিনির্ধারকরা যে সিদ্ধান্ত নেবে তাই বাস্তবায়ন করা হবে।

এ প্রকল্পের ব্যয় কিভাবে নির্বাহ করা হবে- জানতে চাইলে সচিব বলেন, রান্না করা খাবারের কথা বলা হয়েছে প্রস্তাবিত নীতিতে। এতে প্রতি বছর ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা। বর্তমানে ফান্ড দিচ্ছে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফও)। তবে আগামীতে এ প্রকল্প সরকারের টাকায় বাস্তবায়ন করা হবে। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে এ সংক্রান্ত ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল (ডিপিপি) চূড়ান্ত করা হবে। এতে রান্না করা ও শুকনো খাবার দুটো প্রস্তাবই থাকবে। সরকারের ঊর্ধ্বতন মহল যেটি পছন্দ করবে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। একটি শিশুর জন্য প্রতিদিন ২০-২২ টাকা বরাদ্দ ধরে ডিপিপি তৈরি হচ্ছে।

প্রস্তাবিত নীতিতে বলা হয়েছে- প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গমনোপযোগী দেশের সব শিশুকে স্বল্পতম সময়ের মধ্যে পর্যায়ক্রমে স্কুল মিল নীতির আওতায় আনা হবে। তাদের শিক্ষা, পুষ্টি, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তায় যথার্থ আবদান রাখা যাবে। এ কার্যক্রম শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধিসহ গ্রাম ও শহর, ধনী ও গরিবের মধ্যে ব্যবধান কমিয়ে শিক্ষার মানের ব্যবধান কমাতে সাহায্য করবে।

শিক্ষার্থীদের মেধার উৎকর্ষ সাধন, চিন্তা ও কল্পনা শক্তির বিকাশ, সৃজনশীলতা এবং দক্ষ ও যোগ্য মানবসম্পদে পরিণত হতে ভূমিকা রাখবে। এটি কার্যকর হলে প্রাথমিক স্তরের সব শিক্ষার্থীদের স্কুলে ভর্তি, উপস্থিতির হার বৃদ্ধি, পাঠে মনোনিবেশ ও বিদ্যালয় ধরে রাখতে অবদান রাখবে। শিশুদের পুষ্টির বিষয়ে এতে আরও বলা হয়েছে- ৩ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুদের প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় শক্তির চাহিদার ন্যূনতম ৩০ শতাংশ স্কুল মিল থেকে আসা নিশ্চিত করা হবে। বিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীদের সপ্তাহে ৫ দিন রান্না করা খাবার এবং একদিন উচ্চপুষ্ঠিমান সম্পন্ন বিস্কুট সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটি, অভিভাবক ও স্থানীয় জনগণের সঙ্গে পরামর্শ করে খাবার মেনু নির্ধারণ করা যাবে। খাদ্য প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে উদ্ভিদ ও আবহাওয়ার ওপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে সে বিষয়গুলো এড়িয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে গণস্বাক্ষরতা অভিযানের উপ-পরিচালক কেএম এনামুল হক যুগান্তরকে বলেন, এটি সরকারের একটি দরিদ্রবান্ধব শুভ উদ্যোগ। ভবিষ্যৎ শিশুদের প্রতি সরকারের বিনিয়োগও বটে। ক্ষুধা থাকলে পড়াশোনায় মনোযোগ দেয়া যায় না। ফলে মানসম্মত শিক্ষা অর্জনের প্রধান বাধা ক্ষুধা। নীতিমালা অনুযায়ী অনুগোষ্ঠীর চাহিদার ৫০ শতাংশ স্কুল মিল থেকে আসার কথা। শিক্ষার্থীদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে মানসিক বিকাশ দ্রুত হবে। এতে করে স্থানীয় জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি স্থানীয় সবজি চাষি ও রান্নাকারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। তবে এটি পরিচালনার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা থাকতে হবে। শিক্ষকদের এসব কাজে যত কম সম্পৃক্ত করা যায় ততই ভাল। সব ধরনের রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে এ কার্যক্রমকে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ডব্লিউএফওর সহযোগিতায় ২০১০ সাল থেকে দেশের ১০৪টি দারিদ্র্যপ্রবণ উপজেলার সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং হিসেবে বিস্কুট বিতরণ শুরু হয়। এছাড়া ২০১৩ সালে বরগুনার বামনা, জামালপুরের ইসলামপুর এবং বান্দরবানের লামা উপজেলায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে দুপুরে রান্না করা খাবার বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়। ৩১ ডিসেম্বর এ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। প্রকল্পটির ধারাবাহিকতা রাখতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ‘জাতীয় স্কুল মিল’ নীতিমালা প্রণয়নের জন্য ২০১৬ সালে একটি কমিটি গঠন করে। ২০১৭ সালে এ নীতিমালার খসড়া প্রণয়ন করা হলেও তা কার্যকর হয়নি। সম্প্রতি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ‘জাতীয় স্কুল মিল নীতিমালা-২০১৯’র খসড়া চূড়ান্ত করেছে। সেটি অনুমোদনের জন্য আজকের মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হতে পারে।

জাতীয়করণ ছাড়া শিক্ষার মানোন্নয়ন সম্ভব নয়

জাতীয়করণ

অনলাইন ডেস্ক : দেশের সরকারি হিসেবে ভর্তিকৃত (প্রাথমিক থেকে উচ্চ শিক্ষা) স্তরের শিক্ষার্থীরা প্রতিবছর ৬৩% ঝরে পড়ে। বিষয়টি হাস‍্যকর বা মামুলি ব্যাপার না বরং সর্বোচ্চ গুরুত্ব সহকারে ভাবনার বিষয়। এই ঝরে পড়া বিপুল পরিমাণ শিক্ষার্থীরা কোথায় অবস্থান করছে, নিশ্চয়ই আমার আপনার পরিবারে তথা সমাজে? অলস মস্তিষ্ক শয়তানের কারখানা, এরাই সমাজে নানাবিধ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে এবং করবে। এদের পুনরায় মূল শিক্ষাধারায় ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন। আমাদের প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার ত্রুটি বিচ্যুতি চিহ্নিত করে, সংশোধনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষা ব‍্যয়ের মধ্যে আকাশ পাতাল ফারাক। যেখানে সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ষষ্ঠ শ্রেণির একজন শিক্ষার্থীর মাসিক বেতন ৭ টাকা মাত্র, সেখানে একটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একই শ্রেণির শিক্ষার্থীর মাসিক বেতন ১৫০ টাকা থেকে ২০০০ টাকা। অথচ শহরকেন্দ্রিক সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করে সরকারি কর্মকর্তা ও সমাজের ধনিক ও সম্পদশালী শ্রেণির মানুষের সন্তানরা। যেখানে সম্পদশালী শিক্ষার্থীদের নাম মাত্র খরচে সরকারি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা লাভের সুযোগ দেয়া হচ্ছে। এতে দেশের অসচ্ছল প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সন্তানদের সরকারি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা লাভের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। বাধ‍্য হয়েই তারা অধিক খরচে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লেখা পড়া করতে বাধ্য হয় এবং অর্থাভাবে ঝরে পড়ছে।

অপরদিকে আমাদের সামাজিক জীবনব‍্যবস্থায় যৌথ পরিবারগুলো ভেঙে একক পরিবারে জীবনযাপনে সাচ্ছন্দ্য বোধ করে। ফলে একক পরিবারে উপার্জনক্ষম ব্যক্তি থাকে সাধারণত একজনই, তারা এই দূর্মুল্লের বাজারে পরিবারের ভরণপোষণের পর দুটি বা তিনটি সন্তানের শিক্ষা ব‍্যয় নির্বাহ করতে পারছে না। বেসরকারি শিক্ষার ব‍্যয় সাধারণ মানুষের সীমা অতিক্রম করেছে। এতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সন্তানরা অধিক হারে শিক্ষা বঞ্চিত হচ্ছে। দেশের বিশাল অঙ্কের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে শিক্ষা বঞ্চিত রেখে জাতীয় উন্নয়ন অসম্ভব। আমাদের দেশে একমুখী শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তনে এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের মাধ্যমে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মূল ধারায় ফিরিয়ে আনতে এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সন্তানদের স্বল্প খরচে শিক্ষা লাভের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

৫ লক্ষ শিক্ষক পরিবার, সাথে ২কোটি শিক্ষার্থী + ২ কোটি অভিভাবক, জাতীয়করণের দাবি গণদাবিতে পরিনত করতে আমাদেরই অগ্রনী ভূমিকা পালন করতে হবে। এটা শুধু শিক্ষকদের বেতন ভাতা বৃদ্ধির কোন আন্দোলন নয়, এই আন্দোলন মানসম্মত শিক্ষা ও ঝরে পড়া শিক্ষা বঞ্চিত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিক্ষার অধিকার আদায়ের আন্দোলন। আমি এই ন্যায় ও যৌক্তিক আন্দোলনে আমৃত্যু কাজ করে যাব, কারণ আমার উচ্চ শিক্ষা অর্জনে ঐ অসচ্ছল প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষের কষ্টার্জিত অর্থের অনুদান রয়েছে। তাই ঐ সাধারণ মানুষের সন্তানদেরও স্বল্প খরচে শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে হবে, এটা আমার ঋণ পরিশোধের অংগীকার।

গত ১৩/০৮/২০১৮ তারিখে দেশের মাধ্যমিক শিক্ষা (দ্বাদশ শ্রেণি) পর্যন্ত শিক্ষার মানোন্নয়নে বিশ্ব ব্যাংক ৫২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। শিক্ষার মানোন্নয়নে যেখানে বিশ্ব ব্যাংক কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, সেখানে আমাদের দেশের এক শ্রেণির কুটিল বুদ্ধি বিক্রেতারা বলছেন শিক্ষা মানোন্নয়নের পরিমাপের একক কী? তাদের উদ্দেশ্য আমার প্রশ্ন, বুদ্ধি পরিমাপের একক কী?

আমাদের দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে বেসরকারি খাতে রেখে পণ্যে পরিণত করা হয়েছে। দেশের সীমিত অর্থনীতির কথা বলে বলে শিক্ষাকে অবহেলিত করে রাখা হয়েছে যুগের পর যুগ। দেশের এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণে অর্থনৈতিক অভাব নয়, সরকারি নীতিনির্ধারকদের সদিচ্ছার অভাব। শুধুমাত্র শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঘুষ দূর্নীতি অনিয়ম ও অপচয় রোধ করা সম্ভব হলেই একযোগে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা স্তরকে জাতীয়করণ করা এখনই সম্ভব। বেসরকারি শিক্ষকদের পৌনে দুই শ’বছরের পুরাতন অনুদান প্রথার বিলুপ্তি ঘটাতে হবে। শিক্ষকতা পেশাকে মর্যাদাপূর্ণ ও আকর্ষণীয় বেতন-ভাতা প্রদানের মাধ্যমে মেধাবীদের আকৃষ্ট করার কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে। মানসম্মত শিক্ষায় চাই দক্ষ ও গুনগত মানের শিক্ষক। শিক্ষাই জাতীয় উন্নয়নের প্রধান চাবিকাঠি। চাই মানোন্নত শিক্ষা, চাই শিক্ষাব্যবস্থার জাতীয়করণ। এই শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ আন্দোলনে অগ্রনী ও বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করতে হবে শিক্ষকদেরই। দেশের সকল শ্রেণি পেশার মানুষদের ও শিক্ষক কর্মচারীদের, বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারি ফোরামের ন‍্যয়সংগত যৌক্তিক দাবির সাথে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বিনীত আহ্বান জানাই।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের বাজার থেকে তোলা, একশত পঞ্চাশটি টাকার ঋণ পরিশোধ করতে না পারার আক্ষেপ থেকে শিক্ষা নিয়ে আসুন, জাতীয়করণ আন্দোলনে অংশ নিয়ে আমাদের দায় বা ঋণ কিছুটা হলেও পরিশোধ করি।

লেখক: সভাপতি, বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারি ফোরাম বাংলাদেশ।

সাত কলেজ নিয়ে অবৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্ত নিলে ঢাকা অচলের ঘোষণা শিক্ষার্থীদের

সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা কলেজ ক্যাফেটেরিয়ায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়

অনলাইন ডেস্ক : সাত কলেজ নিয়ে কোনো অবৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্ত নিলে ঢাকা শহর অচল করে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা।

সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা কলেজ ক্যাফেটেরিয়ায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের পক্ষে এ ঘোষণা দেন সাত কলেজ আন্দোলনের সমন্বয়ক ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী আবু বকর।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আবু বকর বলেন, ‌‘পূর্ব পরিকল্পনা ছাড়াই সাত কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হয়েছে। এতে দুই বছরের সেশনজট তৈরি হয়েছে। সেশনজট, ফল বিপর্যয়সহ ৫ দফা দাবি নিয়ে আন্দোলন করলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আন্দোলন একাডেমিক সমস্যা সমাধানের জন্য করা হয়েছে এবং তার সমাধানের দিকে যাচ্ছে। এরইমধ্যে একটি কুচক্রী মহল অধিভুক্তি বাতিলের দাবিতে মাঠে নেমেছে। অধিভুক্তি বাতিল হলে মারাত্মক সমস্যা তৈরি হবে। অধিভুক্তি বাতিল নয় আমরা সমস্যার সমাধান চাই।’

আবু বকর আরো বলেন, ‘সাত কলেজ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যদি কোনো অবৈজ্ঞানিক বা হঠকারী সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে সদরঘাট থেকে মহাখালী পর্যন্ত পুরো ঢাকা শহর অচল করে দেয়া হবে। এসময় সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের নিয়ে কোন তালবাহানা চলবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।’

‘১৫ আগস্ট থেকে ৯৬ পর্যন্ত বাংলাদেশকে পাকিস্তানে পরিণত করা হয়’

ড.মীজানুর রহমান

জবি প্রতিনিধি : জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) উপাচার্য ড.মীজানুর রহমান বলেছেন, একাত্তরের ১৫ আগস্ট থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশকে পূর্ব পাকিস্তানে পরিণত করা হয়। আর আমাদের ধর্ম নিরপেক্ষতা, সাম্য সবকিছু বন্দি করা হয় ক্যান্টমেন্টের ভেতর।

বৃহস্পতিবার (১ আগষ্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ আয়োজিত ‘জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের অন্তরালে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ড’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বীরমুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ড.এস এম আনোয়ারা বেগম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য ড.মীজানুর রহমান বলেন, ক্যান্টনমেন্টে আমাদের রাষ্ট্রপতি থাকতেন,আমাদের প্রধানমন্ত্রী থাকতেন। সেখান থেকেই সরকার পরিচালনা করা হত। গত পঞ্চাশ বছরে আমাদের বড় সফলতা শেখ হাসিনা সরকার ক্যান্টনমেন্ট থেকে এরশাদ ও খালেদা জিয়াকে বের করে এনেছেন। বার বার আমাদের সংবিধানের পরিবর্তন করার কারণে ৭১ সালে আমাদের যে বাংলাদেশ ছিল সেখানে এখনো আমরা ফিরে যেতে পারিনি। বর্তমান সরকারের নেতৃত্বে এ ধারায় ফেরার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু স্বাধীনতা বিরোধী যে চক্র তারা এখনো সক্রিয়।

উপাচার্য বলেন, দেশীয় এই স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি শুধুই দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র করেনি। বাংলাদেশ বিরোধী ষড়যন্ত্রে চীন ও মধ্যপ্রাচের কিছু রাষ্ট্রও ছিল। তাদের ষড়যন্ত্রেই বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়।

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস. এম. আনোয়ারা বেগমের সভাপতিত্বে এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক লামিয়া ইসলামের সঞ্চালনায় সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- কোষাধ্যাক্ষ অধ্যাপক সেলিম ভূঁইয়া, লাইফ অ্যান্ড আর্থ সায়েন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড.কাজী সাইফুদ্দীন, ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তপন কুমার পালিত, সহকারী অধ্যাপক তারিক হোসেন খান।

এসময় অন্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন- জবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. নূর মোহাম্মদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মোস্তফা কামাল, বিভিন্ন অনুষদের ডিনসহ, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ।

শাবিতে দেশের প্রথম ‘স্মার্ট অটোমেশন’ সেবা চালু

ছবি: সংগৃহীত

অনলাইন ডেস্ক : দেশের প্রথম স্মার্ট অটোমেশন সেবা চালু করেছে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ। বিভাগটির অধীনে থাকা ‘সেন্টার ফর রিসার্চ, টেস্টিং এন্ড কনসালটেন্সিতে (সিআরটিসি) এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সংযোজন করা হয় বলে জানিয়েছেন সিআরটিসির কোঅর্ডিনেটর ড. মো: ইমরান কবির।

জানা যায়, শাবিপ্রবির সিভিল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধীনে থাকা রিসার্চ, টেস্টিং এন্ড কনসালটেন্সিতে (সিআরটিসি) মাটির রসায়নিক গুণাগুণ, মাটির সহনশীলতা, পানি, বাতাসের গুণাগুণসহ সকল ধরণের নির্মাণ সামগ্রীর মান যাচাই-বাছাই ও পরীক্ষণ করা হয়।

স্মার্ট অটোমেশন সেবা নিশ্চিত করতে সিইই বিভাগের শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী সৈয়দ রেজওয়ানুল হক ও তার প্রতিষ্ঠান টেকনেক্সট কাজ করেছে। এই সেবা চালু করতে প্রায় একবছর সময় লেগেছে বলে জানান তিনি।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯৬ শিক্ষার্থী ডেঙ্গু আক্রান্ত

জবি সংবাদদাতা : জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) হল না থাকায় পুরান ঢাকার আশপাশে প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থী মেস ভাড়া করে থাকে। আর এসব এলাকায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি হওয়ায় সহজেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে। এ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৪টি বিভাগের ৯৬ জন শিক্ষার্থী ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। যে কারণে ঈদের ছুটি ঘোষণার আগেই বহু শিক্ষার্থী বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তদের জন্য কোন চিকিৎসা ব্যবস্থা না থাকায় ঢাকার বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন অনেকে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আইন বিভাগের ১১ জন, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সাতজন, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ছয়জন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের পাঁচজন, নৃবিজ্ঞান বিভাগের পাঁচজন, ফার্মেসি বিভাগের চারজন, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের চারজন, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চারজন, শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের তিনজন, ইতিহাস বিভাগের তিনজন, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের তিনজন, গণিত বিভাগের তিনজন, ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের দুজন, সমাজকর্ম বিভাগের একজন, মার্কেটিং বিভাগের দুজন, পদার্থবিদ্যা বিভাগের দুজন, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চারজন, নাট্যকলা বিভাগের দুজন, মনোবিজ্ঞান বিভাগের দুজন, উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের দুজন, অ্যাকাউন্টিং বিভাগের একজন, অর্থনীতি বিভাগের দুজন, লোকপ্রশাসন বিভাগের দুজন, ইংরেজি বিভাগের একজন, সংগীত বিভাগের একজন, প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের একজন, রসায়ন বিভাগের একজন, বাংলা বিভাগের একজন, অনুজীব বিজ্ঞানের একজন, ভূমি ব্যবস্থাপনা ও আইন বিভাগের একজন, দর্শন বিভাগের একজন, মাইক্রোবায়োলজিতে একজন, বায়োকেমিষ্ট্রিতে একজন, ইংরেজি বিভাগে একজন ও সিএসই বিভাগের একজন শিক্ষার্থী ডেঙ্গুতে জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের তৃতীয় বর্ষের ডেঙ্গুতে আক্রান্ত শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ঢাকা শহরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আমরাই সবচেয়ে কষ্টে থাকি। আমাদের হল নেই তাই মেসে থাকতে হয়। পুরান ঢাকায় মেসে থাকতে প্রচুর কষ্ট হয় এবং আমরা সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টারে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসার কোনো ব্যবস্থা নেই। বাধ্য হয়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত শিক্ষার্থীরা ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালসহ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারের সিনিয়র মেডিকেল অফিসার ডা. মিতা শবনম বলেন, ‘প্রতিদিনই ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে শিক্ষার্থীরা এখানে আসছেন। আজকেও আমি মোট ৬০ জনের মত রোগী দেখেছি তার মধ্যে ৪০ জনই জ্বরের রোগী। ডেঙ্গু জ্বরের জন্য আলাদা কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে কিনা জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ডেঙ্গু নিয়ে আমাদের নতুন কোন চিন্তা ভাবনা নেই। আমরা প্রথমত নাপা খেতে বলি এবং হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেই।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রকল্যাণ পরিচালক আবদুল বাকীর কাছে ডেঙ্গু জ্বরের জন্য কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে কিনা জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ‘ক্যাম্পাসে মশা মারার জন্য প্রতিদিন স্প্রে করা হয়। তিনি বলেন, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।’

ইবির ভর্তি পরীক্ষা শুরু ৪ নভেম্বর

ইবির

অনলাইন ডেস্ক : ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক সম্মান প্রথম বর্ষ ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা ৪ থেকে ৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। ভর্তির আবেদন ২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়ে চলবে ১ অক্টোবর পর্যন্ত।

রোববার বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সভাকক্ষে কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভার সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনে (ইউজিসি) পাঠানো হবে। অনুমোদন পেলে চুড়ান্ত সূচি প্রকাশ করা হবে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এস এম আব্দুল লতিফ। এছাড়া এ বছর থেকেই কলা অনুষদের অধীনে চারুকলা বিভাগ চালু হবে বলেও জানান তিনি।

কেন্দ্রীয় ভর্তি কমিটির সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক হারুন-উর-রশিদ আসকারীর সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শাহিনুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সেলিম তোহা, অনুষদীয় ডিন, বিভাগীয় সভাপতি, হল প্রভোস্টসহ ভর্তি কমিটির সদস্যবৃন্দ।

জানা যায়, এ বছর ধর্মতত্ব ও ইসলামী শিক্ষা, কলা, সামাজিক বিজ্ঞান ও আইন, ব্যবসায় প্রশাসন এবং বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি এবং জীববিজ্ঞান অনুষদভূক্ত মোট ৪ টি ইউনিটের অধীনে ৩৪ টি বিভাগে ২৩০৫ জন পরীক্ষার্থী ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবেন।

পরীক্ষায় ১২০ নম্বরের মধ্যে এমসিকিউ পদ্ধতিতে ৬০ নম্বর, নৈর্ব্যক্তিক লিখিত থাকবে ২০ নম্বর এবং এসএসসি বা সমমান এবং এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষায় প্রাপ্ত জিপিএ এর ভিত্তিতে থাকবে (২০+২০)= মোট ৪০ নম্বর।  পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হবে ১৫ নভেম্বর। মেধা ও অপেক্ষমাণ মেধার ভর্তি চলবে ৩০ নভেম্বর থেকে ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত। ক্লাস শুরু হবে ১১ জানুয়ারি।

ছাত্রলীগের অধিভুক্তি সমস্যা সমাধানের কর্মসূচিতে ইডেন কলেজ

লিপি নূর সাহাজি : ঢাবির অধিভুক্ত সরকারী সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিলের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পুনরায় ক্লাস-পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার আহ্বান জনাতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সমবেশ এবং উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছে। এ সমাবেশে সমর্থন দিয়ে অংশগ্রহণ করেছে ইডেন মহিলা কলেজ ছাত্রলীগ।

মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) দুপুরে ঢাবি উপাচার্যের অনুপস্থিতি উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করেন ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ। এ কর্মসূচিতে ঢাবি অধিভুক্ত ইডেন মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীরাও অংশ নিয়েছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে সমালোচনার ঝড়।

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের এ কর্মসূচিতে ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক তামান্না জাহান রাইভা, জান্নাতারা জান্নাত, ইফরাত জাহান ইতি, যুগ্ম আহ্বায়ক পাপিয়া রায়, সদস্য নুজহাত ফারিয়া রোকসানা, নাহিদা চৌধুরী রাকা, যুগ্ম আহ্বায়ক ফারিয়া মল্লিক, আফরোজা রোশনী, আনিসা আলমসহ ৫০ জনের মতো নেত্রী অংশ নেয়।

মঙ্গলবার দুপুরে ঢাবির অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে ছাত্রলীগের সমাবেশ চলছে। সমাবেশে ছাত্রলীগের সভাপতি রেজোয়ানুল হক চৌধুরী শোভন, সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসুর জিএস গোলাম রাব্বানী, ঢাবি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসুর এজিএস সাদ্দাম হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। তবে, ঢাবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস ও তার অনুসারীদের কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেখা যায় নি।

সমাবেশ শেষে ছাত্রলীগ নেতারা উপাচার্যের কার্যালয়ে স্মারকলিপি দিতে যান। উপাচার্য দেশে না থাকায় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করেন ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ।

সূত্র জানায়, আগামীকাল বুধবার ইডেন মহিলা কলেজ ছাত্রলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে নিজেদের উপস্থিতির জানান দিতেই কলেজ ছাত্রলীগের নেত্রীরা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের অধিভুক্তি সংকট সমাধানের এ কর্মসূচিতে অংশ নেয়।