Home / বিশ্ব সংবাদ

বিশ্ব সংবাদ

রোহিঙ্গাদের ওপর পরিকল্পিত যৌন নির্যাতন চালিয়েছে মিয়ানমার

২২ আগস্ট থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু

সিলেট টুয়েন্টিফোর এক্সপ্রেস ডেস্ক : রোহিঙ্গাদের ওপর পরিকল্পিতভাবে যৌন নির্যাতন চালিয়েছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। বিভিন্ন বয়সী মেয়ে, শিশু, গর্ভবতী নারী, এমনকি তৃতীয় লিঙ্গের মানুষেরাও ছাড় পায়নি তাদের হাত থেকে। প্রতিনিয়ত রুটিন করে তাদের ওপর যৌন নির্যাতন চালিয়েছে মিয়ানমারের সেনারা। আর এসব করা হয়েছে রোহিঙ্গাদের ভয় দেখিয়ে বিতাড়িত করা জন্যই।

বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) মিয়ানমারে নিযুক্ত জাতিসংঘের ইন্ডিপেন্ডেন্ট ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশনের এক প্রতিবেদনে এতথ্য জানানো হয়েছে। এতে জাতিগত সংখ্যালঘুদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর এ ধরনের নির্যাতন বন্ধ ও বিচারের দাবি জানানো হয়েছে।

রাখাইন, কাচিন ও শান প্রদেশে যৌন নির্যাতনের শিকার ও প্রত্যক্ষদর্শী শত শত মানুষের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে তৈরি এ প্রতিবেদনটি আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে তোলা হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেনাবাহিনীর মাধ্যমে অসংখ্য যৌন ও লিঙ্গ-সম্পর্কিত নির্যাতনের ঘটনা ঘটলেও মিয়ানমার সরকার এসব প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে।

২০১৭ সালের ২৫ অক্টোবর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অত্যাচার-নিপীড়ন শুরু হলে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা।

২০১৮ সালে জাতিসংঘের তদন্তকারী দল বলেছিল, মিয়ানমারের শীর্ষ সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত হওয়া দরকার। বেসামরিক নাগরিকদের ওপর গণহত্যার মতো গুরুতর অপরাধের কারণে তাদের আন্তর্জাতিক আইনে বিচার হওয়া উচিত।

নতুন প্রতিবেদনে জাতিসংঘ মিশন জানিয়েছে, মিয়ানমারের সেনা সদস্যরা নিয়ম করে কিশোরী, তরুণী, শিশু, যুবক, প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ ও তৃতীয়লিঙ্গের মানুষদের ধর্ষণ, গণধর্ষণসহ ভয়াবহ যৌন নির্যাতন চালিয়েছে। এটি স্পষ্টই আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের লঙ্ঘন।

বাংলাদেশে পালিয়ে আসে লাখ লাখ রোহিঙ্গা। ছবি: সংগৃহীত
প্রতিবেদনে বলা হয়, মারাত্মক শারীরিক নির্যাতন, যা প্রকাশ্যেই চলতো… অপমানের স্বাধীনতার বিস্তৃত সংস্কৃতির প্রতিচ্ছবি এবং বেসামরিক নাগরিকদের ওপর শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণা বা কষ্টের সুপরিকল্পিত প্রয়োগ।

ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশনের প্রধান মারজুকি দারুসমান বলেন, দেশের সব লিঙ্গের মানুষদের ভয়াবহ নির্যাতনের দায়ে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর কাছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কৈফিয়ত চাইতে হবে।

মিশন এক্সপার্ট রাধিকা কুমারাস্বামী বলেন, এ বিষয়ে অবশ্যই নীরবতা ভাঙতে হবে।

জাতিসংঘ মিশন জানায়, যৌন নির্যাতনের ঘটনাগুলো ছিল সাধারণ নাগরিকদের ভয় দেখানো, আতঙ্কিত করা বা শাস্তি দিতে সেনাবাহিনীর ইচ্ছাকৃত ও সুপরিকল্পিত কৌশল।

প্রতিবেদনে বলা হয়, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠির ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনী গণহত্যা জাতীয় কর্মকাণ্ড চালিয়েছে। সাক্ষাৎকার নেওয়া বেশিরভাগ ভুক্তভোগীকেই পেটানো, সিগারেট দিয়ে পোড়ানো, ছুরি দিয়ে ক্ষত-বিক্ষত, ধর্ষণ অথবা সেনাঘাটিতে যৌনদাসী হিসেবে বন্দি করে রাখা হয়েছে। তরুণ-কিশোরদেরও ধর্ষণ, জোরপূর্বক নগ্নতা বা যৌন নির্যাতনের কথাও জানানো হয় এ প্রতিবেদনে।

মিশন এক্সপার্ট ক্রিস্টোফার সিদোতি বলেন, আমরা তৃতীয়লিঙ্গের রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা নির্যাতনের শিকার হয়েছে দু’বার। কারণ তারা রোহিঙ্গা আর তৃতীয়লিঙ্গ।

বাংলাদেশে পালিয়ে আসা লাখ লাখ রোহিঙ্গা এখনো মিয়ানমারে ফিরে যেতে ভয় পাচ্ছেন। বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) দ্বিতীয়বারের মতো ব্যর্থ হয়েছে তাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া। নাগরিকত্ব, নিরাপত্তা ও রাখাইনে স্বাধীনভাবে চলাফেরায় এখনো শঙ্কা রয়েছে তাদের।

ভুক্তভোগীদের অধিকার নিশ্চিত ও অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে জাতিসংঘের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন।

যে কারণে বাবাকে খুন করে তিন বোন

যে কারণে বাবাকে খুন করে তিন বোন

সিলেট টুয়েন্টিফোর এক্সপ্রেস ডেস্ক : ২০১৮ সালের ২৭ জুলাই। ৫৭ বছর বয়সী মিখাইল খাচাতুরান ঘুমিয়ে ছিলেন নিজ বাড়িতে। ওই সময় তাকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে তারই তিন মেয়ে। ঘটনাটি ঘটে রাশিয়ার মস্কোর একটি ফ্ল্যাটে।

হত্যাকাণ্ডটি ওই সময় রাশিয়ার পাশাপাশি গোটা বিশ্বে আলোড়ন তোলে। অনেকেরই ধারণা ছিল না, ঠিক কী কারণে তিন বোন বাবাকে খুন করেছিল। শুরু হয় তদন্ত। ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসে খুনের আসল কারণ।

হত্যাকাণ্ডের সময় তিন মেয়ে ক্রিস্টিনা, অ্যাঞ্জেলিনা ও মারিয়ার বয়স ছিল যথাক্রমে ১৯, ১৮ ও ১৭ বছর। তিন বোন পুলিশকে জানায়, ঘটনার দিন তাদের বাবা তিন বোনকে একে একে তার ঘরে ডেকে নেন। এরপর ঘর পরিষ্কার না করায় প্রচণ্ড বকাঝকা করেন এবং তাদের মুখে পেপার গ্যাস স্প্রে করেন।

তারা জানান, এই ঘটনার কিছুক্ষণ পর তিন বোন ঘুমন্ত বাবার ওপর ছুরি, হাতুড়ি ও পেপার স্প্রে নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তিনজন মিলে বাবার মাথা, ঘাড় ও বুকে কমপক্ষে ৩০টি আঘাত করে তাকে হত্যা করে। এরপরই তারা পুলিশকে খবর দেয়।

তিন বোনের মুক্তি দাবিতে রাশিয়ায় সাধারণ মানুষের সমাবেশ

শুধু বকাঝকা করার জন্য বাবাকে এভাবে কেউ হত্যা করতে পারে– এটা মানতে পারছিলেন না তদন্তকারী কর্মকর্তারা। এরপরই তারা তদন্তে নামেন। তদন্তে তারা ওই পরিবারের পারিবারিক সহিংসতার দীর্ঘ ইতিহাস জানতে পারেন। তাদের তদন্তে উঠে আসে টানা তিন বছর ধরে মেয়েদের বাবা কীভাবে তাদেরকে মারধর করতেন, কয়েদির মতো আটকে রাখতেন এবং নিয়মিত তাদের ওপর যৌন অত্যাচার চালাতেন সেই সব ঘটনা।

হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ জানার পর রাশিয়ার বেশিরভাগ মানুষই ওই তিন বোনের পক্ষ নেন। মামলাটি দ্রুত আলোচিত হয়ে ওঠে রাশিয়ায়। মানবাধিকার কর্মীরা সোচ্চার হয়ে ওঠেন। তারা বলেন, তিন বোন অপরাধী নয়, তারা ঘটনার শিকার মাত্র। কারণ অত্যাচারী বাবার যৌন নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা পেতেই তারা এমন ঘটনা ঘটিয়েছে। তাদের মুক্তির জন্য ওই সময় অনলাইনে ৩ লাখেরও বেশি মানুষ স্বাক্ষর করেন।

এমনিতে রাশিয়ায় পারিবারিক সহিংসতা রোধে কোনো আইন নেই বলে জানা গেছে। ২০১৭ সালে অবশ্য একটা আইন করা হয়। সেখানে বলা হয়, পরিবারের সদস্যকে মারধর করেছেন কিন্তু তাদের হাসপাতালে যাওয়ার মতো খারাপ অবস্থা করেননি– এমন অপরাধ করলে জরিমানা বা সর্বোচ্চ দুই সপ্তাহ শাস্তি হতে পারে।

পারিবারিক সহিংসতাকে রাশিয়ায় পারিবারিক বিষয় ভাবা হয়। এ কারণে পুলিশ সেখানে কোনো হস্তক্ষেপ করে না।

ওই তিন মেয়ের মা অওরেলিয়া ডানডুকও নিহত মিখাইলের হাতে নির্যাতিত হতে বলেন জানা গেছে। তিনি কয়েক বছর আগে স্বামীর বিরুদ্ধে মামলাও করতে গিয়েছিলেন্। কিন্তু কোনো সাক্ষ্য প্রমাণ না থাকায় পুলিশ ওই সময় তাকে কোনো সহায়তা করেনি।

নিহত মিখাইল মারধর করে তার স্ত্রী অওরেলিয়াকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিলেন। ওই সময় অওরেলিয়া মেয়েদের সঙ্গে নিতে চাইলেও মিখাইল দেননি। তিন বোন মিলে যখন তাদের বাবাকে হত্যা করে তখন মেয়েদের মা তাদের সঙ্গে থাকতেন না। মা চলে যাওয়ার পর তার সঙ্গে তিন বোনকে যোগাযোগ করতেও নিষেধ করেছিলেন তাদের বাবা।

আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের মামলা খুব ধীরগতিতে চলছে। হত্যাকাণ্ডের দায়ে অভিযুক্ত তিন বোনকে কারাগারে থাকতে হয় না। কিন্তু তারা কড়া নজরদাড়িতে থাকেন। তারা কোনো সাংবাদিক বা অন্য কারো সঙ্গে কথা বলতে পারেন না। মনোবিজ্ঞানীদের তত্ত্বাবধানে তিন বোনের চিকিৎসাও চলছে।

মামলাটি নিয়ে এখনও তর্ক-বিতর্ক চলছেই। বাদীপক্ষের আইনজীবীরা জোর দিয়ে বলছেন, মিখাইল হত্যাকাণ্ড পূর্ব পরিকল্পিত। কারণ তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন এবং তিন বোন ছুরি হাতে তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। তাদের যুক্তি, তিন বোনের উদ্দেশ্যই ছিল প্রতিশোধ নেওয়া।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বলছেন, নিজেদের বাঁচাতেই তারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। রাশিয়ার আইনে নিজেকে বাঁচাতে তাৎক্ষণিক ‘আত্মরক্ষা’ আইন ছাড়াও ধারাবাহিকভাবে নির্যাতনের ক্ষেত্রে ‘আত্মরক্ষা’ আইন প্রচলিত আছে।

আসামিপক্ষের আইনজীবীরা আরও বলছেন, তিন বোন দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এ কারণে তাদের মুক্তি দেওয়া হোক। তারা আশা করছেন, আত্মরক্ষা আইনে তিনবোন শিগগিরই মুক্তি পাবে।

অন্যদিকে তিন বোনের বিরুদ্ধে আনা হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ যদি প্রমাণিত হয় তাহলে তাদের সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

দেশটির সাধারণ মানুষ ও মানবাধিকার কর্মীদের অনেকেই চাইছেন পারিবারিক সহিংসতা রোধে বিদ্যমান আইনটির পরিবর্তন হোক। সূত্র: বিবিসি

লাওসে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনা, চীনের ১৩ পর্যটক নিহত

ছবি: সংগৃহীত

সিলেট টুয়েন্টিফোর এক্সপ্রেস ডেস্ক : লাওসে এক ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় চীনের অন্তত ১৩ পর্যটক নিহত হয়েছে। বাসটি রাস্তা থেকে ছিটকে গিরিখাতের ৩০ মিটার গভীরে পড়ে যায়। মঙ্গলবার দেশটির এক পুলিশ কর্মকর্তা একথা জানান। খবর এএফপি’র।

সোমবার রাতে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনার সময় বাসটিতে চীনের ৪০ নাগরিককে বহন করা হচ্ছিল। তারা পর্যটন শহর লুয়াং প্রবাংয়ের দিকে যাচ্ছিল।

এ দুর্ঘটনার জন্য গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারানোকে দায়ী করে পুলিশ কর্মকর্তা শিয়াফোন চিতাভং এএফপি’কে বলেন, ‘আজ সকালে ১৩ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো দু’জন নিখোঁজ রয়েছে।’

তিনি আরো জানান, দুর্ঘটনায় আহত ৩১ জনকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম গিরিখাতের পানি থেকে বাসের যাত্রীদের উদ্ধার করার বিভিন্ন ছবি প্রকাশ করেছে।

দুর্বল সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থাপনার কারণে লাওসে প্রায় এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে থাকে।

পানিকেও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে ভারত

পানি
ফাইল ছবি

সিলেট টুয়েন্টিফোর এক্সপ্রেস ডেস্ক : কোনো ধরণের ঘোষণা ছাড়াই উজানের একটি বাঁধ খুলে দেওয়ায় পাকিস্তানের বিস্তীর্ণ এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে পাকিস্তান সরকার। এর মাধ্যমে ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সর্বমুখী যুদ্ধ শুরু করেছে বলে মনে করছে ইসলামাবাদ। খবর পার্স ট্যুডে।

পাকিস্তানের পানি ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোজাম্মিল হোসেন এ অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগ করে মোজাম্মিল হোসেন বলেছেন, ভারত এখন পানিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধ শুরু করেছে। তারা পাকিস্তানকে কূটনৈতিকভাবে একঘরে করার চেষ্টা করছে এবং অর্থনীতিকেও চেপে ধরতে চাইছে। তারা আমাদের বিরুদ্ধে পানিকে ব্যবহার করছে।

তিনি আরও বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এর আগেই সুস্পষ্টভাবে পাকিস্তানে পানি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন, তবে তিনি এ সংক্রান্ত চুক্তিগুলোকে অমান্য করতে পারেন না।

পাকিস্তানের পানি বিষয়ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভারত হঠাৎ করে উজানে বাঁধ খুলে দেওয়ায় সুতলেজ নদীতে পানি প্রবাহ বেড়ে গেছে এবং বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। এর মাধ্যমে পাকিস্তানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত দীর্ঘদিনের চুক্তি লঙ্ঘন করেছে ভারত।

পাকিস্তানের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ পাঞ্জাব প্রদেশে বন্যা মোকাবেলায় কাজ করছে।

পাঞ্জাবের প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের মহাপরিচালক খুররম শাহজাদ বলেছেন, ভারত বাঁধ খুলে দেওয়ার বিষয়টি আমাদেরকে অবহিত করেনি।

চলতি মাসের শুরুর দিকে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করে ভারত। এর পর থেকে ভারত পাকিস্তানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা শুরু হয়েছে। সেইসঙ্গে দেশ দুইটির মধ্যে সম্পর্ক তলানিতে নেমেছে।

মা হয়েছেন এক সঙ্গে কাজ করা সেই ৯ জন নার্স!

মা হয়েছেন এক সঙ্গে কাজ করা সেই ৯ জন নার্স!

সিলেট টুয়েন্টিফোর এক্সপ্রেস ডেস্ক : বিরল ঘটনার সাক্ষী থাকল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন রাজ্যের পোর্টল্যান্ডের মাইনে মেডিকেল সেন্টার। এই মেডিকেল সেন্টারে লেবার ইউনিটে কর্মরত ৯ জন নার্স গর্ভবতী ছিলেন।

সেই খবর মার্চ মাসে জানিয়েছিলেন ওই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সেই নার্সদের সকলেই জন্ম দিয়েছেন সন্তানের। সন্তানসহ সেই সব নার্সদের ছবি সম্প্রতি প্রকাশ করেছেন ওই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তারপরই বিষয়টি নিয়ে ফের চর্চায় মেতেছেন নেটিজেনরা।

জানা গেছে, এপ্রিল থেকে জুলাইয়ের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে ওই শিশুগুলো জন্ম নিয়েছে। সব ক’টি শিশুর জন্মের পর ওই ৯ জন নার্স তাদের সন্তানদের কোলে নিয়ে ছবি তুলেছেন। সেই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর ভাইরাল হতে বেশি সময় নেয়নি।
সদ্য মা হওয়া ওই নার্সদের একজন লুনি সুসি সংবাদ সংস্থাকে বলেছেন, ‘গর্ভাবস্থা থেকেই আমরা একে অপরের খেয়াল রাখতাম। কম বেশি একই সময়ে মা হয়ে আমরা দারুণ অনুভূতির সাক্ষী রইলাম।’

শ্রীলঙ্কায় নতুন সেনাপ্রধান সিলভা

শ্রীলঙ্কায় নতুন সেনাপ্রধান সিলভা

সিলেট টুয়েন্টিফোর এক্সপ্রেস ডেস্ক : শ্রীলঙ্কায় সেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োগ পেলেন যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল সাভেন্দ্র সিলভা (৫৫)।

মানবাধিকার রেকর্ড নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগ সত্ত্বেও সোমবার তার হাতে দায়িত্ব তুলে দেন প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা।

চলতি বছরের জানুয়ারিতেই তাকে সেনাবাহিনীর দ্বিতীয় শীর্ষ পদ ‘চিফ অব স্টাফ’ করা হয়। সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়, সেনাপ্রধানের দায়িত্ব দেয়ার আগে সিলভাকে লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে উন্নীত করা হয়।
২০০৯ সালের গৃহযুদ্ধকালে সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ ডিভিশনের কমান্ডার ছিলেন সিলভা। বিচ্ছিন্নতাবাদী তামিল গেরিলাদের বিরুদ্ধে অভিযানকালে তিনি যুদ্ধাপরাধ করেছেন বলে জাতিসংঘের এক তদন্ত রিপোর্টে উঠে আসে।

শ্রীলঙ্কার সেনাবাহিনীর ওই তামিলবিরোধী অভিযানে ১০ হাজারের বেশি বিদ্রোহী নিহত হয়।

‘ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন ১৭ দেশ পরাজিত হয়েছে’

সিলেট টুয়েন্টিফোর এক্সপ্রেস ডেস্ক : সৌদি আরব ইয়েমেনে আগ্রাসন চালানোর জন্য ১৭টি দেশকে নিয়ে একটি সামরিক জোট গঠন করলেও এখন একটি বা দু’টি দেশ এই রক্তক্ষয়ী আগ্রাসনে রিয়াদকে সঙ্গ দিচ্ছে। ইয়েমেনের হুথি আনসারুল্লাহ আন্দোলন সম্প্রতি এ কথা বলেছে।

সোমবার আনসারুল্লাহ আন্দোলনের নেতা ও ইয়েমেনের সুপ্রিম পলিটিক্যাল কাউন্সিলের নির্বাহী সদস্য মোহাম্মাদ আলী আল-হুথি আল-মাসিরা টিভিকে সাক্ষাৎকার দেন।

সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আমাদের জনগণের বিরুদ্ধে হামলার জন্য ১৭টি দেশ একজোট হয়েছিল কিন্তু তাদের মধ্যে মাত্র একটি বা দু’টি দেশ এখন অবশিষ্ট রয়েছে এবং আমরা তাদেরকেও পরাজিত করব।
আল-হুথি আরো বলেন, ইয়েমেনের জনগণ আগ্রাসন ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে। তিনি সৌদি আগ্রাসনের প্রথম দিন থেকে কোনো ধরনের পশ্চাদপসরণ ছাড়া আগ্রাসী বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জন্য আনসারুল্লাহ যোদ্ধাদের পাশাপাশি ইয়েমেনের সেনাবাহিনীর প্রশংসা করেন।

আল-হুথি বলেন, আমরা আজ একটি বৈশ্বিক দুর্বৃত্ত চক্রের মোকাবিলা করছি যারা ইয়েমেনকে তাদের উপনিবেশে পরিণত করে এদেশের জনগণকে ক্রীতদাস বানাতে চেয়েছিল। সূত্র: পার্সটুডে।

ভারতের পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে রাজনাথের বক্তব্যে ইমরান খানের উদ্বেগ

ইমরান খান ও রাজনাথ সিং। ফাইল ছবি

সিলেট টুয়েন্টিফোর এক্সপ্রেস ডেস্ক :  ভারতের পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহার নীতি নিয়ে রাজনাথ সিংয়ের বক্তব্যে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। রোববার নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টে দেয়া এক টুইট বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং গত শুক্রবার রাজস্থানে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বলেন, ভারত এখনও পর্যন্ত পারমাণবিক অস্ত্র প্রথমে ব্যবহার না করার নীতি মেনে চলছে। আক্রান্ত না হলে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার না করার নীতিতে রয়েছে ভারত। তবে ভবিষ্যতে কী হবে, তা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।

ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এমন বক্তব্যের দু’দিন পর ইমরান খান উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি ভারতের পারমাণবিক অস্ত্রাগারের সুরক্ষা এবং নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ইমরান আরও বলেন, কাশ্মীর ইস্যুতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সতর্ক। কাশ্মীরে শান্তি প্রতিষ্ঠায় এখন জাতিসংঘের পর্যবেক্ষক পাঠানো উচিত।

রাজনাথ সিংয়ের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এক বিবৃতি দিয়েছে। বিবৃতিতে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি বলেছেন, এ ধরনের মন্তব্য ভারত ও এর আশপাশের অঞ্চলে স্থিতিশীলতার নষ্ট করছে।

৫ আগস্ট ভারতের পার্লামেন্টে একটি প্রস্তাব পাশ হয়। এই প্রস্তাবে জম্মু-কাশ্মীরকে বিশেষ সুবিধা দেয়া সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল করা হয়। রাজ্যটিকে দ্বিখণ্ডিত করে জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ নামে দুটি আলাদা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ভারতীয় হাইকমিশনারকে বহিষ্কার করে পাকিস্তান। নয়াদিল্লির সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক হ্রাস করার সিদ্ধান্ত জানায় তারা। ভারত অবশ্য জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করার পদক্ষেপকে একটি অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে বিবেচনা করছে।

যে গ্রামে পুত্রসন্তানের জন্ম নিলে মিলবে বিস্ময়কর উপহার

সিলেট টুয়েন্টিফোর এক্সপ্রেস ডেস্ক : পুত্রসন্তানের অপেক্ষায় দিন পার করছেন পুরো গ্রামবাসী। কিন্তু কারও ঘরেই জন্ম নিচ্ছে না পুত্রসন্তান।

২০১০ সালের পর কোনো সদ্যোজাত শিশুপুত্রের কান্না শোনেননি এ গ্রামের অধিবাসীরা।

গত ৯ বছর ধরে কেবল কন্যাসন্তানই জন্ম হয়েছে সেখানে। একটি পুত্রসন্তানের আশায় গ্রামের অনেক গর্ভবতী কুসংস্কারেও বিশ্বাস করেছেন।

তারা তান্ত্রিকের দেয়া নানা গাছ-গাছালির তাবিজ, কুড়ুলও রেখেছেন বালিশের নিচে। টোটকা থেকে শুরু করে ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার খেয়েছেন হবু মায়েরা।

তবে সব প্রচেষ্টাই বিফলে গেছে।

গত এক দশকে পুত্রসন্তান জন্ম না নেয়া এ গ্রামটির নাম মিয়েজস্কে ওদ্রজান্সকি। এটি পোল্যান্ডের দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তবর্তী ছোট্ট একটি গ্রাম।

নৈসর্গিক সৌন্দর্যে ভরপুর এ গ্রামে ৯২টি বাড়ি রয়েছে। ৩০০ মানুষের বসবাস এখানে, যার মধ্যে নারীর সংখ্যাই বেশি।

পুরুষের সংখ্যা কম থাকায় গাড়ি চালানো, ক্ষেত-খামারে চাষাবাদ থেকে শুরু করে অন্যান্য ভারী কাজও নারীদের করতে হয় এ গ্রামে। মাঝেমধ্যে বিপদেও পড়েন তারা।

গ্রামবাসীর মতে, এখানে সব কাজেই নারীদের নেতৃত্ব চলছে, যা গ্রামের নারীরাও চাচ্ছেন না। তাদের অনেকে চাপ সামলে নিতে পারছেন না। ‘পুরুষালি’ কাজে নারীদের অংশগ্রহণে মাঝেমধ্যেই সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

কাজের গুণগত মান বিঘ্নিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তারা।

এ কারণে সদ্যোজাত পুত্রসন্তানের মুখ দেখার জন্য সাগ্রহে অপেক্ষায় রয়েছেন মিয়েজস্কে ওদ্রজান্সকি গ্রামের বাসিন্দারা।

এ মুহূর্তে পুত্রসন্তানের জন্ম গ্রামের জন্য সবচেয়ে বড় আনন্দের খবর হিসেবে বিবেচ্য।

গ্রামের মেয়র ঘোষণা করেছেন, গ্রামকে যে দম্পতি পুত্রসন্তান উপহার দেবেন, তাদের বিশেষ সম্মানে ভূষিত করা হবে। সঙ্গে থাকবে উপহারও।

তিনি জানান, সেই নবজাতকের নামে গ্রামের একটি রাস্তার নামকরণ করা হবে। তার জন্ম উপলক্ষে বপন করা হবে ওক গাছ।

এ ছাড়া বর্ণিল আয়োজনে সেই পুত্রসন্তানকে গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য, ইউরোপের দেশ পোল্যান্ডে সার্বিকভাবে পুত্রসন্তানের জন্মহার বেশি। দেশটির জনসংখ্যা জরিপ জানায়, ২০১৭ সালে পোল্যান্ডে ২ লাখ ৭ হাজার পুত্রসন্তানের জন্ম হয়েছে। আর কন্যাসন্তানের জন্ম হয়েছে ১ লাখ ৯৬ হাজার।

কিন্তু মিয়েজস্কে ওদ্রজান্সকি গ্রামের বেলায় পুরো চিত্রটি কেবল ভিন্নই নয়, কোনো পুত্রসন্তানেরই জন্ম হচ্ছে না সেখানে।

এ বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা জানা নেই দেশটির বিজ্ঞানীদের। প্রকৃতির এই রহস্য ভেদ করা যায়নি এখনও।

দীর্ঘ ৯ বছর ধরে বিষয়টি চলমান থাকায় গ্রামবাসীরা আশঙ্কা করছেন, এমনটি চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে সবচেয়ে বড় যে সমস্যা দেখা দেবে, সেটি হচ্ছে- মেয়েদের বিয়ের জন্য গ্রামের পাত্র পাওয়া যাবে না।

প্রসঙ্গত ১৯৪৫ সালের আগে জার্মানির অধীনে ছিল গ্রামটি। এর নাম ছিল- ‘মিসটিটজ’। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গ্রামটি পোল্যান্ডের অন্তর্ভুক্ত হয়।পুত্রসন্তানের অপেক্ষায় দিন পার করছেন পুরো গ্রামবাসী। কিন্তু কারও ঘরেই জন্ম নিচ্ছে না পুত্রসন্তান।

২০১০ সালের পর কোনো সদ্যোজাত শিশুপুত্রের কান্না শোনেননি এ গ্রামের অধিবাসীরা।

গত ৯ বছর ধরে কেবল কন্যাসন্তানই জন্ম হয়েছে সেখানে। একটি পুত্রসন্তানের আশায় গ্রামের অনেক গর্ভবতী কুসংস্কারেও বিশ্বাস করেছেন।

তারা তান্ত্রিকের দেয়া নানা গাছ-গাছালির তাবিজ, কুড়ুলও রেখেছেন বালিশের নিচে। টোটকা থেকে শুরু করে ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার খেয়েছেন হবু মায়েরা।

তবে সব প্রচেষ্টাই বিফলে গেছে।

গত এক দশকে পুত্রসন্তান জন্ম না নেয়া এ গ্রামটির নাম মিয়েজস্কে ওদ্রজান্সকি। এটি পোল্যান্ডের দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তবর্তী ছোট্ট একটি গ্রাম।

নৈসর্গিক সৌন্দর্যে ভরপুর এ গ্রামে ৯২টি বাড়ি রয়েছে। ৩০০ মানুষের বসবাস এখানে, যার মধ্যে নারীর সংখ্যাই বেশি।

পুরুষের সংখ্যা কম থাকায় গাড়ি চালানো, ক্ষেত-খামারে চাষাবাদ থেকে শুরু করে অন্যান্য ভারী কাজও নারীদের করতে হয় এ গ্রামে। মাঝেমধ্যে বিপদেও পড়েন তারা।

গ্রামবাসীর মতে, এখানে সব কাজেই নারীদের নেতৃত্ব চলছে, যা গ্রামের নারীরাও চাচ্ছেন না। তাদের অনেকে চাপ সামলে নিতে পারছেন না। ‘পুরুষালি’ কাজে নারীদের অংশগ্রহণে মাঝেমধ্যেই সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

কাজের গুণগত মান বিঘ্নিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তারা।

এ কারণে সদ্যোজাত পুত্রসন্তানের মুখ দেখার জন্য সাগ্রহে অপেক্ষায় রয়েছেন মিয়েজস্কে ওদ্রজান্সকি গ্রামের বাসিন্দারা।

এ মুহূর্তে পুত্রসন্তানের জন্ম গ্রামের জন্য সবচেয়ে বড় আনন্দের খবর হিসেবে বিবেচ্য।

গ্রামের মেয়র ঘোষণা করেছেন, গ্রামকে যে দম্পতি পুত্রসন্তান উপহার দেবেন, তাদের বিশেষ সম্মানে ভূষিত করা হবে। সঙ্গে থাকবে উপহারও।

তিনি জানান, সেই নবজাতকের নামে গ্রামের একটি রাস্তার নামকরণ করা হবে। তার জন্ম উপলক্ষে বপন করা হবে ওক গাছ।

এ ছাড়া বর্ণিল আয়োজনে সেই পুত্রসন্তানকে গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য, ইউরোপের দেশ পোল্যান্ডে সার্বিকভাবে পুত্রসন্তানের জন্মহার বেশি। দেশটির জনসংখ্যা জরিপ জানায়, ২০১৭ সালে পোল্যান্ডে ২ লাখ ৭ হাজার পুত্রসন্তানের জন্ম হয়েছে। আর কন্যাসন্তানের জন্ম হয়েছে ১ লাখ ৯৬ হাজার।

কিন্তু মিয়েজস্কে ওদ্রজান্সকি গ্রামের বেলায় পুরো চিত্রটি কেবল ভিন্নই নয়, কোনো পুত্রসন্তানেরই জন্ম হচ্ছে না সেখানে।

এ বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা জানা নেই দেশটির বিজ্ঞানীদের। প্রকৃতির এই রহস্য ভেদ করা যায়নি এখনও।

দীর্ঘ ৯ বছর ধরে বিষয়টি চলমান থাকায় গ্রামবাসীরা আশঙ্কা করছেন, এমনটি চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে সবচেয়ে বড় যে সমস্যা দেখা দেবে, সেটি হচ্ছে- মেয়েদের বিয়ের জন্য গ্রামের পাত্র পাওয়া যাবে না।

প্রসঙ্গত ১৯৪৫ সালের আগে জার্মানির অধীনে ছিল গ্রামটি। এর নাম ছিল- ‘মিসটিটজ’। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গ্রামটি পোল্যান্ডের অন্তর্ভুক্ত হয়।

ভারতে ভারী বৃষ্টি, ৩০ জনের মৃত্যু

ভারতে ভারী বৃষ্টি

অনলাইন ডেস্ক : ভারতের হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখন্ড ও পাঞ্জাব রাজ্যে ভারী বৃষ্টিপাত চলাকালে বিভিন্ন ঘটনায় অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ২২ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

রোববার দিনভর ভারী বৃষ্টিপাতের পর যমুনা ও ওই অঞ্চলের অন্যান্য নদীর পানি বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই হওয়ায় দিল্লি, হরিয়ানা, পাঞ্জাব ও উত্তর প্রদেশে বন্যা সতর্কতা জারি করা হয়েছে, জানিয়েছে এনডিটিভি।

দক্ষিণ ভারতে কেরালায় বন্যায় মৃতের সংখ্যা ১২১ জনে দাঁড়িয়েছে। বন্যায় কর্নাটকে মৃতের সংখ্যা ৭৬ ছাড়িয়ে গেছে এবং আরও ১০ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

হিমাচল প্রদেশে বৃষ্টি সম্পর্কিত বিভিন্ন ঘটনায় অন্তত ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে দুই জন নেপালি নাগরিকও রয়েছেন। পাশাপাশি আরও নয় জন আহত হয়েছেন।

প্রবল বৃষ্টির কারণে রাজ্যটির কুল্লু এলাকায় বিদেশিসহ ২৫ জন পর্যটক দুই দিন খাবার ও আশ্রয়বিহীন অবস্থায় আটকে থাকার পর রোববার তাদের উদ্ধার করা হয়েছে।

রাজ্যটির বিভিন্ন জায়গায় ভূমিধসের ঘটনায় কয়েকশত পর্যটক ও স্থানীয় লোক আটকা পড়ে আছেন। ভূমিধসের কারণে কালকা ও শিমলার মধ্যে ট্রেন চলাচল বিঘ্নিত হয়েছে, চন্ডিগড়-মানালি মহাসড়কে যান চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়েছে। রাজ্যটির শিমলা, সোলান, কুল্লু ও বিলাসপুর জেলার সব স্কুল সোমবার বন্ধ রাখা হয়েছে।

উত্তরাখন্ড রাজ্যে হঠাৎ প্রবল বৃষ্টি শুরু হওয়ার পর তিন জন নিহত ও ২২ জন নিখোঁজ হয়। উত্তরকাশী জেলার মোরি ব্লকে হড়কা বানে কয়েকটি গ্রামের বেশ কিছু বাড়ি ভেসে যায়। দেরাদুন জেলায় গাড়ি নদীতে পড়ে এক নারী ভেসে যান বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

ভারী বৃষ্টিপাতের সময় পাঞ্জাবে বাড়ির ছাদ ধসে তিন জন নিহত হন। পাঞ্জাব ও প্রতিবেশী রাজ্য হরিয়ানায় ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় কয়েকটি এলাকায় বন্যা দেখা দিয়েছে। রাজ্য দুটির কর্তৃপক্ষ উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে।

পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ সম্ভাবনাকে সামনে রেখে দিল্লি সরকার নগরীতে বন্যা সতর্কতা জারি করেছে। নগরীর নিচু এলাকায় বসবাসকারী লোকজনকে নিরাপদ এলাকায় সরে যেতে বলেছে।