Thursday , June 27 2019
Home / আইন-আদালত

আইন-আদালত

প্রসূতির প্রয়োজন ছাড়া সিজার বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে রিট

অনলাইন ডেস্ক : প্রসূতি মায়ের প্রয়োজন ছাড়া সিজার কার্যক্রম বন্ধে যাবতীয় নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে।

মঙ্গলবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি করেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।

পরে তিনি সাংবাদিকদের জানান, আবেদনটি বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হবে।

সুমন বলেন, ‘সম্প্রতি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন বাংলাদেশে অপ্রয়োজনীয় সিজারের ওপর একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে গত দুবছরে শিশু জন্মের ক্ষেত্রে সিজারিয়ানের হার বেড়েছে ৫১ শতাংশ।

প্রতিবেদনে এ সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করে বিষয়টিকে অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার উল্লেখ করা হয়েছে। তাই প্রতিবেদনটি সংযুক্ত করে হাইকোর্টে রিটটি করা হয়েছে।

মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ৩০ দিনের মধ্যে ধ্বংসের নির্দেশ

অনলাইন ডেস্ক : সারাদেশে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বাজার থেকে জব্দ করে এক মাসের মধ্যে ধ্বংস করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এসব ওষুধ ব্যবসায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে ৩০ দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জনস্বার্থে করা এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার রুলসহ এ আদেশ দেন বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ।

সারাদেশে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণ ও বিক্রি বন্ধ এবং তা প্রত্যাহার/ধ্বংস করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রেতা, সরবরাহকারী ও সংরক্ষণকারীদের শনাক্ত করতে পৃথক কমিটি গঠন করতে বলেছেন আদালত।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার এবিএম আলতাফ হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবিএম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।

গত ১০ মে এক অনুষ্ঠানে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মঞ্জুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার বলেন, আমাদের নিয়মিত বাজার তদারকির গেল ছয় মাসের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ঢাকা শহরের প্রায় ৯৩ শতাংশ ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি হচ্ছে।

এ বিষয়ে সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে ১৭ জুন জাস্টিস ওয়াচ ফাউন্ডেশনের পক্ষে নির্বাহী পরিচালক সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মাহফুজুর রহমান মিলন রিট করেন।

তিনি বলেন, রুলে ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি ও সংরক্ষণ বন্ধে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ হবে না তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য, স্বরাষ্ট্র, আইন, বাণিজ্য ও শিল্প সচিব, স্বাস্থ্য ও ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও উপপরিচালক, পুলিশের মহাপরিদর্শক এবং বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির সভাপতি ও মহাসচিবকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

মিলন আরও বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন আদেশে আদালত স্বাস্থ্য সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে ফার্মেসিতে থাকা মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি, সংরক্ষণ ও সরবরাহকারীদের শনাক্ত করতে পৃথক স্বাধীন অনুসন্ধান কমিটি করার নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে এ বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তার প্রতিবেদন আদালতে দিতে বলা হয়েছে।

এছাড়া ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপপরিচালকের মন্তব্যের বিষয়ে একটি প্রতিবেদন দিতে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও উপপরিচালককে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

নুসরাত হত্যা: ওসি মোয়াজ্জেম গ্রেফতার

অনলাইন ডেস্ক : ফেনীর নুসরাত হত্যার ঘটনায় সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে রাজধানীর শাহবাগ থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রবিবার রাজধানীর রমনা জোনের উপকমিশনার মারুফ হাসান তার গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে, গত ১৭ মে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মাদ আস সামছ জগলুল হোসেন মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন। এরপর থেকেই পলাতক রয়েছেন সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম।

ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার কয়েক দিন আগে মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিতে থানায় এলে তাকে আপত্তিকর প্রশ্ন করে এবং তা ভিডিও করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত ওসি মোয়াজ্জেম। এ অভিযোগে তার বিরুদ্ধে সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সাইয়েদুল হক। গত ১০ এপ্রিল সোনাগাজী থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয় মোয়াজ্জেম হোসেনকে। পরে গত ১২ মে তিনি রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে যোগদান করেন। ২৭ মে আদালতের নির্দেশে তার বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দাখিল করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ওই দিনই সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আসলাম জগলুল হোসেন ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির দুই দিন পরে আদালতে জামিন আবেদনও করেছিলেন। তবে তখন থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন।

পিবিআইয়ের তদন্তে থেকে জানা যায়, গত ৬ এপ্রিল সকালে শাহাদত হোসেন শামীম, নুর উদ্দিন ও হাফেজ আব্দুল কাদের মাদ্রাসায় আসে এবং পরিকল্পনা মতো যার যার অবস্থানে যায়। শাহাদত হোসেন পলিথিনে করে আনা কেরোসিন তেল ও অধ্যক্ষের কক্ষের সামনে থেকে আনা গ্লাস নিয়ে ছাদের বাথরুমের পাশে রেখে দেয়। কামরুন্নাহার মনি তিনটি বোরকা ও চার জোড়া হাত মোজা নিয়ে সাইক্লোন সেন্টারের তৃতীয় তলায় রাখে। শাহাদত হোসেন শামীম, জাবেদ ও জোবায়ের সাড়ে ৯টার দিকে বোরকা ও হাত-মোজা পরিধান করে সেখানে অবস্থান নেয়।

নুসরাত পরীক্ষা দিতে এলে পরিকল্পনা মতো উম্মে সুলতানা পপি নুসরাতকে তার বান্ধবীকে মারধরের কথা বলে। নুসরাত দৌড়ে ছাদে যেতে থাকে। দ্বিতীয় তলায় পৌঁছালে পপি নুসরাতকে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মামলা তুলে নিতে বলে ও ভয় দেখায়। নুসরাত মামলা তুলবে না বলতে বলতে ছাদে উঠলে কামরুন্নাহার মনি, শাহাদত হোসেন শামীম, জোবায়ের ও জাবেদ নুসরাতের পিছনে ছাদে যায়। সেখানে তারা নুসরাতকে একটি কাগজে স্বাক্ষর দিতে বললে নুসরাত অস্বীকৃতি জানায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শাহাদত হোসেন শামীম বাম হাত দিয়ে নুসরাতের মুখ চেপে ধরে ও পপিকে বলে নুসরাতের বোরকার মধ্য থেকে ওড়না নেওয়ার জন্য।

পপি ওড়না নিয়ে জুবায়েরকে দেয়। জুবায়ের ওড়নার এক অংশ দিয়ে পা বাঁধে ও পপি হাত বাঁধে। এরপর পপি, মনি ও শামীম তাকে শুইয়ে ফেলে। আর জাবেদ কেরোসিন ঢালে নুসরাতের শরীরে। শামীমের ইঙ্গিতে জুবায়ের তার কাছে থাকা দেয়াশলাই দিয়ে আগুন ধরিয়ে দ্রুত বেরিয়ে যায়। শামীম জবানবন্দিতে বলেছে, নুসরাতের মুখ ও পা চেপে ধরায় সে সব স্থানে কেরোসিন দেওয়া যায়নি।

নারী নির্যাতন জাতীয় উন্নয়নের পথে সবচেয়ে বড় বাঁধা : আইনমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, নারীর মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় বাংলাদেশের সংবিধান পুরুষের সাথে নারীর সমঅধিকার প্রদান করলেও জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়া নারীরা প্রায় প্রতিনিয়ত পারিবারিক ও সামাজিকভাবে বঞ্চনা ও নির্যাতনের শিকার হন। আর এই নারী নির্যাতন হচ্ছে আমাদের কাঙ্খিত জাতীয় উন্নয়নের পথে সবচেয়ে বড় বাঁধা। তাই প্রথমবার সরকার গঠন করেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার এই বাঁধা দূর করার জন্য বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। যার মধ্যে অন্যতম পদক্ষেপ ছিল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আধুনিকায়ন।

রোববার ঢাকায় বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পাবলিক প্রোসিকিউটদের বিশেষ প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি। প্রশিক্ষণে ৪৪ জন প্রোসিকিউটর অংশ নেন।

মন্ত্রী বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালগুলোতে বিচারাধীন মামলাগুলো দ্রæত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে পূর্বের ৫৪টি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাশাপাশি ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে ২৯টি জেলায় আরো ৪১টি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল স্থাপন করে সেগুলোতে বিচারক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নতুন ৪১টি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল স্থাপনের মাধ্যমে বিচারপ্রার্থী জনগণের মনে নতুন করে আশা জেগেছে যে, তারা স্বল্প সময়ে, স্বল্প ব্যয়ে ও সহজে ন্যায় বিচার পাবেন। আমার বিশ্বাস, সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতায় আমরা তাঁদের এই নতুন আশা পূরণ করতে সক্ষম হবো। আমাদের খুশির খবর হলো, বিগত এক বছরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালগুলোতে নতুন করে মামলা জট তৈরি হয়নি বরং বিচারাধীন ১,৮৩১টি মামলা কমেছে। গত দুই বছরের মামলার পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৮ সালের মার্চ মাসে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালগুলোতে বিচারাধীন মামলা ছিল ১ লাখ ৬৬ হাজার ৩৮২টি। ২০১৯ সালের একই সময়ে এসে সেখানে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৫৫১টি।

আনিসুল হক বলেন, আমাদের মামলাজট কমিয়ে অবশ্যই গ্রহণযোগ্য মাত্রায় আনতে হবে এবং এটিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিতে হবে। আমরা কোন বিচারপ্রার্থীকে বছরের পর বছর ন্যায়বিচার পাওয়ার জন্য আদালতের বারান্দায় ঘুরতে দেখতে চাইনা। কারণ বিলম্বিত বিচারে বিচারপ্রার্থী জনগণ যেমন আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন তেমনী তার ন্যায়বিচার পাওয়ার পথ সংকুচিত হয়। অপরাধীর পাড় পেয়ে যাওয়ার পথ সুগম হয় এবং তারা নতুন করে অপরাধ করতে উৎসাহিত হয়। এতে সমাজের অন্যরাও অপরাধ করতে দ্বিধাবোধ করে না। অপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া থেকে পাড় পেয়ে যাওয়ার পরিণাম যে কত ভয়াবহ তা সমাজে ক্রমবর্ধমানহারে ঘটে যাওয়া ধর্ষণের পরিসংখ্যান থেকে বুঝা যায়। দেখা গেছে ধর্ষণ মামলায় শেষ পর্যন্ত নগণ্য সংখ্যক আসামীর সাজা হয়। বাকীরা প্রভাব-প্রতিপত্তি, তদন্তে দীর্ঘসূত্রতা, সাক্ষ্য গ্রহণের সময় ভিকটিমকে হয়রাণি, সাক্ষ্য প্রমাণের অভাব, বাদী পক্ষের সঙ্গে আসামী পক্ষের সমঝোতা ইত্যাদি কারণে পাড় পেয়ে যাচ্ছে। ফলে সমাজে ধর্ষণের মতো ঘৃণিত কাজ বেড়েই চলেছে এবং সম্প্রতি সমাজের শিক্ষিত লোকের মাধ্যমেই এই ঘৃণিত কাজ বেশি চলছে।

তিনি বলেন, আধুনিক কালে উন্নত বিশ্বে অপরাধ বিজ্ঞান ও উন্নয়ন তত্তে¡র মধ্যে বিপরীতমুখী সম্পর্ক অর্থাৎ উন্নয়ন বাড়লে অপরাধ বা অপরাধ প্রবণতা কমবে এবং উন্নয়ন কম হলে অপরাধ বা অপরাধ প্রবণতা বাড়বে- এই সম্পর্ক সুপ্রতিষ্ঠিত হলেও বাংলাদেশে উন্নয়ন ও অপরাধ সমানতালে চলছে। তাই যে কোন উপায়ে আমাদের অপরাধ বা অপরাধ প্রবণতা কমাতে হবে। নইলে আমাদের উন্নয়নের মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে। তাই বিচার ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আমার বিশেষ অনুরোধ, আপনারা দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে দ্রæততম সময়ে ন্যায়বিচার প্রদানে সহায়তা করে অপরাধ দমনে এগিয়ে আসুন। একজন অপরাধীও যাতে আইনের ফাঁক-ফোঁকর দিয়ে বিচার এড়াতে না পারে সে ব্যাপারে সজাগ থাকবেন। ‘‘অপরাধ করলে শাস্তি ভোগ করতে হবে’’ এই নীতি নিয়ে এগিয়ে চলবেন। দেখবেন তাহলেই সামাজিক অপরাধ কমতে থাকবে, সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরে আসবে, জনগণ উন্নয়নের পুরো সুফল ভোগ করতে পারবে।

বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে প্রোসিকিউটরদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনাদেরকে অবশ্যই আদালতের সময় ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সকল নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। আদালতে সঠিক সময়ে সাক্ষী হাজিরসহ নির্ধারিত তারিখে সাক্ষী পরীক্ষা করার ক্ষেত্রে সচেষ্ট হতে হবে। সর্ব অবস্থায় আদালতের নির্দেশনা পালন করে আদালতের মামলা ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়াকে সহায়তা করতে হবে। তাছাড়া মামলা জট কমানোর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে।

একবিংশ শতাব্দীর সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার জন্য বিচার বিভাগকে আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যেই অনেক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় এসডিজি এবং ভিশন ২০২১ এর লক্ষ্যসমূহ অর্জনের জন্য আইন মন্ত্রণালয় বিচার বিভাগকে সব ধরণের সহযোগিতা প্রদান করে আসছে। আমরা উচ্চ আদালতের মতো অধস্তন আদালতেও একটি প্রোসিকিউশন সার্ভিস গঠন করার কথা ভাবছি। খুব সহসাই আমরা এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনার আলোকে পদক্ষেপ গ্রহণ করব। আপনাদের ভাতা বৃদ্ধিসহ সার্বিক সুযোগসুবিধা অপ্রতুল এবং এ বিষয়ে সরকার অবগত। তাই আপনাদের ভাতা ও সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধির কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।

প্রশিক্ষণ শেষে নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরে গিয়ে উন্নত নৈতিকমান ও পেশাদারিত্ব বজায় রেখে আন্তরিকতার সাথে মামলা পরিচালনা করার আহবান জানিয়ে প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বিচারপ্রার্থী জনগণ আপনাদের নিকট যেন সবরকম সহোযোগিতা পায় সে বিষয়ে সজাগ থাকবেন। আপনারা জানেন যে, সরকার দুর্নীতির ক্ষেত্রে জেরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। সেজন্য আদালত অঙ্গনে দুর্নীতি সংক্রান্ত সকল প্রথাগত কর্মকাÐ পরিহার করে সততা, স্বচ্ছতা এবং সাহসিকতার সমন্বয়ে দায়িত্ব পালন করবেন। তাহলেই জনগণের প্রত্যাশিত স্বল্প সময়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে এবং বিচার বিভাগের প্রতি সাধারণ জনগণের আস্থা বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে।

বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক বিচারপতি খোন্দকার মূসা খালেদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হকও বক্তৃতা করেন।

উপদেষ্টা সম্পাদক : মো: রেজাউল ওয়াদুদ উপদেষ্টা সম্পাদক : শহীদুল ইসলাম পাইলট উপদেষ্টা সম্পাদক : আহমেদ আবু জাফর উপদেষ্টা সম্পাদক : মুহাম্মদ আওলাদ হোসেন সম্পাদক : মো: আবু বক্কর তালুকদার ৩৭০/৩,কলেজ রোড,আমতলা,আশকোনা,ঢাক-১২৩০