Home / অর্থনীতি

অর্থনীতি

সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে মসলার দাম

পেঁয়াজের আদা-রসুন

সুমাইয়া আক্তার : আজ রাজধানীর বাজারগুলো ঘুরে দেখা যায়, সপ্তাহের ব্যবধানে পণ্যগুলোর দাম বেড়েছে কেজিতে দশ টাকা থেকে শুরু করে ৩০ টাকা পর্যন্ত।

কেজিপ্রতি আদা-রসুন ও কাঁচা মরিচ ১০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে ব্যবসায়ীদের।

। ঈদুল আজহার এক সপ্তাহ আগে পেঁয়াজ বাড়তি দামে বিক্রি হলেও ঈদের পরপরই দাম কিছুটা কমতে থাকে। একইভাবে দাম কমে আদা-রসুন ও কাঁচা মরিচের। তবে সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে পেঁয়াজ-রসুন-আদাসহ মসলার দাম।

বিক্রেতারা বলছেন, ঈদের পরে পাইকারি বাজারে মালামাল সংকট থাকায় দাম বাড়তি রয়েছে। যার প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। রাজধানীর খিলগাঁও, মালিবাগ, মতিঝিল টিঅ্যান্ডটি কাঁচাবাজার, শান্তিনগর ও সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজার ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে।

এসব বাজারে প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি করতে দেখা গেছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে। যা এক সপ্তাহ আগে বিক্রি হয়েছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে। ভারত থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৫৫ টাকা কেজি দরে। যা এক সপ্তাহ আগে বিক্রি হয়েছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে। একইভাবে কেজিপ্রতি ১৫ থেকে ২৫ টাকা বাড়তি দরে বিক্রি হচ্ছে রসুন। এসব বাজারে দেশি রসুন বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা, ভারত থেকে আমদানি করা রসুন ২০০ থেকে ২১০ টাকা কেজি দরে। এছাড়া প্রতিকেজি আদার দাম বেড়েছে ১০ টাকা। দেশি আদা ২০০ থেকে ২১০ টাকা, আমদানি করা আদা (মোটা) ২০০ থেকে ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।

এদিকে, ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরের কাঁচা মরিচ এখন ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

এসব বাজারের বিক্রেতারা বলছেন, ঈদের পর নতুন করে বাজারে মালামাল না আসায় সংকট দেখা দিয়েছে। এতে মোকামে সব মালের দাম চড়া হওয়ায় খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়েছে।

ক্রেতারা বলছেন, ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট নানা অজুহাতে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন। এতে তারা লাভবান হলেও ক্ষতিগ্রস্ত হতে হয় আমাদের।

পলি আশরাফ নামে শান্তিনগর বাজারের এক ক্রেতা বলেন, ঈদের আগে সরকারিভাবে বাজার তদারকি করায় দাম কিছুটা নিয়ন্ত্রণে ছিল। এখন তদারকি নাই এজন্য ব্যবসায়ীরা নানা অজুহাতে আবার দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।

খিলগাঁও বাজারের ব্যবসায়ী শাহজাহান বলেন, এখন মোকামে মালামাল সরবরাহ নাই, প্রতি ঈদের পর এ পরিস্থিতি হয়। এজন্য মোকামে দাম বেশি যার প্রভাব খুচরা বাজারে পড়েছে। তবে পাইকারি বাজার থেকে খুচরা বাজারে আহামরি দাম বাড়েনি।

তবে অপরিবর্তিত আছে জিরা, জয়ত্রী, গোল মরিচ, এলাচ দারুচিনির দাম। এসব বাজারে প্রতিকেজি এলাচ বিক্রি হচ্ছে ২৭০০ থেকে ২৮০০ টাকা কেজি, জয়ত্রী বিক্রি হচ্ছে ২৫০০ থেকে ২৬০০ টাকায়, লবঙ্গ বিক্রি হচ্ছে ৮৫০ টাকায়, গোল মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৫৮০ থেকে ৬০০ টাকায়, জিরা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায়, দারুচিনি ৪৫০ টাকায়। খোলা হলুদ ও মরিচ ২০০ থেকে ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভ থেকে ঋণ দেবে

বাংলাদেশ ব্যাংক

সিলেট টুয়েন্টিফোর এক্সপ্রেস ডেস্ক : বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে প্রথমবারের মতো স্বল্পমেয়াদি ঋণ দিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিশ্বব্যাপী চলমান প্রথা ভেঙে প্রাথমিকভাবে শুধু ইউরো মুদ্রায় ঋণ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। মাত্র আড়াই শতাংশ সুদে মূলধনি যন্ত্রপাতি, শিল্পে ব্যবহূত কাঁচামালসহ কয়েকটি পণ্য আমদানির জন্য ঋণ পাবেন উদ্যোক্তারা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদনের পর এ বিষয়ে নীতিমালা তৈরির কাজ প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে এসেছে। বিশ্নেষকরা বলছেন, বর্তমানে বিশ্বের কোনো দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের ঋণ দেওয়ার কোনো প্রচলন নেই। তাছাড়া এটা ঝুঁকিপূর্ণ।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের গত ১ জুলাইয়ের বৈঠকে রিজার্ভ থেকে ইউরো মুদ্রায় ঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে বলা হয়, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে সংঘটিত ইউপাস বা ডেফার্ড এলসির বিপরীতে ইউরো মুদ্রায় উচ্চ সুদে ঋণ নেওয়ার ফলে দেশের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রার বহিঃপ্রবাহ বাড়ছে। এই বহিঃপ্রবাহ রোধ করতে ইউরোতে বিনিয়োগ প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। তবে এ ক্ষেত্রে বিভাগীয় পর্যায়ে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করে গভর্নরের অনুমোদন নিতে বলা হয়।

সংশ্নিষ্টরা জানান, সিদ্ধান্তের আলোকে নীতিমালা তৈরির কাজ প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। নীতিমালার একটি খসড়া এখন গভর্নরের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এটি অনুমোদন হলে আগ্রহী ব্যাংককে প্রথমে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ফরেক্স রিজার্ভ অ্যান্ড ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সঙ্গে একটি অংশগ্রহণমূলক চুক্তি করতে হবে। ব্যাংকগুলো গ্রাহক পর্যায়ে ঋণ দিয়ে এরপর বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে অর্থ তুলে নেবে। গ্রাহক পর্যায়ে সুদহার ধার্য হবে ইউরো ইন্টার ব্যাংক অফার রেট (ইউরিবর) অনুযায়ী। এর সঙ্গে যোগ হবে আড়াই শতাংশ। ইউরিবর যদি ঋণাত্বক হয় সে ক্ষেত্রে শূন্য ধরে আড়াই শতাংশ সুদ হিসাব করা হবে। তার মানে বর্তমানে গ্রাহকরা আড়াই শতাংশ সুদে ঋণ পাবেন। অফশোর ব্যাংকিং থেকে বৈদেশিক মুদ্রায় বিদ্যমান স্বল্পমেয়াদি (ইউপাস ও ডেফার্ড) ঋণের আলোকে প্রতিষ্ঠানগুলো সর্বোচ্চ এক বছরের জন্য ঋণ নিতে পারবে। শুধু মূলধনি যন্ত্রপাতি, শিল্পে ব্যবহূত কাঁচামাল, সমুদ্রগামী নৌযান, কৃষি উপকরণ, লৌহ এবং অপ্রক্রিয়াজাত তেল, চিনি ও গম আমদানিতে এ ঋণ দেওয়া হবে।

জানতে চাইলে বিশ্ব ব্যাংকের ঢাকা অফিসের লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন সমকালকে বলেন, রিজার্ভ জাতীয় সম্পদ। এটা রাখা হয় মুনাফা করার জন্য নয়, বিপদে-আপদে আমদানিতে ব্যবহারের জন্য। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের ঋণ দেওয়ার কথা আগে কখনও শুনিনি। এটা ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত। রিজার্ভ ব্যবস্থাপনাকে ঝুঁকিতে ফেলবে। ইউরো মুদ্রায় লোকসান ঠেকানোর জন্য স্থানীয় উদ্যোক্তাদের ঋণ না দিয়ে অন্য বিদেশি মুদ্রায় এটা রাখা যেত। সব অর্থ নগদে না রেখে বন্ডেও খাটানো যেত। যুক্তরাষ্ট্র এখন দীর্ঘমেয়াদি ট্রেজারি বিলের তুলনায় স্বল্পমেয়াদি ট্রেজারি বিলে বেশি সুদ দিচ্ছে। সাময়িকভাবে সেখানে রেখে পরবর্তীতে ইউরোর পরিস্থিতি ভালো হলে আবার সেখানে বিনিয়োগ করা যেত। কেননা দেশীয় উদ্যোক্তাদের ঋণ নিয়ে পরিশোধ করার সংস্কৃতি খুব একটা ভালো না। সেখানে রিজার্ভ থেকে ঋণ দিয়ে সুদ-আসলে ফেরত পাওয়ার নিশ্চয়তা নিয়ে সংশয় আছে। এ অর্থ যদি ফেরত না আসে তাতে বাংলাদেশ ব্যাংক আর্থিকভাবে লোকসানে না পড়লেও দেশের ক্ষতি হবে।

এর আগে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের উদ্যোগের সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে অর্থ ব্যয়ের প্রসঙ্গ আসে। তৎকালীন গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেছিলেন, প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন করা হবে। তখন অর্থনীতিবিদসহ বিভিন্ন পক্ষ এ প্রস্তাবের সমালোচনা করে। এরপর রিজার্ভ থেকে অর্থ ব্যয়ের বিষয়টি আর এগোয়নি। এখন নতুন করে রিজার্ভ থেকে ইউরো মুদ্রা ঋণ হিসেবে দেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।

কেন ঋণ দেওয়ার উদ্যোগ : কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত জুন পর্যন্ত ইউরো মুদ্রায় বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ রয়েছে ১১ কোটি ৮০ লাখ। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ এক হাজার ১০৪ কোটি টাকা। ইউরো অঞ্চলে ধারাবাহিকভাবে সুদহার কমতে থাকায় ইউরো মুদ্রায় রক্ষিত বাংলাদেশের রিজার্ভ কমে লোকসানে পড়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। একই সময়ে দেশের অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটগুলো ইউরো জোনের বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ৪১ কোটি ২০ লাখ ইউরো ঋণ নিয়েছে। টাকার অঙ্কে যা ৩ হাজার ৮৫৬ কোটি। গড়ে ২ শতাংশ সুদে এসব ঋণ আনা হয়েছে। তবে ঝুঁকি প্রিমিয়ামসহ এসব ঋণের সুদহার দাঁড়াচ্ছে তিন থেকে সাড়ে তিন শতাংশ। এতে একদিকে দেশটিতে রক্ষিত অর্থে লোকসান হচ্ছে। আরেক দিকে তিন শতাংশের বেশি সুদে ঋণ আনছেন এখানকার উদ্যোক্তারা। এ রকম পরিস্থিতিতে রিজার্ভের বিকল্প বিনিয়োগের ব্যবস্থা না করলে লোকসান অব্যাহত থাকবে। আবার দেশ থেকে সুদসহ ইউরোর বহিঃপ্রবাহ চলতেই থাকবে। ফলে আমদানি দায় পরিশোধ, রফতানি বিল ডিসকাউন্টিং এবং বায়ার্স ক্রেডিট হিসেবে ইউরো মুদ্রা ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া যায় বলে ওই প্রতিবেদনে মন্তব্য করা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্নিষ্ট এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, বৈশ্বিক মন্দার পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৮ সালের নভেম্বর থেকে ইউরিবর কমতে থাকে। ২০১৫ সালের মে মাসে যা নেতিবাচক পর্যায়ে পৌঁছায়। এ পরিপ্রেক্ষিতে ইউরোপিয়ান কেন্দ্রীয় ব্যাংক তিন বছরমেয়াদি কর্মসূচির অধীনে প্রতি মাসে ৩০ বিলিয়ন ইউরোর সমমূল্যের বেসরকারি বন্ড কেনা শুরু করে। পরবর্তীতে মূল্যস্ম্ফীতির লক্ষ্য অর্জিত হওয়ায় ২০১৮ সালের অক্টোবর থেকে গত ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতি মাসে ১৫ বিলিয়ন ইউরোর বন্ড কেনা হয়েছে। তবে আইএমএফ ও অন্যান্য বৈশ্বিক সংস্থার সতর্কতামূলক পূর্বাভাস, ২০১৯-২১ মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের সুদহার স্থির রাখার ইঙ্গিত এবং আগামী অক্টোবরে ব্রেক্সিটের সম্ভাবনার ফলে সহসা সুদহার বৃদ্ধির সম্ভবনা নেই। এ রকম পরিস্থিতিতে ব্যাংকগুলোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় অংশগ্রহণমূলক চুক্তির মাধ্যমে ঋণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রিজার্ভের কী হবে :প্রতিটি দেশের আপদকালীন আমদানি ব্যয় মেটানোর জন্য বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রাখা হয়। বিভিন্ন দেশ রক্ষিত এই রিজার্ভের অর্থের বিপরীতে খুব সামান্যই মুনাফা পায়। নব্বইয়ের দশকে এশিয়া অঞ্চলে সংকট দেখা দিলে থাইল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এর রিজার্ভ থেকে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের ঋণ দিয়েছিল। এরপর ১৯৯৬ সালে একটি নীতিমালা করে আইএমএফ। সেখানে বলা হয়, স্থানীয় উদ্যোক্তাদের মাঝে বিতরণ করা ঋণ রিজার্ভে দেখানো যাবে না। বর্তমানে বাংলাদেশের রিজার্ভ রয়েছে ৩২ দশমিক ২৯ বিলিয়ন ডলার যা দিয়ে প্রায় সাড়ে ৬ মাসের আমদানি দায় মেটানো সম্ভব। বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের বর্তমানে রিজার্ভ রয়েছে ৩২০ বিলিয়ন ডলারের বেশি। এর আগে ২০১৭ সালের জুনে বাংলাদেশের রিজার্ভ প্রথমবারের মতো ৩৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছিল। তবে বর্তমানে সরবরাহের তুলনায় জোগান কম থাকায় রিজার্ভ কমে এ পর্যায়ে নেমেছে। ইউরো মুদ্রায় ঋণ দিলে সামান্য হলেও রিজার্ভ কমবে। তাছাড়া একবার নজির তৈরি হলে তখন ডলারেও ঋণ দেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর চাপ তৈরির আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্নিষ্টরা।

খেলাপি হলে কী হবে :সংশ্নিষ্টরা বলছেন, স্থানীয় মুদ্রার পাশাপাশি বিদেশ থেকে ঋণ নিয়ে খেলাপি হওয়ার নজির বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের মধ্যে রয়েছে। ফলে রিজার্ভ থেকে নেওয়া ঋণ খেলাপি হলে কী হবে। সুত্র বলছে, দ্বিপক্ষীয় চুক্তির বিপরীতে ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে অর্থ নিয়ে গ্রাহক পর্যায়ে ঋণ দেবে। নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে গ্রাহকের কাছ থেকে আদায় করে সুদসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা দেবে ব্যাংকগুলো। কোনো কারণে গ্রাহক খেলাপি হলে বা ব্যাংক নির্দিষ্ট সময়ে অর্থ ফেরত না দিলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে রক্ষিত সংশ্নিষ্ট ব্যাংকের চলতি হিসাব থেকে কেটে নেওয়া হবে। ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ খোয়া যাওয়ার আশঙ্কা নেই বললেই চলে।

সূত্র, সমকাল

ফেসবুক-গুগলকে ৯ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে গ্রামীণ-বাংলালিংক-রবি

সিলেট টুয়েন্টিফোর এক্সপ্রেস ডেস্ক : মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোন, বাংলালিংক ও রবি গত পাঁচ বছরে গুগল ও ফেসবুককে আট হাজার ৭৪৪ কোটি ১৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা দিয়েছে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) হাইকোর্টে দাখিল করা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) হাইকোর্টের বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে এ প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।

আদালতে বিটিআরসির পক্ষে প্রতিবেদন দাখিল করেন আইনজীবী একেএম আলমগীর পারভেজ। রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন রিটকারী আইনজীবী মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির পল্লব। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার কান্তি রায়।

শুনানিকালে বিটিআরসি’র সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগের উপ-পরিচালক প্রকৌশলী মো. নাহিদুল হাসান স্বাক্ষরিত ওই প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।

একই বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আরেকটি প্রতিবেদন দাখিল করেছে। কিন্তু এনবিআরের প্রতিবেদনে সন্তুষ্ট হননি হাইকোর্ট। তাই এনবিআরকে পুনরায় প্রতিবেদন দাখিলে ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত সময় বেধে দিয়েছেন হাইকোর্ট।

একইসঙ্গে ইন্টারনেটভিত্তিক সব ধরনের প্রতিষ্ঠান থেকে রাজস্ব আদায়ে কী কী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, তাও এনবিআরকে জানাতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

প্রসঙ্গত, এর আগে ২০১৮ সালের ৯ এপ্রিল সার্চ ইঞ্জিন গুগল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ ইন্টারনেটভিত্তিক সব ধরনের প্রতিষ্ঠানের রাজস্ব ফাঁকির বিরুদ্ধে রিট দায়ের করা হয়। রিট আবেদনে, ইন্টারনেটভিত্তিক সব প্রতিষ্ঠানকে করের আওতায় আনা, প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে পরিচালনার জন্য নীতিমালা প্রস্তুত করা, প্রতিষ্ঠানগুলো কী পরিমাণ টাকা নিচ্ছে তার জন্য বিশেষজ্ঞ কমিটি এবং সেই কমিটি দিয়ে বিগত ১০ বছরে কী পরিমাণ অর্থ নেওয়া হয়েছে তা নিরূপণের নির্দেশনা চাওয়া হয়।

হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় সুপ্রিম কোর্টের ছয় আইনজীবীর পক্ষ থেকে এই রিট দায়ের করা হয়। আইনজীবীরা হলেন- ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির, ব্যারিস্টার মোহাম্মদ কাউসার, অ্যাডভোকেট আবু জাফর মো. সালেহ, অ্যাডভোকেট অপূর্ব কুমার বিশ্বাস, ব্যারিস্টার মোহাম্মদ সাজ্জাদুল ইসলাম ও ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মাজেদুল কাদের।

৮৯৬ পোশাক কারখানায় এখনও বাস্তবায়ন হয়নি নতুন বেতন কাঠামো

পোশাক

অনলাইন ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গার্মেন্টস সেক্টরে নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণের পর গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম ও মৌলভীবাজার জেলার আওতাধীন ৩১২৬টি পোশাক কারখানার মধ্যে ২১৪৫টি কারখানায় নতুন বেতন কাঠামো নিশ্চিত করা হয়েছে।

এর মধ্যে ৮৫টি কারখানা বন্ধ রয়েছে। অবশিষ্ট ৮৯৬টি কারখানায় নতুন বেতন কাঠামো বাংলাদেশ শ্রম আইন ও বিধি বাস্তবায়নের কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে দাবি করেছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. মোল্লা জালাল উদ্দিন।

সম্প্রতি সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির তৃতীয় বৈঠকে একথা জানান তিনি। বৈঠকের কার্যপত্র থেকে এ তথ্য পাওয়া যায়। মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় পার্টির এমপি মুজিবুল হক চুন্নুর (কিশোরগঞ্জ-৩) সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান (খুলনা-৩), মো. কামরুল ইসলাম (ঢাকা-২), মো. নজরুল ইসলাম চৌধুরী (চট্টগ্রাম-১৪), মানু মজুমদার (নেত্রকোণা-১) ও শামসুন নাহার (মহিলা আসন-১৩) বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে ভারপ্রাপ্ত সচিব আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী পদক্ষেপ নেয়ার পর গার্মেন্টস সেক্টরে ন্যূনতম মজুরি ৫ হাজার ৩০০ টাকা হতে ৮ হাজার টাকা বাড়িয়ে চলতি বছরের ২৪ জানুয়ারি গেজেট প্রকাশ করা হয়। সার্বক্ষণিক শ্রম পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের লক্ষ্যে শ্রম অধিদফতর এবং কলকারখানা ও পরিদর্শন প্রতিষ্ঠান অধিদফতরের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে ২৯টি টিম গঠন করা হয়। এই টিম মনিটরিং করে এই তথ্য পেয়েছে।

বৈঠকের কার্যবিবরণী থেকে আরও জানা যায়, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা শাখার সিনিয়র সহকারী প্রধান সঞ্চয় কুমার সেন বলেন, ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে এডিপিভুক্ত প্রকল্পের বাস্তবায়িত অবস্থান কমিটিতে তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে মোট ১৪টি প্রকল্প রয়েছে। এর মধ্যে ৮টি বিনিয়োগকৃত প্রকল্প এবং ৫টি কারিগরি প্রকল্প এবং ১টি পিপিপি প্রকল্পের আওতায়। এ প্রকল্পের অনুকূলে বরাদ্দ ১৬৩ কোটি ১৮ লাখ টাকা । ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ১৩৯ কোটি ২৮ লাখ ২৫ হাজার টাকা। মোট অগ্রগতি ৮৫.৩৬ শতাংশ।

ভারপ্রাপ্ত সচিব বলেন, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আওতায় ‘বাংলাদেশে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত শিশুশ্রম নিরসন’ শীর্ষক প্রকল্পের ৩টি পর্যায়ে ১ লাখ ৯০ হাজার শিশু শ্রমিককে ১৮ মাসব্যাপী উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ও ৬ মাসব্যাপী দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে কর্মক্ষম করে তোলা হয়েছে। ৪র্থ পর্যায়ে ২০২০ সালের মধ্যে ১ লাখ শিশুকে ৬ মাসব্যাপী উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ও ৪ মাসব্যাপী নির্বাচিত ট্রেডে প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে কর্মক্ষম করে গড়ে তোলা পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

বৈঠকে মানু মজুমদার বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় চিঠি চালাচালির কারণে প্রকল্পের কাজে বিলম্ব হয়। তাই মন্ত্রণালয় কমিটির সহযোগিতা নিলে কমিটি মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে কাজটি অতিদ্রুত সম্পন্ন হতে পারে।

তিনি বলেন, কোনো শিশু যখন ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করে তারা অবশ্যই হতদরিদ্র পরিবারের ছেলে-মেয়ে এবং তাদের রুজি-রোজগার দিয়ে পরিবারের ব্যয় নির্বাহ করে। এই রুজি-রোজগার করা শিশুটিকে পরিবার থেকে আলাদা করলে হতদরিদ্র পরিবারটির অবস্থা কী হবে? শিশুটিকে আলাদা করে এ প্রকল্পের আওতায় নিয়ে আসলে তাদের জন্য কোনো বেতন-ভাতার ব্যবস্থা আছে কি-না জানতে চান।

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা শাখার সিনিয়র সহকারী প্রধান সঞ্জয় কুমার সেন বলেন, ৩৮টি কাজকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। জাতীয় পর্যায় থেকে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত শিশুশ্রম নিরসন কমিটি রয়েছে। সেখানে এখন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে জানান।

তিনি আরও জানান, ঝুঁকিপূর্ণ শিশুটিকে শিক্ষা গ্রহণকালীন বৃত্তি বাবদ প্রতিমাসে ১ হাজার টাকা করে প্রদান করা হয়ে থাকে ।

মানু মজুমদার বলেন, একটি শিশু যদি কর্মস্থলে ৫ হাজার টাকা পায়, সেখানে শিক্ষা গ্রহণকালীন ১ হাজার টাকা বাবদ বৃত্তি প্রদান করলে ওই হতদরিদ্র পরিবারটির চলতে সমস্যা হবে। একটি হতদরিদ্র পরিবারের প্রয়োজনে তার শিশুটি ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করে থাকে। শিশুটিকে যদি তাদের কর্মস্থল থেকে নিয়ে আসা হয় সেখানে পরিবারটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়তে পারে। সেক্ষেত্রে কোন যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে কি-না বলে তিনি জানতে চান।

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা শাখার সিনিয়র সহকারী প্রধান সঞ্জয় কুমার সেন জানান, প্রজেক্ট যখন ডিজাইন করা হয় তখন প্রতিটি ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারের জন্য ২৫ হাজার টাকা করে রাখা হয়েছিল।

তিনি বলেন, প্রতি পরিবারকে যদি ২৫ হাজার টাকা করে দেয়া হতো, তা হলে ওই টাকা থেকে প্রতিমাসে তারা ৩ হাজার টাকা আয় করতে পারতো। কিন্তু পরবর্তীতে প্লানিং কমিশন সেটা বাতিল করে দেন। তবে যেসব ঝুঁকিপূর্ণ শিশুরা বিভিন্ন ট্রেডে ভালো ফলাফল করে থাকে তাদের পরিবারের জন্য এককালীন ২৫ হাজার টাকা বৃত্তি প্রদান করা হয়।

এ প্রসঙ্গে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. রেজাউল হক বলেন, বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ী শিশুরা কোনো কর্মে নিযুক্ত হতে পারবে না। পাশাপাশি এসডিজি অনুযায়ী ২০২৫ সালের মধ্যে সব ধর্মের শিশুকে শিশুশ্রম থেকে মুক্ত করতে হবে বলে শিশুশ্রম আইনে উল্লেখ রয়েছে। এ কারণেই এই ধরনের প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে এবং অন্যান্য কিছু মন্ত্রণালয়ও এ কাজে যুক্ত রয়েছে।

বিমানকে আবারও রিজার্ভের অর্থ

বিমানকে আবারও রিজার্ভের অর্থ

সিলেট টুয়েন্টিফোর এক্সপ্রেস ডেস্ক : বাংলাদেশ বিমানের উড়োজাহাজ ও খুচরা যন্ত্রাংশ কিনতে রিজার্ভ থেকে অর্থ দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ জন্য সোনালী ব্যাংককে কয়েক ধাপে রিজার্ভ থেকে দেওয়া হবে ২১ কোটি ৫০ লাখ ব্রিটিশ পাউন্ড। যার পরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রায় ২ হাজার ২৬১ কোটি টাকা। এই অর্থে বাংলাদেশ বিমানের জন্য দুটি বোয়িং ৭৮৭-৮ উড়োজাহাজ ও খুচরা যন্ত্রাংশ কেনার দায় শোধ করা হবে (প্রতি পাউন্ড ১০৫ টাকা ১৬ পয়সা)।

বাংলাদেশ ব্যাংক গত ১৭ জুলাই প্রথম ধাপের ৯ কোটি ৯১ লাখ পাউন্ড সোনালী ব্যাংকে জমা করেছে। নিউইয়র্কের স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকে পরিচালিত সোনালী ব্যাংকের হিসাবে এ পাউন্ড জমা হয়েছে। আরও ৬ কোটি ২০ লাখ পাউন্ড জমার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বাকি অর্থ পরবর্তী সময়ে দেওয়া হবে। বাংলাদেশ বিমানের উড়োজাহাজ ও যন্ত্রাংশের কেনাকাটা মূলত ডলারে করা হয়। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভ থেকে সোনালী ব্যাংককে যে অর্থ দিচ্ছে, তা যুক্তরাজ্যের ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন হবে। তাই এই অর্থ পাউন্ডে দেওয়া হচ্ছে।

এর আগেও বাংলাদেশ ব্যাংক বিমান কিনতে রিজার্ভ থেকে সোনালীসহ বিভিন্ন ব্যাংককে অর্থ দিয়েছিল। তবে সেটা ছিল স্বল্প মেয়াদি। এবারই প্রথম ১০ বছর মেয়াদে রিজার্ভ থেকে সোনালী ব্যাংককে এত অর্থ দেওয়া হচ্ছে। যদিও সোনালী ব্যাংকের কাছে আগের বকেয়া রয়ে গেছে এখনো। দীর্ঘ মেয়াদে রিজার্ভ থেকে বিমানকে অর্থ দেওয়ার জন্য বিশেষ অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ।

জানতে চাইলে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এবি মির্জ্জা মো. আজিজুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, সামষ্টিক অর্থনৈতিক দৃষ্টিতে এতে কোনো ঝুঁকি নেই। কারণ, ৩২ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভ আছে, যা দিয়ে ৬ মাসের দায় শোধ হবে। তবেসোনালী ব্যাংকের জন্য ঝুঁকি আছে। তারা আদৌ বিমান থেকে টাকা পাবে কি না সন্দেহ আছে। কারণ, বিমানের কর্মকর্তারা অদক্ষ ও দুর্নীতিতে জড়িত। সরকার যেহেতু গ্যারান্টি দিচ্ছে, তাই দায় শেষ পর্যন্ত সরকারের ওপরেই যাবে।

বিমান এমনিতেই বড় ধরনের পুঁজির সংকটে পড়েছে। প্রতিষ্ঠানটি এরই মধ্যে ঋণ নেওয়ার যোগ্যতাও হারিয়েছে। বিমানের হিসাব শাখার তথ্য অনুযায়ী, বিমানের মূলধন ২ হাজার ৮২ কোটি টাকা। এর বিপরীতে ঋণ ৫ হাজার ৬৬ কোটি টাকা। নতুন চার উড়োজাহাজ কিনতে নেওয়া ঋণ যুক্ত করলে এটা বেড়ে দাঁড়াবে ৯ হাজার কোটি টাকায়।

জানা গেছে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং কোম্পানির সঙ্গে ১০টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করে। সর্বশেষ ড্রিমলাইনারটি আগামী সেপ্টেম্বরে দেশে আসতে পারে।

গত ১৮ জুলাই সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, বাংলাদেশ বিমানকে ১০ বছর মেয়াদে ২১ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড ঋণ প্রদানের জন্য স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের হিসাবে প্রথম কিস্তির ৯ কোটি ৯১ লাখ পাউন্ড জমা করা হয়েছে। এতে আমানতের সুদহার হবে ৬ মাস মেয়াদি লন্ডন আন্তব্যাংক সুদহারের সঙ্গে বাড়তি ১ দশমিক ৫ শতাংশ।

ঋণ দেওয়ার পাশাপাশি সোনালী ব্যাংককে বেশ কিছু পরামর্শও দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর মধ্যে রয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে রাষ্ট্রীয় সার্বভৌম গ্যারান্টি গ্রহণ করে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেওয়া। আমানতের কিস্তি পরিশোধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া। এ ছাড়া আগের ৫৬২ কোটি টাকা আমানত রাখার সময় যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছিল, তার আদলে নতুন করে একটি এমওইউ স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়া, আর আগের আমানতের বকেয়া ২৮৪ কোটি টাকা দ্রুত ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সূত্র জানায়, নতুন করে সোনালী ব্যাংককে বরাদ্দ দেওয়ার পর সেখান থেকে পুরোনো পাওনা সমন্বয় হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক ২০০৯ সালে প্রথমবারের মতো রিজার্ভ থেকে বিমান কিনতে অর্থ দেয়। ওই সময়ে বিমান কিনতে ইস্টার্ণ ব্যাংকের নেতৃত্বে ১০টি ব্যাংককে দেওয়া হয় ১১ কোটি ৫০ লাখ ডলার। এরপর বিমানের ঋণ ব্যবস্থাপনা চলে যায় পুরোপুরি সোনালী ব্যাংক ও লন্ডনের সোনালী ব্যাংকে।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা রিজার্ভের অর্থ বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন মুদ্রায় বিনিয়োগ করি, আমানত হিসেবেও রাখি। এর বিনিময়ে সুদ পাই। এবারও বিমান কেনার জন্য সোনালী ব্যাংকে পাউন্ডে আমানত রাখা হচ্ছে। এতেও সুদ মিলবে। রাষ্ট্রীয় সার্বভৌম গ্যারান্টির বিপরীতে সোনালীতে আমানত রাখা হচ্ছে।’

আগরতলা স্থলবন্দরে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাণিজ্য বন্ধ

আগরতলা স্থলবন্দরে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাণিজ্য বন্ধ

সিলেট টুয়েন্টিফোর এক্সপ্রেস ডেস্ক : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া সীমান্তের ওপারে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলা আন্তর্জাতিক স্থলবন্দরে চালু হতে যাচ্ছে ইলেকট্রনিক ডেটা ইন্টারচেঞ্জ (ইডিআই) পদ্ধতি। নতুন এই নিয়মের ‘গ্যাঁড়াকলে’ পড়েছেন বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা।

ঈদুল আজহা উপলক্ষে ৬ দিন আমদানি-রফতানি বাণিজ্য বন্ধ থাকার পর শনিবার ফের শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রয়েছে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য।
ত্রিপুরায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনার কীরিটি চাকমার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা। তারা  জানান, ভারতে রফতানির অপেক্ষায় পচনশীল পণ্যবোঝাই অর্ধশতাধিক ট্রাক আখাউড়া বন্দরে আটকা পড়ে আছে।

নতুন নিয়ম চালু হওয়ার আগ পর্যন্ত আগের নিয়মে আটকে পড়া ট্রাকগুলো গ্রহণ করার জন্য ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানানো হয়েছে। নতুবা বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

ভারতীয় কাস্টমস ও একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, আগরতলা কাস্টমস হাউসে ইডিআই জটিলতায় অনির্দিষ্টকালের জন্য এ পথে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য বন্ধ রয়েছে। বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই ভারতীয় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ আগরতলা বন্দরে ইডিআই ব্যবস্থা চালু করায় ‘মুখ থুবড়ে’ পড়েছে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য। বন্ধ রয়েছে মাছ রফতানিও।

ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বলছে, আখাউড়া-আগরতলা স্থলবন্দর সীমান্ত পথে ত্রিপুরা হয়ে পূর্বোত্তর ভারতে বাণিজ্য করতে হলে ব্যবসায়ীদেরকে অবশ্যই ইডিআই ব্যবস্থা মেনে কাজ করতে হবে।

ভারতীয় কর্তৃপক্ষের নিয়োগ দেয়া ডাটা অপারেটর কাস্টমস হাউস এজেন্সিকে (সিএইচএ) বিষয়টি দেখভালের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। আখাউড়া স্থলবন্দর সিএন্ডএফ অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি মোবারক হোসেন ভূঁইয়া ও ভুক্তভোগী একাধিক ব্যবসায়ী জানান, ভারতীয় কাস্টমস কর্তৃপক্ষের ইডিআই জটিলতায় বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েছেন। পচনশীল পণ্যসহ মালবোঝাই অর্ধশতাধিক ট্রাক ভারতে খালাসের অপেক্ষায় আটকা পড়েছে আখাউড়া বন্দরে। ক্ষতির মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।

পুঁজিবাজার চাঙ্গা করতে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে চাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী

সিলেট টুয়েন্টিফোর এক্সপ্রেস ডেস্ক : সরকার পুঁজিবাজারকে চাঙ্গা করতে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে চাচ্ছে। গত ছয় মাসে ব্যাপক দরপতনের কারণে পুঁজিবাজার ৪৮ হাজার ৬২৫ কোটি টাকা মূলধন হারিয়েছে। এতে করে অনেক বিনিয়োগকারীর এখন পথে বসার অবস্থা!

সমন্বিত উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো বিদেশি ঋণ বা বিনিয়োগ নিয়ে এলে অবশ্যই শেয়ার বাজারে সেই কোম্পানি লিস্টেট হতে হবে। আগে থেকেই ব্যাংকের বিনিয়োগ বাড়ানো, স্টক মার্কেটে বিনিয়োগের জন্য ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) কাজে লাগানো, প্লেসমেন্টের নৈরাজ্য বন্ধ, নতুন তালিকাভুক্ত কোম্পানির উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের শেয়ার বিক্রির চাপ কমানোর পদক্ষেপ, দুর্বল কোম্পানির প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) ঠেকানোর উদ্যোগসহ নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো।

সমন্বিত উদ্যোগের অংশ হিসেবে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল সরকারি নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে গত কয়েক মাসের শেয়ার ক্রয়-বিক্রয়ের তথ্য চেয়েছে।

এছাড়াও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগকে বলা হয়েছে, আইসিবির পোর্টফোলিও ম্যানেজমেন্ট কমিটি এ পর্যন্ত কি ধরনের কার্যক্রম গ্রহণ করেছে তার বিস্তারিতভাবে জানানোর তাগাদা দেয়া হয়েছে।কয়েক বছর আগে কর্পোরেশনের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালককে সভাপতি করে সাত সদস্যবিশিষ্ট একটি পোর্টফোলিও ম্যানেজমেন্ট কমিটি করা হয়েছিল।

এ কমিটি পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং উন্নয়নের লক্ষ্যে যেসব শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় করা হয়, সেগুলোর শেয়ারভিত্তিক যৌক্তিকতাসহ পোর্টফলিও ম্যানেজমেন্ট কমিটির একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে আগামী সপ্তাহের মধ্যে পাঠানোর নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়েছে।

আইসিবির পোর্টফোলিও ম্যানেজমেন্ট কমিটি বেসরকারি ব্যাংকসহ সরকারি সোনালী, জনতা এবং অগ্রণী ব্যাংক যাতে দেশের স্টক মার্কেটে আসতে পারে সেই জন্য এই কমিটি এক সময় কাজ করেছিল।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সহকারী সচিব মো. মখফার উদ্দিন খোকন স্বাক্ষরিত চিঠিতে সর্বশেষ তিনমাসের তথ্য-উপাত্ত প্রমাণসহ পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন এক সপ্তাহের মধ্যে আইসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালককে জমা দিতে বলা হয়েছে।

সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল অনমনীয় ঋণবিষয়ক কমিটির বৈঠকে সরকারের লাভজনক কোম্পানি বি-আর পাওয়ারজেন লিমিটেড শ্রীপুরে ১৫০ মেঃ ওঃ ক্ষমতাসম্পন্ন পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপনের জন্য জার্মান ব্যাংককে এফডাব্লুআইপি এর কাছ থেকে ঋণ নেয়ার বিষয়টি অনুমোদন দেয়। বৈঠক শেষে তিনি বলেন, সরকারি সব লাভজনক প্রতিষ্ঠান শেয়ার বাজারে যাতে আসে তার ব্যবস্থা করবো। অর্থমন্ত্রী আশা করছেন, এভাবেই ধীরে ধীরে সরকারি কোম্পানির শেয়ার পুঁজিবাজারের চাহিদা মোতাবেক আসতে থাকবে।

অর্থমন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশে অন্যতম প্রধান দুই বহুজাতিক কোম্পানি ইউনিলিভার ও অ্যাভেন্টিসে সরকারের শেয়ার রয়েছে যথাক্রমে ৩৯ দশমিক ১ শতাংশ এবং ৪৫ শতাংশ ৩৬ শতাংশ। এই কোম্পানি দুটোকে দেশের পুঁজিবাজারে শেয়ার ছাড়ার জন্য বেশ কয়েকবার অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু তারা সেই অনুরোধে কোনোরূপ সাড়া দেয়নি।

সরকারি মোট ২৫টি কোম্পানির শেয়ার বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল ২০১০ সালে। নয় বছর পার হলেও কোম্পানিগুলো শেয়ার ছাড়তে পারেনি। কবে ছাড়া হতে পারে, সেটিও নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারছেন না।

কোম্পানিগুলোর মধ্যে অন্যতম বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লিমিটেড বা বিটিসিএল, সোনারগাঁও হোটেল, ছাতক সিমেন্ট ফ্যাক্টরি, লিকুফাইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস লিমিটেড বা এলপিজিএল, সিলেট গ্যাস ফিল্ড, নর্থওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি, বাখরাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড, গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেড, জালালাবাদ গ্যাস সিস্টেম লিমিটেড, পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড, বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ড লিমিটেড, রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড।

এ কোম্পানিগুলোর মধ্যে নয়টি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের। বিদ্যুৎ বিভাগের চারটি। পাঁচটি শিল্প মন্ত্রণালয়ের। পর্যটন মন্ত্রণালয়ের তিনটি। এ ছাড়া ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের চারটি।

অর্থমন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের জুনের মধ্যে ওইসব প্রতিষ্ঠানকে শেয়ার ছাড়ার সর্বশেষ সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে। এই এক বছর প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকাণ্ড নিবিড়ভাবে তদারকি করা হবে। এ জন্য সেই সময়ের অর্থমন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মুসলিম চৌধুরীর নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

প্রতি দুই মাস পর কমিটি বৈঠক করে কোম্পানিগুলোর শেয়ার ছাড়ার অগ্রগতি পর্যালোচনা করবে। কমিটির অন্য সদস্যরা হচ্ছে- পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি, জ্বালানি মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ বিভাগ ও বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন বা আইসিবির প্রতিনিধি। সূত্র বলেছে, এসব প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থা উন্নতির জন্য প্রয়োজনে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে আলাদা বরাদ্দ দেয়া হবে।

চামড়া নিয়ে খেলছে কারা, খুঁজছে সরকার : তথ্যমন্ত্রী

 তথ্যমন্ত্রী

সিলেট টুয়েন্টিফোর এক্সপ্রেস ডেস্ক : তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছেন, বাংলাদেশের যে হারে মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বেড়েছে সেই হিসেবে ট্যানারির সংখ্যা বাড়েনি। এই সুযোগ নিয়ে একটি চক্র চামড়ার দরপতনের খেলায় নেমেছে। এটা নিয়ে ফখরুল সাহেবও রাজনীতি করার চেষ্টা করছেন। তবে এই চামড়ার দরপতনের খেলায় যারা মেতেছে, সরকার তাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।

আজ শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সাংবাদিক ফোরামের আয়োজনে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনাসভায় তিনি একথা জানান।

চামড়া শিল্প ধ্বংস করতে সরকার পরিকল্পিতভাবে জটিল পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে- বিএনপির এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, এ দেশের পাট শিল্পকে ধ্বংস করেছে বিএনপি। আমি বলতে চাই আদমজী জুটমিল কারা বন্ধ করেছিল?

হাছান মাহমুদ বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের চক্রান্তের সঙ্গে যারা জড়িত ছিল, তাদের খুঁজে বের করতে একটি কমিশন গঠন করতে হবে।

সভায় হাছান মাহমুদের সঙ্গে সুর মিলিয়ে একই দাবি তোলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আ আ স ম আরেফিন সিদ্দিক।

আলোচনাসভায় ইকবাল সোবহান চৌধুরীর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক আব্দুস সবুর, বিএসএমএমইউয়ের উপাচার্য কনক কান্তি বড়ুয়া, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন, বিএফইউজের সাবেক সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, ডিইউজের সোধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী।

ঈদের পর এখনো জমেনি রাজধানীর কাঁচাবাজার

 কাঁচাবাজার

রুমা আক্তার : ঈদের পর চারদিন পার হলেও এখনো জমেনি রাজধানীর কাঁচাবাজার। ঈদ করতে যারা ঢাকা ছেড়ে গ্রামের বাড়ি গেছেন, তাদের অধিকাংশই এখনো ফেরেননি। ফলে রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে ক্রেতা সমাগম তেমন নেই।

তবে ক্রেতার সঙ্কট থাকলেও সবজি ও পণ্যের দাম কমেনি। যদিও কারওয়ান বাজারে বিভিন্ন সবজির যে দাম রাখা হচ্ছে, অন্যান্য বাজারে বিক্রেতারা তার চেয়ে বেশ কিছুটা বেশি দাম হাকছেন। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

রাজধানীর মোহাম্মদপুর টাউনহল মার্কেটে গিয়ে দেখা যায়, বিক্রেতারা দোকান খুলে বসলেও দু’চারজন ক্রেতা ঘুরেফিরে বাজার করছেন। কয়েকটি দোকানে কোনো ক্রেতাই নেই।

সেখানে বিক্রেতা ফয়েজ আলী বলেন, ঈদ করে এখনো মানুষ ঢাকায় ফেরেনি। এই এলাকায় স্থানীয় যারা আছে, তারাই কেউ কেউ বাজারে আসছে। তার পরিমাণও খুব বেশি না।

আগামী রোববারের আগে বাজার জমার সম্ভাবনা নেই। এ সময় বাজার ঘুরে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি দাম টমেটোর। সেখানে প্রতি কেজি পাকা টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা।

এছাড়া গাজর ও শসা বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি। সেখানে ক্রেতা শফিকুল ইসলাম বলেন, গত কয়েকদিন ধরে বেশি মাংস খাওয়া হচ্ছে। তাই আজ সবজি কিনতে এসেছি। কিন্তু সব ধরনের সবজির দামই আগের মতো বেশিই রয়েছে।

চাহিদা না থাকলেও কোনো কিছুরই দাম কমছে না। আর সালাদ জাতীয় সবজি টমেটো-গাজর-শসার দাম অনেক বেশি। রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারভেদে প্রতি কেজি করলা ৭০ থেকে ৮০ টাকা, ঢেঁড়স ৫০ থেকে ৬০ টাকা, কাকরোল ৫০ থেকে ৬০ টাকা, পটোল ৪০ থেকে ৫০ টাকা, বরবটি ৭০ থেকে ৮০ টাকা, কচুর লতি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, ঝিঙ্গা ৫০ থেকে ৬০ টাকা, পেঁপে ৩০ থেকে ৪০ টাকা, বেগুন ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং প্রতি পিস লাউ ৫০ থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া বিক্রেতারা বাজারে নতুন ওঠা শিমের দাম চাইছেন প্রতি কেজি ১০০ টাকা।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, এবার বৃষ্টি ও বন্যার কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সবজির ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। তাই এ বছর সবজির দাম কমার সম্ভাবনা কম। তারপরও কয়েকটি সবজি ও কাঁচামরিচের দাম আগের চেয়ে কিছুটা কমেছে।

কাঁঠালবাগান বাজারে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা। একই মরিচ কারওয়ান বাজারে মিলছে ১০০ টাকা কেজি। অন্যান্য সবজির দামও কারওয়ান বাজারে কিছুটা কম দেখা যায়। দেশি পেঁয়াজ আগের মতো বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা কেজি আর ইন্ডিয়ান পেঁয়াজ ৩০ থেকে ৩৫ টাকা কেজি। তবে মাংসের বাজারের আগের চিত্র পুরো পাল্টে গেছে।

কারওয়ান বাজারে গরু ও খাসির মাংসের দোকানে সাধারণ কোনো ক্রেতা চোখে পড়েনি। বেশ কিছু মাংসের দোকান এখনো বন্ধ রয়েছে। বিক্রেতা আব্দুল মজিদ জানান, কুরবানি ঈদের পর মাংসের বাজারে বেশ কিছু দিন তেমন ক্রেতার দেখা মিলবে না।

শুধু হোটেলের জন্য কেউ কেউ মাংস কিনতে আসছে। এ ছাড়া সাধারণ ক্রেতা নেই। তিনি জানান, মাংসের দামে কোনো পরিবর্তন আসেনি। আগের মতোই গরুর মাংস ৫৫০ টাকা কেজি ও খাসির মাংস ৭৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া ব্রয়লার মুরগি ১২০ থেকে ১৩০ টাকা কেজি এবং পাকিস্তানি কক ও লাল লেয়ার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৩০ টাকা কেজি। আর প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১০৫ থেকে ১১০ টাকায়।

রেমিট্যান্স আহরণে বাংলাদেশের অবস্থান নবম

রেমিট্যান্স

অনলাইন ডেস্ক : বিশ্বব্যাপী বেশি রেমিট্যান্স আসা দেশগুলোর মধ্যে এবারও বাংলাদেশের অবস্থান নবম। ২০১৮ সালে বাংলাদেশ ১৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স আহরণ করে এ স্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। এ তালিকায় শীর্ষে রয়েছে প্রতিবেশী দেশ ভারত, দ্বিতীয় চীন ও তৃতীয় অবস্থানে আছে মেক্সিকো।

সম্প্রতি বিশ্বব্যাংকের মাইগ্রেশন অ্যান্ড রেমিট্যান্স ইউনিট বিভাগ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশের রেমিট্যান্সের গতি প্রাণবন্ত ছিল। ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তবে বিশ্বে প্রবাসী আয়ের দেশ হিসেবে অবস্থান বদলায়নি। কারণ এর আগের বছর ২০১৭ সালেও বাংলাদেশ একই অবস্থানে ছিল। আর ২০১৮ সালে দক্ষিণ এশিয়ায় রেমিট্যান্সে ১২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়ে ১৩১ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। যা ২০১৭ সালে প্রবৃদ্ধি ছিল ৬ শতাংশ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি শক্তিশালী উত্থান ঘটেছে। এছাড়া তেলের দাম বাড়ায় রেমিট্যান্স আহরণে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

২০১৮ সালে ভারতে রেমিট্যান্স ১৪ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে। আলোচিত বছরে দেশটি সাত হাজার ৮৬০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স আহরণ করে প্রথম স্থান ধরে রেখেছে। ভারতের পরে রয়েছে চীন, মেক্সিকো, ফিলিপাইন, মিসর, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, ইউক্রেন ও ভিয়েতনাম।

বিশ্বব্যাংকের ধারণা, ২০১৮ সালে চীনের রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছয় হাজার ৭৪০ কোটি ডলার, মেক্সিকোর তিন হাজার ৫৭০ কোটি, ফিলিপাইনের তিন হাজার ৩৮০ কোটি, মিসর দুই হাজার ৮৯০ কোটি, নাইজেরিয়ার দুই হাজার ৪৩০ কোটি, পাকিস্তান দুই হাজার ১০০ কোটি, ভিয়েতনাম এক হাজার ৯০০ কোটি ডলার, বাংলাদেশ এক হাজার ৫০০ কোটি ডলার এবং ইউক্রেন এক হাজার ৪৪০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স আহরণ করেছে।