Thursday , June 27 2019
Home / অর্থনীতি

অর্থনীতি

২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট একটি ব্যবসা বান্ধব বাজেট, বললেন বিসিআই সভাপতি

(বিসিআই)এর সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী

রমজান আলী : বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্টিুজ (বিসিআই)এর সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী বলেন, ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটকে আমরাও একটি চেলেঞ্জিং বাজেট হিসাবে দেখছি। মানব সম্পদ উন্নয়ন, অর্থনৈতিক অবকাঠামো বিনির্মাণ এবং সামাজিক স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও জলবায়ুর প্রভাব প্রতিরোধে বর্তমান সরকারের মিশন ও ভীষণ এর পরিপূরক হিসাবে এ বাজেটকে আমরাও স্বাগত জানাই।

আজ দুপুরে বিসিআই বোর্ড রুমে প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট (২০১৯-২০২০) এ প্রস্তাবিত শুল্ক-কর পরিকাঠামোর উপর সংশোধনি প্রস্তাবনায় সাংবাদিক সম্মলনে এসব কথা বলেন তিনি। তিনি আরো বলেন, আমরা আশা করি মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর গতিশীল নেতৃত্বে এ বাজেট যথাযথ ভাবে বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে দেশ ও জাতীর উত্তোরন হবে উন্নয়নের এক মহাসড়কে।

তিনি আরো বলেন, বিসিআই দেশের শিল্প খাত প্রতিনিধিত্বকারী একমাত্র জাতীয় সংগঠন বিধায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিল্পায়নের প্রসার, দেশীয় শিল্পের সুরক্ষা এবং বিনিয়োগ ও শিল্পায়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র বিমোচন এবং জাতীয় উন্নয়ন লক্ষমাত্রা, সরকারের ভিশন ২০২১ ও ২০৪১,এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, স্বল্পোন্নত দেশ হতে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের প্রক্রিয়া ও অন্যান্য বিষয়সহ একটি টেকসই,স্থায়ী পরিকাঠামো জাতীয় স্বার্থে অপরিহার্য।

এইলক্ষ্যে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করারজন্য আমরা সরকারকে উদাত্ত আহবান জানাই।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের তরুণ উদ্যোক্তাদের উন্নয়নের জন্য ১০০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিলের ব্যবস্থা রাখা, প্রতিবন্ধীদের সুরক্ষার জন্য কোন প্রতিষ্ঠান ১০ শতাংশ প্রতিবন্ধী শ্রমিক নিয়োগ প্রদান করতে ৫ শতাংশ কর রেয়াতের প্রস্তাব করা, দক্ষতা উন্নয়নের জন্য জাতীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন তহবিল গঠন করায় মাননীয় অর্থমন্ত্রীকে আমরা আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি যা বিসিআই এর বাজেট প্রস্তাবের প্রতিফলন।
এছাড়া ২০১৯-২০২০ অর্থবছর থেকে মূসক ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ বাস্তবায়িত হতে চলেছে। মূসক মুক্ত টার্নওভারের সীমা ৫০ লক্ষ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। টার্নওভার করের উর্দ্ধসীমা ৮০ লক্ষ টাকা হতে বাড়িয়ে ৩ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে, বিপুল সংখ্যক আইটেম ম‚সকের আওতা মুক্ত রাখা হয়েছে। এজন্য আমরা সরকারকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। তিনি আরো বলেন, আয়কর এবং ম‚সকের আওতা বৃদ্ধির জন্য মাননীয় অর্থ মন্ত্রী তার বাজেট বক্তৃতা আগামী কয়েক বছরের মধ্যে টিআইএন ধারির সংখ্যা ১ কোটিতে উন্নিত করা এবং কর নেট বৃদ্ধির কথা বলেছেন যা বিসিআই এর বাজেট প্রস্তাবের প্রতিফলন । ম‚সক আইন, ২০১২ এর বাস্তবায়ন ও তদারকির জন্য মাননীয় অর্থ মন্ত্রী তাঁর বাজেট বক্তৃতায় সরকারি এবং বেসরকারি খাতের সমন্বয়ে গঠিত একটি “যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ” গঠন করার কথা বলেছেন। উক্ত ওয়ার্কিং গ্রুপে বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাষ্ট্রিজ (বিসিআই) কে অন্তর্ভ‚ক্ত করার জন্য বিশেষ অনুরাধ জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, করনেট বৃদ্ধি এবং টিআইএনধারির সংখ্যা ১ কোটিতে উন্নিত করার উদ্যেশ্যে করযোগ্য বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত সকল ব্যক্তি প্রতিষ্ঠাণকে আয়কর এবং মূসকের আওতায় আনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন বাণিজ্য ও পেশাজীবি সংগঠন এবং সংশ্লিষ্ট লাইসেন্স ও নিয়ন্ত্রনকারি সরকারি প্রতিষ্ঠান যৌথ ভাবে দায়িত্ব পালন করবে এই মর্মে অর্থ বিলে বিশেষ বিধান করার প্রস্তাব করছি।

তিনি বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডেও রাজস্ব আহরন কার্যক্রম হতে ট্যাক্স, ট্যারিফ এবং ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন নামক একটি পৃথক বিভাগ গঠন করা আবশ্যক। এই উদ্যেশ্যে নিম্নলিখিত কার্যক্রমগুলি পরিচালনার জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের জেষ্ঠতম সদস্যকে প্রধান করে একটি পৃথক ট্যাক্স, ট্যারিফ এবং ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন বিভাগ অবিলম্বে গঠন করার প্রস্তাব করছি।

তিনি আরো বলেন, মাননীয় অর্থ মন্ত্রী তাঁর বাজেট বক্তৃতায় “কোন কোম্পানি স্টক ডিভিডেন্ড আয় রোজগার প্রদান করলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে উক্ত স্টক ডিভিডেন্ট এর উপর ১৫ শতাংশ কর প্রদানের বিধান” করার প্রস্তাব করেন। আমরা উক্ত কর প্রত্যাহারের সুপারিশ করছি। কারণ এর ফলে পুঁজিবাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

তিনি আরো বলেন, দেশের বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলো অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। অর্থাৎ তারা এসব প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো লাভ করতে পারবে না। আবার এসব প্রতিষ্ঠানকে ১৫ শতাংশ হারে আয় কর প্রদান করতে হয়। আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে আরোপিত ১৫ শতাংশ কর প্রত্যাহার করার প্রস্তাব করছি।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থ আইনের মাধ্যমে নতুন ভ্যাট আইনের ৩১ ধারা সংশোধন করে সব ধরনের আমদানি পণ্যের উপর ৫% শতাংশ হারে আগাম কর আরোপ করা হয়েছে। ৫% শতাংশ আগাম কর পরিশোধের বিধান চালু করায় শিল্প স্থাপন ও উৎপাদন ব্যয় দুটোই বহুলাংশে বাড়বে। আমরা ৫% অগ্রিম আয় কর (এআইটি) ও প্রত্যাহারের অনুরোধ জানাচ্ছি। প্রস্তাবিত বাজেটে কর্পোরেট এবং ব্যক্তি পর্যায়ের কর হার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। করনেট বাড়িয়ে কর্পোরেট কর হার হ্রাস করার প্রস্তাব করছি। দেশের বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও নতুন বিনিযোগ আকৃষ্ট করার জন্য কর্পোরেট কর হার হ্রাস করা প্রয়োজন।

২০১৯-২০ অর্থ বছরের বাজেটে স‚তার উপর ৫ শতাংশ ম‚ল্য সংযোজন কর ধার্য্যরে প্রস্তাব করা হয়েছে। আমরা মনে করি এর ফলে স্থানীয় স্পিনিং মিলগুলো অসম প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হয়ে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। তাই টেক্সটাইল খাতের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে চলতি বাজেট প্রস্তাবনায় ঔষধ ও পেট্টোলিয়ামজাত পণ্যের অনুক‚ল বিশেষ ব্যবস্থা হিসাবে স্থানীয়ভাবে তৈরী যে কোন ধরনের স‚তার উপর ২ শতাংশ হারে ম‚ল্য সংযোজন কর ধার্য্যরে প্রস্তাব করছি। তিনি বলেন, আমাদের রপ্তানী লক্ষমাত্র ৬০ বিলিয়নে উন্নিত করা সহ ভিয়েতনাম, কেম্বোডিয়া, মিয়ানমার প্রতিযোগী দেশসম‚হের সাথে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে আন্তর্যাতিক ভাবে অনুসৃত কৌশল হিসাব আমাদের একটি সুনিদৃষ্ট রপ্তানী বাজেট অত্যাবশ্যক। সকল রপ্তানী খাতে উৎসে কর ০.২৫% এ নির্ধারণ করার প্রস্তাব করছি। সকল রপ্তানী খাতে করপোরেট কর হার ১০% হারে ধার্য্য করার প্রস্তাব করছি। আমদানি ও রপ্তানি নীতি আদেশে রপ্তানি খাতে নির্দেশিত শুল্ক ও কর সুবিধা, অন্যবিধ আর্থিক সহায়তা এবং বিভিন্ন রেয়াতি ব্যবস্থা সংক্রান্ত নিম্নলিখিত কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য আগামী বাজেটে যথাযথ বিধান ও প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ করার অনুরোধ করেন।

খেলাপি ঋণসহ সব সূচকে পিছিয়ে রয়েছে সোনালী ব্যাংক

সোনালী ব্যাংক

রমজান আলী : বর্তমানে সোনালী ব্যাংককে খেলাপি ঋণ রয়েছে ১২ হাজার ২৩৭ কোটি। প্রথম অবস্থানে রয়েছে জনতা ব্যাংক। গত তিন বছর ধারাবাহিকভাবে পিছিয়ে রয়েছে সোনালী ব্যাংক। আমানত, বিনিয়োগ, আমদনি-রপ্তানি বাণিজ্য, মোট সম্পদ, পরিচালনা মুনাফা, নিট মুনাফা, শেয়ারপ্রতি আয়, সম্পদের বিপরীতে আয়সহ প্রায় সব সূচকে পিছিয়ে রয়েছে ব্যাংকটি মার্চ শেষে এক লাখ দশ হাজার কোটি টাকা অতিক্রম করেছে ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণের পরিমাণ। এর মধ্যে মাত্র পাঁচ ব্যাংকেই কুঋণে পরিণত হয়েছে ৫৫ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা। যা মোট খেলাপির ৫০ দশমিক ০৭ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত ডিসেম্বরের তুলনায় মার্চে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা বেড়ে ১ লাখ ১০ হাজার ৮৭৪ কোটি টাকা হয়েছে। হঠাৎ করে বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়ায় নড়েচড়ে বসেছে ব্যাংক খাত। ব্যাংক খাতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, ব্যাপক অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতাসহ নানা কারণে ধারাবাহিকভাবে খেলাপি ঋণ বাড়ছে বলে মত বিশ্লেষকদের।

খেলাপির শীর্ষে থাকা ব্যাংকগুলো হলো জনতা ব্যাংক ২১ হাজার ৪১১ কোটি, সোনালী ব্যাংক ১২ হাজার ২৩৭ কোটি, বেসিক ব্যাংক ৮ হাজার ৮০৪ কোটি , ইসলামী ব্যাংক ৬ হাজার ৯১৬ কোটি ও অগ্রণী ব্যাংক ৬ হাজার ১৪৭ কোটি টাকা ।

গত ডিসেম্বর শেষে ইসলামী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ছিল ৩ হাজার ৩১৭ কোটি টাকা। কিন্ত মার্চে তা বেড়ে ৬ হাজার ৯১৬ কোটি টাকা হয়েছে। মোট ঋণে খেলাপি ঋণের অংশ ৪ দশমিক ৩০ শতাংশ থেকে উঠেছে ৮ দশমিক ৮৩ শতাংশে। তিন মাসে বেড়ে দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। এতে করে খেলাপি ঋণের দিক দিয়ে চতুর্থ অবস্থানে উঠে এসেছে ইসলামী ব্যাংক।

মার্চ শেষে খেলাপি ঋণ সবচেয়ে বেশি রয়েছে রাষ্ট্রীয় মালিকানার জনতা ব্যাংকে। এই সময়ে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ ঠেকেছে ২১ হাজার ৪১১ কোটি টাকায়। এটি ব্যাংকটির মোট ঋণের ৪৩ দশমিক ৯৭ শতাংশ। তিন মাস আগে খেলাপি ঋণ ছিল ১৭ হাজার ২২৫ কোটি টাকা। আর এক বছর আগে ছিল ৮ হাজার ৬২৫ কোটি টাকা।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা সোনালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ১২ হাজার ৬১ কোটি টাকা বেড়ে ১২ হাজার ২৩৭ কোটি টাকা হয়েছে। ঋণের নামে অর্থ লুট করায় আরেক আলোচিত বেসিক ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৮ হাজার ৬৩২ কোটি টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৮ হাজার ৮০৪ কোটি টাকা। খেলাপি ঋণের দিক দিয়ে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে অগ্রণী ব্যাংক। গত ডিসেম্বরে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ ৫ হাজার ৭৫১ কোটি টাকা থেকে বেড়ে মার্চে ৬ হাজার ১৪৭ কোটি টাকা হয়েছে।

বাড়ছে আয়করের আওতা কার্যকর হচ্ছে ভ্যাট আইন

 

অনলাইন ডেস্ক : সোয়া তিন লাখ কোটি টাকা রাজস্বের যোগান দিতে আয়কর ও মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) খাতে মূল নজর থাকবে সরকারের। করদাতা বাড়াতে গুরুত্ব দেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে রাজধানী ঢাকাসহ সিটি করপোরেশন এলাকার বাড়ির মালিকদের রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতায় আনা হবে। রাজধানী ঢাকাসহ সিটি করপোরেশন এলাকা ছাড়িয়ে জেলা, উপজেলা এমনকি গ্রামেও আয়করের আওতা বাড়ানোর বিষয়ে ঘোষণা করবে সরকার। এর ফলে মধ্যবিত্তের উপর চাপ বাড়তে পারে। বহুল আলোচিত নতুন ভ্যাট আইন অবশেষে আগামী জুলাই থেকে বাস্তবায়ন হচ্ছে। আইনটি বাস্তবায়নের রূপরেখা ঘোষণা দেবেন অর্থমন্ত্রী। ব্যবসায়ীদের দাবি মেনে সরকার বহুস্তর ভ্যাট হার বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে। তা সত্ত্বেও আইনটি কার্যকর হওয়ার পর ভোক্তা পর্যায়ে বাড়তি ভ্যাটের চাপ বাড়ার শঙ্কা রয়েছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জাতীয় সংসদে বাজেট ঘোষণাকালে ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের আশ্বস্ত করতে এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরবেন।

চলতি অর্থবছর সংশোধিত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ১৬ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৮০ হাজার ৬৩ কোটি টাকায় ঠিক করা হচ্ছে। এর উপর ১৬ দশমিক ২৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে আগামী অর্থবছর এনবিআরের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হচ্ছে ৩ লাখ ২৫ হাজার ৬শ কোটি টাকা। এর মধ্যে আয়কর খাত থেকে ১ লাখ ১৫ হাজার ৫৮৮ কোটি, ভ্যাট থেকে ১ লাখ ১৭ হাজার ৬৭২ কোটি ও শুল্ক বাবদ ৯২ হাজার ৩৪০ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্যমাত্রার প্রস্তাব দেবেন অর্থমন্ত্রী।

আয়করের আওতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ এলাকার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিকদেরও কর প্রদানের বাধ্যবাধকতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। টিআইএনধারী বিদ্যমান ৪০ লাখ থেকে বাড়িয়ে এক কোটিতে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। এর মধ্যে রিটার্ন দাখিলকারী বা কর প্রদানকারীর সংখ্যা বাড়াতে মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়নে বিশেষ নজর দেওয়া হবে। আয়করের বড় অংশ আদায় হওয়া উেস কর ও অগ্রিম আয়কর আদায়কারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে কর প্রদানের বাধ্যবাধকতায় আনতে এবার নতুন উদ্যোগ নেওয়া হবে। অতীতে প্রতিষ্ঠান লোকসান দেখিয়ে এ ধরনের কর এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকলেও এবার সে সুযোগ বাতিল হচ্ছে। লোকসান করলেও এ কর পরিশোধ করতে হবে। সঞ্চয়পত্রের সুদের হার না কমলেও মুনাফায় করের হার বিদ্যমান পাঁচ শতাংশ থেকে বাড়বে। গার্মেন্টসসহ সব ধরনের রপ্তানির উেস কর হার বাড়তে পারে।

ভ্যাট হার ভোক্তার জন্য সহনীয় রাখতে ১৫ শতাংশ ছাড়াও আরো চারটি ভ্যাট হার হচ্ছে। এগুলো হলো- ১০ শতাংশ, সাড়ে সাত, পাঁচ ও দুই শতাংশ। ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান রেয়াত নিতে পারলেও অন্যদের জন্য সে সুযোগ থাকছে না। বিশেষ কিছু পণ্যের জন্য থাকছে দুই শতাংশের ভ্যাট। এছাড়া যেসব পণ্য বর্তমানে ট্যারিফ পদ্ধতিতে ভ্যাট দিচ্ছে, এমন বিশেষ কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে (ওজনে পরিমাপ হওয়া পণ্য) ‘স্পেসিফিক ভ্যাট’ নামে নির্দিষ্ট পরিমাণ ভ্যাট আদায় হবে। অগ্রিম ভ্যাট (এটিভি) আদায় হবে অগ্রিম কর নামে। বর্তমানে কেবল বাণিজ্যিক পণ্যের আমদানিতে ৫ শতাংশ অগ্রিম ভ্যাট আদায় হলেও বন্ডেড সুবিধায় আনা পণ্য বাদে অন্য সব ধরনের পণ্যের ক্ষেত্রে এডভান্স ট্যাক্স দিতে হবে। এছাড়া ধীরে ধীরে সম্পূরক শুল্ক উঠিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত স্থানীয় শিল্পের কথা বিবেচনা করে বিদ্যমান সম্পূরক শুল্ক কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে না। বছরে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি (টার্নওভার) ভ্যাটমুক্ত থাকছে। পরবর্তী তিন কোটি টাকা পর্যন্ত বিক্রিতে চার শতাংশ হারে টার্নওভার ট্যাক্স আদায় হবে।

এনবিআর ও অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে যে হারে ব্যবসায়ীরা ভ্যাট পরিশোধ করছেন, নতুন আইনে যে হার ঠিক করা হচ্ছে, সেখানেও ভ্যাট হার এমনভাবে ঠিক করা হচ্ছে, যাতে চাপ না বাড়ে। বাড়তি ভ্যাটের চাপ দেওয়ার চাইতে বরং নতুন ভ্যাট আইনটি চালু করার আগামী অর্থবছরব্যাপী সময় নিতে চায়। এজন্য সহনীয় মাত্রায় রাখার লক্ষ্য রয়েছে। তবে তা সত্ত্বেও ব্যবসায়ী পর্যায়ে আইনটি নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। ১৫ শতাংশের নিচের ভ্যাট স্তরে রেয়াত সুবিধা না থাকা এবং কাদের উপর কী ধরনের হার নির্ধারণ হয়, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। বিশেষত স্টিল, রড, টেক্সটাইলসহ ট্যারিফ পদ্ধতিতে ভ্যাট প্রদানকারী কয়েকটি খাতের উদ্যোক্তারা ভোক্তা পর্যায়ে ভ্যাটের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বিক্রিতে স্বচ্ছতা আনতে আগামী অর্থবছরে এক লাখ ইলেক্ট্রনিক হিসাবযন্ত্র (ইএফডি) সরবরাহ করা হবে। বড় বড় মার্কেট ছাড়িয়ে হিসাব রাখার বাধ্যবাধকতার আওতায় আসবে গুরুত্বপূর্ণ ও বাণিজ্যিক এলাকার অলিগলির দোকানও। অবশ্য সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আইনটির বাস্তবায়নই বড় চ্যালেঞ্জ। সব ব্যবস্থা কম্পিউটারাইজড ও অনলাইনভিত্তিক না হলে এর সুফল মিলবে না। অন্যদিকে এনবিআরের মাঠ পর্যায়েও এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেই।

করের আওতায় আসছে ফেইসবুক-গুগল-অ্যামাজন

অনলাইন ডেস্ক : ফেইসবুকসহ বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো নিজেদের করপোরেট কর ফাঁকির উপায় হিসেবে যেসব ফাঁকফোকর ব্যবহার করে তা বন্ধে অভিন্ন নীতিমালা প্রণয়নে সম্মত হয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে নিয়ে গঠিত ১৯টি দেশের জোট জি টোয়েন্টির অর্থমন্ত্রীরা।
জাপানের ওসাকায় সমৃদ্ধ অর্থনীতিগুলোর আন্তর্জাতিক এই জোটের অর্থমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরদের বৈঠকের চূড়ান্ত যৌথ ঘোষণার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এখবর দিয়েছে।

কর ফাঁকি দিতে ফেইসবুক, গুগল ও অ্যামাজনসহ বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো তাদের পণ্য বা সেবা যে দেশেই বিক্রি করুক না কেন মুনাফার উৎস দেশ হিসেবে সব সময় নিম্ন-করের দেশগুলোকে দেখায় বলে সমালোচনা আছে। এ ধরনের চর্চাকে অনেকেই অনৈতিক হিসেবে দেখেন।

নতুন বিধিমালা বড় বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর উপর যেমন উচ্চ করের বোঝা চাপাবে তেমনি ‘নাম-মাত্র’ কর আরোপের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আয়ারল্যান্ডের মতো দেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ টানাও কঠিন করে তুলবে।

যৌথ ঘোষণায় বলা হয়েছে, “ডিজিটাইজেশন থেকে উদ্ভূত কর ব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সাম্প্রতিক অগ্রগতিকে আমরা স্বাগত জানাই এবং ‘টু পিলার অ্যাপ্রোচ’ নিয়ে তৈরি উচ্চাভিলাষী কর্মসূচিকে সমর্থন করি।

“২০২০ সাল নাগাদ একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদনসহ ঐকমত্যের ভিত্তিতে সমাধানে পৌঁছতে আমরা আমাদের প্রচেষ্টা দ্বিগুণ করব।”

কর ব্যবস্থার পরিবর্তনের বিষয়ে জি টোয়েন্টির বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে টু পিলার বা দ্বি-স্তম্ভ নীতি, যা কিছু কোম্পানির জন্য উভয় সংকট হিসেবে দেখা দিতে পারে।

প্রথম স্তম্ভ হলো- কোনো দেশে ব্যবসায়িক উপস্থিতি না থাকলেও সেখানে যদি কোম্পানির পণ্য বা সেবা বিক্রি হয় তাহলে সংশ্লিষ্ট দেশ ওই কোম্পানির উপর কর আরোপের অধিকার পাবে।

এরপরও কোম্পানিগুলো নিম্ন করের দেশে মুনাফা সরিয়ে নিতে পারলেও দ্বিতীয় স্তম্ভের অধীনে কোম্পানিগুলোর উপর ন্যূনতম কর আরোপ করা যাবে, যার হার পরে ঠিক হবে।

মুনাফা সরিয়ে নিম্ন করের অঞ্চলে নেওয়া কঠিন করতে বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর উপর করারোপের পাশাপাশি ন্যূনতম করপোরেট কর হার প্রবর্তনের প্রস্তাবের পক্ষে সোচ্চার রয়েছে ব্রিটেন ও ফ্রান্স।

দেশ দুটির সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করে যুক্তরাষ্ট্র উদ্বেগ প্রকাশ করে বলছে, বৈশ্বিক কর ব্যবস্থা সরকারের বড় উদ্যোগের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারনেট কোম্পানিগুলোকে অন্যায়ভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।

বৃহৎ ইন্টারনেট কোম্পানিগুলোর ভাষ্য, তারা করনীতি অনুসরণ করেন। কিন্তু যেটা করেন সেটা হলো- আয়ারল্যান্ড ও লুক্সেমবুর্গের মতো নিম্ন করের দেশকে বিক্রয়ের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করার মধ্য দিয়ে ইউরোপে সামান্য কর পরিশোধ করেন।

সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকার ফেইসবুক ও ইউটিউবের মতো ইন্টারনেট যোগাযোগ মাধ্যমে দেশীয় বিজ্ঞাপনদাতাদের পরিশোধিত অর্থের উপর ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপ করেছে।

উপদেষ্টা সম্পাদক : মো: রেজাউল ওয়াদুদ উপদেষ্টা সম্পাদক : শহীদুল ইসলাম পাইলট উপদেষ্টা সম্পাদক : আহমেদ আবু জাফর উপদেষ্টা সম্পাদক : মুহাম্মদ আওলাদ হোসেন সম্পাদক : মো: আবু বক্কর তালুকদার ৩৭০/৩,কলেজ রোড,আমতলা,আশকোনা,ঢাক-১২৩০