Tuesday , October 22 2019
Home / Home / ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট একটি ব্যবসা বান্ধব বাজেট, বললেন বিসিআই সভাপতি

২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট একটি ব্যবসা বান্ধব বাজেট, বললেন বিসিআই সভাপতি

(বিসিআই)এর সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী

রমজান আলী : বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্টিুজ (বিসিআই)এর সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী বলেন, ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটকে আমরাও একটি চেলেঞ্জিং বাজেট হিসাবে দেখছি। মানব সম্পদ উন্নয়ন, অর্থনৈতিক অবকাঠামো বিনির্মাণ এবং সামাজিক স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও জলবায়ুর প্রভাব প্রতিরোধে বর্তমান সরকারের মিশন ও ভীষণ এর পরিপূরক হিসাবে এ বাজেটকে আমরাও স্বাগত জানাই।

আজ দুপুরে বিসিআই বোর্ড রুমে প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট (২০১৯-২০২০) এ প্রস্তাবিত শুল্ক-কর পরিকাঠামোর উপর সংশোধনি প্রস্তাবনায় সাংবাদিক সম্মলনে এসব কথা বলেন তিনি। তিনি আরো বলেন, আমরা আশা করি মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর গতিশীল নেতৃত্বে এ বাজেট যথাযথ ভাবে বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে দেশ ও জাতীর উত্তোরন হবে উন্নয়নের এক মহাসড়কে।

তিনি আরো বলেন, বিসিআই দেশের শিল্প খাত প্রতিনিধিত্বকারী একমাত্র জাতীয় সংগঠন বিধায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিল্পায়নের প্রসার, দেশীয় শিল্পের সুরক্ষা এবং বিনিয়োগ ও শিল্পায়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র বিমোচন এবং জাতীয় উন্নয়ন লক্ষমাত্রা, সরকারের ভিশন ২০২১ ও ২০৪১,এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, স্বল্পোন্নত দেশ হতে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের প্রক্রিয়া ও অন্যান্য বিষয়সহ একটি টেকসই,স্থায়ী পরিকাঠামো জাতীয় স্বার্থে অপরিহার্য।

এইলক্ষ্যে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করারজন্য আমরা সরকারকে উদাত্ত আহবান জানাই।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের তরুণ উদ্যোক্তাদের উন্নয়নের জন্য ১০০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিলের ব্যবস্থা রাখা, প্রতিবন্ধীদের সুরক্ষার জন্য কোন প্রতিষ্ঠান ১০ শতাংশ প্রতিবন্ধী শ্রমিক নিয়োগ প্রদান করতে ৫ শতাংশ কর রেয়াতের প্রস্তাব করা, দক্ষতা উন্নয়নের জন্য জাতীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন তহবিল গঠন করায় মাননীয় অর্থমন্ত্রীকে আমরা আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি যা বিসিআই এর বাজেট প্রস্তাবের প্রতিফলন।
এছাড়া ২০১৯-২০২০ অর্থবছর থেকে মূসক ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ বাস্তবায়িত হতে চলেছে। মূসক মুক্ত টার্নওভারের সীমা ৫০ লক্ষ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। টার্নওভার করের উর্দ্ধসীমা ৮০ লক্ষ টাকা হতে বাড়িয়ে ৩ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে, বিপুল সংখ্যক আইটেম ম‚সকের আওতা মুক্ত রাখা হয়েছে। এজন্য আমরা সরকারকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। তিনি আরো বলেন, আয়কর এবং ম‚সকের আওতা বৃদ্ধির জন্য মাননীয় অর্থ মন্ত্রী তার বাজেট বক্তৃতা আগামী কয়েক বছরের মধ্যে টিআইএন ধারির সংখ্যা ১ কোটিতে উন্নিত করা এবং কর নেট বৃদ্ধির কথা বলেছেন যা বিসিআই এর বাজেট প্রস্তাবের প্রতিফলন । ম‚সক আইন, ২০১২ এর বাস্তবায়ন ও তদারকির জন্য মাননীয় অর্থ মন্ত্রী তাঁর বাজেট বক্তৃতায় সরকারি এবং বেসরকারি খাতের সমন্বয়ে গঠিত একটি “যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ” গঠন করার কথা বলেছেন। উক্ত ওয়ার্কিং গ্রুপে বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাষ্ট্রিজ (বিসিআই) কে অন্তর্ভ‚ক্ত করার জন্য বিশেষ অনুরাধ জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, করনেট বৃদ্ধি এবং টিআইএনধারির সংখ্যা ১ কোটিতে উন্নিত করার উদ্যেশ্যে করযোগ্য বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত সকল ব্যক্তি প্রতিষ্ঠাণকে আয়কর এবং মূসকের আওতায় আনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন বাণিজ্য ও পেশাজীবি সংগঠন এবং সংশ্লিষ্ট লাইসেন্স ও নিয়ন্ত্রনকারি সরকারি প্রতিষ্ঠান যৌথ ভাবে দায়িত্ব পালন করবে এই মর্মে অর্থ বিলে বিশেষ বিধান করার প্রস্তাব করছি।

তিনি বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডেও রাজস্ব আহরন কার্যক্রম হতে ট্যাক্স, ট্যারিফ এবং ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন নামক একটি পৃথক বিভাগ গঠন করা আবশ্যক। এই উদ্যেশ্যে নিম্নলিখিত কার্যক্রমগুলি পরিচালনার জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের জেষ্ঠতম সদস্যকে প্রধান করে একটি পৃথক ট্যাক্স, ট্যারিফ এবং ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন বিভাগ অবিলম্বে গঠন করার প্রস্তাব করছি।

তিনি আরো বলেন, মাননীয় অর্থ মন্ত্রী তাঁর বাজেট বক্তৃতায় “কোন কোম্পানি স্টক ডিভিডেন্ড আয় রোজগার প্রদান করলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে উক্ত স্টক ডিভিডেন্ট এর উপর ১৫ শতাংশ কর প্রদানের বিধান” করার প্রস্তাব করেন। আমরা উক্ত কর প্রত্যাহারের সুপারিশ করছি। কারণ এর ফলে পুঁজিবাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

তিনি আরো বলেন, দেশের বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলো অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। অর্থাৎ তারা এসব প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো লাভ করতে পারবে না। আবার এসব প্রতিষ্ঠানকে ১৫ শতাংশ হারে আয় কর প্রদান করতে হয়। আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে আরোপিত ১৫ শতাংশ কর প্রত্যাহার করার প্রস্তাব করছি।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থ আইনের মাধ্যমে নতুন ভ্যাট আইনের ৩১ ধারা সংশোধন করে সব ধরনের আমদানি পণ্যের উপর ৫% শতাংশ হারে আগাম কর আরোপ করা হয়েছে। ৫% শতাংশ আগাম কর পরিশোধের বিধান চালু করায় শিল্প স্থাপন ও উৎপাদন ব্যয় দুটোই বহুলাংশে বাড়বে। আমরা ৫% অগ্রিম আয় কর (এআইটি) ও প্রত্যাহারের অনুরোধ জানাচ্ছি। প্রস্তাবিত বাজেটে কর্পোরেট এবং ব্যক্তি পর্যায়ের কর হার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। করনেট বাড়িয়ে কর্পোরেট কর হার হ্রাস করার প্রস্তাব করছি। দেশের বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও নতুন বিনিযোগ আকৃষ্ট করার জন্য কর্পোরেট কর হার হ্রাস করা প্রয়োজন।

২০১৯-২০ অর্থ বছরের বাজেটে স‚তার উপর ৫ শতাংশ ম‚ল্য সংযোজন কর ধার্য্যরে প্রস্তাব করা হয়েছে। আমরা মনে করি এর ফলে স্থানীয় স্পিনিং মিলগুলো অসম প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হয়ে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। তাই টেক্সটাইল খাতের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে চলতি বাজেট প্রস্তাবনায় ঔষধ ও পেট্টোলিয়ামজাত পণ্যের অনুক‚ল বিশেষ ব্যবস্থা হিসাবে স্থানীয়ভাবে তৈরী যে কোন ধরনের স‚তার উপর ২ শতাংশ হারে ম‚ল্য সংযোজন কর ধার্য্যরে প্রস্তাব করছি। তিনি বলেন, আমাদের রপ্তানী লক্ষমাত্র ৬০ বিলিয়নে উন্নিত করা সহ ভিয়েতনাম, কেম্বোডিয়া, মিয়ানমার প্রতিযোগী দেশসম‚হের সাথে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে আন্তর্যাতিক ভাবে অনুসৃত কৌশল হিসাব আমাদের একটি সুনিদৃষ্ট রপ্তানী বাজেট অত্যাবশ্যক। সকল রপ্তানী খাতে উৎসে কর ০.২৫% এ নির্ধারণ করার প্রস্তাব করছি। সকল রপ্তানী খাতে করপোরেট কর হার ১০% হারে ধার্য্য করার প্রস্তাব করছি। আমদানি ও রপ্তানি নীতি আদেশে রপ্তানি খাতে নির্দেশিত শুল্ক ও কর সুবিধা, অন্যবিধ আর্থিক সহায়তা এবং বিভিন্ন রেয়াতি ব্যবস্থা সংক্রান্ত নিম্নলিখিত কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য আগামী বাজেটে যথাযথ বিধান ও প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ করার অনুরোধ করেন।

Print Friendly, PDF & Email

About sylhet 24express

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *