Home / রাজনীতি / মোদির শপথে এলাহি আয়োজন, মন্ত্রী কারা, জল্পনা তুঙ্গে

মোদির শপথে এলাহি আয়োজন, মন্ত্রী কারা, জল্পনা তুঙ্গে

অনলাইন ডেস্কঃ দ্বিতীয়বারের জন্য সরকার গড়তে চলেছেন নরেন্দ্র মোদি। রাষ্ট্রপতিভবনে চলছে এলাহি আয়োজন। একক গরিষ্ঠতা নিয়ে পরপর দুবার কোনও প্রধানমন্ত্রী লোকসভা ভোটে জয়ী হয়ে সরকার গড়েছিলেন ৪৮ বছর আগে। ইন্দিরা গান্ধী ১৯৬৭ এবং ১৯৭১ সালে পরপর দু’বার একক গরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেন। ১৯৭৭ সালে সেই তিনিই শোচনীয়ভাবে বিপর্যস্ত হন জরুরি অবস্থার জেরে। ১৯৭১ সালের পর আবার সেরকমই বিপুল গরিষ্ঠতা নিয়ে এসে পরপর দুবার সরকার গড়ছেন নরেন্দ্র মোদি। শুরু হচ্ছে তাঁর দ্বিতীয় ইনিংস। মনমোহন সিং পরপর দু’বার প্রধানমন্ত্রী হলেও কংগ্রেসের কাছে একক গরিষ্ঠতা ছিল না। ইউপিএ ছিল জোট সরকার। মোদি কার্যত গোটা দেশের তাবৎ বিরোধীদের ধূলিস্যাৎ করে জয়ের পাহাড়ে আরোহণ করেছেন। আগামীকাল সন্ধ্যা ৭টায় রাষ্ট্রপতি ভবনের প্রাঙ্গণে আয়োজিত হবে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোদির শপথগ্রহণের পাশাপাশি কালই শপথ নেবেন বাছা‌ই করা মন্ত্রীরাও। এবার মন্ত্রিসভায় সবথেকে বড় যাঁর অভাব অনুভূত হবে তিনি হলেন অরুণ জেটলি। কিডনিজনিত অসুস্থতার কারণে জেটলি প্রথম মোদি সরকারের আমলেই অসুস্থ হয়েছিলেন। আজ শপথ অনুষ্ঠানের প্রাক্কালে জেটলি চিঠি লিখে প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছেন তাঁর পক্ষে এবার মন্ত্রিসভার সদস্য হওয়া সম্ভব নয়। জেটলির অনুপস্থিতি শুধুই যে মন্ত্রক চালানোর ক্ষেত্রে সমস্যা নিয়ে আসবে তাই নয়, মোদি-অমিত শাহের বিজেপিতে একমাত্র লিবারাল, আধুনিক ও সর্বজনগ্রাহ্য মুখ ছিলেন জেটলি। একমাত্র তিনিই প্রত্যক্ষভাবে আরএসএসের স্বয়ংসেবক নয়। বরং তাঁর মাধ্যমেই বিজেপির রক্ষণশীল অংশের সঙ্গে উদার অর্থনীতির বহির্জগতের যোগসূত্র রক্ষিত হয়েছে।

এবার সেই মুখ বিজেপি ও সরকারে আর থাকছে না। জেটলি ছাড়াও সুষমা স্বরাজ এবার থাকবেন কিনা তাও স্পষ্ট নয়। কারণ তিনিও অসুস্থ। মোদির দ্বিতীয় পর্বের মন্ত্রিসভায় অনেক বেশি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবকদেরই প্রাধান্য থাকতে চলেছে। মোদি-অমিত শাহ তো বটেই, প্রকাশ জাভরেকর, নীতীন গাদকারি, জগৎপ্রকাশ নাড্ডা, রাজনাথ সিংরা প্রত্যেকেই সঙ্ঘের আদর্শে উঠে এসেছেন। ২০১৪ সালে মোদির শপথ অনুষ্ঠানে মোদির নীতি ছিল প্রতিবেশি রাষ্ট্রগুলিকে ইতিবাচক এক মিত্রতার বার্তা দেওয়া। তাই সেবার আহ্বান করা হয়েছিল সার্ক গোষ্ঠীর রাষ্ট্রনায়কদের। আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফও। কিন্তু গত পাঁচ বছরে পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে।

এবার লোকসভা ভোটের প্রাক্কালে পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলা এবং তৎপরবর্তী বালাকোটে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক বস্তুত মোদিকে বিপুলভাবে জনপ্রিয় করেছে ভোটের প্রচারে। সেই রেশ ধরেই এবার শপথ অনুষ্ঠানে ডাক পাননি ইমরান খান। পরিবর্তে এবার মোদির ফোকাস বিমস্টেক রাষ্ট্রগুলি (বে অফ বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি টেকনিক্যাল অ্যাণ্ড ইকনমিক কোঅপারেশন)। লক্ষ্যণীয়ভাবে এই গোষ্ঠীর অন্তর্গত দেশগুলি সার্কে থাকলেও এই বিমস্টেকে পাকিস্তান নেই। রয়েছে বাংলাদেশ, ভারত, থাইল্যাণ্ড, শ্রীলঙ্কা, মায়ানমার, নেপাল, ভূটান। এর পাশাপাশি মরিশাস ও কিরঘিজস্তানের রাষ্ট্রপ্রধানদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কিরঘিজস্তানের প্রেসিডেন্টকে এবার বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কারণ সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানা‌ইজেশনের সদর দপ্তর সেখানেই। আর শপথগ্রহণের পর নরেন্দ্র মোদির পরবর্তী প্রথম বিদেশ সফর সাংহাই কোঅপারেশনের সম্মেলনেই। সেখানে থাকবেন ইমরান খানও। তাঁকে শপথ অনুষ্ঠানে না ডেকে মোদি কঠোর অবস্থানের বার্তাই দিয়েছেন। বিদেশের মাটিতে কি দ্বিপাক্ষিক কোনও বৈঠকের সম্ভাবনা আছে? বিদেশমন্ত্রক উচ্চবাচ্য করেনি। মোদির আগামী মন্ত্রিসভাকে ঘিরে সবথেকে বড় যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে সেটি হল অমিত শাহ কি মন্ত্রী হবেন? হলে তাঁকে বিজেপি সভাপতির পদ ছেড়ে দিতে হবে। সেক্ষেত্রে নতুন বিজেপি সভাপতি কে হবেন? নাকি অমিত শাহ তাঁর স্বপ্নপূরণ না হওয়া পর্যন্ত সভাপতি পদেই থেকে যাবেন? কী স্বপ্ন? অমিত শাহ নিজেই বহুবার বলেছেন। বাংলা দখল!

About Bellal Hossen

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

shares