Breaking News
loading...
Home / সম্পাদকীয় / শরণার্থী ও বাংলাদেশের সামর্থ্য বিশ নেতৃবৃন্দকে ভাবতে হবে

শরণার্থী ও বাংলাদেশের সামর্থ্য বিশ নেতৃবৃন্দকে ভাবতে হবে

ইতিপূর্বে মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের কাছে কাউকে যেতে না দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে বর্ণনা করেছে জাতিসংঘ। সহিংসতার পরও রাখাইনে হাজার হাজার রোহিঙ্গা রয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবিক ত্রাণ দফতরের প্রধান মার্ক লোকক। জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, মিয়ানমার থেকে ফের বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের ঢল নামবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গত আগস্ট মাস থেকে রাখাইনে সেনাবাহিনীর অভিযানের পর ইতোমধ্যে পাঁচ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। এটি বড় রকমের মানবিক বিপর্যয়ে পরিণত হয়েছে।

বিশ্বের সবচেয়ে নিপীড়িত জনগোষ্ঠীর মধ্যে রোহিঙ্গারা অন্যতম। এককালে যাদের ছিল স্বাধীন রাষ্ট্র, ক্ষমতা ও প্রভাব প্রতিপত্তি, এখন তারাই নৃশংস নির্যাতনের শিকার। মিয়ানমারের মুসলিম জনগোষ্ঠীর ভাগ্য বিড়ম্বনার ইতিহাস যে কাউকে মর্মাহত করবে। ইতিহাস পর্যালোচনায় জানা যায়, এই উপমহাদেশ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সর্বপ্রথম যে কয়টি এলাকায় মুসলিম বসতি গড়ে ওঠে, আরাকান তার মধ্যে অন্যতম। রোহিঙ্গারা সেই আরাকানি মুসলমানের বংশধর। এক সময় আরাকানে স্বাধীন মুসলিম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৪৩০ সালে প্রতিষ্ঠিত মুসলিম শাসন দুইশ বছরেরও অধিককাল স্থায়ী হয়। ১৬৩১ সাল থেকে ১৬৩৫ সাল পর্যন্ত আরাকানে ব্যাপক দুর্ভিক্ষ হয়। এরপর মুসলিম শাসনের অবসান ঘটে। ১৬৬০ সালে আরাকান রাজা থান্দথুধম্মা নিজ রাজ্যে আশ্রিত মোগল সম্রাট শাহজাদা সুজাকে সপরিবারে হত্যা করে। এরপর শুরু হয় মুসলমানের ওপর তার নিষ্ঠুর অমানবিক অত্যাচার নিপীড়ন। প্রায় সাড়ে তিনশ বছর মুসলমানদের কাটাতে হয় এই দুর্বিষহ অবস্থার মধ্যে।
এদিকে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর সেনাবাহিনীর সহিংসতাকে জাতিগত নিধন অভিযানের সঙ্গে তুলনা করে জাতিসংঘ। কিন্তু মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর ভাষ্য, তারা সন্ত্রাস দমনের চেষ্টা করছে। নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর সন্ত্রাসী হামলার পরই সেনাবাহিনীর অভিযান শুরু হয়। মানবাধিকার সংগঠনগুলো জানায়, উত্তর রাখাইনে রোহিঙ্গাদের চার শতাধিক গ্রাম পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কর্মকর্তাদেরকে রাখাইনে যেতে দেওয়ার জন্য মিয়ানমারের প্রতি আহবান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবিক ত্রাণ দফতরের প্রধান। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের আসা এখনও বন্ধ হয়নি। হাজার হাজার রোহিঙ্গা এখনো মিয়ানমারে অবস্থান করছে। ফের শরণার্থীদের ঢল নামতে পারে। আর এজন্য আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে। মিয়ানমারের সরকারি বার্তা সংস্থাকে উদ্ধৃত করে রয়টার্স বলছে, আরও অনেক রোহিঙ্গা সীমান্ত পাড়ি দেওয়ার জন্যে প্রস্তুত।
মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর নিষ্ঠরতা থেকে প্রাণে বাঁচতে পালিয়ে আসা লোকের সংখ্যা জাতিসংঘের মতে পাঁচ লাখ হলেও আদতে তা দশ লাখ ছাড়িয়ে গেছে বলে জানা যায়। এসব রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে নিয়ে বাংলাদেশ এখন রীতিমতো দুর্ভাবনায় রয়েছে। তাদের আশ্রয়, খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির জোগান, স্যানিটেশন, মহামারি রোধ ও চিকিৎসাসেবা প্রদান এবং নিরাপত্তা নিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। যদিও রোহিঙ্গাদের আশ্রয় প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মানুষ মানুষের জন্য। বিপন্ন মানুষকে আশ্রয় দেওয়া যে কোনো মানুষের দায়িত্ব। রোহিঙ্গারা মানবেতর জীবনযাপন করছিল। মিয়ানমার যেভাবে অত্যাচার চালাচ্ছিল, তাতে স্বাভাবিকভাবেই তাদের আশ্রয় দিতে হয়েছিল। বাংলাদেশের সরকার ও জনগণ মানবতা দেখিয়েছে। বাংলাদেশ কারো সাহায্যের জন্য অপেক্ষা করিনি। এজন্য যারা সহযোগিতা করেছেন, তাদের ধন্যবাদ না জানিয়ে অকৃতজ্ঞ হওয়া উচিতও নয়। বাংলাদেশ সকল রাষ্ট্রকে ধন্যবাদ জানিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ানোর কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনও তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। এ সংকট নিরসনে এখন বিশ্বব্যাপী নানা আলোচনা চলছে। মিয়ানমার আলোচনা শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক চাপ ও আলোচনার মাধ্যমে আমরা ধীরে ধীরে এর সমাধান করতে পারব।
এরই মধ্যে এশিয়া ইউরোপ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ বা সংস্থা কিছু পরিমাণে ত্রাণ সহায়তা নিয়ে বাংলাদেশের পাশে এসে দাঁড়ালেও বাংলাদেশ এখন সংকটকাল অতিক্রান্ত করছে। প্রাপ্ত ত্রাণ শলণার্থী অনুপাতে প্রয়োজনের তুলনায় অতি সামান্য। জাতিসংঘ এ ব্যাপারে দ্রুত একটি তহবিল গঠনের আহবান জানিয়েছে। উন্নত দেশগুলো জাতিসংঘের এ আহবানে দ্রুত সাড়া দিয়ে এগিয়ে আসবে সেটাই প্রত্যাশা। বাংলাদেশের মতো একটি জনবহুল ও দুর্বল অর্থনীতির দেশের পক্ষে এত বড় চাপ কত দিন ধরে বহন করা সম্ভব হবে তা বিশ্বনেতৃবৃন্দকে অনুধাবন করতে হবে। ভাবতে হবে বাংলাদেশকে নিয়েও, বাংলাদেশের সামর্থ্য নিয়েও। মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর রোহিঙ্গা নিধন ও নির্গমন বন্ধ করতে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরো তৎপর হতে হবে।

Loading...
loading...

ভিডিওটি দেখতে নিচে ক্লিক করুন



Loading...

About admin

Check Also

syl

জনগণের পুষ্টির অভাব দূরীকরণে সচেষ্টা নিতে হবে

চিকিৎসাশাস্ত্র অনুযায়ী শরীর গঠন, বুদ্ধিমত্তা, শরীর বৃদ্ধি ও ক্ষয়পূরণ এবং রোগ প্রতিরোধের জন্য; শারীরিক শক্তি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *