Breaking News
loading...
Home / জাতীয় / ভোটের হাওয়া ময়মনসিংহ-৮ জাপা নিয়ে জটিলতা আ’লীগে বিএনপিতে বিপত্তি কম

ভোটের হাওয়া ময়মনসিংহ-৮ জাপা নিয়ে জটিলতা আ’লীগে বিএনপিতে বিপত্তি কম

ভোটের হাওয়া ময়মনসিংহ-৮ জাপা নিয়ে জটিলতা আ'লীগে বিএনপিতে বিপত্তি কম

অনলাইন ডেস্ক : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনে তেমন কোনো বিপত্তি নেই বিএনপিতে। স্থানীয়ভাবে যেটুকু কোন্দল রয়েছে, ভোট সামনে রেখে তা মিটিয়ে নেওয়ার তৎপরতাও শুরু হয়েছে। তবে জোটের শরিক জাতীয় পার্টিকে (জাপা) নিয়ে জটিলতার আশঙ্কা রয়েছে আওয়ামী লীগে। জোটবদ্ধভাবে নির্বাচনে গেলে আবারও জাপার প্রার্থীকে এই আসনে অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে। এ নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা আছেন দুশ্চিন্তায়। বর্তমান এমপি ফখরুল ইমাম আগামীবারও জাতীয় পার্টি থেকে একক প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ছোট দল থেকে প্রার্থিতার আগ্রহ দেখাচ্ছেন আরও কয়েকজন। সব মিলিয়ে ডজনখানেক সম্ভাব্য প্রার্থীর তোড়জোড়ে স্থানীয়ভাবে নির্বাচনের আমেজ ক্রমেই জমে উঠছে।
১৯৭০ সালের জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশের মাত্র দুটি আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা পরাজিত হন। ওই দুই আসনের একটি ময়মনসিংহ-৮। স্বাধীনতা-পরবর্তী নির্বাচনগুলোতে ১১টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এই আসনে জাতীয় পার্টির প্রভাব লক্ষণীয়। মোট চারবার জাতীয় পার্টি এ আসনের এমপি পদ দখলে নিয়েছে। তিনটি করে নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি মনোনীতরা।

বর্তমান এমপি ফখরুল ইমাম এর আগে ১৯৮৮ সালেও এমপি হয়েছেন জাপা থেকে। ১৯৯১ সালে তার বদলে জাপার প্রার্থী হয়ে এমপি নির্বাচিত হন খুররম খান চৌধুরী। ২০১৪ সালে ফখরুল ইমাম আবারও লাঙ্গল নিয়ে প্রার্থিতার সুযোগ পান। বর্তমান সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা জাপার কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদের আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত তিনি। তবে স্থানীয়ভাবে তাকে নিয়ে কিছুটা অসন্তোষও রয়েছে। নির্বাচনী এলাকায় কম যান এবং প্রত্যাশীত উন্নয়ন করতে পারেননি বলে অভিযোগ রয়েছে অনেকেরই।

এসব অভিযোগ মানতে নারাজ এমপি ফখরুল। তার দাবি, এমপি হয়ে এলাকার ব্যাপক উন্নয়নের পাশাপাশি দলকেও সুসংগঠিত করেছেন। অবশ্য এলাকায় কম যাতায়াতের বিষয়টি মেনে নিয়ে এই জনপ্রতিনিধি জানালেন, আগামী এক বছর এলাকায় যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। নির্বাচন প্রসঙ্গে ফখরুল ইমাম সমকালকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত জাতীয় পার্টি একক নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্তে রয়েছে। তবে পরবর্তী সময়ে জোট হলে সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ সার্বিক দিক বিবেচনায় ভোটাররা আবারও তাকে নির্বাচিত করবেন- এমন প্রত্যাশা তার।

১৯৭৩ সালে এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এমপি নির্বাচিত হন। এরপর দীর্ঘ বিরতি। ১৯৯৬ সালে নৌকাকে আবারও এই আসনের প্রতিনিধিত্বে ফেরান আবদুছ ছাত্তার। রওশন এরশাদকে হারিয়ে ওই নির্বাচনে এমপি হয়ে আবদুছ ছাত্তার এলাকার উন্নয়ন করে ভোটারদের আস্থা অর্জন করেন। দলকেও শক্ত ভিত গড়ে দেন। কিন্তু ২০০১ সালে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে পরাজিত হন তিনি। ২০০৮ সালে আবারও আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচন করে এমপি নির্বাচিত হন। কিন্তু স্থানীয় রাজনীতিতে তার শশুড়বাড়ির লোকজনকে প্রাধান্য দেওয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দলে ক্ষোভ বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে ছাত্তারের বিরুদ্ধে মাঠে নামেন তার আপন ভাতিজা মাহমুদ হাসান সুমন। চাচা-ভাতিজার বিরোধে গত নির্বাচনে জাপা প্রার্থীর ভাগ্য খুলেছে। তবে জোটের প্রার্থীকে ছাড় দেওয়ায় আবদুছ ছাত্তারকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক করা হয়। তিনি আগামী নির্বাচনেও দলের মনোনয়ন চান। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতিসহ দলের বেশ কিছু নেতা-কর্মী নিয়ে প্রস্তুতিও নিচ্ছেন। তাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে তার ভাতিজা ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাহমুদ হাসান সুমনও বলয় গড়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকসহ কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে। এদিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রফিকুল ইসলাম বুলবুল দলের কিছু নেতা-কর্মীকে নিয়ে স্বতন্ত্র অবস্থান থেকে নিজের কর্মকান্ড চালাচ্ছেন। দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী তালিকায় আরও রয়েছেন বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদের সদস্য ও বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের পরিচালক অ্যাডভোকেট শাহ মঞ্জুরুল হক, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সৌমেন্দ্র কিশোর চৌধুরী, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত কর্মকর্তা সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রহিম (বিপিএম)।

আগামী নির্বাচন নিয়ে সাবেক এমপি আবদুছ ছাত্তার জানান, দলীয় নির্দেশনা নিয়ে মাঠে কাজ করছেন। আওয়ামী লীগে কোনো বিভেদ নেই বলে তার দাবি। যারা বিরোধ করে, তারা নৌকাকে ভালোবাসে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মাহমুদ হাসান সুমন জানান, আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান হয়েছে। মনোনয়ন পেলে এমপি পদেও বিজয়ী হবেন বলে আশাবাদী তিনি। মনোনয়ন পেলে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী অ্যাডভোকেট সৌমেন্দ্র কিশোর চৌধুরীও। তিনি বলেন, জাতীয় পার্টির সঙ্গে জোটগত নির্বাচনে গেলে আর এ আসনে জাপার প্রার্থী থাকলে ফল ভালো হওয়ার সম্ভাবনা কম। এ ক্ষেত্রে বিএনপি সুবিধা নিতে পারে। তাই আওয়ামী লীগ থেকে প্রার্থী দেওয়ার প্রয়োজন।

মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুর রহিম (বিপিএম) বলেন, মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইবেন তিনি। নির্বাচিত হলে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে সঙ্গে নিয়ে এলাকার উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখবেন। মনোনয়নপ্রত্যাশী অ্যাডভোকেট শাহ মঞ্জুরুল হক মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে শতভাগ আত্মবিশ্বাসী।
উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রফিকুল ইসলাম বুলবুল বলেন, নেত্রীর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জোট থেকে কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হলে তার পক্ষেই কাজ করা হবে। আওয়ামী লীগের দলীয় কেউ মনোনয়ন না পেয়ে জোট থেকে জাতীয় পার্টি মনোনয়ন পেলেও আসনটি হারানোর কোনো শঙ্কা নেই।

বিএনপি থেকে আগামী নির্বাচনের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা হলেন- সাবেক এমপি শাহ নুরুল কবির শাহীন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি প্রকৌশলী লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু, ময়মনসিংহ (উত্তর) জেলা যুবদল সভাপতি ও সাবেক ছাত্রদল নেতা কামরুজ্জামান লিটন ও উপজেলা বিএনপি সিনিয়র সহসভাপতি শিক্ষানুরাগী অ্যাডভোকেট আওরঙ্গবেজ বেলাল। এ ছাড়া বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) থেকে নির্বাচন করতে চান কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এম.এ বাশার।

মনোনয়নপ্রত্যাশী শাহ নুরুল কবির শাহীন ২০০১ সালে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। ভোটারদের কাছে জনপ্রিয়তা রয়েছে তার। তবে ২০০৮ সালে পরাজিত হওয়ার পর দলে আরও বেকায়দায় পড়েন তিনি। বিগত উপজেলা পরিষদ নির্বাচন, পৌরসভার নির্বাচন ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তার বিরোধিতার কারণে দলীয় প্রার্থীরা পরাজিত হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। শাহ নুরুল কবীরের বিরোধিতার পরও বিগত উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি থেকে সাবেক ছাত্রনেতা আমীরুল ইসলাম ভূঁইয়া মণি উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এদিকে বিএনপির রাজনীতিতে নতুন যুক্ত হওয়া প্রকৌশলী লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু উপজেলা বিএনপির সভাপতি হয়েছেন। জনদরদি হিসেবে মাজেদ বাবু অল্প সময়ে নিজের অবস্থান শক্ত করেছেন। দল গোছাতেও সক্রিয়তা দেখাচ্ছেন। এদিকে সাবেক এমপি শাহ নুরুল কবির শাহীনকে সভাপতি করার ক্ষেত্রে জেলা বিএনপির (উত্তর) তিনজন যুগ্ম আহ্বায়ক সমর্থন করেন। এ নিয়ে বিএনপিতে দুটি বলয় গড়ে উঠেছে। তাই সাবেক এমপি শাহ নুরুল কবির শাহীন নিজের কমিটিকে নিয়ে মাঠে শক্ত অবস্থানে দাঁড়াতে পারছেন না। এ ছাড়া সাবেক ছাত্রদল নেতা কামরুজ্জামান লিটন এলাকায় আগাম প্রচার চালাচ্ছেন। স্থানীয় সভা-সমাবেশে অংশ নিচ্ছেন।

আগামী নির্বাচন প্রসঙ্গে শাহ নুরুল কবির শাহীন বলেন, আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে তিনি শতভাগ আশাবাদী এবং বিএনপির সম্ভাবনা বেশ উজ্জ্বল। আওয়ামী লীগ প্রার্থী মাঠে থাকলে নির্বাচন হবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। আর জোট থেকে জাপা প্রার্থী থাকলে নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে না।

উপজেলা বিএনপি সভাপতি লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু বলেন, মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে তিনি শতভাগ আশাবাদী। মনোনয়ন না পেলেও মানুষের পাশে যেভাবে আছেন সেভাবেই থাকবেন। মনোনয়ন যিনিই পান, তার পক্ষেই কাজ করবেন বলে জানান তিনি।

কামরুজ্জামান লিটন বলেন, দল মনোনয়ন দিলে তৃণমূল নেতা-কর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে তার পক্ষে কাজ করবেন এবং এ আসন নিশ্চিত হবে। দুই গ্রুপের তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের মধ্যে তার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে বলে তিনি জানান।
মনোনয়নপ্রত্যাশী অ্যাডভোকেট আওরঙ্গজেব বেলাল জানান, দীর্ঘদিন দলের সঙ্গে আছেন। উন্নয়নে অংশ নিয়েছেন। তাই প্রবীণ রাজনীতিবিদ হিসেবে আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন পেলে জয়ের বিষয়ে শতভাগ আশাবাদী তিনি।

এদিকে এলডিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এম.এম বাশার আগাম প্রচারের অংশ হিসেবে উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডেও অংশ নিচ্ছেন। এমপি হলে এই এলাকাকে উন্নয়নের ছোঁয়ায় বদলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি তার।

সূত্র, সমকাল

Loading...
loading...

ভিডিওটি দেখতে নিচে ক্লিক করুন



Loading...

About admin

Check Also

চীনকে হারিয়ে পঞ্চম স্থানের লড়াইয়ে বাংলাদেশ

চীনকে হারিয়ে পঞ্চম স্থানের লড়াইয়ে বাংলাদেশ

অনলাইন ডেস্ক : দুর্দান্ত দুটি সেভ করলেন গোলরক্ষক আবু নিপ্পন। শেষে ভুল করলেন না অধিনায়ক রাসেল …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *