Breaking News
loading...
Home / ফিচার / রঙিন সুতোর ‘নকশি পাখা’

রঙিন সুতোর ‘নকশি পাখা’

রঙিন সুতোর ‘নকশি পাখা’

ফরহাদুজ্জামান ফারুক, রংপুর : শিল্পী আকবরের গাওয়া ‘তোমার হাতপাখার বাতাসে প্রাণ জুড়িয়ে আসে, আরও কিছু সময় তুমি থাকো আমার পাশে’- এ গান শোনেননি বা হাতপাখা দেখেননি- এমন মানুষ মেলা ভার। তা তিনি যতো বড় শহুরে মানুষই হোন না কেন! হাতপাখা বাংলার ইতিহাস-ঐতিহ্যেরই অংশ। এ হাতপাখার রকমফেরও অনেক। কোনোটা নিছকই তালপাতার পাখা, যার কাজ শুধুই গরম থেকে রক্ষা করা। আবার এমন হাতপাখাও আছে, যা শুধু বাতাসই দেয়, না সৌন্দর্য গুণেও অনন্য।

সৌন্দর্যের দিক দিয়ে সবচেয়ে এগিয়ে রাখার মতো যে পাখা সেটি রঙিন সুতোর ‘নকশি পাখা’। অনেকটা নকশিকাঁথার মতো। তবে পাখার জমিন যেহেতু ছোট, সেহেতু সেখানে কারুকাজের সুযোগও কম। তবে সুতো দিয়েই পাখার গায়ে পাখি, ফুল, লতা-পাতা কিংবা ভালোবাসার মানুষের নাম অথবা ভালোবাসার চিহ্ন ফুটিয়ে তোলা হয়। পাখার বাতাসে প্রাণ যেমন জুড়ায়, তেমনি বাহারি সব পাখা দেখে চোখও জুড়ায়। বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির বিপ্লব ও লোডশেডিং কমে যাওয়ায় পাখার ব্যবহার কমে গেলেও আজও উল্টরাঞ্চলে তা তৈরি ও বিক্রি হয়। অঞ্চলে রংপুর, দিনাজপুরসহ দেশের ময়মনসিংহ ও নরসিংদীতে এখনও বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত হচ্ছে হাতপাখা।

নকশা করা এসব পাখা বিক্রি হয় ১০০ টাকা ১৪০ টাকা পর্যন্ত। এ ছাড়া দেখা যায় কাপড়ের পাখা, বাঁশের চাটাইয়ের রঙিন পাখা, তালপাতার পাখা, ভাজ পাখা বা মোবাইল পাখা, ঘুরানি পাখা। ওংপুর মহানগরীর কাঁচারি বাজার এলাকা এ ধরনের পাখা বিক্রিতে প্রসিদ্ধ। সড়কের পাশেই পাখার পসরা সাজিয়ে বসেন বিক্রেতারা। তাদের কেউ কেউ দুই যুগেরও বেশি সময় ধরেই এখানে পাখার ব্যবসা করে আসছেন। শীতের তিন-চার মাস বাদ দিয়ে বছরের বাকি সময় জুড়েই এখানে পাখা বিক্রি হয়। কাঁচারি বাজারের পাখা বিক্রেতা মাসুদ রানা জানান, ১৯৮৯ সালের পনেরই জুন থেকে তিনি এখানে পাখা বিক্রি করছেন। সারাবছরই তিনি পাখা বিক্রি করেন। তবে ফেব্র“য়ারির মাঝামাঝি থেকে অক্টোবর পর্যন্তই মূলত বেচা-কেনা থাকে। শীতের সময় শীতকালীন কিছু জিনিসপত্র বিক্রি করেন, তবে নকশি পাখাও রাখেন। কেউ চাইলে যেন দিতে পারেন। আর এসব পাখা তৈরিতেও প্রসিদ্ধ দেশের একেকটি অঞ্চল যেমন নওগাঁর শান্তাহারের তালপাতার পাখা। এ অঞ্চলে শুধু পাখা তৈরির জন্যই বিশেষ ধরনের তালগাছের চাষ করা হয়। এ ছাড়া কাপড়ের পাখা তৈরি হয় রংপুরের তারাগঞ্জ, পীরগাছা ও বদরগঞ্জে। মোবাইল পাখা তৈরি হয় বগুড়ায়। কালীগঞ্জে তৈরি হয় বাঁশের পাখা। এসব পাখার দাম সাধারণত ২০ টাকা থেকে ৫০ টাকার মধ্যে।

Loading...
loading...

ভিডিওটি দেখতে নিচে ক্লিক করুন



Loading...

About sylhet24 express

Check Also

রানী মাছ

মৌলভীবাজারের হাকালুকির হাওরের বিলুপ্ত প্রায় সুস্বাদু রানী মাছ

মৌলভীবাজার সংবাদদাতা : মৌলভীবাজারের হাকালুকি হাওরের বিলুপ্ত প্রায় মাছের মধ্যে অন্যতম হলো রানী মাছ। চলতি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *