Breaking News
loading...
Home / অর্থনীতি / ৭৬ কোটি টাকা দিয়েও ভবন পায়নি ব্যবস্থা নিতে চিঠি দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়

৭৬ কোটি টাকা দিয়েও ভবন পায়নি ব্যবস্থা নিতে চিঠি দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়

বেসিক ব্যাংক

আবদুল হাই পর্ষদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চিঠি

নিজস্ব প্রতিবেদক : টাকা দিয়েও ভবন না পাওয়ায় বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই বাচ্চুর নেতৃত্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে দায়ী করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সম্প্রতি বেসিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) চিঠি পাঠিয়ে এ কথা জানিয়েছে। চিঠির অনুলিপি দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরকে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ বলেছে, সিঙ্কু আকরামুজ্জামান নামের যে ব্যক্তিকে ৭৬ কোটি টাকা দিয়ে দেওয়া হয়েছে, সালিসের মাধ্যমে তার কাছ থেকে আগে সেই টাকা আদায় করতে হবে। সালিসে না পারলে ক্ষতিপূরণের মামলা করতে হবে তার বিরুদ্ধে। বিভাগটি আরও বলেছে, ব্যাংকের আইনজীবীদের মতামত নিয়ে পরিচালনা পর্ষদের তৎকালীন সদস্যদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। আর চাকরিতে কর্মরত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিতে হবে আইনি ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রশাসনিক ব্যবস্থাও।

তবে অর্থ মন্ত্রণালয় ও অর্থমন্ত্রী এএমএ মুহিতের পক্ষ থেকে এর আগে একাধিকবার আবদুল হাই বাচ্চুর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল, কিন্তু এখন পর্যন্ত কিছুই করা হয়নি।

রাজধানীর মতিঝিলে সেনাকল্যাণ ভবনের বিপরীত দিকে প্রধান কার্যালয়ের জন্য ৫১ হাজার ৫০০ বর্গফুট স্পেস ৮১ কোটি টাকায় কিনতে সিঙ্কু আকরামুজ্জামানের সঙ্গে চুক্তি করে বেসিক ব্যাংক। চুক্তির শর্তমতে, ১৫ তলা ভবন তৈরি করে আকরামুজ্জামান ১২ তলা দেবেন বেসিক ব্যাংকের নামে। ভবনের নাম হবে ‘জামান বেসিক ব্যাংক টাওয়ার’। বাধ্যতামূলক থাকলেও চুক্তিটি করার আগে সরকারের অনুমতি নেয়নি বেসিক ব্যাংক।
জানা গেছে, ২০১০ সালের ১ এপ্রিল হওয়া এই চুক্তির ব্যাপারে এককভাবে প্রভাব খাটান আবদুল হাই বাচ্চু এবং চুক্তির প্রথম দিনই আকরামুজ্জামানকে ৪০ কোটি টাকা দিয়ে দেওয়া হয়। ব্যাংক এরপর তাঁকে আরও দেয় ৩৬ কোটি টাকা। ২০১৩ সালের মার্চে নির্মাণকাজ শেষে ব্যাংককে ভবন বুঝিয়ে দেওয়ার কথা ছিল।

সূত্রগুলো জানায়, মাঝখানে ভবনের কোনো রকম একটি কাঠামো দাঁড়ালেও ভবন আর বুঝে পায়নি বেসিক ব্যাংক। আকরামুজ্জামানকেও ব্যাংক এখন খুঁজে পাচ্ছে না। ঘটনা গড়াতে গড়াতে গত মে মাসে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে আসে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ কাগজপত্র ঘেঁটে দেখেছে, এ বিষয়ে একাধিক অনিয়ম হয়েছে শুরু থেকেই, যে অনিয়মগুলোর জন্য ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ দায় এড়াতে পারে না।
জানতে চাইলে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মো. ইউনুসুর রহমান বলেন, ‘দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আমরা বেসিক ব্যাংককে বলেছি। আশা করছি, ব্যাংকটি শিগগিরই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে আমাদের জানাবে।’ এর বেশি কিছু বলতে চাননি তিনি।

চুক্তি করার সময় আবদুল হাই বাচ্চুর পাশাপাশি ব্যাংকের পর্ষদে ছিলেন রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান বিজয় ভট্টাচার্য, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক মহাপরিচালক নীলুফার আহমেদ, বিসিকের তৎকালীন চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান, কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান ও ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের তৎকালীন চেয়ারম্যান কাজী আখতার হোসেন।

পর্ষদে তখন আরও ছিলেন এআরএস লাভ বাংলাদেশ লিমিটেডের এমডি আনোয়ারুল ইসলাম, সাবেক কাস্টমস কমিশনার শাখাওয়াত হোসেন, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত সচিব রাজিয়া বেগম এবং চাঁদপুর চেম্বারের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জাহাঙ্গীর আকন্দ সেলিম। বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন এ মজিদ বলেন, ‘সিঙ্কু আকরামুজ্জামানকে খুঁজে পাওয়া গেলেই আমরা সালিসের পথে যাব। তাকে খুঁজে পেতে নানা উপায় অবলম্বন করা হচ্ছে।’

দায়ী অন্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে এই মুহূর্তে কিছু বলতে পারছেন না বলেও জানান আলাউদ্দিন এ মজিদ।
বেসিক ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, সিঙ্কু আকরামুজ্জামান মালয়েশিয়ায় বাড়ি কিনে ওখানেই থাকেন। জায়গা বুঝিয়ে দেওয়া দূরের কথা, তিনি ওই ভবনের ওপর আরও ৭ তলা তৈরি করে তা ৮২ কোটি টাকায় কেনার জন্য উল্টো ব্যাংককে চাপ দিয়ে আসছিলেন।
বেসিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের চিঠি চালাচালি থেকে জানা গেছে, ১৯৮৯ সাল থেকেই পৈতৃক সূত্রে পাওয়া আকরামুজ্জামানদের জমিটি পরিত্যক্ত সম্পত্তি। মালিকানার চ‚ড়ান্ত রায় অবশ্য ২০১৬ সালে আকরামুজ্জামানদের পক্ষে আসে। গতকাল পর্যন্ত আকরামুজ্জামানের নামে নামজারি হয়নি। আবার চুক্তিটিও অনিবন্ধিত।

আবদুল হাই বাচ্চু ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বরে চেয়ারম্যান হয়ে বেসিক ব্যাংকে যোগ দেওয়ার তিন মাস পরই এই কেলেঙ্কারির সূত্রপাত হয়। গত ৩০ জুন পর্যন্ত বেসিক ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ৫৩ শতাংশ, পরিমাণ ৭ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা।
আবদুল হাই বাচ্চুর বক্তব্য নিতে গতকাল যোগাযোগের চেষ্টা করে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া গেছে। এক মাস আগে গত ৯ সেপ্টেম্বর বনানীর বাসায় গিয়ে জানা গেছে, তিনি মাঝেমধ্যে এ বাসায় আসেন।

গত ১০ সেপ্টেম্বর প্রথম আলোয় ‘৭৬ কোটি টাকা দিয়েও ভবন পায়নি, বেসিক ব্যাংকে আবদুল হাই বাচ্চুর আরেক কেলেঙ্কারি’ শীর্ষক প্রধান প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

Loading...
loading...

ভিডিওটি দেখতে নিচে ক্লিক করুন



Loading...

About sylhet24 express

Check Also

চীনকে হারিয়ে পঞ্চম স্থানের লড়াইয়ে বাংলাদেশ

চীনকে হারিয়ে পঞ্চম স্থানের লড়াইয়ে বাংলাদেশ

অনলাইন ডেস্ক : দুর্দান্ত দুটি সেভ করলেন গোলরক্ষক আবু নিপ্পন। শেষে ভুল করলেন না অধিনায়ক রাসেল …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *