Breaking News
loading...
Home / অর্থনীতি / চালের বাজারে স্বস্তি নেই পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী ক্রয় ক্ষমতার বাইরে কাঁচামরিচ

চালের বাজারে স্বস্তি নেই পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী ক্রয় ক্ষমতার বাইরে কাঁচামরিচ

 চালের বাজারে স্বস্তি নেই পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী ক্রয় ক্ষমতার বাইরে কাঁচামরিচ

মো. আবু বকর  : দেশের চলমান নানা সঙ্কট এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ন্যে এখন চালের বাজারে স্বস্তি নেই। গত মাসে চালের দাম বৃদ্ধি পেলেও তা আর কমেনি। আর ক্রমাগত হারে দাম বাড়ায় সাধারণদের নাগালের বাইরে এখন কাঁচামরিচ। পাশাপাশি সব ধরনের পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী। বাজারে বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের সবজি।

গতকাল রাজধানীর হাতিরপুল বাজার, শান্তিনগর ও কারওয়ান বাজারসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সপ্তাহের ব্যবধানে ১২০ টাকায় বিক্রি হওয়া কাঁচামরিচ কেজিতে ১৪০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ২৬০ টাকা দরে। এছাড়া সব ধরনের সবজির দাম কেজিতে বেড়েছে ৫ টাকা থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত। বিক্রেতারা বিভিন্ন অজুহাত দিলেও বাড়তি দামের কারণে দিশেহারা হয়ে পড়ছেন ক্রেতারা।
গতকাল বাজারে কালোবেগুন ২০ টাকা বেড়ে কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা; সাদা বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা দরে। এছাড়া শিম ১০০ টাকা; হাইব্রিড টমেটো ১২০ টাকা; শসা ৭০ টাকা; চাল কুমড়া ৫০-৫৫ টাকা; কচুর লতি ৭০ টাকা; পটোল ৬০ টাকা; ঢেঁড়স ৭০ টাকা; ঝিঙ্গা ৭০ টাকা; চিচিঙ্গা ৭০ টাকা; করলা ৬৫ টাকা; কাঁকরোল ৫৫ টাকা; পেঁপে ৪০-৫০ টাকা; কচুরমুখী ৬০-৬৫ টাকা; আমড়া ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

প্রতিটি ফুলকপি ৩৫ টাকা; বাঁধাকপি ৩০ টাকা এবং লেবু হালিপ্রতি ২০ থেকে ৪০ টাকা; পালং শাক আঁটি প্রতি ২০ টাকা; লালশাক ২০ টাকা; পুঁইশাক ৩০ টাকা এবং লাউশাক ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

চালের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন অজুহাতে গত কয়েক মাস ধরে বাড়তে থাকে চলের দাম। সর্বশেষ গত এক সপ্তাহ আগে থেকে চালের দাম কেজিতে ১-২ টাকা কমলে পরে আর কমেনি। গতকালকেও সেই বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের চাল।
বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, মোটা স্বর্ণা ও পারিজা চাল প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪৭-৪৮ টাকা দরে। এছাড়া মিনিকেট কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে (ভালো মানের) ৬২ টাকা দরে, মিনিকেট (সাধারণ) ৫৮ টাকা, বিআর-২৮ ৫৬ টাকা, ভারতীয় বিআর-২৮ ৫০ টাকা, উন্নত মানের নাজিরশাইল ৭০ টাকা, নাজিরশাইল (নরমাল) ৬৫, হাস্কি ৫৬, পাইজাম চাল ৫২ টাকা, বাসমতি ৬৫-৭০ টাকা, কাটারিভোগ ৭০-৭৫ টাকা এবং পোলাও চাল ৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে এই দামের সঙ্গে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য তালিকা পর্যালোচনা করে কিছুটা পার্থক্য দেখা গেছে। টিসিবির মূল্য তালিকায় দেখা গেছে, ভালো মানের মিনিকেট কেজিপ্রতি ৬৫-৬৮ টাকা, নরমল মিনিকেট ৬০-৬৫ টাকা, ভালো মানের বিআর২৮ কেজিপ্রতি ৫৬-৫৮ টাকা, নরমল বিআর২৮ ৫৪-৫৬ টাকা, মোট স্বর্ণা চাল ৪৮-৫০ টাকা।
এদিকে মুদি পণ্যের বাজার ঘুরে দেখা গেছে কেজি প্রতি ছোলা ৮৫ টাকা; দেশি মুগ ডাল ১৩০ টাকা; ভারতীয় মুগ ডাল ৯০ টাকা; মাষকলাই ১২৫ টাকা; দেশি মসুর ডাল ১২০ টাকা; ভারতীয় মসুর ডাল ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে ব্র্যান্ডভেদে ৫ লিটারের বোতল ৫৩০-৫৪০ টাকা; প্রতি লিটারে ১-২ টাকা বেড়ে ১০৭ টাকা থেকে ১০৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি রুই মাছ ২৮০-৪০০ টাকা, সরপুঁটি ৩৮০-৪৫০ টাকা, কাতলা ৩৫০-৪০০ টাকা, তেলাপিয়া ১৪০-১৮০ টাকা, সিলভার কার্প ২৫০-৩০০ টাকা, চাষের কৈ ৩০০-৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পাঙ্গাস প্রতি কেজি ১২০-২৫০ টাকা, টেংরা ৬০০ টাকা, মাগুর ৬০০-৮০০ টাকা, প্রকারভেদে চিংড়ি ৪০০-৮০০ টাকা, ৭০০ গ্রাম ওজনের প্রতিটি ইলিশ ৬০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে ইলিশ ধরায় নিষিদ্ধ থাকায় বাজারে কোনো ইলিশ দেখা মেলেনি।
ব্রয়লার মুরগি আজকের বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকা দরে। লেয়ার মুরগি ১৮০ টাকা; দেশি মুরগি প্রতি পিস ৪৫০ টাকা; পাকিস্তানি লাল মুরগি কেজি প্রতি ২৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
গরুর মাংস কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকায়। খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ টাকা দরে।

ভাই, কাঁচা মরিচ কত? ‘২৬০ টাকা কেজি’ বিক্রেতা হুমাউনের উত্তর। উত্তর শোনার পর ক্রেতা জাকির হোসেন চরম তিক্ততায় বলে উঠলেন ‘নাহ! আর কেনা সম্ভব হলো না; এত টাকা হলে কিভাবে সম্ভব’।

গতকাল সাপ্তাহিক ছুটির দিনে শান্তিনগর কাঁচাবাজারে কেনাকাটা করতে এসেছিলেন জাকির হোসেন। তবে বাজারে এসে কাঁচামরিচের দাম শুনে রীতিমতো আঁতকে উঠলেন। অর্থাৎ উচ্চবিত্ত আর মধ্যবিত্তরাই যখন বাজারে কেনাকাটায় নাভিশ্বাস; তখন খেটে খাওয়া গরিবের রাস্তা কোনটা। তাই প্রশ্ন থেকেই যায় ‘কাঁচামরিচে ঝাল?’
কোরবানি ঈদের পর থেকে কাঁচামরিচের ঝাঁজ ক্রমাগত হারে বাড়ছেই। চালের দাম নিয়ে অস্বস্তি না কাটতেই এবার ক্রমাগত হারে বাড়ছে কাঁচামরিচের দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে ১২০ টাকায় বিক্রি হওয়া কাঁচামরিচের কেজিপ্রতি মূল্য এখন ২৫০-২৬০ টাকা। অর্থাৎ কেজিপ্রতি বেড়েছে ১৩০-১৪০ টাকা।

হাতিরপুল বাজারে বিক্রেতাদের কাছে জানতে চাইলে জানান, পাইকারি থেকে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে তাই বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। বৃষ্টি হলে ক্ষেত থেকে কাঁচামরিচ তুলতে অসুবিধা হয়। যে কারণে মরিচের সরবরাহ কমে গেছে। তাই দাম বেড়ে গেছে।
জাকির হোসেন বলেন, বাসায় ফ্রিজ আছে; তাই ভেবেছিলাম পুরো সপ্তাহের জন্য ১ কেজি কাঁচামরিচ নিয়ে যাবো। এখন দেখি গত সপ্তাহের আড়াই কেজি মরিচের যে দাম ছিল; আজ ১ কেজি কাঁচামরিচের সেই দাম। তাই ৫০০ গ্রাম কিনেছি।
তিনি বলেন, গত কয়েকদিনে চালের দাম আকাশচুম্বি; এখন আবার কাঁচামরিচের দাম। এক কথায় সবকিছুরই দাম ঊর্ধ্বমুখী। কিন্তু আমাদের তো আয়ের মাত্রা নির্দিষ্ট; দাম বাড়লে আমাদের তো আর আয় বাড়ে না। তাই এভাবে যদি সবকিছুর দাম বাড়তে থাকে তাহলে কিভাবে সম্ভব!

ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত কয়েকদিনের বৃষ্টি, পবিত্র আশুরা ও শারদীয় দুর্গোৎসব ঘিরে টানা বন্ধের কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ঢাকায় যে পরিমাণ কাঁচামরিচ এসেছে তা প্রতিদিনের চাহিদার তুলনায় বেশ কম। চাহিদা ও সরবরাহে ঘাটতির কারণে কাঁচামরিচের দাম বেড়ে গেছে।

কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী হারুন বলেন, দেশি কাঁচামরিচের সরবরাহ একেবারেই কম থাকা ও ভারত থেকে আমদানি কয়েক দিন বন্ধ থাকায় দাম এত বেড়ে গেছে। দেশি কাঁচামরিচের সরবরাহ একেবারেই নেই। একে তো বন্যায় মরিচের ক্ষেত নষ্ট হয়েছে, অন্যদিকে বৃষ্টিতে মরিচ তোলা যাচ্ছে না।

বিক্রেতা রহিম জানান, পাইকারি বাজারে বাড়লে তার প্রভাব খুচরা বাজারেও পরে। কাঁচামরিচের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিক্রিও কমেছে। এখন ২৫০ গ্রাম মরিচ ৬৫ টাকার (কেজি ২৬০ টাকা) নিচে বিক্রি করলে লোকসান দিতে হবে। পাইকারি বাজার থেকে এক পাল্লা (৫ কেজি) মরিচ ১ হাজার ১০০ টাকায় কিনেছি। এরপর যাতায়াত ভাড়া তো আছেই।

Loading...
loading...

ভিডিওটি দেখতে নিচে ক্লিক করুন



Loading...

About sylhet24 express

Check Also

চীনকে হারিয়ে পঞ্চম স্থানের লড়াইয়ে বাংলাদেশ

চীনকে হারিয়ে পঞ্চম স্থানের লড়াইয়ে বাংলাদেশ

অনলাইন ডেস্ক : দুর্দান্ত দুটি সেভ করলেন গোলরক্ষক আবু নিপ্পন। শেষে ভুল করলেন না অধিনায়ক রাসেল …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *