Breaking News
loading...
Home / লাইফ- স্টাইল / ভালবাসা বাসি হয় না! বদলে নিন আপনার প্রেমের মজা, রইল টিপস, দেখুন ভিডিও

ভালবাসা বাসি হয় না! বদলে নিন আপনার প্রেমের মজা, রইল টিপস, দেখুন ভিডিও

অনলাইন ডেস্ক : ‘‘যদি পুরাতন প্রেম ঢাকা পড়ে যায় নব প্রেমজালে… তবু মনে রেখো’’

গোড়াতেই রবি ঠাকুর। কোথায় যে নেই তিনি! উদ্ধৃত গানের কলিটা থেকে ‘হঠাৎ দেখা’ নামের সেই কবিতা— ‘‘রাতের সব তারাই আছে দিনের আলোর গভীরে।” পুরাতন প্রেমের গল্পে অবধারিত ভাবে মনে পড়বেই।

পুরনো চাল ভাতে বাড়ে— পুরনো প্রবাদ। কিন্তু পুরনো প্রেম? সে বাড়ে মনের কানাচে। আলো-আঁধারির রং শুষে সে কখন বাড়তে বাড়তে মহীরুহ হয়ে যায়, আমরা টের পাই না। নতুন ভালবাসা বা নতুন সম্পর্ক ততদিনে সামনে চলে এসেছে। কিন্তু কোনও বরষাপীড়িত রাতে অথবা কর্মব্যস্ত দুপুরের মধ্যেও সে বিদ্যুচ্চমকের মতো জেগে ওঠে। সরিয়ে রাখার ইচ্ছে থাকলেও উপায় থাকে না। নতুন তার দাবি রাখবেই। কিন্তু প্রাক্তন? তার কাছে তো অনেক ঋণ!

ঋত্বিকা আর শুভম। সদ্য কর্মজীবন শুরু করা মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান তারা। একটা সামাজিক অনুষ্ঠানে আলাপ। সেখান থেকে প্রেম। কিন্তু, তার পর সব কিছু বদলে যেতে শুরু করল। একদিনে কিছু হয় না। হয়ওনি। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যেকার রসায়নের অবনতি হতে শুরু করল। দু’জনের ভিতর অমিলগুলো প্রকট হতে শুরু করল। আস্তে আস্তে চিড় ধরতে শুরু করল সম্পর্কে। গত তিন বছরে সেই চিড় বাড়তে বাড়তে এক অমোঘ দূরত্ব তৈরি করে দিয়েছে। সেই দূরত্ব পেরিয়ে আর কাছে আসা যায় না। ওরাও আসতে পারেনি। সম্পর্কটা নষ্ট হয়ে গেল।

জীবন বদলায়। শুভম বছরখানেক পরে বাবা-মায়ের দেখে দেওয়া এক মেয়েকে বিয়ে করে। সেই মেয়ে, পায়েল, একদিন ঘর গোছাতে গিয়ে শুভমের আলমারি থেকে খুঁজে পায়একটা ডায়রি। মনের খেয়ালে সেটা পড়তে শুরু করে সে। পড়তে পড়তেই খুঁজে পায় ডায়রির পাতার ভেতরে রাখা একটা ছবি। হ্যাঁ, ঋত্বিকারই। একটা খয়েরি হয়ে যাওয়া গাছের শুকনো পাতাও সেই পাতায় আটকানো ছিল। আর, তার সঙ্গে কয়েক লাইন লেখা। পায়েল ওই লাইন ক’টা পড়ল। তার পর আবার পড়ল। আবার…

এ সব ক্ষেত্রে যা হয়, ক্ষোভ আর অশান্তির গনগনে আগুন জ্বলে ওঠা, তেমন কিছু হল না। পায়েল ফোন করল শুভমকে। অফিসের ব্যস্ততার মধ্যে ফোন ধরল শুভম। পায়েল বলল, ‘‘আজ একটু তাড়াতাড়ি আসতে পারবে?’’

‘‘কেন? কোনও বিশেষ কারণ?’’ শুভম জানতে চায়।

‘‘আমরা আজ একসঙ্গে ডিনার করব বাইরে। আমি ট্রিট দেব।’’

বাড়ির কাছাকাছি একটা রেস্তোরাঁয় সন্ধেবেলা হাজির হল দু’জনে। বরের জন্য একটা কেক আর উপহার এনেছে পায়েল। দুম করে এমন একটা ঘটনায় শুভম তো দারুণ খুশি। হাসিমুখে বলল, ‘‘ব্যাপারটা কী? এ সব কেন?’’

‘‘ইচ্ছে হল আজকের দিনটা সেলিব্রেট করব।’’ বলল পায়েল।

কেকটার গায়ে লেখা ছিল ‘লাভ’। সেদিকে দেখছিল শুভম। উপহারের প্যাকেটটা তার হাতে দিয়ে পায়েল বলল, ‘‘এটা তোমার জন্য। নাও, খোলো।’’ কৌতূহল খেলা করছিল শুভমের মনে। সে প্যাকেটটা খুলল। খুলতেই সে হাঁ হয়ে গেল। প্যাকেটটার মধ্যে ছিল সেই ডায়রি আর ছবি। শুভম বুঝতে পারছিল না, কী ভাবে রিঅ্যাক্ট করবে। সে চুপ করে ছিল। কী বলবে ভেবে পাচ্ছিল না।

পায়েল আলতো স্বরে বলল, ‘‘ঘাবড়ে যেও না। এটা তো হয়ই। প্রত্যেকেরই একটা অতীত থাকে। আমি শুধু একটু প্র্যাঙ্ক করলাম তোমায়।’’ তার পরই সশব্দে হেসে ওঠে সে। শুভমের ঠোঁটেও হাসি খেলে যায়। সে ছদ্মরাগ দেখিয়ে বলে, ‘‘তুমি তো সাঙ্ঘাতিক দুষ্টু!’’

নিজের প্রাক্তন প্রেমিক বা প্রেমিকার সঙ্গে ভাল সম্পর্ক থেকে যাওয়াটা খুব ভাল ব্যাপার। আপনার প্রাক্তন আপনার খুব ভাল বন্ধু হয়ে উঠতে পারে। বিশেষজ্ঞরা এই মতের সপক্ষে নানা যুক্তি দেখিয়েছেন। আপনার জন্য রইল সেই সব যুক্তির তালিকা।

১. আপনার সেন্স অফ হিউমার তার জানা। ভুলে গেলে চলবে না, আজ সে আপনার থেকে এত দূরে চলে গেলেও একদিন আপনারা হইহই আনন্দে কাটিয়েছেন। নির্মল রসিকতার সেই দিনগুলো ফিরে আসতেই পারে নতুন করে হওয়া বন্ধুত্বে।

২. একদিন এই মানুষটির সঙ্গে আপনার আত্মিক সম্পর্ক ছিল। আপনি তাকে চিনতেন অত্যন্ত গভীর ভাবে। তখন কি আর ভেবেছিলেন একদিন সবকিছু শেষ হয়ে যাবে। মানুষ ফুরিয়ে গেলও কঙ্কাল থেকে যায়। তাই সমস্ত কিছু কি কখনও শেষ হতে পারে? তাই নিজের প্রাক্তনের সঙ্গে একটা যোগসূত্র থেকে যেতেই পারে।

৩. প্রাক্তনই হয়ে উঠতে পারে আপনার সেরা পরামর্শদাতা। তারা যেমন জানে আপনার গুণ, তেমন জানে আপনার দোষ। সেই কারণেই তো তারা ব্রেক আপ করেছি‌ল একদিন। কাজেই প্রাক্তনই আপনাকে সঠিক দিশা দেখাতে পারে। নতুন কারও সঙ্গে ডেটিংয়ে যাওয়া নিয়ে ভাবছেন? চলে যেতে পারেন আপনার প্রাক্তনের কাছে। সে-ই বলে দেবে, আপনার কোন জোক শুনে সে হাসবে আর কোনটায় হাসবে না। কোন বিতিকিচ্ছিরি শার্ট পরা চলবে না তার সামনে। এমনকী, সম্পর্ক যদি শরীর পর্যন্ত পৌঁছে যায়, সে বলে দেবে বিছানায় কোন কায়দাটা আপনি প্রথমেই না দেখিয়ে ভবিষ্যতের জন্য রেখে দেবেন।

৪. আপনাদের যৌথ স্মৃতি রয়েছে। একসঙ্গে কাটানো সেই সব মুহূর্ত নতুন করে আপনাকে নস্ট্যালজিক করে তুলবে। আর নস্টালজিয়া কে না ভালবাসে! শুধু সুখের স্মৃতিই নয়, হয়তো সেদিনের সেই সব ঝগড়া আর তর্কের তীব্র মুহূর্তের কথা ভেবেও আপনারা হেসে গড়িয়ে পড়বেন।

৫. দু’জনে দু’জনকে ভাল করে চেনেন। ভাল করে জানেন পরস্পরের সবকিছু। তাই প্রেমের শেষটা যতই খারাপ হোক, সেই বোঝাপড়াটা একেবারে নষ্ট হয়ে যায় না। তাই আপনার মাথায় থেকে যাবে, এই একজন মানুষ বন্ধুর মতো আপনার পাশে রয়েছে।

৬. নতুন করে গড়ে ওঠা এই বন্ধুত্বের সম্পর্কে প্রেমের দিনের মতো তিক্ততা আসবার কোনও সুযোগই নেই। কেন না, এখন আর সেই দায়বদ্ধতাই যে নেই। তা ছাড়া প্রেম ব্যর্থ হওয়ার সবচেয়ে বড় ধাক্কাটা এটাই লাগে, যে আচমকাই আপনার জীব‌ন থেকে সে অদৃশ্য হয়ে যায় চিরকালের মতো। তাকে পুরোপুরি হারিয়ে ফেলার যন্ত্রণাটা থেকে আপনি মুক্ত হবেন, বন্ধুত্বের সম্পর্কটা থেকে গেলে।

৭. যখন ভাবতে বসবেন, আপনার শত্রু-তালিকায় আপনার প্রাক্তনের নাম নেই, একটা অদ্ভুত শান্তি পাবেন। মনে মনে বুঝতে পারবেন, আপনি এতটাই পরিণত মনের, যে প্রাক্তনের দিকে কাদা ছোড়ার খেলাটা থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছেন।

এ সবই আপনার মস্তিষ্ক আর হৃদয়ের খেলা। আপনি কী করবেন, সে সিদ্ধান্ত আপনার।

সূত্র,এবেলা

Loading...
loading...

ভিডিওটি দেখতে নিচে ক্লিক করুন



Loading...

About admin

Check Also

মা-বাবার বিচ্ছেদ কি সন্তানকে হেয় করে?

অনলাইন ডেস্ক : আসিফ (ছদ্মনাম) ক্লাসে হঠাৎ চুপচাপ হয়ে পড়েছে। ফলও খুব খারাপ হচ্ছে। সহপাঠীদের সঙ্গে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *