Breaking News
loading...
Home / জাতীয় / চূড়ান্তভাবে রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে হবে মিয়ানমারকে : প্রধানমন্ত্রী

চূড়ান্তভাবে রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে হবে মিয়ানমারকে : প্রধানমন্ত্রী

চূড়ান্তভাবে রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে হবে মিয়ানমারকে : প্রধানমন্ত্রী

আব্দুল আলীম নোবেল,কক্সবাজার : মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে কক্সবাজারের উখিয়ায় আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের সাথে দেখা করতে ছুঁটে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করে হত্যযজ্ঞ থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা নারী-শিশু ও পুরুষদের সাথে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের উপর চলা অমানবিক বর্ণনাও শুনেন শেখ হাসিনা।

এসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ঘর পোড়ানোর যন্ত্রণা অনুধাবন করতে পারি বলেই মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছি। যতটুকু পারি আশ্রিতাদের সহযোগিতা দেব। তবে বিশ্ববাসীকেও আমাদের সঙ্গে থাকতে হবে। এ আশা করি। চূড়ান্তভাবে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফেরত নিতে হবে মিয়ানমারকে। জাতিসংঘ ও বিশ্ব নেতৃবৃন্দের সহযোগিতা চাই বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এর আগে ঢাকা থেকে রওনা হয়ে বেলা সোয়া ১০টার দিকে কক্সবাজার বিমানবন্দরে অবতরণ করে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি ১৯০৯ ফ্লাইটটি। কক্সবাজার থেকে সড়কপথে উখিয়ার কুতুপালংয়ে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী।

চূড়ান্তভাবে রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে হবে মিয়ানমারকে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যখন আমাদের ওপর হামলা করেছিল, সেসময় আমরা ঘরবাড়ি ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলাম। একসময় হানাদার বাহিনীরা আমাদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দিয়েছিল এবং গণহারে হত্যা করেছিল। ঠিক একইভাবে মিয়ানমার সরকার রাখাইন রাজ্যে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের ওপর দমন, নিপীড়ন শুরু করেছে। সেখানে তাদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এ কারণে লাখ লাখ রোহিঙ্গা আমাদের দেশে আশ্রয় নিয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, মিয়ানমার থেকে নির্যাতনের শিকার হয়ে যেসব রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে তারা যতদিন নিরাপদে ফিরে যেতে পারবেনা ততদিন বাংলাদেশেই থাকবে। মানবিক বিবেচনা করে বাংলাদেশে তাদেরকে অস্থায়ীভাবে রাখা হবে। রোহিঙ্গাদের উপর চলমান নির্যাতন বন্ধ করতে মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছে শেখ হাসিনা।

প্রয়োজনে যারা মিয়ানমারের বিভিন্ন পুলিশ ও সেনাবাহিনী’র উপর হামলা চালিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান চালানো হবে বলেও জানান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে উখিয়ার কুতুপালংয়ে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের দুঃখ-দুর্দশা দেখে এবং নির্যাতনের বর্ণনা শুনে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী ।

তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গারা যতদিন বাংলাদেশে থাকবে ততদিন তাদের মানবিক সহায়তা দেয়া হবে। আর রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে মিয়ানমারকে চাপ সৃষ্টি করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে কথা বলবে বাংলাদেশ সরকার। আমরা আর্তনাদ ও মানবতার সেবায় সব সময় থাকবো। রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নাগরিক তাই তাদের ফিরিয়ে নিতে সে দেশের সরকারের প্রতি আহবান জানান তিনি।

আহতদের খোঁজ-খবর নিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, ছবি: ফোকাস বাংলা

মিয়ানমার সরকারের প্রতি নির্যাতন বন্ধ করার আহবান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আমরা মিয়ানমার সরকারের কাছে অনুরোধ করব, তারা যেন নিরীহ মানুষের উপর নির্যাতন বন্ধ করে। তারা যেন প্রকৃত দোষীদের খুঁজে বের করে। এক্ষেত্রে প্রতিবেশী দেশ হিসেবে যা যা সাহায্য করা দরকার, আমরা তা করব।

সরকারপ্রধান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, মানবিক দিক বিবেচনা করে বাংলাদেশ মিয়ানমারের শরণার্থীদের আশ্রয় দিলেও এ দেশের ভূমি ব্যবহার করে কোনো ধরণের সন্ত্রাসী তৎপরতা চালানো হলে তা বরদাশত করা হবে না।

কুতুপালং পৌঁছে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সাথে কথা বলে সেখানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করছেন শেখ হাসিনা।

ত্রাণ বিতরণের সময়ও শরনার্থীদের মুখ থেকে দুর্দশার কথা শুনে চোখ ভিজে ওঠে প্রধানমন্ত্রীর। তার সঙ্গে থাকা ছোট বোন শেখ রেহানাও এ সময় আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। মিয়ানমারে যা ঘটছে, তাকে ‘মানবাধিকার লঙ্ঘন’ হিসেবে বর্ণনা করে প্রধানমন্ত্রী বাষ্পরুদ্ধ কন্ঠে বলেন, “এ ঘটনা দেখে চোখের পানি ধরে রাখা যায় না। মানুষ মানুষের মতো বাঁচচে। মানুষের কেন এত কষ্ট।”

বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ রেহানা ছাড়াও তার পুত্রবধূ আইওএম কর্মকর্তা পেপ্পি ছিদ্দিক এ সময় কুতুপালং শরনার্থী শিবিরে উপস্থিত ছিলেন।

আমরা শান্তি চাই উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেছেন, ‘মিয়ানমারে যেভাবে মানুষ হত্যা করা হচ্ছে তাতে কি তাদের বিবেককে নাড়া দেয় না? একজনের ভুলে এভাবে লাখ লাখ মানুষ ঘরহারা হচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ১৬ কোটি মানুষের দেশ। সবার খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছি। সেখানে আরও দুই থেকে সাত লাখ মানুষকেও খেতে দিতে পারবো।’

স্থানীয়দের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এখন যারা যুবক তারা হয়তো মুক্তিযুদ্ধ দেখেননি। কিন্তু আমরা দেখেছি। তাই রোহিঙ্গাদের যেন কোনোও কষ্ট না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।’ প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেছেন, ‘আমি জেনেছি যারা আশ্রয় নিতে এসেছেন তাদের অনেকেই অসুস্থ। তাদের দ্রæত চিকিৎসা ব্যবস্থা দেওয়া হোক।’

এ সময় রোহিঙ্গাদের যেন কোনও কষ্ট না হয় এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যেন ভালো থাকে সেজন্য প্রশাসনকে সহযোগিতা করার জন্য অনুরোধ জানান তিনি। রোহিঙ্গা সংকটের সুযোগ নিয়ে কেউ যেন কোনও ধরনের বাণিজ্য করতে না পারে সে ব্যাপারে সবাইকে সজাগ থাকার আহবান জানান প্রধানমন্ত্রী।

ত্রাণের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বেসরকরি সংস্থা বা অন্য কোনও সংগঠন রোহিঙ্গাদের ত্রাণ বা সাহায্য সহযোগিতা করতে চাইলে তা জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে করতে হবে।’

সকালে কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, উপ-দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়–য়া এবং স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

প্রধানমন্ত্রীর সাথে এই সফরে ছিলেন, তার ছোট বোন শেখ রেহানা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, গণপূর্তমন্ত্রী মোশাররফ হোসেন, ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ, হুইপ ইকবালুর রহিম, কক্সবাজার ৩ আসনে সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল, আবদুর রহমান বদি এমপি, সংসদ সদস্য আবুজ রেজা মোহাম্মদ নিজামউদ্দিন নদভী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম, মুখ্যসচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব সুরাইয়া বেগ ও প্রেসসচিব ইহসানুল করিমসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।

এদিকে উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্প পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণ শেষে দুপুর ১ টার দিকে কক্সবাজার রওনা হয়ে সার্কিট হাউজে অবস্থান করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর নামাজ ও মধ্যাহ্ন বিরতি শেষে কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগ ও প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় করেন। বেলা ৩টা ৫০ মিনিটে কক্সবাজার ত্যাগ করেন শেখ হাসিনা।

গত ২৫ আগস্ট থেকে মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে সেনাবাহিনীর দমন-পীড়ন শুরুর পর এখন পর্যন্ত তিন লাখের অধিক রোহিঙ্গা সীমান্ত পার হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন। মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর জাতিগত নিপীড়ন চলে আসছে কয়েক দশক ধরে। বিভিন্ন সময়ে সহিংসতার মুখে সেখান থেকে পালিয়ে এসে আরো সাত লাখের বেশি মানুষ বর্তমানে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে আছেন।

তাদের ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বারবার আহবান জানানো হলেও তাতে সাড়া দেয়নি মিয়ানমার।
রোহিঙ্গাদের এই স্রোত ঠেকাতে মিয়ানমারে জাতিসংঘের মতো কোনো একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার তত্ত্বাবধানে একাধিক নিরাপদ এলাকা (সেইফ জোন) গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ। যদিও তাতে কোনো কর্ণপাত করছে না দেশটি।

Loading...
loading...

ভিডিওটি দেখতে নিচে ক্লিক করুন



Loading...

About sylhet24 express

Check Also

ভয়াবহ সংকটে ৩ লাখ ৪০ হাজার রোহিঙ্গা শিশু : ইউনিসেফ

ভয়াবহ সংকটে ৩ লাখ ৪০ হাজার রোহিঙ্গা শিশু : ইউনিসেফ

নিজস্ব প্রতিবেদক : জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ জানিয়েছে, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ছয় লাখ রোহিঙ্গার মধ্যে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *