Breaking News
loading...
Home / জাতীয় / দুর্ভোগ-শঙ্কা নিয়েই ঘরমুখো হচ্ছে অগণিত মানুষ

দুর্ভোগ-শঙ্কা নিয়েই ঘরমুখো হচ্ছে অগণিত মানুষ

দুর্ভোগ-শঙ্কা নিয়েই ঘরমুখো হচ্ছে অগণিত মানুষ

রতন বালো : ঈদে ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ ছাড়ছে এক কোটি ২৯ লাখ মানুষ আর মাত্র ২ দিন পর ঈদুল আজহা। ঘরমুখো হওয়ার পালাও শুরু হয়েছে। ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ মহানগরসহ এ তিন জেলা থেকে এক কোটি ২৯ লাখ মানুষ ছাড়ছে। এ মধ্যে ৫৫ শতাংশ সড়কপথে, ২৫ শতাংশ নৌপথে এবং ২০ শতাংশ রেলপথে যাতায়াত করছে। বাসযাত্রীরা সহজে ঢাকা ছাড়তে পারলেও দূরপাল্লার মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ও ফেরিঘাটে মারাত্মক যানজটে পড়ছেন।

তবে এখনও যারা বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছে, কিন্তু তাদের দুশ্চিন্তার শেষ নেই বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেছেন, অতি বৃষ্টি ও বন্যার কারণে দেশের সড়ক-মহাসড়কগুলোর এখন বেহাল দশা। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশের ২১ জেলার ৭ হাজার ১৩০ কিলোমিটার সড়ক।

এ নিয়ে ঘরমুখো মানুষের দুশ্চিন্তার শেষ নেই। চরম শঙ্কা থাকলেও শেষটায় মানুষ নির্বিঘেœ গ্রামে ফিরতে পেরেছিল ঈদুল ফিতরের আগে। কিন্তু এবারের চিত্র ভিন্ন। অতি বৃষ্টি ও বন্যার কারণে দেশের সড়ক-মহাসড়কগুলোর এখন বেহাল দশা। ফলে ঈদযাত্রা নিয়ে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে মানুষ।

ঈদে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিতকরণে সরকার বেশকিছু পদক্ষেপ নিলেও তা পর্যাপ্ত নয় বলে দাবি করেছে নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটি। বাসযাত্রীরা সহজে ঢাকা ছাড়তে পারলেও দূরপাল্লার মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ও ফেরিঘাটে মারাত্মক যানজটে পড়ছেন। এ ছাড়া দূরপাল্লার বিলাসবহুল বাসগুলো যথাসময়ে যাত্রা করলেও অনেক ট্রেন ও লঞ্চের সময়সূচিতে মারাত্মক বিপর্যয় ঘটছে বলে দাবি করেছে বেসরকারি এ সংগঠনটি।

গতকাল গণমাধ্যমে নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে ঈদ-পূর্ববর্তী এক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এসব অভিযোগ করা হয়।
পর্যবেক্ষণে বলা হয়, ঈদুল ফিতরের তুলনায় এবার ঈদুল আজহায় ট্রেন ও বাসের টিকিট কালোবাজারি কম হলেও অনেক বাস ও লঞ্চ সার্ভিস অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। গুরুত্বপূর্ণ দুটি ফেরিঘাট মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া (মাওয়া) ও মানিকগঞ্জের পাটুরিয়ায় দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে ‘ভিআইপি সেবা’র নামে পদ্মার শিমুলিয়া-কাঠালবাড়ি ও পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে যাত্রীবাহী যানবাহন পারাপারে সিরিয়াল (ধারাবাহিকতা) ভঙ্গসহ নানা অনিয়ম হচ্ছে।

ফলে ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ২১ জেলার বাসগুলো নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে না। এছাড়া দুর্ঘটনার ঝুঁকি সত্তে¡ও আইন লঙ্ঘন করে ট্রেন ও লঞ্চের ছাদে যাত্রী বোঝাই করা হচ্ছে। এসব কারণে শেষ মুহূর্তে ঘরমুখো মানুষদের দুর্ভোগ-দুর্দশা ও শঙ্কা মাথায় নিয়েই বাড়ি ফিরতে হচ্ছে।
আসন্ন ঈদে এবার বাসসহ বিভিন্ন ধরনের সড়কযানে যাচ্ছে ৭০ লাখ ৯৫ হাজার মানুষ। আর লঞ্চ-স্টিমার-ট্রলারসহ বিভিন্ন ধরনের নৌযান ও বাংলাদেশ রেলওয়ের ট্রেন সার্ভিসে যাচ্ছে ৩২ লাখ ২৫ হাজার ও ২৫ লাখ ৮০ হাজার মানুষ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, স্বজনদের সান্নিধ্যপ্রত্যাশী এসব মানুষ ঈদের দিনসহ ঈদপূর্ববর্তী সাত ও ঈদপরবর্তী ১০ দিন মিলিয়ে ১৮ দিন যাতায়াত করবে। কিন্তু স্বল্পসময়ের জন্য এ বিপুলসংখ্যক মানুষের নিরাপদ-নির্বিঘœ যাতায়াত নিশ্চিতকরণে পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এমনকি ঈদ-পূর্ববর্তী সময়ে বাস ও লঞ্চের অগ্রিম টিকিট প্রাপ্তির ক্ষেত্রে গণবিড়ম্বনা ও অনেক লঞ্চ-বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ করতে পারেনি প্রশাসন। পর্যবেক্ষণকালে একটি পরিবহন সার্ভিসের বিরুদ্ধে ভলভো এসি বাসে ঢাকা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভাড়া ১২শ’ টাকার স্থলে ১৫শ’ টাকা এবং অন্য একটি কোম্পানির বিরুদ্ধে নন-এসি নরমাল বাসে ঢাকা থেকে গাইবান্ধার ভাড়া ৪৬০ টাকার স্থলে ৫২০ টাকা নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রির ক্ষেত্রে রেলওয়ের বিরুদ্ধে কোনো অনিয়ম পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।

সড়কে প্রধান বিড়ম্বনা যানজট ও প্রধান শঙ্কা দুর্ঘটনা উলে­খ করে পর্যবেক্ষণে বলা হয়, বিভিন্ন স্থানে সড়ক পরিবহনমন্ত্রীর সরব পদচারণা সত্তে¡ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট এবং শিমুলিয়া ও পাটুরিয়া ফেরিঘাটে তীব্র গাড়িজট নিরসন করা যেমন সম্ভব হয়নি, তেমনি দিন-রাত মেরামত করেও ৫০ শতাংশেরও বেশি সড়ক নির্বিঘœ যান চলাচলের উপযোগী করা যায়নি। এ কারণে বিড়ম্বনা ও দুর্ঘটনার শঙ্কা মাথায় নিয়েই চলতে হচ্ছে সড়কপথের যাত্রীদের। একইভাবে ট্রেন চলাচল যানজটমুক্ত হলেও ছাদে যাত্রী বহন করায় সেখানেও দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে।
নৌপথও দুর্ঘটনার ঝুঁকিমুক্ত নয় দাবি করে জাতীয় কমিটির পর্যবেক্ষণে বলা হয়, নৌ মন্ত্রণালয় দুর্ঘটনা এড়াতে রাতে বিভিন্ন নৌপথে বালু ও সিমেন্টবাহী নৌযান, ইঞ্জিনচালিত যাত্রীবাহী ট্রলারসহ অনিবন্ধিত ও ফিটনেসবিহীন নৌযান চলাচল বন্ধের ঘোষণা দিলেও সে ঘোষণা কার্যকর হয়নি। ঈদ স্পেশাল সার্ভিসের (ঈদ বিশেষ সেবা) নামে ত্র“টিপূর্ণ অনেক লঞ্চ যেমন চলাচল করছে, তেমনি বিভিন্ন নৌপথে রাতে নিষিদ্ধঘোষিত নৌযানসমূহ চলাচল করছে। এ ছাড়া ঢাকার সদরঘাট টার্মিনাল ও লালকুঠি ঘাট এবং নারায়ণগঞ্জ লঞ্চঘাট থেকে প্রায় সব লঞ্চের ছাদেই যাত্রী বোঝাই করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) বিরুদ্ধে দায়িত্বহীনতার অভিযোগ তুলে জাতীয় কমিটির পর্যবেক্ষণে বলা হয়, ঈদে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ থাকে তা জানা সত্তে¡ও পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে নিয়মিত চলাচলরত ১৯টি ফেরির তিনটি দীর্ঘদিনেও মেরামত না করায় সেগুলো অকেজো রয়েছে।

একইভাবে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌপথে ১৯টির স্থলে ১৮টি ফেরি চলাচল করছে। এ ছাড়া যাত্রী পরিবহনের জন্য বিআইডব্লিউটিসির বহরে সাতটি স্টিমার (রকেট) থাকলেও তার মধ্যে দুটি দীর্ঘদিন বিকল রয়েছে। ফলে চারটি ফেরি ও দুটি স্টিমার ঈদ সেবা দিতে পারছে না। পদ্মার বিভিন্ন নৌপথে ত্র“টিপূর্ণ অনেক লঞ্চ ও স্পিডবোটে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করা হচ্ছে। তবে এবার সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল ও কমলাপুর রেলস্টেশনসহ রাজধানীর অন্যান্য বাস টার্মিনালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সন্তোষজনক বলে পর্যবেক্ষণে উলে­খ করা হয়।

এদিকে দেশের চার মহাসড়কের মধ্যে সবচেয়ে বেশি খারাপ অবস্থা ঢাকা-টাঙ্গাইল-রংপুর-কুড়িগ্রাম মহাসড়কের। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ঢাকা-যশোর-খুলনা এবং তৃতীয় অবস্থানে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক। তবে এ তিন মহাসড়কের তুলনায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ক্ষতির পরিমাণ কম বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে সড়ক-মহাসড়কের এ বেহাল অবস্থার মধ্যেও আশার কথা শুনিয়ে যাচ্ছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, সড়ক পথে ভয়, আতঙ্কের কোনো কারণ নেই। বৃষ্টি-বাদল, ঝড় যাই হোক, যেকোনো মূল্যে সড়ক-মহাসড়ক সচল রাখা হবে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের জাতীয় দুর্যোগ সাড়াদান সমন্বয় কেন্দ্রের উপ-সচিব জিএম আবদুল কাদের জানিয়েছেন, বন্যায় ৭ হাজার কিলোমিটার রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে ঈদ যাতায়াতে দুর্ভাবনা তৈরি হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের তথ্য অনুযায়ী, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, রংপুর, সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, রাঙামাটি, নীলফামারী, গাইবান্ধা, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, দিনাজপুর, জামালপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, ময়মনসিংহ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, রাজবাড়ী, নওগাঁ, জয়পুরহাট, যশোর, মৌলভীবাজার, ফরিদপুর, টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ, মাদারীপুর, মুন্সীগঞ্জ, নাটোর, চাঁদপুর, কুমিল্লা, ঢাকা ও শেরপুর জেলার বিস্তীর্ণ জনপদ বন্যার কবলে পড়েছে।

Loading...
loading...

ভিডিওটি দেখতে নিচে ক্লিক করুন



Loading...

About sylhet24 express

Check Also

ভয়াবহ সংকটে ৩ লাখ ৪০ হাজার রোহিঙ্গা শিশু : ইউনিসেফ

ভয়াবহ সংকটে ৩ লাখ ৪০ হাজার রোহিঙ্গা শিশু : ইউনিসেফ

নিজস্ব প্রতিবেদক : জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ জানিয়েছে, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ছয় লাখ রোহিঙ্গার মধ্যে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *