loading...
Home / জাতীয় / আন্তর্জাতিক গুম দিবস স্বজন হারারা কাঁদলেন ও কাঁদালেন সবাইকে

আন্তর্জাতিক গুম দিবস স্বজন হারারা কাঁদলেন ও কাঁদালেন সবাইকে

মেহ্দী আজাদ মাসুম : আর ক’দিন পরই কোরবানির ঈদ। সব সন্তানই চান মা-বাবার সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে। ঈদের আনন্দ পরিবারের সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিতে চান। কিন্তু গুম হওয়া পরিবারে কি আর ঈদের আনন্দ আছে? এসব অসহায় পরিবারের ছোট্ট শিশুদের কে বোঝাবে, আর কত দিনইবা তারা অপেক্ষা করবে। আন্তর্জাতিক গুম দিবসে গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে গুম হওয়া ২৯টি পরিবারেরর পক্ষ থেকে আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠান স্বজন হারা শিশু ও মায়েদের কান্নায় আকাশ-বাতাস ভারি হয়ে ওঠে। অনুষ্ঠানজুড়ে তারা কাঁদলেন এবং কাঁদালেনও সবাইকে।

তিন বছরেরও বেশি সময় আগে রাজধানী থেকে গুম হওয়া পারভেজ হোসেনের ছোট মেয়ে হৃদি হোসেন এই ঈদে তার গুম হওয়া বাবাকে ফিরে পেতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আকুতি জানায়। কাঁদতে কাঁদতে হৃদি বলে, ‘হাসিনা আন্টি, আমার বাবাকে ফিরিয়ে দিন। আমি বাবার সঙ্গে ঈদ করব।’ তার কান্নায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবার চোখ অশ্রুসিক্ত হয়ে ওঠে।

নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নার সভাপতিত্বে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘আন্তর্জাতিক গুম দিবস’ আলোচনা সভায় নিজেদের দুঃসহ কষ্টের কথা তুলে ধরেন গুম হয়ে যাওয়া মানুষের পরিবারের সদস্যরা। অনুষ্ঠানজুড়ে গুম হওয়া পরিবারের সদস্যরা কাঁদতে থাকেন। একটি শোক বিহবল পরিবেশ সৃষ্টি হয় সেখানে।

অনুষ্ঠানে গুম হওয়া মানুষকে ফিরিয়ে দিতে এবং যারা তুলে নিয়ে যাচ্ছে তাদের বিচারের দাবিতে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি জানানো হয়। দ্রুত এ বিষয়ে পদক্ষেপ না নেওয়া হলে আগামী ডিসেম্বর থেকে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়ার ঘোষণা দেন গুম হওয়া পরিবারের সদস্যরা।
অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর দেহরক্ষী কাজী মতিন জানান, তার ছেলে কাজী রকিবুল হাসান শাওন নিখোঁজ হন ২০১৪ সালে। শাওন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। কাজী মতিন বলেন, ‘আমি বঙ্গবন্ধুর দেহরক্ষী ছিলাম। চৌকস সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা ছিলাম। আমি প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে এমন কেউ নেই, যার কাছে যাইনি। সবার দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি। এখনও আমার সন্তানকে ফিরে পাইনি।

গুম হওয়া তিতুমীর কলেজের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মাসুমের মা আয়েশা আক্তার অনুষ্ঠানে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার ছেলেকে উঠিয়ে নিয়ে গেছে আজ ৩ বছর ৮ মাস। আমার ছেলেকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিল। আমি ঘুণে ধরা ব্যক্তি হয়ে গেলাম। আমরা হৃদয়ে ব্যথা, কষ্ট, যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে আছি। আপনারা বলুন, এটাকে কি বেঁচে থাকা বলে?’

গুম হওয়া এসব মানুষকে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেওয়ার আকুল আহবান জানান নিখোঁজ সাজেদুল ইসলাম সুমনের মা হাজেরা খাতুন। তিনি বলেন, ‘আমার সন্তানকে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করুন। আমাদের এ কান্না, এই দুঃসহ যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিন।’

একই আকুতি জানিয়ে খালেদ হাসান সোহেলের ছেলে আরিয়ান বলে, ‘আমার আব্বুকে ফিরিয়ে দিন। আব্বুকে অনেক মিস করি। আব্বুর সঙ্গে ঈদ করব।’

২০১১ সালে নিখোঁজ হন কেএম শামীম আখতার। তার স্ত্রী ঝরনা খানম বলেন, আর এক মাস পরই শামীমের নিখোঁজের ছয় বছর হবে। বিচার তো দূরের কথা, এখনও সন্ধানই পাওয়া গেল না। রাষ্ট্র তার দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করেনি। তিনি সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অধিকারের পরিচালক এএসএম নাসির উদ্দিন, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সাবেক নির্বাহী পরিচালক নূর খান লিটন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ নজরুল, নারী পক্ষের সদস্য শিরীন হক প্রমুখ।

নাসির উদ্দিন বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন গুম বলে কোনো শব্দ নেই। অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রতিনিয়ত বিভিন্ন দলের সাধারণ মানুষকে উঠিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। সরকার কি কখনো বাধা দিয়েছে?

অনুষ্ঠানে গুম হওয়া ব্যক্তিদের ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়ে আসিফ নজরুল বলেন, ‘গুম হওয়া ব্যক্তিরা যত দিন ফিরে না আসবে, তত দিন মনে করব প্রধানমন্ত্রী এ কান্না শুনছেন না।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন তিনি রাখেন, ‘আপনি গুম হতে রাজি আছেন?’

শিরীন হক বলেন, ‘আমরা সবাই অসহায় হয়ে গেছি। আমরা কার কাছে যাব? আমাদের কারও কাছে যাওয়ার জায়গা নেই।’

অনুষ্ঠানে নূর খান লিটন বলেন, ‘সরকার যারা পরিচালনা করেন, তারা কি অন্ধ, না বধির? তারা কি কিছু দেখতে পান না?’

Loading...
loading...

ভিডিওটি দেখতে নিচে ক্লিক করুন



Loading...

About sylhet24 express

Check Also

স্পিকারের সাথে সেনেটর মুরের সৌজন্য সাক্ষাৎ

স্পিকারের সাথে সেনেটর মুরের সৌজন্য সাক্ষাৎ

সংসদ প্রতিবেদক : বুধবার জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এমপি’র সাথে অস্ট্রেলিয়ার সেনেটর  ক্ল্যায়ার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *