loading...
Home / সম্পাদকীয় / ঈদ-যাতায়াত হোক নিরাপদ যথাসাধ্য নিরাপত্তার ব্যবস্থা করুন

ঈদ-যাতায়াত হোক নিরাপদ যথাসাধ্য নিরাপত্তার ব্যবস্থা করুন

দেশে এ বছর অধিক পরিমাণে বর্ষা ও নদী প্লাবনের কারণে সর্বত্রই রাস্তাঘাটের অবস্থা বেহাল। অনেক আগে থেকেই এ বিষয়ে সতর্কতার জন্য বিভিন্ন সময়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে। তা সত্তে¡ও আসন্ন ঈদুল আজহায় ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ যাতায়াত ব্যবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ। প্রলয়ঙ্করী বন্যা ও অতি বর্ষণের কারণে মহাসড়ক, নৌযান ও রেলপথ চলাচলের অযোগ্য বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সরকারকেই যাতায়াত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে বলে দাবি করেন তারা।

দৈনিক আলোকিত সময়ের সিনিয়র রিপোর্টার রতনবালোর প্রতিবেদন নির্দেশ করে, সারাদেশে ৬ হাজার ২০৬ কিলোমিটার নাজুক সড়ক পথের মধ্যে ৩৫ শতাংশই ভাঙাচোরা। ফলে যানবাহন চলাচলের গতি কমে গেছে। যেখানে ৩০০ কিলেমিটার সড়কপথে সর্বাধিক ৮ ঘণ্টা সময় লাগতো এখন সেখানে প্রায় ১৬/১৭ ঘণ্টা সময় লাগছে। এছাড়া অনেক জায়গার বন্যার পানিতে রেলপথ ডুবে গেছে। বিশেষ করে কুড়িগ্রাম-চিলমারী (রমনা) রেলপথ ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় এ পথে অনির্দিষ্টকালের জন্য রেল যোগাযোগ স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

নৌযান চলাচলও ঝুঁকিপূর্ণ। সমুদ্র পরিবহন অধিদফতর গত ১৫ বছরে লঞ্চ দুর্ঘটনার ধরন ও কারণ পর্যালোচনা করে ঝুঁকিপূর্ণ লঞ্চ চিহ্নিত করেছে। সে হিসাবে ৭০ শতাংশের বেশি লঞ্চই ত্র“টিপূর্ণ। তারমধ্যে সানকেন ডেক (লঞ্চের নিচের ডেক নদীর পানির লেভেল বরাবর অথবা নিচে থাকে) বিশিষ্ট আড়াইশ লঞ্চ অতি ঝুঁকিপূর্ণ। আর এক ইঞ্জিনচালিত দুই বা আড়াই তলা বিশিষ্ট লঞ্চ রয়েছে দু’শতাধিক। যা ত্র“টিযুক্ত লঞ্চ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এ ধরনের নৌযানগুলো ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, বরিশাল, পটুয়াখালী, ভোলা, রাঙ্গামাটি, সিলেটসহ বিভিন্ন এলাকায় চলাচল করছে।

ঢাকার প্রবেশপথগুলোতে আগের সমস্যাগুলো এখনও আছে। মহাসড়কে যানজটের কারণে যাত্রীবাহী বাসগুলো কাক্সিক্ষতসংখ্যক ট্রিপ দিতে না পেরে তা পুষিয়ে নেওয়ার জন্য বেপরোয়া গতিতে চালানো হয় বলেই প্রতি বছর ঈদযাত্রা পরিণত হয় মৃত্যুর মিছিলে।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদফতরের মহাসড়ক ব্যবস্থাপনা বিভাগের (এইচডিএম) সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানা গেছে, ৩৫ দশমিক ৭৮ শতাংশ মহাসড়কের অবস্থা বেহাল। জেলা সড়কসহ মোট ভাঙাচোরা সড়কের পরিমাণ ৩৭ দশমিক ৩৪ শতাংশ, অর্থাৎ সড়ক-মহাসড়কের এক-তৃতীয়াংশই ভাঙাচোরা।

গত ঈদুল ফিতরের সময় ভাঙাচোরা সড়ক-মহাসড়কের পরিমাণ ছিল ৪৩ শতাংশ। বেহাল মহাসড়কের পরিমাণ ছিল ৩২ শতাংশ। আগের বছরের তুলনায় সড়ক ও মহাসড়কের উন্নতি হয়েছে। কিন্তু আসন্ন ঈদযাত্রার দুর্ভোগের শঙ্কা পিছু ছাড়ছে না।

জানা গেছে, সারাদেশের ২৫ হাজার কিলোমিটার রাস্তার মধ্যে ১৫ হাজার কিলোমিটার চলাচল অনুপযোগী। যে কোনো মুহূর্তে বন্ধ হতে পারে ঢাকার সঙ্গে ৪০ জেলার যোগাযোগ। অনেকের মতে, দেশের বর্তমান সড়ক মহাসড়কের চিত্র অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। মহাসড়কগুলোতে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। টানা বর্ষণের কারণে গর্তে পানি জমে ছোট ছোট পুকুরে রূপ নিয়েছে। কোথাও কোথাও মহাসড়কে ধান রোপণের ছবিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। সরকারি চেষ্টায় কিছুটা উন্নতি হলেও এখনও ৩৫ শতাংশ মহাসড়ক ভাঙাচোরা।

প্রতি ইদে ঢাকাসহ বড় শহরগুলো থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ গ্রামের বাড়িতে স্বজনদের কাছে যায়। তাই প্রতিবছর ঈদে নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিয়ে নানা সমস্যা ও শঙ্কা দেখা দেয় এবং ঈদের আগে তড়িঘড়ি করে সমাধানের চেষ্টা করা হয়। এভাবে শুধু ঈদকে সামনে রেখে দায়সারা সমাধানের চেষ্টা করলে হবে না, সংকট নিরসনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে। তবে দুর্ঘটনা এড়াতে ও যাত্রীদের কষ্ট কিছুটা লাঘব করতে সাময়িক হলেও কিছু পদক্ষেপ না নিলে বিষাদময় হয়ে উঠতে পারে ঈদ অনুভ‚তি। তাতে সরকারের ইমেজ মারাত্নকভাবে নষ্ট হবে। আর এর প্রভাব পড়বে আগামী নির্বাচনে।

Loading...
loading...

ভিডিওটি দেখতে নিচে ক্লিক করুন



Loading...

About sylhet24 express

Check Also

S24e

শরণার্থী ও বাংলাদেশের সামর্থ্য বিশ নেতৃবৃন্দকে ভাবতে হবে

ইতিপূর্বে মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের কাছে কাউকে যেতে না দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে বর্ণনা করেছে জাতিসংঘ। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *