Breaking News
loading...
Home / সম্পাদকীয় / সুষ্ঠু নির্বাচনে রাজনৈতিক ঐক্য প্রয়োজন গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের মত বিবেচনায় নিতে হবে

সুষ্ঠু নির্বাচনে রাজনৈতিক ঐক্য প্রয়োজন গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের মত বিবেচনায় নিতে হবে

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশন ও রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন পেশাজীবী ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন চিন্তা-ভাবনা শুরু করে দিয়েছে। বলা বাহুল্য, সকলপক্ষের আলাপ-আলোচনার মূল লক্ষ্য নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও সুন্দর করা। প্রশ্ন হতে পারে, তাহলে কি নির্বাচন কমিশন কিংবা রাজনৈতিক দলগুলো সঠিক চিন্তা করতে পারছে না? এর জবাব এক কথায় দেওয়া সম্ভব না হলেও এতটুকু বলা অত্যুক্তি হবে না- বিগত নির্বাচন নিয়ে জনপ্রত্যাশা কিছু হোঁচট খেয়েছে। সে অবস্থায় তৈরি হয়েছে ভবিষ্যতের শঙ্কা। এই শঙ্কা কাটিয়ে উঠতেই সকল পক্ষের সচেতন প্রয়াস। এরই অংশ মতো, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সব রাজনৈতিক দলের ঐক্যের ওপর দিয়েছেন গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা। একইসঙ্গে তারা দলগুলোর অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের কথাও বলেছেন। তারা বলেন, কমিশনের প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে- সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে একটি নির্বাচন অনুষ্ঠান করা। প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো অংশ না নিলে সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না। এ কারণে সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য রাজনৈতিক ঐক্য জরুরি। বর্তমান ইসি এখন মাত্র টেস্ট-প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। রাজনৈতিক দলের আস্থা অর্জনে তাদের আরও অনেক পথ যেতে হবে।

দৈনিক আলোকিত সময়ের সংবাদ অনুসারে, ১৬ আগস্ট আগাওগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংলাপে অংশ নিয়ে গণমাধ্যম প্রতিনিধিবৃন্দ এই আহবান জানান। গণমাধ্যমের সঙ্গে দুই দিনব্যাপী সংলাপের প্রথম দিনে প্রিন্ট মিডিয়ার সম্পাদক-প্রতিনিধি, সিনিয়র সাংবাদিক ও সাংবাদিক সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন ইসি। সকাল সোয়া ১০টায় শুরু হয়ে বেলা দুটো পর্যন্ত সংলাপ চলে। সভাপতিত্ব করেন প্রধান নির্বাচন কমিশন কেএম নূরুল হুদা। প্রথম দিন গণমাধ্যমের ৩৭ জন প্রতিনিধিকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও উপস্থিত ছিলেন ২৬ জন।
সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের মতো গণমাধ্যমের শীর্ষ ব্যক্তিরাও নির্বাচনে সেনা মোতায়েন ও ‘না’ ভোট চালুর বিষয়ে সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুপারিশ করেছেন। এছাড়া নির্বাচনে গণমাধ্যমকে সম্পৃক্ত করা, প্রার্থীদের হলফনামা প্রকাশ, সীমানা পুনঃনির্ধারণ, নির্বাচনি আসন পুনর্বিন্যাস, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে শক্তিশালীকরণ, প্রশাসন ঢেলে সাজানো, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিতকরণ, সকল দলের সমান সুযোগ-সুবিধা প্রদান প্রভৃতি বিষয়ে মত দিয়েছেন। সর্বাধিক গুরুত্ব পেয়েছে, বৃহত্তর রাজনৈতিক দলসমূহ তথা নির্বাচনে সকল দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
বর্তমান নির্বাচন কমিশন বিচক্ষণতার সঙ্গে এগিয়ে চলেছেন। নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য করতে যারপরনেই তৎপর। কিন্তু যে বিষয়টা সবচেয়ে বড় বাধা বা গলার কাটা হয়ে আছে তা হলো- রাজনৈতিক অনৈক্য। সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য যা সর্বাধিক জরুরি। সুষ্ঠু ও নিরেপক্ষ নির্বাচনের পূর্বশর্ত হলো সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। এজন্য রাজনৈতিক ঐকমত্য খুবই জরুরি। সেজন্য রাজনৈতিক দলগুলোর আস্থা অর্জনে কমিশনকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। সেখানে ঘাটতি থাকলে লক্ষ্য অর্জন অসম্ভব হয়ে পড়বে। এজন্য আস্থা অর্জনে ইসিকে আরও অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। এমনকি একটি নির্বাচন করতে হলে যে ধরনের পরিবেশ দরকার, সেটিও তৈরি করতে হবে।
গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সুচিন্তিত মতামত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও সর্বজনগ্রাহ্য নির্বাচন সম্পন্নের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন এগিয়ে যাবে-এটাই প্রত্যাশা।

loading...

About sylhet24 express

Check Also

পাঠ্যপুস্তক

বছরে প্রথমদিন বই পৌঁছানো নিয়ে সংশয়, এক্ষুণি সতর্ক হতে হবে

প্রতি বছর ১ জানুয়ারি প্রথম দিন সরকার বই উৎসবের আয়োজন করে। বছরের প্রথম দিন নতুন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *