loading...
Home / মানবাধিকার / নোয়াখালী ২৫০ শয্যা হাসপাতাল রোগীর দীর্ঘশ্বাস নেই ওষুধ চিকিৎসক

নোয়াখালী ২৫০ শয্যা হাসপাতাল রোগীর দীর্ঘশ্বাস নেই ওষুধ চিকিৎসক

নোয়াখালী ২৫০ শয্যা হাসপাতাল রোগীর দীর্ঘশ্বাস নেই ওষুধ চিকিৎসক

নোয়াখালী সংবাদদাতা : ১৯৭৪ সালে নির্মিত নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল। এ জেলার মানুষের স্বাস্থ্যসেবার একমাত্র আশ্রয়স্থল। কিন্তু নেই পর্যাপ্ত চিকিৎসক। বেড প্রতি বছরে লাখ লাখ টাকা মূল্যের ওষুধ বরাদ্দ থাকলেও প্রতিটি রোগীর হাতে ধরিয়ে দেয়া হয় পরামর্শপত্র। সেই পরামর্শপত্র অনুযায়ীই বাইর থেকে সংগ্রহ করতে হয় রোগীদের জরুরি ও প্রয়োনীয় ওষুধ-পথ্য। রয়েছে সীমাহীন দুর্গন্ধ, ময়লা-আবর্জনার পাশাপাশি সেবা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের দীর্ঘশ্বাস।

নোয়াখালী জেলা শহরের এ হাসপাতালটি ৫০ শয্যা থেকে ধীরে ধীরে কাগজে কলমে ২৫০ শয্যায় উন্নীত দেখানো হলেও আজও শয্যানুপাতে অবকাঠামো নেই বললেই চলে। রয়েছে চরম জনবল সঙ্কট। দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় চিকিৎসকের পদের বিপরীতে চলছে সীমিত পদের চিকিৎসক দিয়ে নামমাত্র চিকিৎসা।

এখানে অভিজ্ঞ বা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যেন সোনার হরিণের মতো। গাইনি, মেডিসিন, সার্জারি, এ্যানেসথেসিয়া ও নাক-কান-গলার চিকিৎসক ছাড়াও নেই কোন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। যেসব চিকিৎসক রয়েছেন তাদেরও হ-য-ব-র-ল অবস্থা। শুধুমাত্র একজন আবাসিক চিকিৎসকের দেখা পাওয়া গেলেও, বাকিরা আসছেন খেয়াল খুশিমত। অবশ্য আবাসিক চিকিৎসক ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীও নিজের সুবিধার্থেই হাসপাতালে সময় কাটান। তিনি দালালদের মাধ্যমে প্রতিদিনই চিকিৎসা সনদ দেয়ার নামে বাগিয়ে নিচ্ছেন হাজার হাজার টাকা।

এ হাসপাতালের চিকিৎসকরা রোগীদের সেবা দেয়ার চেয়ে তারা বাইরের বেসরকারি হাসপাতালের রোগী নিয়ে ব্যস্ত। এছাড়া হাসপাতালে এক্স-রে মেশিন ও প্যাথলোজি বিভাগ থাকলেও রোগীদের পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে বাইরের প্যাথলোজি ল্যাবে। শুধুমাত্র নিজেদের পকেট ভারি করতে ওসব চিকিৎসক ও নার্সের কুটকৌশলে তা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

জানা যায়, ২৫০ শয্যার এ হাসপাতালে ইনডোরে প্রতিদিন ২০০-৩০০ ও আউটডোরে আসছেন ১ থেকে দেড় হাজার রোগী। কিন্তু, রোগীদের সরকারি বরাদ্দের যে পরিমাণ ওষুধ পাওয়ার কথা তাও মিলছে না। কারণ বরাদ্দকৃত ওষুধের বেশিরভাগই কালো বাজারে পাচার হচ্ছে বলে একাধিক মহলের অভিযোগ। আর কালো বাজারে বিক্রি করা টাকাই ওই হাসপাতালের ক’জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী কোটি কোটি টাকার মালিক। করণিক পদে আওয়ামী লীগের এক স্বজনের দৌরাত্ম তো সাংবাদিকদেরও হার মানায়। অভিযোগ উঠেছে, শুধুমাত্র তার হেয়ালিপনায় এখানে খবরের কাগজে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির বিল পাওয়া যাচ্ছে না বছরের পর বছর।

আমেনা, আসমা, নাসিমা ও রেবেকাসহ বেশ ক’জন রোগী জানান, চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি তেমন কোন ওষুধও পাচ্ছেন না তারা। বিভিন্ন মহলের অভিযোগ, চিকিৎসক সঙ্কট, ওষুধ চুরিসহ ২৫০ শয্যার ওই হাসপাতালটি ৫০০ শয্যায় উন্নীত করার জন্য সরকারি প্রতিশ্র“তি থাকলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

সরেজমিনে দেখে বোঝার উপায় নেই যে এটা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল। অন্যদিকে, দুর্গন্ধযুক্ত টয়লেট ও বাথরুম। মাঝে মধ্যে সেখানে প্রয়োজন মেটাতে পানিও পাওয়া যায় না বলে রোগীদের অভিযোগ।

সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বেশ ক’জনসহ রোগী জানান, দুদকের মাধ্যমে ওই হাসপাতালের ক’জন কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সম্পদের খোঁজ-খবর নিলে বুঝা যাবে এরা কি পরিমাণ সরকারি বরাদ্দ আত্মসাত করেছে। পাশাপাশি অব্যবস্থাপনা নিরসনে ব্যবস্থা নিলে নোয়াখালীসহ আশ-পাশ এলাকার রোগীদের চিকিৎসাসেবা ভালো হতো এবং পর্যাপ্ত সেবার আশায় রোগীরা হাসপাতাল ছাড়তো না। এ ব্যাপারে কথা হয় তত্বাবধায়কের সাথে। তিনি বলেন, জনগণের সব সমস্যা তিনি আন্তরিকতার সঙ্গে সমাধান করার চেষ্টা করছেন।

Loading...
loading...

ভিডিওটি দেখতে নিচে ক্লিক করুন



Loading...

About sylhet24 express

Check Also

বিএনপির রাজনীতিতে শূন্যতা পূরণ হয়নি হারিছ-ইলিয়াসের

সিলেট অফিস : আবুল হারিছ চৌধুরী ও এম. ইলিয়াস আলী। প্রথমজন উধাও, পরেরজন ‘নিখোঁজ’; দীর্ঘ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *